যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ঘৌটায় হামলা চলছেই

চলছে লুটতরাজ ধর্ষণ ও ডাকাতি

  যুগান্তর ডেস্ক ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ঘৌটায় হামলা অব্যাহত রয়েছে। প্রথমে নিরাপত্তা পরিষদে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব অনুমোদন, তারপর রাশিয়ার প্রতিদিন পাঁচ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির নির্দেশ- সব উপেক্ষা করেই লড়াই চলছে বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘ। কোনো পক্ষই যুদ্ধবিরতি মানছে না। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, সিরিয়ার সরকারি বিমানবাহিনী ও সেনাবাহিনী এসব হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে সিরিয়া সরকারের মিত্র রাশিয়া বলেছে, সিরীয় বিদ্রোহীরা ‘মানবিক করিডোরে’ হামলা চালাচ্ছে। তাদের হামলার কারণেই পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে শহরটির বেসামরিক মানুষ। ফলে যে উদ্দেশ্য নিয়ে যুদ্ধবিরতির অনুমোদন করা হয়েছিল সেই উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে কোনো ত্রাণ সহায়তা কিংবা চিকিৎসাসেবা ঢুকতে পারছে না। খাবার নেই, পানি নেই। খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি চলছে অবাধে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণবিষয়ক মুখপাত্র জেন্স লারকি বলেন, ‘আজ সকালেও (মঙ্গলবার) আমরা পূর্ব ঘৌটায় লড়াই চলার খবর পেয়েছি। পরিষ্কারভাবেই চলমান পরিস্থিতিতে সেখানে ত্রাণ পাঠানো এবং অসুস্থদের উদ্ধার কাজ পরিচালনা করা সম্ভব নয়।’

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী দ্য সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, যুদ্ধবিরতির সময়টিতেই পূর্ব ঘৌটার একটি শহরে হেলিকপ্টার থেকে দুটি বোমা ফেলা হয়েছে এবং অন্য আরেকটি শহরেও জঙ্গিবিমান হামলা হয়েছে।

লড়াইয়ের মধ্যে সিরিয়া যেন সাক্ষাৎ নরকে পরিণত হয়েছে। প্রতি মুহূর্তে আতঙ্কের মধ্যে কাটাচ্ছেন অধিবাসীরা। খাদ্য নেই, পানি নেই, নেই চিকিৎসাসেবা। তার ওপর অবাধে চলছে লুটতরাজ, ধর্ষণ ও ডাকাতি। গত চার দিনে বোমার আঘাতে প্রাণ গেছে ১২১ শিশুর। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা অগুনতি। শনিবার থেকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেয়। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বোমা ফেলা হয়। এটা নিয়ে চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বোমাবর্ষণের মূল কেন্দ্র ছিল ঘৌটা শহর। বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি। সরকার বারবারই দাবি করছে, আমজনতার ওপর বোমা ফেলা হয়নি। কিন্তু শত শত আহত মানুষের ছবি অন্য কথাই বলছে। গৃহহীন ৩ লাখেরও বেশি মানুষ। যারা বেঁচে গিয়েছেন, তাদের মধ্যেও রয়েছে প্রচণ্ড আতঙ্ক। আসদি নামে এক নারী বলেছেন, ‘একটি ভগ্নস্তূপের নিচে সন্তানদের নিয়ে দিন অতিবাহিত করছি। আমার মেয়ে এত আতঙ্কে রয়েছে যে ভয় পেয়ে নিজের চুল টেনে ছিঁড়ে ফেলছে।’

খাবার-দাবারের জোগান প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছে। অবাধে চলছে লুটতরাজ, ধর্ষণ এবং ডাকাতি। যে কয়টি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ওই এলাকায় কাজ করছে, অবস্থার এমন অবনতি ঘটেছে যে তারাও কর্মীদের ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। মোয়াদ নামে এক নারী বলেন, ‘হয় প্রাণে মরতে হবে, নয় তো দুষ্কৃতকারীরা ধর্ষণ করবে। বাস্তব এখন এটাই। আমি যখন রোজ সন্তানদের জন্য খাবার কিনতে যাচ্ছি। নকল গোঁফ এঁকে বাইরে বেরোচ্ছি। না হলে আমাকেও কেউ ধর্ষণ করতে পারে। আহতদের চিকিৎসা যাতে না হয়, তাই ইচ্ছা করে অ্যাম্বুলেন্স দেখলে তার ওপর রকেট হামলা করা হচ্ছে।’ সব মিলিয়ে রক্তস্নান থামার কোনো লক্ষণই নেই।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter