পাঠাওচালক হত্যায় গ্রেফতার অপুর স্বীকারোক্তি

৫০ টাকা ভাড়ায় খুনিকে বাইকে নেন মিলন

মোটরসাইকেল, দুটি হেলমেট ও মোবাইল ফোন উদ্ধার

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

মিলন। ফাইল ছবি

রাজধানীর মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারে পাঠাওচালক মো. মিলনকে হত্যা করে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় নুরুজ্জামান অপুকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার রাতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থেকে অপুকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে ডিবি।

তার কাছ থেকে মিলনের মোটরসাইকেল, দুটি হেলমেট ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। অপু মাদকাসক্ত এবং একজন পেশাদার ছিনতাইকারী। সোমবারই হত্যার দায় স্বীকার করে অপু ঢাকা মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

ডিবি বলছে, ঘটনার দিন ৫০ টাকার চুক্তিতে অপুকে মোটরসাইকেলে তুলেছিলেন মিলন। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই মিলনকে খুন করে মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান অপু। প্রযুক্তির সাহায্যে তদন্তের মাধ্যমে অপুর অবস্থান শনাক্ত করে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, ২৬ আগস্ট রাত ২টার দিকে মালিবাগ আবুল হোটেলের সামনে থেকে গুলিস্তান যাওয়ার জন্য মিলনের সঙ্গে ৫০ টাকা ভাড়ায় চুক্তি হয় অপুর। মোটরসাইকেলটি মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের শাহজাহানপুর অংশে গেলে থামাতে বলে অপু। থামানোর পর অপু মোটরসাইকেল থেকে নেমে যান।

মিলনকে জানান, মোটরসাইকেলটি আমি (অপু) চালাব। মিলন রাজি না হওয়ায় দু’জনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় অপু পকেট থেকে এন্টিকাটার বের করে মিলনের গলায় টান দেন। জীবন বাঁচাতে মিলন গলা চেপে মোটরসাইকেল রেখেই দৌড় দেন। অপু এই ফাঁকে মিলনের মোটরসাইকেল এবং মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যান।

আবদুল বাতেন বলেন, এ ঘটনায় মিলনের স্ত্রী শিল্পী বেগম শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে ঘটনার কোনো ক্লু পাওয়া যাচ্ছিল না। ঘটনাস্থলে কোনো সিসি ক্যামেরাও ছিল না, ঘটনা কেউ দেখেওনি। ঘটনা রাতের নির্জনে হওয়ায় ক্লুলেস ঘটনায় অপরাধীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা কঠিন ছিল।

ডিবি পুলিশ সেই কঠিন কাজটি সফলতার সঙ্গে করেছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় খুনি অপুকে গ্রেফতার করা হয়। পরে রাত ৩টায় শাহজাহানপুর থানা এলাকা থেকে মিলনের ব্যবহৃত স্যামসাং জে-৫ মোবাইল সেট, দুটি হেলমেট ও ডায়াং-১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সঙ্গে অপু একাই জড়িত বলেও জানান অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন। তিনি বলেন, অপু ছিনতাই ও চুরির সঙ্গে জড়িত। তবে থানায় তার বিরুদ্ধে কোনো মামলার তথ্য পাওয়া যায়নি।

রাইড শেয়ারিংয়ে চালক ও যাত্রীকে অ্যাপস ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে আবদুল বাতেন বলেন, ‘চুক্তিভিত্তিক রাইড শেয়ারিং করা উচিত না। এজন্য চালক ও যাত্রী উভয়ের ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে সবাইকে অ্যাপস ব্যবহার করা উচিত।’

মিলনের স্ত্রী শিল্পী বেগম যুগান্তরকে বলেন, ‘খুনির চেহারাটা দেখার জন্য ডিবিতে গিয়েছিলাম। আমার স্বামীর তো কোনো অপরাধ ছিল না। তবুও তার প্রাণটা কেড়ে নেয়া হল! টানাটানির সংসারে মিলনই ছিল ভরসা। দুই সন্তান নিয়ে এখন অকূল সাগরে পড়েছি আমি। সামনের দিনগুলো কীভাবে যাবে জানি না। তবুও চাই খুনির যেন ফাঁসি হয়।’