ড. কালাম ‘এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

পুরস্কারটি দেশবাসীকে উৎসর্গ * মেট্রোরেলের নিরাপত্তায় বিশেষ পুলিশ ইউনিট গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ

  বাসস ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস
ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস নিলেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: যুগান্তর

ভারতের ‘ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৯’ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সম্মানজনক অ্যাওয়ার্ডটি দেশবাসীকে উৎসর্গ করেছেন তিনি। সোমবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনালের প্রধান উপদেষ্টা টিপি শ্রীনিবাসন ও সংস্থাটির চেয়ারপারসন দীনা দাস।

পুরস্কার গ্রহণের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের প্রতি এ কর্তব্য পালনই আমার জীবনের মূলমন্ত্র, যেমনটি ছিল আমার পিতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। আমি এ পুরস্কার দেশের জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করছি।’

তিনি বলেন, ‘এ পুরস্কার আমাকে এবং আমার সরকারকে আগামী দিনগুলোতে প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সংরক্ষণ এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করে জনগণের বৃহত্তর অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন অর্জনে কাজ করতে উৎসাহ জোগাবে।’

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবীসহ ভারত ও বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিদেশি কূটনীতিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পারস্পরিক আস্থা, প্রত্যয় ও শুভকামনার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক গত এক দশকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমরা লক্ষ্য করেছি, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রচলিত এবং অপ্রচলিত ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতিও সাধিত হয়েছে। আমি মনে করি বিশ্ববাসীর কাছে এটা আমরা একটা দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভারতের প্রতিটি রাজনৈতিক দল সব সময়ই বাংলাদেশের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এ দেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। যার প্রমাণ আমরা পেয়েছি আমাদের স্থলচুক্তি বাস্তবায়নের সময়। যখন ভারতের সংসদে এ সংক্রান্ত বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।’

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সে সময়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ছিটমহল বিনিময়কে প্রধানমন্ত্রী সারা বিশ্বের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেন। তিনি এ সময় ভারতের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী এবং রাষ্ট্রপতি ভারতরত্ন এপিজে আবদুল কালাম এবং হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মানবিক গুণাবলীর মধ্যকার বিভিন্ন সাদৃশ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘উভয় নেতাই সাধারণ মানুষের সুপ্ত সম্ভাবনাগুলোকে উন্মোচিত করতে নিজেদের উৎসর্গ করেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী ভারত-বাংলাদেশের গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলোকপাত করে বলেন, ‘বিদ্যমান সমস্যা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার পাশাপাশি আমরা একসঙ্গে কাজও করতে পারি কারণ আমাদের সার্বক্ষণিক চিন্তাই জনগণকে নিয়ে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই অনেকগুলো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৯তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ।’

অনুষ্ঠানে ড. কালাম স্মৃতি আন্তর্জাতিক এডভাইসরি কমিটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে কেরালার ঐতিহ্যবাহী শাড়ি এবং পুন্নাডা (এক ধরনের কাপড়) এবং সংস্থার লোগো উপহার দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

ইতিপূর্বে মালদ্বীপ, ঘানা এবং মরিশাসের রাষ্ট্রপতি এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য অসামান্য অবদান, জনকল্যাণ বিশেষত নারী ও শিশুদের কল্যাণে বিশেষ অবদান রাখা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতার জন্য শেখ হাসিনাকে এ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।

ভারতের একাদশ রাষ্ট্রপতি এবং বিশিষ্ট বিজ্ঞানী এপিজে আবদুল কালামের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তামিলনাড়ু সরকার এ পুরস্কার প্রবর্তন করে। ২০১৫ সালের ২৭ জুলাই এপিজে আবদুল কালামের মৃত্যুর পর সে বছরই ৩১ জুলাই তামিলনাড়ুর সে সময়কার মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা ভারতরত্ন এপিজে আবদুল কালামের নামে এ পুরস্কার চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

মেট্রোরেলের নিরাপত্তায় বিশেষ পুলিশ ইউনিট গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেট্রোরেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৃথক বিশেষ পুলিশ ইউনিট গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সোমবার সকালে গণভবনে ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের (এমআরটি) অগ্রগতির ওপর একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের সময় প্রধানমন্ত্রী বিশেষ পুলিশ ইউনিট গঠনের কথা বলেন। এ সময় তিনি এ মেগা প্রকল্পের দ্রুত ও যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ৬ লাইন এমআরটির পাশাপাশি ১, ২, ৩, ৪, ৫ লাইন এমআরটির অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানির (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন সিদ্দিক। দেশে এ প্রথমবারের মতো মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সহযোগিতায় রাষ্ট্র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ডিএমটিসিএল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

সভায় জানানো হয়, আগস্ট নাগাদ ৬ লাইন প্রকল্পটির (উত্তরা-আগারগাঁও-মতিঝিল) ৩০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৬ লাইনের এমআরটির উত্তরা আগারগাঁও অংশের প্রায় ৪৬ শতাংশ কাজ এবং আগারগাঁও-মতিঝিলের ২৪ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সাবেক নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান (এমপি), প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, পিএমও সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রতিরক্ষা সচিব আখতার হোসেন ভূঁইয়া এমপি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সেলের সিইও ও সাবেক ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামন মিয়া এবং জাইকার প্রতিনিধিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

‘রাজহংস’ উদ্বোধন আজ : প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকাল ৪টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৪র্থ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ উদ্বোধন করবেন। ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমানের বহরে চতুর্থ বোয়িং ৭৮৭/৮ ড্রিমলাইনার যুক্ত হয়েছে। এটি জাতীয় পতাকাবাহী ১৬তম বিমান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×