শিক্ষাঙ্গনে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ অব্যাহত

শিক্ষার্থীদের দাবি না মানলে বুয়েটে তালা

ভেস্তে গেল শর্ত দিয়ে ডাকা ভিসির বৈঠক, আজ ফের বৈঠকের প্রস্তাব * শিক্ষক সমিতির কার্যবিবরণীতে ছাত্র নির্যাতনের বর্ণনা * ঢাবি, শেকৃবি ও জবিতে প্রতিবাদ মিছিল * থমথমে বুয়েট, পলাশীতে বাড়তি পুলিশ * নির্যাতনের তথ্য জানাতে খোলা হয়েছে আরেকটি ওয়েব পেজ

  যুগান্তর রিপোর্ট ১১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষার্থীদের দাবি না মানলে বুয়েটে তালা

আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে খুন করার প্রতিবাদে চতুর্থ দিনের মতো দিনভর প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ক্যাম্পাসে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

মিছিল এবং মানববন্ধন হয়েছে বিভিন্ন স্থানেও। এসব কর্মসূচি থেকে শোকাহত ও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা খুনিদের ফাঁসির দাবি তোলেন।

আবরার খুনের পর থেকেই থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বুয়েটে। পলাশী এলাকায় মোতায়েন করা আছে অতিরিক্ত পুলিশ। আগের দিনের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা বুয়েটের শহীদ মিনারে জড়ো হন। এতে শিক্ষকরা সংহতি জানান।

বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ভিসির পদত্যাগের দাবি ওঠে। দুপুর ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে ভিসিকে আলটিমেটাম দেন তারা। আবরার খুনের ৩৮ ঘণ্টা পর ভিসি ক্যাম্পাসে এলেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করে কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চলে যান।

এ ঘটনায় আজ দুপুর ২টার মধ্যে ভিসিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে আলটিমেটাম দেয়া হয়। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

এ ঘোষণার পর শিক্ষার্থীরা নিজেরাই বৈঠকের জন্য ভিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু ভিসি সাক্ষাৎ না দিয়ে এক শিক্ষক মারফত শর্তসাপেক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দেন। সেই অনুযায়ী সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় একটি বৈঠক ডাকা হয়েছিল।

কিন্তু গণমাধ্যমকর্মীদের রাখতে না চাওয়ায় শিক্ষার্থীরা বৈঠক বর্জন করেন। আমন্ত্রিত শিক্ষকরাও বৈঠকে যাননি বলে নিশ্চিত করেছেন বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান। ফলে সমঝোতার উদ্যোগ ভেস্তে গেছে। অবশ্য আজ বিকাল ৫টায় ভিসি পুনরায় বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন।

তবে বৈঠকে যাবেন কি না, সে ব্যাপারে বৃহস্পতিবার কোনো সিদ্ধান্ত নেননি আন্দোলনকারীরা। তবে আজ সকাল ১০টায় তারা এ সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন।

এর আগে দুপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা আবরারের খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, সিসিটিভির ফুটেজে শনাক্ত খুনিদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার ও বুয়েট ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধসহ আগের দিন ঘোষিত ১০ দফা দাবি ফের ঘোষণা দেন।

দাবি পূরণ না হলে আগামী ১৪ অক্টোবরের ভর্তি পরীক্ষা হবে না বলেও জানান তারা। এদিন র‌্যাগের নামে হলে হলে ছাত্রলীগের নির্যাতনের কথা লিখতে শিক্ষার্থীরা আরেকটি ওয়েব পেজ খুলেছেন। এর আগে খোলা পেজে ১০৩টি নির্যাতনের অভিযোগ পড়েছে বলে জানা গেছে।

ওদিকে আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবিতে দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশাল মৌন শোক র‌্যালি করেছে ছাত্রলীগ। এর কয়েক মিনিট পর ডাকসু ভিপির নেতৃত্বে পৃথক গণপদযাত্রা করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এর আগে তারা সংহতি সমাবেশ করেন।

আবরার হত্যার প্রতিবাদে সন্ধ্যার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্র্থীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বালন করেছেন।

এদিকে আবরার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাজধানীতে পৃথক স্থানে কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। শিক্ষামন্ত্রী পৃথক দুই স্থানে বলেছেন, আবরার হত্যার ঘটনায় দেশের সাধারণ মানুষের মতো তিনিও মর্মাহত।

অপরাধীদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। ভিসিকে সরানো হবে কি না, সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু আজ যারা দাবি তুলেছেন তারা তাদের দায়িত্ব পালন করলে হয়তো এ রকম মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধ করা যেত। আরও অনেক শিক্ষার্থীর কষ্ট লাঘব করা যেত।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আবরারকে পিটিয়ে হত্যা মামলার চার্জশিট দ্রুততম সময়ে দেয়া হবে। বিচার কার্যক্রমও দ্রুত সময়ে শেষ করা হবে।

এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক বিবৃতিতে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে।

গত ৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার ১৩ আসামিসহ ১৬ জনকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে বিবেচিত অমিত সাহাসহ ৩ জনকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলায় আসামি ১৯ জন। অমিত সাহা আটকের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আবরারের বাবা বরকতউল্ল্যাহ। তিনি পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

চতুর্থ দিনে বুয়েট : ‘প্রশাসন নীরব কেন- জবাব চাই জবাব চাই’, ‘ভিসি স্যার নীরব কেন- জবাব চাই জবাব চাই’- আবরার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের এমন সব স্লোগানে বৃহস্পতিবারও প্রকম্পিত ছিল ক্যাম্পাস।

ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এদিন সড়ক অবরোধ ও মিছিল-সমাবেশ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। টানা চার দিনের বিক্ষোভের মধ্যেও বুয়েট প্রশাসন অনেকটা নির্লিপ্ত ভূমিকা পালন করছে এবং দাবি পূরণ ও সমস্যা সমাধানে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভ সমাবেশস্থলে শিক্ষার্থীরা পথনাটক মঞ্চায়নের মাধ্যমে আবরারকে নির্যাতন করে মেরে ফেলার দৃশ্য তুলে আনেন। এভাবে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বুয়েটে মিছিল, সমাবেশ ও সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।

মিছিলে ‘শিক্ষা-সন্ত্রাস, একসঙ্গে চলে না’, ‘খুনিদের ঠিকানা, এই বুয়েটে হবে না’, ‘এক আবরার কবরে, লক্ষ আবরার বাহিরে’, ‘বহিষ্কার বহিষ্কার, খুনিদের বহিষ্কার’, ‘যাব না, যাব না, ফাঁসি ছাড়া যাব না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুর ১২টা ১৭ মিনিট থেকে বুয়েটের সামনের সড়কে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়ে বিকাল ৪টায় শেষ হয়।

বিকাল ৪টার পর থেকে আবরার হত্যার প্রতিবাদে ও খুনিদের ফাঁসির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন দেওয়ালে চিত্রাঙ্কন কর্মসূচি পালন শুরু করলে বৃষ্টিতে ছেদ পড়ে।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় মসজিদে আসর নামাজের পর আবরারের জন্য দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় আন্দোলনকারীদের দিনের কর্মসূচি।

আলটিমেটাম : বৃহস্পতিবার চতুর্থ দিনের আন্দোলনের শুরুতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ভিসিকে দাবি মেনে নিতে আজ দুপুর ২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন শিক্ষার্থীরা।

আগের দেয়া ১০ দফা দাবি তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের পক্ষে অন্তরা মাধুরী তিথী বলেন, আমাদের দাবি ছিল খুনিদের শুক্রবার (আজ) বিকাল ৫টার মধ্যে বুয়েট থেকে আজীবন বহিষ্কার করতে হবে।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। আবরার হত্যা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে দ্রুত বিচার আদালতে নেয়ার বিষয়ে বুয়েট কর্তৃপক্ষ এখনও পদক্ষেপ নেয়নি।

তিনি বলেন, বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক ব্যানারে বুয়েটের হলে হলে যে ত্রাসের পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে তা সামনে এগোক- তা চাই না।

ভিসির বিষয়ে এ শিক্ষার্থী বলেন, আবরার হত্যার পরপরই ভিসি হল বা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেননি। এমনকি ৩৮ ঘণ্টা পর ক্যাম্পাসে এলেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করে কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই চলে যান। এসব ঘটনায় তাকে শুক্রবার (আজ) দুপুর ২টার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে।

তিনি বলেন, ওই সময়ের মধ্যে তিনি না এলে বুয়েটের সব ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেব। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের এসব দাবি না মানলে ১৪ অক্টোবর ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হব।

আলোচনার প্রস্তাব : ছাত্রদের যোগাযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিকাল ৪টার দিকে ভিসির পক্ষ থেকে বৈঠকের প্রস্তাবের কথা মাইকে ঘোষণা করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মতামত চাওয়া হয়।

শিক্ষার্থীরা গণমাধ্যম ছাড়া রুদ্ধদ্বার বৈঠকের প্রস্তাব সমস্বরে ‘না’ বলে দেন। তারা ভিসিকে ক্যাম্পাসে আসার আহ্বান জানান।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র অন্তরা মাধুরী তিথী যুগান্তরকে বলেন, আবরার হত্যার পর থেকে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন। হলে হলে নির্যাতনের কথা মুখে মুখে রয়েছে। আমরা বারবারই এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলে আসছি। কিন্তু ভিসি স্যার আমাদের সামনেই আসছেন না।

আমরা চাই সমস্যা নিয়ে ভিসি স্যার আমাদের সঙ্গে কথা বলুক। তিনি জানান, ভিসির পিএসের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে ছাত্রকল্যাণ পরিচালক (ডিএসডব্লিউ) অধ্যাপক মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

পরে পরিচালক স্যারের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে শিক্ষার্থীদের ৮-১০ জনের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন ভিসি। এতে আমরা রাজি না হওয়ায় কাউন্সিল অফিসে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন; যেখানে সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকতে পারবেন না।

আমরা ওই প্রস্তাবও নাকচ করেছি। ভিসিকে ক্যাম্পাসে আনতে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি।

পথনাটক : শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের মধ্যে আবরার হত্যার নাটক মঞ্চায়ন হয়। এতে বুয়েট শিক্ষার্থীরা কীভাবে আবরারকে হত্যা করা হয় তার চিত্র ফুটিয়ে তোলেন। এতে দেখানো হয়, মায়ের দোয়া নিয়ে বাড়ি থেকে প্রাণের ক্যাম্পাসে ফিরে আসে আবরার।

নিজ টেবিলে লেখাপড়া করার সময়ে তাকে ছাত্রলীগ নেতারা ডেকে পাঠায়। নেতাদের রুমে গেলে কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা কোমরের বেল্ট, ক্রিকেট খেলার স্টাম্প ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটায়।

খবর শুনে ছুটে আসেন মা। ছেলের মৃতদেহ দেখে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। এমন দৃশ্য মঞ্চায়নের পরই খুনিদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

ছাত্র নির্যাতনের বর্ণনা : শিক্ষক সমিতির বুধবারের জরুরি সাধারণ সভার কার্যবিবরণী বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে সমিতির ৭ দফা তুলে ধরা হয়। কার্যবিবরণীতে বুয়েটে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় বুয়েট কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার বিষয়টি উঠে এসেছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আবরার হত্যার পর শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট (সদ্য পদত্যাগী) বারবার ভিসির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাতেও তিনি সাড়া দেননি। কার্যবিবরণীতে ভিসির পদত্যাগ দাবি করা হয়। অন্যথায় অপসারণ করতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়।

বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্টরা আবাসিক হলগুলোতে ইতিমধ্যে ঘটা নির্যাতন ও র‌্যাগিংয়ের ঘটনা বিভিন্ন সময়ে কর্তৃপক্ষকে জানালেও অসহযোগিতা পাওয়ার বিষয়টি কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়।

এতে হলগুলোতে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অবৈধ রুম দখল, রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যালয় স্থাপন, ছাত্র নেতাদের রুমে এসি লাগানো এবং হলগুলোতে মাদকের যথেচ্ছ ব্যবহারের চিত্র তুলে ধরা হয়।

আবরার হত্যার পর থেকে ভিসির সঙ্গে শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন বলেও উল্লেখ করা হয় কার্যবিবরণীতে।

বুয়েট পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কর্তৃপক্ষ কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি- শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগ সম্পর্কে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. একেএম মাসুদ যুগান্তরকে বলেন, একজন কোমলমতি শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার ৩৮ ঘণ্টা পর ক্যাম্পাসে এসেছিলেন ভিসি।

এরপর থেকে তিনি আর আসেননি। তার সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করতেও পারছি না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো নির্দেশনাও পাইনি। তিনি বলেন, বুয়েট ক্যাম্পাসে ভিসির বাসভবন রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সেখানে তার থাকার কথা থাকলেও ভিসি বরাবরই নিজ বাসায় অবস্থান করছেন।

ঢাবিতে সংহতি সমাবেশ : আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের শোক র‌্যালি হাস্যকর বলে দাবি করেছেন ডাকসুর ভিপি নূরুল হক নূর। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ শোক র‌্যালি করে।

এর কয়েক মিনিট পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবিতে গণপদযাত্রা করেন ডাকসুর ভিপির নেতৃত্বে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এটি ভিসি চত্বর, নীলক্ষেত মোড় হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে দিয়ে আবারও রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে শেষ হয়।

পদযাত্রার আগে রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্রলীগের শোক মিছিল হাস্যকর বলে দাবি করে নূর বলেন, যাদের হাতে রক্তের দাগ, যারা আবরারকে খুন করেছে তারা নাকি আবার শোক র‌্যালি করেছে, এটা হাস্যকর।

রাজপথ তাদের দখলে এ ভয় দেখানোর জন্য একটি শোডাউন দিয়েছে ছাত্রলীগ। তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখুন আজও সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের জোর করে এ মিছিলে ধরে এনেছে। মূলত আবরার হত্যার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যাতে মাঠে আসতে না পারে সে জন্য এ নতুন কৌশল।

ভিপি ছাত্রদের মাস্টার্স শেষে হল ত্যাগ সংক্রান্ত ঢাবি প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আজ যখন আবরারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসগুলোতে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনগুলোর নির্যাতন-নিপীড়ন, টর্চার সেল বন্ধের দাবিতে ছাত্র সমাজ রাজপথে নেমে এসেছে, তখনই প্রশাসনের টনক নড়েছে। সুতরাং যত অন্যায়, অনিয়ম, অবিচার হবে- এ ছাত্র সমাজকে সোচ্চার থাকতে হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : বুয়েট ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×