পিলখানা ট্র্যাজেডি

‘বিস্ফোরক মামলার রায় এ বছরই’

ছেলের কবরের পাশে বৃদ্ধা মায়ের অঝোরে কান্না * বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে হতাশ স্বজনরা * ২৫ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ সেনা দিবস ঘোষণা করবে বিএনপি

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন বলেছেন, বিস্ফোরক মামলার বিষয়ে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। এ বছরে এই মামলার রায় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পিলখানা ট্র্যাজেডিতে নিহত সেনা সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি একথা বলেন। রোববার বনানী সামরিক কবরস্থানে শ্রদ্ধা জানান শহীদ পরিবারের সদস্যরা। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদেন সন্তানহারা বৃদ্ধা মা, স্বামী হারানো স্ত্রী, আর বাবা হারানো সন্তানরা। তাদের বুকফাটা কান্নায় সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। এ সময় তারা বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষে তার সহকারী উপসামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী ইফতেখারুল আলম এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন কবরে ফুল দিয়ে প্রথমে শ্রদ্ধা জানান। এরপর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন প্রমুখ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা প্রতি স্যালুট প্রদান করেন। তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। এরপর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা। রোববার সব সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে কোরআন খতম করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

২৫ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ সেনা দিবস ঘোষণা করবে বিএনপি : বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর হত্যা দিবসকে শহীদ সেনা দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান। শহীদদের প্রতি দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের পর সাবেক সেনা মাহবুবুর রহমান বলেন, দিনটি জাতির জন্য দুঃখজনক। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে ইলাহী আকবর, কর্নেল (অব.) ইসহাক, কর্নেল (অব.) মনিষ দেওয়ান, মেজর (অব.) মিজানুর রহমান, মেজর (অব.) সারোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত ও চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান। শ্রদ্ধা শেষে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, যারা ট্রিগার চেপেছিল তাদের বিচার হয়েছে। কিন্তু যারা এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচার হয়নি। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে যে তদন্ত করা হয়েছিল, আজও তা আলোর মুখ দেখেনি। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে কী উঠে এসেছিল, সেটাও সামনে আনতে হবে।

কবরের পাশে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদলেন বৃদ্ধা মা : মেজর মিজানুর রহমানের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে মা কোহিনূর বেগম শহীদ সন্তানের জন্য অঝোরে কাঁদলেন। দুই হাত তুলে দোয়া করলেন তিনি। কবরের পাশ থেকে সরে এসে তিনি বলেন, সরকারের তরফ থেকে সব রকম সহযোগিতা পেয়েছি। টাকা-পয়সা, বাড়ি-গাড়ি দিয়ে তো মায়ের মন থেকে সন্তান হারানোর শোক দূর হয় না। ছেলে নেই, কোনো কিছুই আমাকে শান্তি দিতে পারে না। দ্রুত রায় কার্যকর হোক সেটাই চাই। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মিজানুরের দুই সন্তান মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের ছাত্র তাহসিন রহমান ও ফারদিন রহমান সানি। তাহসিন বলেন, আমি তখন ছোট ছিলাম। বাবা পিলখানায় ছিলেন। মা রেবেকা ফারাহানা ৯ মাস আগে স্ট্রোকে মারা গেছেন।

বিডিআরের ডিজি জেনারেল শাকিল আহমেদ ও তার স্ত্রী নাজনীন শাকিল ওই দিন নিহত হন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে নীরবে কাঁদছিলেন নাজনীন শাকিলের বড় ভাই আহমেদ সালাহ উদ্দিন। তিনি বলেন, বোন আর বোন জামাইকে তো আর কোনোভাবেই ফিরে পাব না। এটা অপূরণীয় ক্ষতি। যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শুধু তিনিই বুঝতে পারবেন। আমাদের আর কিছু চাওয়া নেই। বিচারের রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।

শহীদ কর্নেল শওকত ইমামের ছোট বোন মাসুদা সাঈদ শেলী বলেন, ভাই হত্যার বিচার চাইতে হবে কেন, এটা তো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি বলেন, ভাই হারিয়েছি। এ অভাব কখনও পূরণ হওয়ার নয়। আমাদের পাওয়ার বা হারানোর আর কিছু নেই। আমাদের যা হওয়ার হয়েছে। কিন্তু যারা আমাদের ও রাষ্ট্রের এত বড় সর্বনাশ করল, তাদের বিচার দ্রুত করা উচিত।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.