মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মরণসভা

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে তিন দফা সংঘর্ষ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মরণসভায় তিন দফা সংঘর্ষে জড়িয়েছে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা। সোমবার বিকালে নগরীর লালদীঘি ময়দানে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ এ স্মরণসভার আয়োজন করে। এতে কলেজভিত্তিক স্লোগান দেয়াকে কেন্দ্র করে সভাস্থলেই দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা পরস্পরের প্রতি চেয়ার ছুড়ে মারে। এতে সভাস্থলে সৃষ্টি হয় চরম বিশৃঙ্খলা।

সভার সঞ্চালক নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি বিশৃঙ্খলা থামাতে বারবার মাইকে ঘোষণা দিলেও বিশৃঙ্খলায় লিপ্ত নেতাকর্মীদের কেউই তার কথা আমলে নেয়নি। পরে নগর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা মঞ্চ থেকে নেমে মাঠে অবস্থান নিয়ে হুশিয়ারি উচ্চারণ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের কারণে সংক্ষিপ্ত আকারে সভা শেষ করতে বাধ্য হন আয়োজকরা। মহিউদ্দিন চৌধুরীর মতো নেতার স্মরণ অনুষ্ঠানে এমন বিশৃঙ্খলার দায় নগর ছাত্রলীগ এড়াতে পারে না বলে মনে করেন সংগঠনের সাধারণ নেতাকর্মীরা।

আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, নগর আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী। এদিকে দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা কেউ এ সভায় উপস্থিত ছিলেন না। এ ছাড়া প্রধান বক্তা হিসেবে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ, বিশেষ বক্তা হিসেবে ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম জাকির হোসেন উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারাও উপস্থিত হননি।

বিকাল চারটায় শুরু হয় স্মরণসভা। শুরুর আধা ঘণ্টা পরই হঠাৎ লালদীঘি মাঠের সভাস্থলের একেবারে পেছন দিকে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। স্লোগান দেয়াকে কেন্দ্র করে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের ওপর হামলা চালায়। তারা পরস্পরের দিকে চেয়ার ছুড়ে মারে। বিকাল সোয়া ৫টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন মহিউদ্দিনপুত্র ব্যারিস্টার নওফেল। এর আগে পৌনে ৫টার দিকে মঞ্চের বামপাশে সিটি কলেজ, ডানপাশে চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিচ্ছিল; মাঠের মাঝখানে বসা ওমর গণি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের কর্মীরাও স্লোগান দিতে থাকে। এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আরশাদুল আলম বাচ্চু বক্তব্য রাখার সময় ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। সর্বশেষ সভামঞ্চের সামনে দু’পক্ষ হাতাহাতি ও মারামারিতে লিপ্ত হয়। তিন দফা সংঘর্ষ চলাকালে ছাত্রলীগের ২০-২৫ নেতাকর্মী কমবেশি আহত হন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল ২৮ ফেব্র“য়ারি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। ১৭ জানুয়ারি নগরভবনে নীতিনির্ধারক পর্যায়ের আ’লীগ নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ ঘোষণা দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম। নগর ছাত্রলীগের নেতারা ওই সিদ্ধান্ত মেনে নেননি। তাদের দাবি ছিল কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সিদ্ধান্তেই হবে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সম্মেলন। এ নিয়ে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই নগর ছাত্রলীগ লালদীঘি মাঠে নগর আওয়ামী লীগের সদ্যপ্রয়াত সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মরণসভার আয়োজন করে। ওই সভায় বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোলের এটাও অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ব্যাপারে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি বলেন, কারা কী জন্য সভাস্থলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে তা আমরা বুঝতে পেরেছি। যারা বিশৃঙ্খলায় লিপ্ত হয়েছে তাদের চিহ্নিত করেছি। এদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×