নবী-মুজিবের কাছে হার বাংলাদেশের

  স্পোর্টস ডেস্ক ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আফগানিস্তান উইকেট হারিয়েছিল ইনিংসের প্রথম বলে। বাংলাদেশ হারায় দ্বিতীয় বলে। আফগানরা চার উইকেট হারিয়েছিল ৪০ রানে। বাংলাদেশ চার উইকেট হারায় ৩২ রানে। দু’দলই নিজেদের সেরা জুটি পায় পঞ্চম উইকেটে।
ছবি: যুগান্তর

আফগানিস্তান উইকেট হারিয়েছিল ইনিংসের প্রথম বলে। বাংলাদেশ হারায় দ্বিতীয় বলে। আফগানরা চার উইকেট হারিয়েছিল ৪০ রানে। বাংলাদেশ চার উইকেট হারায় ৩২ রানে। দু’দলই নিজেদের সেরা জুটি পায় পঞ্চম উইকেটে।

কিন্তু বাংলাদেশের কেউ আফগান ব্যাটিং হিরো মোহাম্মদ নবীর মতো পাওয়ার ব্যাটিংয়ের পসরা সাজাতে পারলেন না।

নবীর ৮৪* রানের বিস্ফোরক ইনিংসটিই শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দিল। রোববার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় টি ২০ সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশকে ২৫ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এলো আফগানিস্তান।

সব মিলিয়ে টি ২০-তে টানা সবচেয়ে বেশি ১২ ম্যাচ জেতার নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ল রশিদ খানের দল।

ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৩৩ রানে চার উইকেট নিলেও বাংলাদেশের বোলাররা শুরুর চাপটা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেননি। নবীর ঝড়ো ফিফটিতে ছয় উইকেটে ১৬৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়েছিল আফগানিস্তান। জবাবে শুরুতেই পথ হারানো বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত এক বল বাকি থাকতেই ১৩৯ রানে গুটিয়ে যায়।

লিটন দাসের সঙ্গে মুশফিকুর রহিমকে ওপেনিংয়ে নামিয়ে রান তাড়ায় শুরুতেই চমক দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। প্রথম ওভারেই লিটনকে ফিরিয়ে দেন ১৫ রানে চার উইকেট নেয়া আফগান স্পিনার মুজিব উর রহমান।

দ্বিতীয় ওভারে স্কুপ করতে গিয়ে বোল্ড মুশফিক। পঞ্চম ওভারে চার বলের ব্যবধানে সাকিব আল হাসান ও সৌম্য সরকারকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে আরও ব্যাকফুটে ঠেলে দেন মুজিব। পঞ্চম উইকেটে মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বিরের ৫৮ রানের জুটি ম্যাচে কিছুটা প্রাণ ফেরালেও জেতার সম্ভাবনা সেভাবে জাগাতেই পারেনি বাংলাদেশ।

৩৯ বলে ৪৪ রান করা মাহমুদউল্লাহকে ফিরিয়ে এ জুটি ভাঙেন গুলবাদিন নাইব। পরের ওভারে মুজিবের চতুর্থ শিকারে পরিণত হন সাব্বির (২৪)।

আগের ম্যাচের দুই হিরো আফিফ হোসেন ও মোসাদ্দেক হোসেনও এবার পাশার দান উল্টে দিতে পারেননি। ফলে টেস্টের পর টি ২০-তেও আফগানদের কাছে হার মানতে হল বাংলাদেশকে।

এর আগে টস হেরে বোলিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। ইনিংসের প্রথম বলেই আফগান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ফিরিয়ে দেন পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। স্বপ্নের মতো এক ডেলিভারিতে উপড়ে দেন অফ স্টাম্প।

এরপর দ্বিতীয় ওভারে আরেক ওপেনার হজরতউল্লাহ জাজাইকে ফেরান অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তৃতীয় ওভারে সাইফের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন নাজিব তারাকাই। ষষ্ঠ ওভারে নাজিবউল্লাহ জাদরানকে মিড-অফে ক্যাচে পরিণত করেন সাকিব। ৪০ রানে চার উইকেট হারানো আফগানিস্তানকে তখন অল্প রানে গুটিয়ে দেয়ার স্বপ্নই দেখছিল বাংলাদেশ। মোহাম্মদ নবী ও আসগর আফগানের দৃঢ়তায় তা আর হয়নি।

শেষদিকে নবীর টর্নেডো ব্যাটিংয়ে ছয় উইকেটে ১৬৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে আফগানরা। তিন চার ও সাত ছক্কায় ৫৪ বলে ৮৪ রানে অপরাজিত থাকেন নবী। পঞ্চম উইকেটে আসগরকে নিয়ে ৬২ বলে ৭৯ রানের জুটি গড়েন তিনি।

এই জুটিই ইনিংসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ১৭তম ওভারে আক্রমণে ফিরে আসগরকে (৩৭ বলে ৪০) তুলে নিয়ে এই জুটি ভাঙেন সাইফউদ্দিন। ওই ওভারেই গুলবাদিন নাইবকেও ফেরান সাইফ। কিন্তু অন্যপ্রান্তে নবীর মারমুখী ব্যাটিং থামেনি।

সৌম্য সরকারের করা ১৮তম ওভার থেকে আসে ২২ রান। শেষ ওভারে মোস্তাফিজ মাত্র তিন রান দেয়ার পরও নবীর তাণ্ডবে শেষ ১০ ওভারে ১০৪ রান তুলে নেয় আফগানিস্তান। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৩৩ রানে চার উইকেট নেন সাইফউদ্দিন। সাকিব দুই উইকেট নেন ১৮ রানে। মুশফিকুরের বাজে কিপিংয়ের কারণে অতিরিক্ত খাত থেকে এসেছে ১৮ রান।

আফগানিস্তান ১৬৪/৬, ২০

বাংলাদেশ

১৩৯/১০, ১৯.৫

ফল : আফগানিস্তান ২৫ রানে জয়ী

ঘটনাপ্রবাহ : ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ ঢাকা-২০১৯

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×