অপকর্মে জড়িত আ’লীগ নেতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা : ওবায়দুল কাদের

‘রাঘববোয়াল, গডফাদার কাউকে ছাড় দেয়া হবে না * বিএনপির সময়ও ক্যাসিনোগুলো ছিল, তারা কোনো ‘অ্যাকশন’ নেয়নি

  যুগান্তর রিপোর্ট ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

ছাত্রলীগ-যুবলীগই শুধু নয়, আওয়ামী লীগে যারা অপকর্মে জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, এখানে ঢালাওভাবে ছাত্রলীগ-যুবলীগের প্রশ্ন নয়, আওয়ামী লীগেও এসব অপকর্ম যদি কেউ করে সেটারও খোঁজখবর তিনি (আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) নিচ্ছেন। দুর্নীতি, অপকর্ম, শৃঙ্খলাভঙ্গ- এসবের জন্য কিন্তু অনেকেই নজরদারিতে আছেন এবং সময়মতো ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শুক্রবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

‘যত বড় রাঘববোয়াল, গডফাদারই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না’- এমন মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপকর্মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েই অগ্রসর হচ্ছেন।

শুধু ঢাকার নেতাদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক এটা ঠিক নয়, সারা দেশে যেখানেই অপকর্ম, দুর্নীতি, অনিয়ম হবে, শৃঙ্খলাভঙ্গ হবে, সর্বত্রই একই নিয়মে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কার্যকর হবে। এখন যুবলীগ-ছাত্রলীগ বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। ছাত্রলীগের দু’জনকে অব্যাহতি দেয়া, যুবলীগের একজনকে গ্রেফতার করা, ক্যাসিনোকেন্দ্রিক যে অভিযান এটা ঢালাওভাবে ছাত্রলীগ আর যুবলীগের বিরুদ্ধে নয়। ছাত্রলীগ-যুবলীগে বহু ত্যাগী নেতাকর্মী আছে, তারা অনেক ভালো কাজও করছে। এখানে দুর্নীতি, অনিময়, বিশৃঙ্খলার সঙ্গে যারা জড়িত, যাদের আচরণে পার্টি এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, ঠিক তাদের বিরুদ্ধেই ‘কেস টু কেস’ খোঁজখবর নিয়ে ‘অ্যাকশন’ নেয়া হচ্ছে। এটা আগেও নেয়া হয়েছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, দুদকও অনেকের বিরুদ্ধে ‘অ্যাকশন’ নিতে শুরু করেছে। যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে, তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে চার্জশিটও দেয়া হয়েছে। কারও কারও ‘কনভিকশনও’ হয়ে গেছে। সরকার এই প্রথম যে শুদ্ধি অভিযানে নেমেছে, তা তো নয়। শেখ হাসিনার সরকার প্রথম থেকেই ‘জিরো টলারেন্স’ নিয়েই অপকর্ম, দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে একই মনোভাব প্রদর্শন করছে। এটা শুধু মুখের কথা নয়, আমরা ‘অ্যাকশনেই’ তা দেখাচ্ছি।

‘নিজ দলের লোকদের বিরুদ্ধে শাস্তির ঘটনা বিএনপিতে নেই’ এমন দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, অতীতে বিএনপির মতো বড় দল ক্ষমতায় ছিল। কোনো উদাহরণ নেই যে, তারা তাদের দলের কোনো অপকর্ম, লুটপাট, দুর্নীতি, খুন এসব নিয়ে কোনো ‘অ্যাকশনে’ গেছে। আজকে বর্তমান সরকারের এটা সবচেয়ে ভালো দিক। এই অ্যাকশনের কারণে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা জনগণের কাছে অনেক বেড়ে গেছে। আপনারা সাংবাদিকরা এটা ভালোই বুঝতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি হয়তো বিষোদ্গার করছে, কিন্তু তারা যে ব্যবস্থা নিতে পারেনি, আওয়ামী লীগ সেই ‘অ্যাকশন’ নিতে শুরু করেছে, খালেদা জিয়া যা পারেননি, সেটা শেখ হাসিনা করছেন। তিনি অপকর্মের ব্যাপারে নিজ দলের লোককেও ছাড় দিচ্ছেন না। এটা বাংলাদেশে একটা উজ্জ্বল উদাহরণ, এটা অব্যাহত থাকবে। আমি মনে করি, এর ফলে সরকারের ভারমূর্তি বাড়বে। আওয়ামী লীগেরও ভাবমূর্তি বাড়বে। শুধু যুবলীগ-ছাত্রলীগ নয় আওয়ামী লীগেও যারা এসব কাজ করছে, তাদেরও মনে রাখা উচিত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

‘আওয়ামী লীগ ঢাকাকে ক্যাসিনোর শহর বানিয়েছে’- বিএনপির এমন অভিযোগের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, ঢাকাকে ক্যাসিনোর শহর বানিয়েছে বিএনপি। তাদের সময় এই ক্যাসিনোগুলো ছিল। সে ক্যাসিনোর ব্যাপারে ‘অ্যাকশন’ তো নেয়া হচ্ছে। সরকারের প্রথম বছরেই কিন্তু ‘অ্যাকশন’ নেয়া হয়েছে। সময় তো এখন ফুরিয়ে যায়নি। এমন তো নয় যে, ইলেকশনকে সামনে রেখে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। প্রথম আট-নয় মাসেই ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে। বিএনপি যা করতে পারেনি, সেটা আওয়ামী লীগ সরকার করছে। এতে সরকার ও আমাদের দলের ভাবমূর্তি বাড়ছে এবং সেটাই বিএনপির গাত্রদাহের কারণ।

এতদিন প্রশাসন থেকে কেন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি- সংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, কেউ মদদ দিয়ে থাকলে কিংবা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকলে পুলিশ কমিশনার বলেছেন, পুলিশের মধ্যেও যদি কেউ এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকে তবে পুলিশও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে না। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে তাদেরও পরিকল্পনা আছে। কোনো গডফাদারেরই রেহাই পাওয়ার কোনো কারণ নেই। যেই হোক তার পরিচয় গডফাদার হলেও তার রেহাই নেই।

তিনি বলেন, গুটিকয়েক মানুষের জন্য গোটা পার্টি তো বদনামের ভাগিদার হবে না। এসব অকর্ম করছে গুটিকয়েক লোক। তারা ছাত্রলীগের, যুবলীগের কিংবা আওয়ামী লীগের হোক গুটিকয়েক লোক। যারা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে অপকর্ম করে। এতে জনগণের কাছে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। অনেকেই নীরবে হয়তো অনেক কিছু হজম করছে। কিন্তু এই ‘অ্যাকশনটা’ হওয়ার পর সারা দেশে সাধারণ মানুষ খুব খুশি। যারা এমন কর্মকাণ্ড করবে, সতর্ক হবে না, প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সহযোগী সংগঠনের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় আওয়ামী লীগ বিব্রত কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইউ আর ভেরি হ্যাপি’। আমাদের সরকারপ্রধানের ওপর আমরা খুব খুশি। তিনিই ‘অ্যাকশন’ নিতে পারেন, কাজেই সরকারপ্রধানের ইমেজ বাড়লে আমাদের পার্টিরও ইমেজ বাড়বে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদুর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমি এটাকে বিচ্ছিন্ন বক্তব্য বলে মেনে নিতে পারছি না। কারণ অতীতেও ‘আমাদের নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) হত্যা করা হবে, সরিয়ে দেয়া হবে, বঙ্গবন্ধু যেই পথে গেছেন, শেখ হাসিনাও সেই পথে যাবেন’- এ ধরনের বক্তব্য তারেক রহমান থেকে শুরু করে বিএনপির অনেক নেতাই বিভিন্ন সময় করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম কামাল হোসেন প্রমুখ।

ঘটনাপ্রবাহ : ক্যাসিনোয় অভিযান

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×