ব্যাংকের ঋণ বিতরণের সীমা আরও বাড়ল

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যাংকের ঋণ বিতরণের সীমা আরও বাড়ল

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের সীমা আরও বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো আরও বেশি ঋণ বিতরণ করতে পারবে।

নতুন বিধান আজ থেকেই কার্যকর হবে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলার অনুযায়ী, এখন থেকে প্রচলিত ধারার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের মোট আমানতের ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ হিসেবে বিতরণ করতে পারবে। আগে মোট আমানতের ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ হিসেবে বিতরণ করা যেত। এই দফায় ঋণ বিতরণের সীমা সাড়ে ৩ শতাংশ বাড়ানোর ফলে এসব ব্যাংক আরও সোয়া ৩৭ হাজার কোটি টাকা বাড়তি ঋণ বিতরণ করতে পারবে।

এদিকে ইসলামী ব্যাংকগুলো এখন তাদের মোট আমানতের ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারবে। আগে তারা মোট আমানতের ৮৯ শতাংশ বিনিয়োগ করতে পারত। এই দফায় বিনিয়োগের সীমা আরও ১ শতাংশ বাড়ায় এসব ব্যাংক আরও আড়াই হাজার কোটি টাকা বাড়তি বিনিয়োগ করতে পারবে।

এই সার্কুলারের ফলে সবগুলো ব্যাংক মিলে আরও প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি ঋণ বিতরণ বা বিনিয়োগ করতে পারবে।

এর আগে ২০১৬ সালে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ বা বিনিয়োগের সীমা বাড়ানো হয়েছিল। তবে ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যে ওই সীমার চেয়ে বেশি ঋণ বা বিনিয়োগ করে ফেলেছে। যে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তাদের ঋণ বা বিনিয়োগের পরিমাণ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামিয়ে আনার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এখন নতুন করে সীমা বাড়ানোর ফলে অনেক ব্যাংককে আর তা সমন্বয় করতে হবে না। উল্টো তারা আরও নতুন ঋণ বিতরণ বা বিনিয়োগ করতে পারবে। তবে এখনও যাদের ঋণ বা বিনিয়োগের সীমা এর চেয়ে বেশি আছে তাদের তা সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে। তবে কবের মধ্যে এই সীমা সমন্বয় করতে হবে সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন সার্কুলারে কিছু বলা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে তারল্য প্রবাহ বেড়েছে। ফলে অনেক ব্যাংকের হাতে কিছু অলস অর্থ জমে গেছে। এদিকে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদাও বেশি। এসব কারণে বেসরকারি খাতে ঋণের জোগান বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যেসব ব্যাংক বাড়তি সীমার চেয়েও বেশি ঋণ বিতরণ বা বিনিয়োগ করে আছে তাদের অবশ্যই ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা সমন্বয় করতে হবে। কেননা এই সীমা এর আগে আরও কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ব্যাংকিং খাতে গত জুলাই পর্যন্ত আমানতের পরিমাণ ১৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রচলিত ব্যাংকগুলোতে ১০ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা এবং ইসলামী ব্যাংকগুলোতে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ কোটি টাকা তারা বিনিয়োগ করেছে। যার মধ্যে প্রচলিত ব্যাংকগুলো ১০ লাখ ১১ হাজার কোটি এবং ইসলামী ব্যাংকগুলো ২ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।

এদিকে চলতি অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। গত অর্থবছরে এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ শতাংশ। এর মধ্যে অর্জিত হয়েছে ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ।

ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের ক্ষমতা বাড়ানো হলেও বিতরণ করা মোট ঋণের মধ্যে ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। যা মোট ঋণের প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ। অবলোপনসহ এর পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি।

বাংলাদেশ রফতানিকারক সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগটি ইতিবাচক। এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়বে। বেসরকারি খাত আরও চাঙ্গা হবে। তবে এই ঋণ যাতে সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়, খেলাপির দিকে যাতে না যায় সেদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নজর রাখতে হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×