একনেকে প্রধানমন্ত্রী

প্রকল্পের কেনাকাটায় মূল্য নির্ধারণে সতর্ক হওয়ার নির্দেশ

বিমানের চতুর্থ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ উদ্বোধন

  যুগান্তর রিপোর্ট ও বাসস ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রকল্পের কেনাকাটায় মূল্য নির্ধারণে সতর্ক হওয়ার নির্দেশ

প্রকল্পের কেনাকাটায় পণ্য বা সেবার দাম নির্ধারণে সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রকল্পে পণ্য ও সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে উচ্চমূল্য নির্ধারণের খবর প্রকাশ পায় গণমাধ্যমে। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।

বিষয়টি মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। এরপরই এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

একনেক বৈঠক শেষে এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকার অহেতুক সমালোচিত হতে চায় না। আমি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছি। আমরা ইতিমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এবং মন্ত্রণালয়ের সচিবদের পণ্যের মূল্য নির্ধারণে সাবধান হতে বলেছি।

তিনি বলেন, প্রকল্পের যে কোনো পণ্যের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাজার যাচাই করতে হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এর বাইরে যে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই তা সংশোধন প্রয়োজন হলে করতে হবে। কিন্তু শেষ হওয়ার পর যেন সংশোধনীর জন্য না আসে, সেজন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

রাস্তাঘাট প্রশস্ত করার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রাস্তার পাশে গরিব মানুষের বাড়ি ও গ্রাম যাতে ভেঙে ফেলা না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখতে হবে। প্রয়োজনে অ্যালাইন্টমেন্ট পরিবর্তন করে হলেও অন্যপাশ দিয়ে রাস্তা ঘুরিয়ে নিতে হবে।

তারপরও বাধ্য হয়ে মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙতে হলে তাদের উদারভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ঘোরানো চলবে না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, ঝাড়খন্ড থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করা হবে। সেটি দিয়ে শুধু যে বিদ্যুৎ আমদানি হবে তা নয়, ভবিষ্যতে হয়তো আমরা রফতানি করতে পারব।

সরকারের প্রকল্প তদারকি সংস্থা আইএমইডিকে শক্তিশালী করারও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া আইএমইডির বিভাগীয় অফিস স্থাপনের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন তিনি।

বোয়িং থেকে আরও দুটি উড়োজাহাজ কেনা হবে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চতুর্থ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ উদ্বোধন করেছেন।

মঙ্গলবার বিকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টারমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সদ্য ক্রয় করা এয়ারক্রাফট ‘রাজহংস’ উদ্বোধন করেন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিমান রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান এবং বোয়িং থেকে আরও দু’টি উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আরও একটি খবর পেয়েছি যে, বোয়িং শিগগিরই তাদের আরও দুটি বিমান বিক্রয় করবে, তা কেউ অর্ডার দিয়ে নেয়নি। সুযোগটা আমরা নেব।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটা অনুরোধ করব যে, এত কষ্ট করে এত অর্থ দিয়ে বিমান কিনে দিয়েছি। অন্তত এর রক্ষণাবেক্ষণ হয় সেটা আপনাদের আন্তরিকতার সঙ্গে দেখতে হবে। সেই সঙ্গে যাত্রীসেবার মান বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, ‘যাত্রীদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের বিষয়টা সততার ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে আমরা ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অনেক বেশি যাত্রী পরিবহন করতে পারা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবারের হজ ফ্লাইট একেবারে নির্ঝঞ্ঝাট-চমৎকারভাবে হাজীরা গিয়ে ফিরে এসেছেন। এভাবে সুষ্ঠুভাবে হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ঠিক একইভাবে যেন আমাদের যাত্রীরাও অন্যান্য জায়গায় যারা যাবেন, তারাও যেন ভালোভাবে যাতায়াতটা করতে পারেন।’

সরকার বিমানের বিভিন্ন বন্ধ স্টেশনগুলো নতুনভাবে খোলার এবং নতুন গন্তব্য সৃষ্টির উদ্যোগ নিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইনশাল্লাহ লন্ডনে আমরা আরও দুটি শ্লট নিতে পারব। আমরা ঠিক করেছি সেটা ম্যাঞ্চেস্টারে হলে ভালো হয়। কারণ নর্থ ইংল্যান্ডে বসবাসরতদের এ ধরনের একটি দাবি রয়েছে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘ইতিমধ্যে কক্সবাজারের বিমান বন্দরটিকে আমরা উন্নয়ন করছি। তাছাড়া সিলেট, সৈয়দপুর, রাজশাহী, বরিশাল- অর্থাৎ ২০০১ এর পর যেগুলো একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সবগুলো আমরা চালু করেছি এবং উন্নত করেছি। ’৯৬ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পরই ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম এবং সিলেট এই দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আমরা করে দেই। কক্সবাজারটাকেও আমরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে প্রস্তুত করছি এবং সেখানে যেন আরও বড় প্লেন নামতে পারে সেই ব্যবস্থাও আমরা করব। সেই সঙ্গে সঙ্গে এই (হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে গেছে। কাজেই এখানে আরও কর্মচাঞ্চল্য যেমন বাড়বে তেমনি কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার জন্য স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আজকে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যে স্বীকৃতি পেয়েছি সেটা ধরে রেখে উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সরকার টানা তিন মেয়াদে সরকারে থাকায় দেশের উন্নয়নগুলো দৃশ্যমান হচ্ছে। আজকে সত্যিই আমরা আনন্দিত যে, বাংলাদেশ সারাবিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে। বিশ্বে একটা মর্যাদা পেয়েছে এবং সারাবিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত।’

তিনি বলেন, ‘মানুষকে আসলে স্বপ্ন দেখাতে হয় এবং সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নও ঘটাতে হয়- তাহলেই মানুষের মধ্যে একটি কর্মস্পৃহা জাগে। আর জনগণ যখন কাজ করে এবং তাদের মধ্যে যখন কর্মস্পৃহা জাগে তখনই উন্নয়ন করাটা সহজ হয়ে যায়।’

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক, বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) মুহাম্মাদ এনামুল বারী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও মোকাব্বির হোসেইন স্বাগত বক্তব্য দেন।

মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, কূটনৈতিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলারও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী বিমানের ভেতরের অংশ ঘুরে দেখেন এবং পাইলট ও ক্রুদের সঙ্গে কথা বলেন। ১৪ সেপ্টেম্বর বিমানের বহরে চতুর্থ বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার যুক্ত হয়। এটি জাতীয় পতাকাবাহী ‘বিমানের’ বহরে যুক্ত হওয়া ১৬তম বিমান।

বিমানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জলকামান স্যালুট জানিয়ে বিমানবন্দরে ড্রিমলাইনারটি গ্রহণ করেন। গত বছর আগস্ট ও ডিসেম্বরে প্রথম ও দ্বিতীয় ড্রিমলাইনার ‘আকাশবীণা’ ও ‘হংসবলাকা’ ঢাকায় এসে পৌঁছায়। এ বছরের জুলাইয়ে তৃতীয় ড্রিমলাইনার ‘গাংচিল’ ঢাকায় অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ড্রিমলাইনারগুলোর নাম রাখেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০০৮ সালে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির ১০টি নতুন বিমান ক্রয়ের জন্য ২ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী বোয়িং ইতিমধ্যেই চারটি ৭৭৭-৩০০ ইআর ও দুটি ৭৩৭-৮০০ এবং চারটি ড্রিমলাইনার বিমান হস্তান্তর করেছে। ২৭১ আসনের ‘রাজহংস’ বোয়িং ৭৮৭-৮ অন্যান্য বিমানের তুলনায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ী হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এটি ৬৫০ মাইল বেগে টানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম।

বিমানটি ৪৩ হাজার ফুট উচ্চতায় ওয়াইফাই পরিষেবা দেবে। ফলে যাত্রীরা আকাশ থেকে ইন্টারনেটের সাহায্যে বিশ্বের যে কোনো স্থানে তাদের বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×