কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরোচ্ছে: মির্জা ফখরুল

  যুগান্তর রিপোর্ট ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরোচ্ছে। সরকার আকণ্ঠ নিমজ্জিত হয়েছে দুর্নীতিতে। তাদের একেবারে উচ্চপর্যায় থেকে তৃণমূলের কর্মী পর্যন্ত দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। তারই কিছু প্রমাণ আপনারা কয়েকদিন ধরে দেখছেন।

ঢাকা মহানগর থেকে শুরু করে যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পর্যন্ত সবখানেই তারা ভয়াবহ আকারে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এটা দেশের জন্য, জনগণের জন্য অত্যন্ত ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।

ছাত্রদলের নবনির্বাচিত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শনিবার সকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, জুয়ার আখড়ায় সম্পৃক্তরা আগে যুবদলে যুক্ত ছিলেন। এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ ধরনের কথাবার্তা বলে তো লাভ নেই। দেশের মানুষ বোঝে। এটা তারা এড়িয়ে যেতে চায়। আপনারা দেখছেন, ধর্মের কল বাতাসে নড়তে শুরু করেছে।

ক্যাসিনো ব্যবসা বিএনপির আমলেই শুরু হয়েছে- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, উনাকে জিজ্ঞাসা করেন, এটা পত্রপত্রিকায় কখন সামনে এসেছে? বিএনপির আমলে তো কখনও মিডিয়াতে আসেনি।

আজ পত্রপত্রিকা, টেলিভিশনে যেভাবে এসেছে এতে প্রমাণিত হয়ে গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার শুধু দুর্নীতি নয়, তারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে ফেলছে। সামাজিক কাঠামো ভেঙে ফেলছে এবং দেশকে সত্যিকার অর্থে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।

ছাত্রদলের কাউন্সিলের অর্জন কী- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা দেখেছেন, সরকারের সব ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ভেদ করে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে ছাত্রদলের নির্বাচন হয়েছে। আমাদের তরুণ দু’জন মেধাবী ছাত্রনেতা নির্বাচিত হয়েছেন। ছাত্রদলের এই নেতৃত্ব দেশনেত্রী মুক্তির আন্দোলন, গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলনের নেতৃত্ব নিঃসন্দেহে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করি। বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনসহ দেশের মানুষের তাদের প্রতি দোয়া আছে। সবার সেই বিশ্বাস আছে যে তারাই আন্দোলনে সফল হবে।

তিনি বলেন, নতুন নেতৃত্বে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তির জন্য দেশব্যাপী দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে ছাত্রদল। নেত্রীর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরে যাবে না- এই ছিল আজকে তাদের শপথ।

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ছাত্রদলের সাবেক নেতা ড. আসাদুজ্জামান রিপন, ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আজিজুল বারী হেলাল, সাইফুল আলম নিরব, শহিদুল ইসলাম বাবুল, শফিউল বারী বাবু, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, হাবিবুর রশীদ হাবিব, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান, ইয়াসীন আলী, নবনির্বাচিত সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ।

নবনির্বাচিত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের আচরণে ক্ষুব্ধ নেতারা : এদিকে ছাত্রদলের নবনির্বাচিত সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীসহ বিএনপি নেতারাও। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে বিএনপি মহাসচিবসহ দলের সিনিয়র নেতারা এলেও ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যাননি। মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদের নবনির্বাচিত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ১১টার দিকে ছাত্রদলের দুই শীর্ষ নেতা এলে জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় বিএনপি নেতাদের অনেককেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

এদিকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে পরাজিত ছাত্রদলের একাধিক প্রার্থী যুগান্তরকে বলেন, খোকন সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর পরাজিত অনেক প্রার্থীকে ফোন করেছেন। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক শ্যামল নির্বাচিত হওয়ার পর পরাজিত কোনো প্রার্থীকে ফোন করেননি। সাধারণ সম্পাদককে অভিনন্দন জানাতে কেউ কেউ ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই শীর্ষ নেতা শনিবার ছাত্রদলের প্রোগ্রাম ডাকলেও পরাজিত কোনো প্রার্থীকে জিয়াউর রহমানের মাজারে আসার জন্য ফোন করেননি।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, মাজারে বসেও পরাজিত কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন এমন একজন যুগান্তরকে বলেন, নেতাকর্মীদের নিয়ে আমি মাজারে গিয়ে সভাপতির সঙ্গে দেখা করে কোলাকুলি করেছি। কিছুক্ষণ পর সাধারণ সম্পাদককে দেখে তার দিকে হাত বাড়ালে তিনি আমাকে এড়িয়ে যান। বিষয়টি দুঃখজনক।

জানতে চাইলে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন যুগান্তরকে বলেন, আমরা এক গেটে দাঁড়িয়েছিলাম, মহাসচিব স্যার অন্য গেট দিয়ে প্রবেশ করে আগে পৌঁছেছেন। তিনি পৌঁছেছেন শুনেই আমরা তার কাছে চলে গিয়েছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনে যারা পরাজিত হয়েছেন তারা আমার ছোট ভাই, বন্ধু। নির্বাচনের পরে আমি সবাইকে ফোন করেছি। তবে কয়েকজনের ফোন বন্ধ পেয়েছি। এ ব্যাপারে জানতে সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×