আসামে নাগরিক তালিকা: আন্দোলনের পথে তৃণমূল গোর্খারা

৭-৮ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি * বিক্ষোভের পাশাপাশি আলোচনা চালাবেন গোর্খা নেতারা

  যুগান্তর ডেস্ক ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আন্দোলনের পথে গোর্খারা
আন্দোলনের পথে গোর্খারা। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের আসামের নাগরিক তালিকাকে (এনআরসি) কেন্দ্র করে ক্রমশ রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের পথে হাঁটছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস।

জেলায় জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে দলটি। আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন গোর্খা সম্প্রদায় ভিত্তিক দলগুলোর নেতারাও। এ নিয়ে তারা আসাম সরকারের সঙ্গে আলোচনায়ও বসবেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামে এনআরসি প্রকাশের পর থেকেই এর বিরুদ্ধে সরব হন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা ব্যানার্র্জি। এক লাখ গোর্খার নাম বাদ পড়ায় তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিষয়টি নিয়ে সোমবার তৃণমূলের বৈঠকে আলোচনার পর ঠিক হয়, এনআরসি বাতিলের দাবিতে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে দলটি। ৭ ও ৮ তারিখ এ কর্মসূচি পালন করা হবে। ১২ সেপ্টেম্বর কলকাতায় হবে বড় মিছিল।

উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রাখার জন্য বিশেষ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ফিরহাদ হাকিম ও সুখেন্দু শেখর রায় চৌধুরীকে। অন্যান্য রাজ্যের আঞ্চলিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্ব^য় রাখার জন্য বিশেষ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা তৃণমূলের এক নেতা এনডিটিভিকে বলেন, ‘বৈঠকে আসামের নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা থেকে যে ১৯ লাখ মানুষ বাদ পড়েছেন, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মমতা ব্যানার্জি। তিনি দলের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন, মানুষের কাছে গিয়ে, বিজেপির অশুভ দিক তুলে ধরতে, যেমন- তারা যদি ক্ষমতায় আসে বাংলায় এনআরসি করা হবে।’

এদিকে শনিবার প্রকাশ হওয়া তালিকায় গোর্খা সম্প্রদায়ের লক্ষাধিক বাসিন্দার নাম বাদ পড়ায় দার্জিলিংয়ের পাহাড় এলাকাজুড়ে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে গোর্খাদের একাধিক সংগঠন। আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে পাহাড়ের সব দলকে একত্রিত হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার ডাক দিয়েছেন বিনয়পন্থী গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিনয় তামাং। এনআরসির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে জাপ, সিপিআরএম, ভারতীয় গোর্খা পরিসংঘও।

বিনয় তামাং বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি ১ লাখ ৬৩ হাজারেরও বেশি গোর্খার নাম বাদ পড়েছে। ভোট নিয়ে এখন পাহাড়ের মানুষদের বিদেশি তকমা দিয়ে দেশ থেকে তাড়াতে চাইছে বিজেপি।’ জিটিএর তথ্য বলছে, পাহাড়ের বেশিরভাগ মানুষের কাছে জমির কোনো কাগজ নেই।

দার্জিলিং, কার্শিয়াং বা কালিম্পংয়ের যে জমিতে তারা বাড়ি-ঘর করেছেন বা ব্যবসা করছেন সেই জমির কোনোটির মালিক বন দফতর, কোনোটি ডিআই ফান্ড কর্তৃপক্ষের, কোনোটি আবার সিঙ্কোনা বা চা বাগানের জমি। সম্প্রতি বিশেষ কমিটি গঠন করে পাহাড়ের বাসিন্দাদের পাট্টা দেয়ার কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার।

এ অবস্থায় আসামসহ উত্তর-পূর্ব ভারত এবং দেশের বিভিন্ন রাজ্যের গোর্খাদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলারও ডাক দিয়েছেন বিনয়। দার্জিলিংয়ে রোববার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করে তিনি জানান, কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের একটি প্রতিনিধি দল আসাম যাবেন। আগামী সপ্তাহে কলকাতায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও তারা বৈঠক করবেন।

ঘটনাপ্রবাহ : আসামে বাঙালি সংকট

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×