দূরত্ব বাড়ছে বড় দুই দলের

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে। সমঝোতার পরিবর্তে প্রধান দু’দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এমনিতেই দুই মেরুতে অবস্থান করছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায় ও কারাবাস ইস্যুতে দু’দলের দূরত্ব আরও বেড়েছে। এ ইস্যুতে সরকার অনেকটা হার্ডলাইনে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আড়ালে বিএনপিকে সক্রিয় হওয়ার কোনো সুযোগ দেবে না তারা। পক্ষান্তরে সরকার যতই কঠোর হোক বিএনপিও অনেকটা কৌশলে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবে

  মাহবুব হাসান, রেজাউল করিম প্লাবন ও হাবিবুর রহমান খান ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুই দল

হার্ডলাইনে আওয়ামী লীগ

মার্চজুড়ে থাকবে রাজপথে

মাহবুব হাসান ও রেজাউল করিম প্লাবন

বিএনপির প্রতি আর নরম সুরে কথা বলবে না সরকার। জাতীয় নির্বাচনের অব্যবহিত আগে আন্দোলনের নামে পরিবেশ ঘোলাটে হতে দেবে না প্রশাসন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে হার্ডলাইনে যাবে তারা। এজন্য নানা পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার এবং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা। বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচির জবাবে মার্চজুড়ে রাজপথে থাকবে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল। এ মাসে ৭ই মার্চসহ অন্যান্য কর্মসূচি পালনের জন্য তৃণমূলে চিঠিও পাঠিয়েছে শাসক দল। এছাড়া বিএনপিকে এখন থেকে যে কোনো কর্মসূচি পালন করতে হলে প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হবে না- কেবলমাত্র এমন নিশ্চয়তা পেলেই বিএনপিকে প্রশাসন কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেবে। সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক যুগান্তরকে বলেন, বর্তমান সরকার অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। বিএনপি-জামায়াতের নাশকতাকারী বিভিন্ন কর্মসূচি কঠোর হাতে দমন করে সে প্রমাণই দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি আন্দোলনের নামে নাশকতা করে সরকারকে হার্ডলাইনে যেতে বাধ্য করছে। তারা আহত কিংবা আটক হয়ে মানুষের সহানুভূতি প্রত্যাশা করে; কিন্তু জনগণ তাদের অসৎ উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছে। সরকারও তাদের আর ছেড়ে কথা বলবে না, হার্ডলাইনে থাকবে। আওয়ামী লীগও রাজপথে থাকবে। বিএনপিকে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র ও নাশকতার সুযোগ দেয়া হবে না। তিনি বলেন, নতুন করে যারা সহিংস আন্দোলনের চেষ্টা করবে, স্থানীয়ভাবে তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।

সরকারের বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায়, নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে এখন থেকেই ‘এন্টি গভর্নমেন্ট মুভমেন্ট’ প্রতিরোধে মাঠে থাকবে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দলীয় কর্মসূচি পালনের নামে অপতৎপরতা রোধ করবেন তারা। এর অংশ হিসেবে রাজপথে যে কোনো কর্মসূচি পালন করতে হলে প্রশাসন তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুমতি নিতে হয়। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা যদি মনে করে, কারও কর্মসূচি পালনে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হবে না, নাশকতা হবে না, তবেই তারা অনুমতি দেবেন। অন্যথায় নয়। শাসক দলের নেতারা বলছেন, বিএনপি কর্মসূচির নামে বিশৃঙ্খলা করে। জ্বালাও-পোড়াও ও ভাংচুর করে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। দলটির আন্দোলন কর্মসূচি যেহেতু লোক দেখানো, তাই আর সামনে এগোতে দেয়া যাবে না। নির্বাচনের আগমুহূর্ত পর্যন্ত দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারের শক্ত অবস্থানে যাওয়ার বিকল্প নেই।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল হক সম্প্রতি যুগান্তরকে বলেন, দেশের মানুষের জানমাল রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। কেউ আন্দোলনের নামে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিঘ্ন ঘটালে তাকে আইনের আওতায় আনা সরকারের কর্তব্য। আন্দোলনের নামে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তাকে ছাড় নয়। আইন নিজ গতিতেই চলবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ যুগান্তরকে বলেন, গণতান্ত্রিক রীতিতে যে কেউ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে পারে। কিন্তু রাজপথে কর্মসূচি পালন করতে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমতি নিতে হয়। এখন এ বাহিনী যদি কর্মসূচি ক্ষতিকারক বা ধ্বংসাত্মক মনে না করে, তাহলে অনুমতি দিতে পারে। আর পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা থাকলে না-ও দিতে পারে। এটা একান্তই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিষয়। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের কিছু বলার নেই।

প্রসঙ্গত, ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ দুর্নীতি মামলায় সাজা হওয়ার পর এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি কর্মসূচি পালন করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। প্রথমদিকের কর্মসূচিতে ছাড় দেয়া হলেও আস্তে আস্তে কঠোর হতে শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিএনপির অনশন কর্মসূচি পালিত হয় মাত্র তিন ঘণ্টা। আর সর্বশেষ শনিবার কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি ভণ্ডুল করে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের বক্তব্য- অনুমতি ছাড়া পালিত হচ্ছিল এ কর্মসূচি। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ধরপাকড়ও হয়। পুলিশ এতে জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। একইভাবে আগামীতেও বিএনপির অরাজকতা কর্মসূচি রোধে কঠোর অবস্থানে মাঠে থাকবে প্রশাসন। স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নকারী এসব কর্মসূচি পালন করার অনুমতি না-ও দেয়া হতে পারে।

এদিকে মাঠ দখলে রাখতে মার্চজুড়ে নানা কর্মসূচি পালন করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মিত্ররা। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। স্বীকৃতি পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো আসছে ৭ মার্চ। এ উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মনে রাখার মতো একটি বিশাল সমাবেশ করার প্রস্তুতি চলছে। এরই মধ্যে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এ নিয়ে বর্ধিত সভা করেছে। প্রস্তুতি সভা করেছেন ঢাকা-৫ আসনের নেতাকর্মীরা। আজ রয়েছে উত্তর আওয়ামী লীগের কর্মিসভা। এরই মধ্যে গত সপ্তাহে এ কর্মসূচি পালনে সহযোগী সংগঠন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দুই অংশ এবং ঢাকার দলীয় সব সংসদ সদস্য ও রাজধানীর আশপাশের জেলাগুলোর শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে যৌথ সভা করেছে আওয়ামী লীগ। এ দিনটিতে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও আনন্দ মিছিল করবে।

স্বাধীনতার মাস মার্চের ১৭ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী। দিনটি জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এদিন আওয়ামী লীগের মতো সরকারও নানা কর্মসূচি পালন করবে।

এ বছরই প্রথমবারের মতো ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস পালন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস বরাবরের মতোই জাঁকজমকভাবে পালন করা হবে। এতে অংশগ্রহণ থাকবে শরিক দলগুলোরও। এছাড়া সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম এবং সমমনা সংগঠনগুলোও আওয়ামী লীগ ঘোষিত কর্মসূচি সাড়ম্বরে পালন করবে।

২২ মার্চ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সে উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী আনন্দ উৎসব কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরকারের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা এবং ২৯ মার্চ পর্যন্ত সেবা সপ্তাহ পালন করা হবে।

দেশের জন্য বহুল কাক্সিক্ষত ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ উৎক্ষেপণ হবে এ মার্চ মাসে। মাসটির যে কোনো দিন এটি উৎক্ষেপণ করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের জন্য মাইলফলক এ কর্মসূচি নিয়ে সরকারের পাশাপাশি শাসক দলও ব্যস্ত থাকবে। এছাড়া ৩০ মার্চকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দিবস হিসেবে পালন করে আওয়ামী লীগ। বিএনপি সরকার পতনের পর থেকে দিবসটি পালন করে আসছে আওয়ামী লীগ। এদিন আওয়ামী লীগ ও প্রশাসন যে কোনো অস্বস্থিকর পরিবেশ মোকাবেলায় মাঠে থাকবে।

সরকারের শীর্ষস্থানীয় সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচন ও সরকারবিরোধী আন্দোলনকে মাথায় রেখে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী নেতাদের মামলাগুলোও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বিএনপির কর্মসূচিতে কোনো অঘটন ঘটলে স্পট থেকেই অনেককে গ্রেফতার করা হবে। পাশাপাশি পুরনো মামলায়ও গ্রেফতার অভিযান চলবে। সূত্রমতে, যেসব এলাকায় বিএনপি-জামায়াত তাণ্ডব চালাতে পারে, সম্ভাব্য সেসব এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকার অনেক নেতা শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে হুমকি বলে মনে করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এজন্য তাদের আগে থেকেই আইনের আওতায় আনা হতে পারে।

ফাঁদে পা নয় বিএনপির

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত

হাবিবুর রহমান খান

চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে কৌশলী অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। চেয়ারপারসনের মুক্তির আগপর্যন্ত হার্ডলাইনে যাবে না দলটির নেতাকর্মীরা। কোনো উসকানি বা পাতা ফাঁদে তারা পা দেবে না। সরকার যতই কঠোর হোক তারা হঠকারী সিদ্ধান্ত নেবে না। শেষপর্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে। নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সরকারবিরোধী জনমত তৈরি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত এ কৌশলেই এগোতে চায় দলের হাইকমান্ড। এদিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে আলোচনা করতে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে চান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শিগগিরই আইনজীবীর মাধ্যমে কারা মহাপরিদর্শক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করবেন বলে জানা গেছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও পুলিশি হামলা, সরকারের আগ্রাসী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

এ মুহূর্তে হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি দিয়ে শক্তি ক্ষয় করতে নারাজ বিএনপি। দলটির নেতাদের মতে, চেয়ারপারসনের কারাবাসের পর আক্রমণাত্মক কর্মসূচি দিলে সরকারও হার্ডলাইনে যাবে। সে কারণে তারা হরতালসহ সহিংস কোনো কর্মসূচির দিকে যাচ্ছে না। দলের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নিতে রাজপথে নেমে আসছেন। বিভিন্ন কর্মসূচিতে ক্রমশ উপস্থিতি বাড়ছে। এ অবস্থায় সহিংস কোনো কর্মসূচি দেয়া হলে অতীতের মতো আবারও সুযোগ নিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এতে দেশে-বিদেশে দলের ভাবমূর্তিও সংকটে পড়ত। একই সঙ্গে সারা দেশে নেতাকর্মীদের ওপর মামলা ও ব্যাপক ধরপাকড়ে আবারও ব্যাকফুটে চলে যেত দল। নেতারা মনে করেন, তারা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের সুফল পাচ্ছেন। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সুশীল সমাজ সবাই তাদের পক্ষে কথা বলছেন।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, চেয়ারপারসনকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠালেও আমরা কঠোর কর্মসূচি দেইনি। নিয়মতান্ত্রিক এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছি। কিন্তু সেখানেও কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশ লাঠিচার্জ করছে। সরকার নাশকতার জন্য আমাদের নানাভাবে উসকানি দিচ্ছে। কিন্ত আমরা সেদিকে পা দিচ্ছি না।

তিনি বলেন, সরকারের আশা ছিল খালেদা জিয়াকে আটক করতে পারলে বিএনপি ভেঙে যাবে। দলের নেতাকর্মীরা হতাশায় ভেঙে পড়বে কিন্তু সেটা হয়নি। উল্টো বিএনপি আরও শক্তিশালী হয়েছে।

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি সরকারবিরোধী জনমত তৈরি করতে তৃণমূল সফরে যাচ্ছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করা হচ্ছে। চেয়ারপারসনের কারাবন্দিসহ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, মামলা-হামলার পরও তারা নিয়মতান্ত্রিক পথে আছেন- এমন একটি বার্তা প্রভাবশালী দেশগুলোর কাছে তুলে ধরা হচ্ছে। বর্তমান সংকট উত্তরণ ও আগামীতে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রভাবশালী দেশসহ জাতিসংঘের সহায়তা চাইতে পারে দলটি।

বিএনপির নীতিনির্র্ধারকরা জানান, কারামুক্তির আগপর্যন্ত নেতার্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আন্দোলনের নামে জনগণের জানমালের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিতে বলেছেন। সরকারের কোনো ফাঁদ বা উসকানিতে পা না দিয়ে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবপর্যায়ের নেতাদের কাছে হাইকমান্ডের এমন বার্তা পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রের নির্দেশনা পেয়ে নেতাকর্মীরাও শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছেন। মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এমনকি কালো পতাকা প্রদর্শনের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধা ও হামলার পরও নেতাকর্মীরা পাল্টা কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলেনি। শনিবার নয়াপল্টনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতিতে হামলা ও গণগ্রেফতার চালালেও কোনো নেতাকর্মীকে পুলিশের ওপর চড়াও হতে দেখা যায়নি।

বিএনপি নেতাদের মতে, সরকারের ধারণা ছিল খালেদা জিয়াকে সাজা দিলে সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা কঠোর আন্দোলন করবে। আবারও ২০১৪ ও ২০১৫ সালের মতো জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনা ঘটাবে। এ অভিযোগে সরকারি দল পরিকল্পিতভাবে সারা দেশে দলের সক্রিয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাদের গ্রেফতার করবে। কিন্তু সরকারের এমন ফাঁদে বিএনপি পা দেয়নি। তাই ক্ষমতাসীনরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে নানা বিদ্রূপ করছে।

এতকিছুর পরও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত দলের শক্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে চায় বিএনপি। দলটির হাইকমান্ড মনে করছে, বিএনপির নিরপেক্ষ সরকারের দাবি উপেক্ষা করে ক্ষমতাসীনরা দলীয় সরকার তথা নিজেদের অধীনে নির্বাচন করে আবারও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকতে চাইবে। সেজন্য নির্বাচনকালীন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ে বর্তমান সরকারকে বাধ্য করতে হবে। আর এ দাবি আদায়ে শেষপর্যন্ত আন্দোলন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। এজন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত দলের শক্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যুগান্তরকে বলেন, আমাদের নেত্রীর মুক্তির জন্য আমরা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করছি। এ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকার যত ধরনের উসকানি দিক না কেন, যত ধরনের ফাঁদ তারা পাতুক, আমরা তাতে পা দেব না। আমরা তাদের উসকানিতে উত্তেজিত হব না। খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যকে সংঘাতের উসকানি বলে মনে করেন তিনি।

এ বিষয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু যুগান্তরকে বলেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়ার পর থেকে সংঘাতপূর্ণ কর্মসূচি এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছেন তারা। কিন্তু সেখানেও তারা বাধা দিচ্ছে। সরকার যতই কঠোর হোক না কেন হঠকারী কোনো কর্মসূচিতে তারা যাবেন না।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter