খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি শেষ

আদেশ বিচারিক আদালতের নথি আসার পর

সাজা কম হলে প্রথা আছে আদালত জামিন দিয়ে থাকেন -এজে মোহাম্মদ আলী * লঘু দণ্ডের ক্ষেত্রে দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি করতে হবে, জামিন দেয়া যায় না -খুরশীদ আলম খান * খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়া হলে এই মূল আপিলের শুনানি কখনোই সম্ভব হবে না -অ্যাটর্নি জেনারেল

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি শেষ হয়েছে। তবে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার জামিনের অপেক্ষা এখনই শেষ হচ্ছে না। বিচারিক আদালতের নথি আসার পর আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন আদালত। রোববার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন।

বৃহস্পতিবার একই বেঞ্চ খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে ১৫ দিনের মধ্যে বিচারিক আদালত থেকে মামলার নথি পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল। সেই ১৫ দিন শেষ হতে এখনও ১২ দিন বাকি। এদিকে বিচারিক আদালত সূত্রে জানা গেছে, হাইকোর্টের আদেশ রোববার ওই আদালতে পৌঁছেছে। নথি পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। বৃহস্পতিবারই আদালতে খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য আবেদন জানান তার আইনজীবীরা।

রোববার জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ২টার পর শুনানির শুরুতে বয়স-অসুস্থতা-সামাজিক মর্যাদা বিবেচনায় খালেদা জিয়ার জামিনের আর্জি জানান তার আইনজীবীরা। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের আইনজীবীরা খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে আদালত বলেন, বিচারিক আদালত থেকে নথি আসার পর খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে।

রোববার আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিন শুনানি শুরু করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির জন্য রোববার বেলা ২টায় সময় নির্ধারিত থাকলেও একটার আগেই বিপুলসংখ্যক আইনজীবী আদালতে উপস্থিত হন। এক পর্যায়ে আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী ও রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে আদালতকক্ষ কানায় কানায় ভরে যায়। বেলা সোয়া ২টায় হাইকোর্টের এজলাসে আসেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিম। অবস্থা দেখে আদালত দুই পক্ষের আইনজীবীদের বলেন, এত হট্টগোল হলে শুনানি করা যাবে না। ভিড় কমানোর নির্দেশ দিয়ে ১০ মিনিটের জন্য এজলাস ছাড়েন দুই বিচারক। পরে বেলা ২টা ৩২ মিনিটে বিচারক এজলাসে আসন গ্রহণ করলে শুনানি শুরু হয়।

শুনানিতে আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, আপিলকারী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এটা লঘু প্রকৃতির দণ্ড। কোর্টের প্রথা রয়েছে কেউ নারী হলে এবং সাজা কম হলে আদালত জামিন দিয়ে থাকেন। তিনি জামিন আবেদন থেকে খালেদা জিয়ার শারীরিক জটিলতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। জামিনের বিরোধিতা করে দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান বলেন, আপিল বিভাগের রায় রয়েছে এ ধরনের লঘু দণ্ডের ক্ষেত্রে দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি করতে হবে। আর জামিনও দেয়া যাবে না।

তিনি বলেন, আপিলকারীর শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে জামিন চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এর সপক্ষে কোনো মেডিকেল সার্টিফিকেট তারা আদালতে দাখিল করেননি। আদালত বলেন, উনারা তো শারীরিক অবস্থার বিষয়টি এফিডেভিট আকারে দিয়েছেন। আপনি যদি অস্বীকার না করেন তাহলে ধরে নিতে হবে এটা ঠিক আছে। দুদক কৌঁসুলি বলেন, দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এ মামলার আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করেছে। কিন্তু জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্টের ২৬ ধারা বিবেচনায় নিয়ে ৪০৯ ধারায় সাজা দেয়া হয়েছে। আপিল বিভাগ সাবেক রাষ্ট্রদূত এটিএম নাজিমউল্লাহর মামলার রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, এ বিষয়টি তো বিচারিক আদালতের আদেশের অংশে দেখতে পাচ্ছি না। যদিও বিচারক রায়ে অনেক কথাই বলেছেন। দুদক কৌঁসুলি বলেন, আগে তো দোষী সাব্যস্ত করতে হবে। এরপর আসে দণ্ড দেয়ার বিষয়টি। তিনি বলেন, আপিলকারীর জামিন আবেদন থেকে দেখতে পাচ্ছি, তার কাস্টডি পিরিয়ড হচ্ছে ২ মাস ৫ দিন। আসামির কাস্টডি পিরিয়ড এবং অপরাধের গভীরতা দেখে তাকে জামিন দেয়া যায় না। তবে খালেদা জিয়ার বয়স নিয়ে আমাদের কোনো বিরোধিতা নেই। আর জামিন দেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে আদালতের এখতিয়ার।

রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানিতে বলেন, দেশের ইতিহাসে এ মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে এতিমের টাকা খোয়া গেছে। আর রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে কেউ তার দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। খালেদা জিয়া ছিলেন সরকার প্রধানও। এ মামলায় আজকে খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়া হলে এ মূল আপিলের শুনানি আর কখনোই সম্ভব হবে না। আদালত বলেন, এটা আপনি কিভাবে বলেন? এ মামলার দু’পক্ষ পদক্ষেপ শুনানি কেন হবে না?

এ সময় খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এএফএম হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, আমিনুল হক, কায়সার কামাল, সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম ওয়ালীউর রহমান খানসহ বিপুল সংখ্যক আইনজীবী। জামিনের শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, রুহুল কুদ্দুছ তালুকদার দুলু, ২০ দলীয় জোটের শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রমুখ।

আদেশের পর বিএনপি সমর্থক কয়েকজন আইনজীবী শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আইনজীবী এবিএম ওয়ালীউর রহমান খান যুগান্তরকে বলেন, জামিন শুনানিতে রাষ্ট্র ও দুদকের আইনজীবীরা অপ্রাসঙ্গিক যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। যদিও আদালত এগুলো আমলে নেননি। এর বিপরীতে খালেদা জিয়ার সিনিয়র আইনজীবীদের আরও জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করা উচিত ছিল।

শুনানি শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন আমি বলেছি, নিম্ন আদালতের নথিটা আসুক, সুপ্রিমকোর্টে অনেক মেশিন আছে অতি অল্প সময়ে পেপারবুক তৈরি করা হবে এবং পেপারবুক শুনানির পর মামলাটা দ্রুত নিষ্পত্তি করা যাবে। আমি চাচ্ছি, এ মামলাটি যাতে ঝুলে না থাকে, মামলাটি যাতে হাইকোর্টে নিষ্পত্তি হয়ে যায়।

শুনানি শেষে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আদালতকে বিভ্রান্ত করতে জামিন শুনানিতে নজিরবিহীনভাবে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

শুনানি শেষে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, খালেদা জিয়ার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী দুটি গ্রাউন্ডে জামিন চেয়েছেন।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter