অস্ত্র মাদক ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে ৩ মামলা : শামীম দশ দিনের রিমান্ডে

সাত দেহরক্ষীকে চার দিন করে রিমান্ড * চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, মাদক, ক্যাসিনো ব্যবসা ও অর্থ পাচারের অভিযোগ এজাহারে * র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  যুগান্তর রিপোর্ট ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রিমান্ড

টেন্ডার, চাঁদা ও অস্ত্রবাজি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া যুবলীগ নেতা জি কে শামীমকে পৃথক দুটি মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্র মামলায় শামীমের সাত দেহরক্ষীরও চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদা আক্তারের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শামীমের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনের গুলশান থানায় দায়ের করা মামলায় সাত দিন করে ১৪ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ।

শুনানি শেষে অস্ত্র মামলায় ৫ দিন এবং মাদক মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আর অস্ত্র আইনের মামলায় দেহরক্ষী প্রত্যেকের জন্য সাত দিন করে রিমান্ড চাইলেও চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

শুক্রবার রাজধানীর গুলশানের নিকেতনের কার্যালয় থেকে সাত দেহরক্ষীসহ গ্রেফতারের পর শামীমকে র‌্যাব-১ এর কার্যালয়ে নেয়া হয়। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন শামীম।

‘আন্ডারওয়ার্ল্ডের’ সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য দেন তিনি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার দুপুরে সাত দেহরক্ষীসহ শামীমকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে এ থানায় অস্ত্র, মাদক এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে আলাদা তিনটি মামলা করে র‌্যাব।

অস্ত্র দেখিয়ে ভীতি প্রদর্শন এবং মানি লন্ডারিং মামলায় তার সাত দেহরক্ষীকেও আসামি করা হয়। অস্ত্র ও মাদক আইনে দায়ের করা মামলা দুটি তদন্ত করবে পুলিশ। মানি লন্ডারিং আইনে দায়ের করা মামলার তদন্ত করবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪ মিনিটে হাতকড়া পরা অবস্থায় শামীমসহ মোট আট আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তাদের এজলাসের ডকে (আসামির জন্য নির্ধারিত স্থান) রাখা হয়। ডকে দাঁড়িয়ে শামীম বেশ ঘামছিলেন।

তখন একজন আইনজীবী তাকে (শামীম) ঘাম মুছতে বেশ কয়েকটি টিস্যু পেপার দেন। এছাড়া শুনানির সময় তাকে ঠাণ্ডা পানি পান করতেও দেখা যায়। এজলাসে থাকা অবস্থায় তাকে বিষণ্ণ দেখাচ্ছিল। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে বিচারক এজলাসে এলে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আজাদ রহমান ও মো. হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরন) আসামিদের রিমান্ড চেয়ে শুনানি করেন। তারা বলেন, আসামিরা অবৈধ অস্ত্র রেখেছেন। তারা অস্ত্র দিয়ে বিভিন্ন মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়েছেন।

তারা চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িত। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করা হোক।

অপরদিকে আসামিপক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুর রহমান হাওলাদারসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করেন। শুনানিতে তারা বলেন, শামীমের অস্ত্রটি ২০২১ সাল পর্যন্ত বৈধ।

সুতরাং তার অস্ত্র অবৈধ নয়। বাকি সাতজনের অস্ত্রও বৈধ, তাদের অস্ত্রও অবৈধ নয়। তাদের প্রত্যেকের অন্ত্রের লাইসেন্স নবায়ন করা। এছাড়া আমি (শামীম) একজন ‘স্পেশাল ক্লাস’ ঠিকাদার। আর স্পেশাল ক্লাস হল ফার্স্ট ক্লাসের ওপরে।

বর্তমানে সরকারের ১৮টি কাজ চলমান রয়েছে। ৪৩৭ কোটি ৩০ লাখ টাকায় র‌্যাবের সদর দফতরের কাজ করছি। ৩১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে একটি হাসপাতাল তৈরি করছি। এর পাশেই ১২০ কোটি ৯৭ লাখ টাকার আরেকটি বিল্ডিং করা হচ্ছে।

১২০ কোটি ৯৭ লাখ টাকায় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে, ৬২ কোটি ১৯ লাখ টাকায় সচিবালয়ে, এনবিআরের ভবন তৈরির জন্য ৯৯ কোটি ৭০ লাখ টাকার কাজ চলছে। এছাড়া পঙ্গু হাসপাতালে ১০০ কোটি ২৭ লাখ টাকার কাজ করে ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেছি।

এভাবে চলমান ১৮টি প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব কাজে প্রায় ছয় হাজার লোক নিয়োজিত আছে। তাদের এক বেলার খাবারেও বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হয়। তাই তার কাছে অনেক টাকা থাকা স্বাভাবিক।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আরও বলেন, শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে শামীমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। টেলিভিশনের মাধ্যমে দেশবাসী এটা দেখেছেন। এরপর ২৪ ঘণ্টা পর আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কোনো প্রয়োজন নেই। এছাড়া শামীমের দেহরক্ষীরা আর্মির অবসরপ্রাপ্ত সেনা। অস্ত্রগুলো তাদের নিজ নামের। এক্ষেত্রেও আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।

আর বর্তমানে ই-টেন্ডারের মাধ্যমে দেশের যে কোনো স্থান থেকে টেন্ডার ড্রপ করা যায়। তাই অস্ত্র দেখিয়ে টেন্ডারবাজির কোনো প্রশ্নই আসে না।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, বাংলাদেশে কি আর কোনো ব্যক্তি নেই? এক ব্যক্তিকে দিয়েই কি সব কাজ করাতে হবে? কত টাকার প্রয়োজন উনার (শামীম)? আর বাংলাদেশে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে তার সাতজন দেহরক্ষী প্রয়োজন হয়।

দেশের কোনো এমপি-মন্ত্রীও নেই যিনি সাতজন বডিগার্ড রাখেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে অস্ত্র আইনের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত।

এরপর মাদক মামলায় আসামিকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন একই আদালত। মামলার শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, শামীম পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। তার অফিসে কোনোদিনও মদ পাওয়া যায়নি।

এ মামলাটি যেভাবে এসেছে, মদও সেভাবে এসেছে। শুনানি শেষে আদালত মাদক মামলায় শামীমের জামিন নাকচ করে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদেশের পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, অস্ত্র ও মাদক আইনে করা দুটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা একজনই।

কাজেই পৃথকভাবে রিমান্ডে নেয়ার প্রয়োজন হবে না। অস্ত্র মামলায় রিমান্ডে নিয়ে মাদক মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন। আদালতের কাছে তারা রিমান্ড আদেশের পুনরায় বিবেচনা প্রার্থনা করেন। এ সময় বিচারক আদেশ দিয়ে এজলাস ত্যাগ করেন।

চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, অবৈধ মাদক ও জুয়ার ব্যবসায়ী শামীম : এদিকে গুলশান থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আমিনুল ইসলাম অস্ত্র ও মাদক আইনে আসামিদের আদালতে উপস্থাপন করে দুই মামলায় সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন।

আবেদনে যুবলীগ নেতা শামীকে চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, অবৈধ মাদক ও জুয়ার ব্যবসায়ী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অস্ত্র মামলার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি এসএম গোলাম কিবরিয়া (জি কে) শামীমের দেহ তল্লাশি করে তার নামে একটি এনপিবি দশমিক ৩২ বোরের পিস্তল, ৪৭ রাউন্ড গুলি ও তিনটি গুলির খোসা পাওয়া যায়।

এছাড়া তার সাত সহযোগীর দেহ তল্লাশি করে প্রত্যেকের কাছ থেকে একটি করে কালো রঙের ১২ বোরের শটগান জব্দ করা হয়। পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় মোট ৬৩টি গুলির কার্তুজ ও মোবাইল ফোন।

রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক তদন্তে প্রকাশ পায় যে, আসামিদের মধ্যে শামীম একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, অবৈধ মাদক এবং জুয়ার ব্যবসায়ী। এছাড়া দেলোয়ার হোসেন, মুরাদ হোসেন, জাহিদুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, কামাল হোসেন, সামসাদ হোসেন ও আমিনুল ইসলাম- এই সাত আসামি শামীমের দেহরক্ষী ও উচ্চ বেতনভুক্ত দুষ্কর্মের সহযোগী।

আসামিরা নিজ নামের অস্ত্র প্রদর্শন করে লোকজনের মধ্যে ভয়-ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের টেন্ডারবাজি, মাদক ও জুয়ার ব্যবসাসহ স্থানীয় বাস টার্মিনাল, গরুর হাটবাজারে চাঁদাবাজি করে স্বনামে ও বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের মালিক হয়েছেন।

টেন্ডারবাজি, মাদক ও জুয়ার ব্যবসাসহ স্থানীয় বাস টার্মিনাল, গরুর হাটবাজারে চাঁদাবাজির ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত আসামিদের নাম-ঠিকানা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে আসামিদের রিমান্ড প্রয়োজন।

এছাড়া মাদক মামলার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, শামীমের বাড়ির তৃতীয়তলার অফিসকক্ষের ফ্রিজের ভেতর তার দখল ও হেফাজতে থাকা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাঁচ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

যার মূল্য আনুমানিক ৩৭ হাজার ২৫০ টাকা। শামীমের কাছ থেকে আরও বিদেশি মদ উদ্ধারসহ মাদক ব্যবসায় জড়িতদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে আসামির রিমান্ড প্রয়োজন।

এদিকে গুলশান থানায় দায়ের করা মানি লন্ডারিং আইনের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। তারা অর্থ পাচারের সঙ্গেও জড়িত।

একাধিক গোয়েন্দা সূত্র বলছে, শামীমের ঠিকাদারি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস আগে একে-২২ মডেলের একটি অস্ত্রের চালানও আসে ঢাকায়।

পুলিশের গুলশান বিভাগের এডিসি আবদুল আহাদ সাংবাদিকদের বলেন, অস্ত্র ও মানি লন্ডারিং আইনে দায়ের করা মামলায় শামীম ও তার ৭ দেহরক্ষীকে আসামি করা হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় শুধু শামীমকে আসামি করা হয়।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম যুগান্তরকে বলেন, শামীমকে গ্রেফতারের পর তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পরে তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করার পাশাপাশি অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করা হয়। দুটি মামলায় তার সাত দেহরক্ষীকেও আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবারের অভিযানের বিষয়ে মামলার এজাহারে বলা হয়, ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শামীম ও তার সহযোগীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবৈধভাবে উপার্জন করা বিপুল পরিমাণ অর্থসহ নিকেতনের কার্যালয়ে অবস্থান করছেন।

এগুলো তারা পাচার করার পরিকল্পনা করছেন। অভিযান পরিচালনা করতে দেরি হলে তারা এই অর্থ সরিয়ে ফেলতে পারেন। পরে বিষয়টি র‌্যাব সদর দফতরে জানানো হয়।

বেলা ১১টার দিকে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং ১৬৫ কোটি টাকার স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। অভিযানে ৮টি অস্ত্র এবং ৫ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, শামীম একজন অস্ত্রবাজ। তার বিশাল অস্ত্রভাণ্ডারের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এক সময় আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী প্রবাসী জিসানের সঙ্গে তিনি সখ্য গড়ে তুলে ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন।

পরবর্তী সময়ে ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট এবং সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে তিনি ঠিকাদারি ব্যবসা পরোপুরি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। এ নিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

এর জেরে জিসান তার সহযোগীদের কাছে একে-২২ মডেলের অত্যাধুনিক অস্ত্র পাঠায়। জুলাইয়ের শেষের দিকে জিসানের তিন সহযোগীকে একে-২২সহ গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার সঙ্গেও জিসানের গভীর সম্পর্ক ছিল। যুবলীগের পদ পাওয়ার পর ধীরে ধীরে জিসানের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। মূলত শামীম ও খালেদকে টেক্কা দিতেই একে-২২ মডেলের অস্ত্র ঢাকায় পাঠায় জিসান।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, জি কে শামীমের বিশাল ক্যাডার বাহিনী রয়েছে। এই ক্যাডার বাহিনীতে আছে অর্ধশতাধিক অস্ত্রবাজ। তাদের হাতে যেসব অস্ত্র রয়েছে, এগুলো সবই অবৈধ।

সরকারের বিভিন্ন দফতর এবং উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারি পেতে এই ক্যাডার বাহিনীকে তিনি (শামীম) ব্যবহার করতেন।

শামীমকে গুলশান থানায় হস্তান্তর : দুপুর ২টা ৫৬ মিনিটে জি কে শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গুলশান থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব। তাকে হস্তান্তরের পরই মামলা দায়ের হয়। পরে পৌনে ৬টার দিকে তাদের আদালতে পাঠায় পুলিশ।

সরেজমিন দেখা যায়, শামীমকে থানায় নেয়ার পর অন্তত ২০ যুবককে থানা এবং এর আশপাশের এলাকায় দেখা গেছে। শামীমকে আদালতে নেয়ার আগ পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করেন।

রাজসিক বাড়ি নিয়ে কৌতূহল : রাজধানী ঢাকার নিকেতনের এ-ব্লকের ৫ নম্বর সড়কের ১৪৪ নম্বর বাড়ির সামনে লেখা রয়েছে, জে কে বি কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেড। পাঁচতলা বাড়িটি দেখলে মনে হবে এটা যেন রাজপ্রাসাদ।

ওই ভবনেই থাকতেন যুবলীগ নেতা জি কে শামীম। শুক্রবার ওই বাড়িতেই অভিযান চালায় র‌্যাব। এখন এই বাড়ি ঘিরে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই।

শনিবার দুপুরে ওই বাড়ির সামনে গিয়ে দেখা যায়, অনেক উৎসুক মানুষ বাড়িটির সামনে অবস্থান করছেন। তাদের আলোচনাজুড়ে ছিল র‌্যাবের অভিযান এবং বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার।

মো. আজহারুল নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি গুলশান এলাকার ফুটপাতে চা বিক্রি করেন। কৌতূহলবশে তিনি এখানে এসেছেন। হাজার কোটি টাকার মালিক জি কে শামীম গ্রেফতার হয়েছেন, এটা যেন তার বিশ্বাস হচ্ছে না।

নিকেতনের একটি বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, এই বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্যান্য বাড়ির মতো নয়। ডিজিটাল লক রয়েছে গেটে। এই বাড়ির ভেতরেও নাকি সুরক্ষিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এই বাড়িতে সব সময় ভিআইপি লোকজনের আনাগোনা ছিল। বিলাসবহুল গাড়ি আসত সারাদিনই। সবার কাছেই এই বাড়ি নিয়ে রহস্য ছিল। বিভিন্ন সময় এ নিয়ে আমরা আলোচনা করতাম। এখন সব বুঝতে পারছি। এখানে সব অবৈধ টাকা-পয়সার কারবার ছিল।

ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের মারধর : রিমান্ড শুনানি শেষে শামীমকে আদালত থেকে বের করে হাজতখানার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সিএমএম আদালতের দোতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামানোর সময় সাংবাদিকরা শামীমের ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

এ সময় শামীমের লোকজন সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। পুলিশের সামনেই কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর তারা হাতও তোলেন। এর মধ্যে অনলাইন পত্রিকা সারাবাংলা ডটনেটের স্টাফ ফটো সাংবাদিক মো. সুমিত আহমেদ সোহেলের ওপর শামীমের লোকজন চড়াও হন।

তাকে মারধর করে তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। সোহেল ছাড়াও ভোরের কাগজের আরেক ফটো সাংবাদিক শাহাদতের ওপরও চড়াও হন শামীমের লোকজন। তাকেও মারধর করে তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়।

প্রসঙ্গত, ১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতার অপকর্মের বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বৈঠকেই পদ হারান ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

এরই ধারাবাহিকতায় যুবলীগের দুই প্রভাবশালী নেতা- খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও জি কে শামীমকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়। যদিও শুক্রবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগই শুধু নয়, আওয়ামী লীগের যেসব নেতা অপকর্মে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×