ঢাবি শিক্ষার্থীদের ডিন কার্যালয় ঘেরাও

তিন দফার কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের হামলা

  ঢাবি প্রতিনিধি ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তিন দফার কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের হামলা
তিন দফার কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের হামলা। ছবি-যুগান্তর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও বাণিজ্য অনুষদের ডিনের পদত্যাগসহ তিন দফার কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এতে কমপক্ষে ৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদ।

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন কার্যালয়ের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এর প্রতিবাদে আজ দুপুর ১২টায় ফের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পাল্টা অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ।

‘দুর্নীতি ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে এ কর্মসূচিতে বাম ছাত্রসংগঠন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ও স্বতন্ত্র জোটের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

ডাকসুতে কমন রুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী নেতা ইয়া লাম লামসহ ছাত্রদলের তিন কর্মীকেও সেখানে দেখা গেছে।

ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের একটি বিভাগের সান্ধ্য প্রোগ্রামে ছাত্রলীগের ৩৪ সাবেক ও বর্তমান নেতাকে পরীক্ষা ছাড়া ভর্তির সুযোগ দেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি ও অনুষদটির ডিনের পদত্যাগসহ শিক্ষার্থীরা তিন দফার আন্দোলন করছে।

আন্দোলনকারীদের তিনটি দাবি হল- ভর্তি জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান ও ব্যবসায় অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের পদত্যাগ।

জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি ডাকসু ও হল সংসদের নেতাদের অপসারণ এবং অভিযুক্তদের ছাত্রত্ব বাতিল। রোকেয়া হলে নিয়োগ বাণ্যিজের দায়ে অভিযুক্ত প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদার পদত্যাগ ও হল সংসদের ভিপি-জিএসের অপসারণ।

পাশাপাশি তাদের বক্তব্যে নৈতিক স্খলনের দায়ে ডাকসুর জিএস ও ছাত্রলীগের সদ্য পদত্যাগকারী সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর অপসারণের দাবিটিও উঠে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টিএসসি থেকে মিছিল নিয়ে ব্যবসায় অনুষদের ডিন কার্যালয় ঘেরাও করেন আন্দোলনকারীরা।

এ সময় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী সব নিয়ম বহাল রাখার দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ব্যবসায় অনুষদের ডিন বরাবর স্মারকলিপি দিতে যান ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তখন ডিন কার্যালয়ের সামনে পাল্টাপাল্টি অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ ও আন্দোলনকারীরা। উভয়পক্ষ দাবির পক্ষে স্লোগান দিতে থাকে।

একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আন্দোলকারীদের মারধর শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টররা উপস্থিত থাকলেও নিবৃত্ত করতে পারেননি।

পরে হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ফের ব্যবসায় অনুষদের কার্যালয়ে যায়।

এ সময় আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নূর। তিনি এ অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

ডিনের সঙ্গে কি কথা হয়েছে জানতে চাইলে ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি সাধারণ সম্পাদক রাগিব নায়িম বলেন, আমাদের ডিন স্যার বলেছেন তিনি কিছু জানেন না। আমরা নাকি তার ছাত্র না। তাহলে আমরা বলব, তিনি আমাদের শিক্ষক না। আমরা আজ থেকে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম।

ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান বলেন, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে অথচ ডিন স্যার জানেন না। যেহেতু তিনি জানেন না তাহলে আমরা বলব তার দায়িত্বে অবহেলা আছে। আমরা তার পদত্যাগ চাই। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ো যাব। আগামীকাল দুপুর ১২টা থেকে আবার আন্দোলন শুরু হবে।

এদিকে নুরুল হক নূর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক বছর ধরে অশুভ তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলন দমন করতে তারা ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করছে। এমন ঘটনা অনেক ঘটেছে কিন্তু কোনো বিচার হয় না। আমি শিক্ষার্থীদের ওপর এ হামলার বিচার দাবি করছি। প্রয়োজনে রাজপথে থেকে এ হামলার বিচারের দাবিতে আন্দোলন করব।

এদিকে, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা চার দাবিতে ব্যবসায় অনুষদের ডিন বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। মুহসীন হল সংসদের ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচিত জিএস মেহেদী হাসান মিজানের নেতৃত্বে এ স্মারকলিপি দেয়া হয়। তার নেতৃত্বেই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেন মিজান। হামলার সময় জগন্নাথ হল, সূর্যসেন হল, মুহসীন হল, জসীমউদ্দীন হল ও বিজয় একাত্তর হলের শতাধিক ছাত্রলীগ কর্মী ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে সেখানে উপস্থিত হন। সান্ধ্যকালীন কোর্সে ভর্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘বিশেষ সুবিধা’ চালুসহ চার দফা দাবির স্মারকলিপি দেয়ার কর্মসূচির কথা বলেন তারা।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান বলেন, ‘আমরা ডিনের কার্যালয় ঘেরাও করতে গিয়েছিলাম। সেখানে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতরা সাদ্দামের অনুসারী।’

স্মারকলিপিতে উল্লিখিত ছাত্রলীগের চার দফা দাবি হল- সান্ধ্যকালীন কোর্সে ২০ ভাগ আসন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষণ; ঢাবি শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত কোর্স ফি’র অর্ধেক করা; বাণিজ্য অনুষদের সব প্রোগ্রামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তির সুযোগ।

হামলার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসু’র এজিএস সাদ্দাম হোসেন বলেন, ছাত্রলীগ কোনো হামলা করেনি। দু’দল শিক্ষার্থীর মধ্যে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি দেরিতে শুরু করে হামলার নাটক সাজানো হয়েছে।

এদিকে হামলার সময় বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনার সময় সহকারী প্রক্টর আবদুর রহিম, সীমা ইসলাম ও মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়াসহ প্রক্টরিয়াল টিমের অন্তত ছয় সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রাব্বানী বলেন, এ ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×