কমিউনিটি ব্যাংক উদ্বোধন

মানুষের আস্থা বিশ্বাস অর্জনে কাজ করুন: প্রধানমন্ত্রী

  বাসস ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এ বিষয়টার ওপর আমরা জোর দেব যাতে করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবা এবং আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করা যায়।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন- আমি বলব, সব ক্ষেত্রেই কমিউনিটি পুলিশিংয়ে আরও জোর দেয়া উচিত।’

শেখ হাসিনা বুধবার সকালে পুলিশের দীর্ঘদিনের দাবি ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’র বাণিজ্যিক কার্যক্রম উদ্বোধনকালে একথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ব্যাংকটি উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ পুলিশ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মালিকানাধীন এ ব্যাংকের লক্ষ্য বিভিন্ন কমিউনিটির সদস্যদের কাছে পৌঁছানো এবং উদ্ভাবনী ব্যাংকিং সেবা প্রদান করা।

পুলিশের জন্য বিশেষায়িত নতুন এ ব্যাংক নিয়ে দেশে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৯টিতে। পদাধিকার বলে এ ব্যাংকের প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশের মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। এর আগে সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি ও আনসার-ভিডিপিকে ব্যাংক দেয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীর জন্য বাকি ছিল, সেটাও করে দিলাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কমিউনিটির লোকজন যদি এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে তাহলে ওই অঞ্চলে অপরাধের হার এমনি কমে যাবে।’

তিনি এ সময় দেশে চলমান মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পুলিশ ও থানাগুলোর ওপর মানুষের আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জনে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে পুলিশে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে অতীতের মতো ঘুষ-দুর্নীতি এবার না হওয়ায় পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশংসা করে এ দৃষ্টান্ত অন্যদেরও অনুসরণের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সাধারণত পুলিশে লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে চিরদিনই, শুধু পুলিশ কেন সর্বক্ষেত্রেই নিয়োগের ক্ষেত্রে ঘুষ-দুর্র্নীতির বদনাম রয়েছে। সেখানে এবার পুলিশ একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ঘুষ-দুর্নীতিমুক্তভাবে এবার যেভাবে পুলিশে নিয়োগ হয়েছে তাতে অতি সাধারণ ঘরের ছেলেমেয়েরাও চাকরি পেয়েছে। সেজন্য তিনি বিশেষভাবে পুলিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে যারা এজন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন তারা প্রত্যেকেই অত্যন্ত সততার সঙ্গে, দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে একটা বিশেষ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আমার মনে হয়, এটা সবাইকে অনুসরণ করতে হবে।

সরকার প্রধান বলেন, অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় জন পুলিশের অনুপাত বাড়াতে কমিউনিটি পুলিশিং যদি জোরদার করতে পারি তাহলে আরও বেশি মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করতে সক্ষম হব। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু বাধা আসে। সেক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন আসে মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগও আসে। আর এসব দুর্যোগ আমরা মোকাবেলা করি, যেখানে পুলিশ বাহিনী বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

তিনি এ সময় আন্দোলনের নামে ২০১৩-১৪ এবং ১৫ সালে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস এবং গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিসহ বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন। শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশকে আরও দক্ষভাবে গড়ে তোলার জন্য তার সরকার অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট এবং সাইবার ক্রাইম দমনে সাইবার পুলিশ সেন্টার গঠন করেছে এবং যেগুলো অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উন্নয়নসহ শিল্প পুলিশ, পিবিআই, টুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং বিভিন্ন স্পেশাল পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠন করেছে।

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে এবং চলবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি আরও বাড়াতে হবে কারণ মাদক পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। এমনকি মাদকের জন্য ছেলে মাকে, ভাই ভাইকে, ছেলে তার বাবাকে মেরে ফেলছে। কাজেই এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য আরও বেশি করে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে হবে।

পুলিশের তাৎক্ষণিক সেবা প্রাপ্তির জন্য টোল ফ্রি ‘৯৯৯’ কল সার্ভিস প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক্ষেত্রে পুলিশ খুব দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘এজন্য মানুষের মাঝে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ড. মুস্তফা কামাল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারি বাংলাদেশ কমিউনিটি ব্যাংকের বিষয়ে ভিডিও প্রেজেন্টেশন উপস্থাপনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারী মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিদায়ী কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে এবং কমিউনিটি ব্যাংকের গুলশান শাখার সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, থানাগুলোর অবস্থা এমন হওয়া উচিত, যার মাধ্যমে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস যেন অর্জন করতে পারে। মানুষের সেবা নিশ্চিত করার সঙ্গে সঙ্গে থানাগুলোকে দর্শনীয় ও সুন্দর করতে হবে।

৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার চারটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করেছেন। এ কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে দেশের জাতীয় গ্রিডে ৪৩৫ দশমিক ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংযুক্ত হবে। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোর উদ্বোধন করেন।

সেই সঙ্গে আটটি ৩৩/১১ কেভি জিআইএস উপকেন্দ্র চালু করেন। এ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের দশ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন চালু করেন।

চার বিদ্যুৎ কেন্দ্র হল- বাঘাবাড়ি, সিরাজগঞ্জ ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জামালপুর ১১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বগুড়া ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি ৭.৪ এমডব্লিউপি সোলার ফটোভোল্টাইক।

উপকেন্দ্র আটটি হল- নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার গোদানাইল, মাণ্ডালপাড়া, দাপা এবং নন্দলালপুর ও শাহজাহানপুর, মুগদাপাড়া, রামপুরার বনশ্রী ও ঢাকা শাহবাগের জহির রায়হান রোড।

শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা হচ্ছে যে দশটি উপজেলা- দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট, চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ ও জয়পুরহাটের সদর, পাঁচবিবি ও আক্কেলপুর, রাজশাহীর পবা, নারায়ণগঞ্জের সদর ও রূপগঞ্জ, ঠাকুরগাঁয়ের হরিপুর ও নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ। ৩৪০টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, মির্জা আজম এমপি, আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন ও হাবিবে মিল্লাত এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ প্রমুখ।

পার্বত্য অঞ্চলে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর : রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর জন্য নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাইনুর রহমান, জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল ইসলাম, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বায়েদ মিঞা, চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, পুলিশ সুপার আলমগীর কবিরসহ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা, মুরগি খামারি আক্তার হোসেন ও রানী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী।

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি ২০০ মেগাওয়াট ডিজেল ভিত্তিক পাওয়ার প্ল্যান্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয় সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে।

জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহাজাদপুর) আসনের এমপি হাসিবুর রহমান স্বপন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইখতেখার উদ্দিন শামিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফিরোজ মাহমুদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বগুড়া ব্যুরো জানায়, ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন ঘোষণার পর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ফলক উন্মোচন করা হয়।

অন্যদের মধ্যে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রেজওয়ানুর রহমান, বগুড়া জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. মকবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু, পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা, কনফিডেন্স পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালিদ ইসলাম, পিডিবির প্রতিনিধি সাইদ আহম্মেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

না’গঞ্জে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি দেয়ার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর : নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি চাইলে তা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্যোক্তা এলে আমরা দিয়ে দেব। নারায়ণগঞ্জে অনেক অর্থ ও সম্পদশালী লোক আছেন।

বুধবার দুপুরে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রূপগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ সদর এলাকায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্বোধন ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় কথা বলেন নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী আফরোজা আক্তার।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলার জন্য স্মরণ করিয়ে দিলে আফরোজা আক্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের নারায়ণগঞ্জে একটি বিশ্ববিদ্যালয় হতো তাহলে আমাদের অনেক বেশি উপকার হতো এবং ভালো হতো।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ঠিক আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থা আমরা করব। এর আগে জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি নারায়ণগঞ্জে অনেক কিছু দিয়েছেন, ইকোনমিক জোন দিয়েছেন, আপনার কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই, তারপরেও নারায়ণগঞ্জবাসীর অনেক চাওয়া।

আগাম জলবায়ু অভিযোজন সমাধানের উপায় উদ্ভাবন জরুরি -প্রধানমন্ত্রী: এদিকে প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার ঢাকা থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন’র নেতাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে একথা বলেন।

এ সময় তিনি বিশ্ব নেতা, সরকার ও ব্যবসায়ীদের আগাম জলবায়ু অভিযোজন সমাধানের উপায় উদ্ভাবনের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। বলেন, কোনো জাতির একার পক্ষে এটি করা সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী গৃহীত বেশ কিছু উদ্যোগের আবাসস্থল, যা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার লড়াইয়ে সম্মিলিতভাবে আমাদের টিকে থাকার জন্য একটি দিকনির্দেশনা দিয়েছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘কমিশনের একটি নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, যদিও বাংলাদেশ অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে, তথাপি অনেক কাজ এখনও বাকি রয়ে গেছে।’

‘যে কারণে আমি ঢাকায় গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশনের নতুন কার্যালয় খুলতে দেখে অত্যন্ত খুশি হয়েছি। এ নতুন অফিস বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন প্রচেষ্টা এবং ধারণার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে এবং সমন্বয় সাধন করতে সহায়তা করবে এবং আমরা এখন পর্যন্ত যতটা সফলভাবে এ পথ অতিক্রম করেছি তা থেকে শিক্ষা লাভ করতে এটি সারা বিশ্বের জন্য ওয়েব পোর্টাল হিসেবে কাজ করবে,’ যোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বোপরি, কোনো জাতিই এটি একা করতে পারে না। এক্ষেত্রে আমাদের সমগ্র বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×