আবরার হত্যা মামলা: ছাত্রলীগ নেতা ইফতির আদালতে স্বীকারোক্তি

  যুগান্তর রিপোর্ট ১১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আবরার হত্যা মামলা: ছাত্রলীগ নেতা ইফতির আদালতে স্বীকারোক্তি

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ছাত্রলীগ নেতা ইফতি মোশাররফ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বুয়েট ছাত্রলীগের উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ইফতি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। আদালতে ইফতির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান।

জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আসামি ইফতিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। মঙ্গলবার তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে তিনি সম্মত হন।

আদালত সূত্র জানায়, আবরার নিহত হওয়ার ঘটনায় তার বাবা মো. বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে সোমবার রাজধানীর চকবাজার থানায় মামলা করেন। এ মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামাকেও আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আবরার ফাহাদ (২২) বুয়েটের ইইই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি বুয়েটের শেরে বাংলা আবাসিক হলের নিচ তলার ১০১১ নম্বর রুমে থাকতেন। একই ছাত্রাবাসের কিছু ছাত্র তাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মারধর করে গুরুতর জখম করে হত্যা করে।

বুয়েটের শেরে বাংলা হল কর্তৃপক্ষ, বুয়েটের কিছু ছাত্রের সঙ্গে আলোচনা করে এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে আবরারের বাবা জানতে পারেন- ওই ছাত্রাবাসের ছাত্র মেহেদী হাসান রাসেলসহ ১৯ জন ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ৬ অক্টোবর আবরারকে তার রুম থেকে ডেকে নিয়ে যায়।

পরদিন রাত আড়াইটা পর্যন্ত ২০১১ ও ২০০৫ রুমে ক্রিকেট স্টাম্প ও লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় প্রচণ্ড মারধর করে। এতে ঘটনাস্থলে আবরার মারা যায়। এরপর আসামিরা ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে আবরারের লাশ ফেলে রাখে। পরবর্তী সময় কিছু ছাত্র আবরারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বুধবার মামলার তিন আসামির পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তারা হলেন- দিনাজপুরের মো. মাহাতাব আলীর ছেলে মো. মনিরুজ্জামান মনির (পানিসম্পদ বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), জয়পুরহাটের আতিকুল হোসেনের ছেলে আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ) ও সিরাজগঞ্জের আবদুল হামিদের ছেলে সামছুল আরেফিন রাফাদ। এদের মধ্যে প্রথম দু’জন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। আর রাফাদ সন্দেহভাজন আসামি।

এর আগে এ মামলায় মঙ্গলবার বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ আসামির পাঁচদিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত। তারা হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল (বুয়েটের সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ ও বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক), মুহতাসিম ফুয়াদ (সিই বিভাগ, ১৪তম ব্যাচ ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক) মো. অনিক সরকার, (সিই বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ ও তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক) মো. মেহেদী হাসান রবিন (সিই বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ ও সাংগঠনিক সম্পাদক), ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ ও উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক), মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ ও ক্রীড়া সম্পাদক) মো. মোজাহিদুল রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ ও ছাত্রলীগ সদস্য), খোন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর (এমই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ ও ছাত্রলীগ কর্মী), মুনতাসির আল জেমি (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ) ও ইশতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ১৫তম ব্যাচ ও গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক)। তাদের মধ্যে প্রথম নয়জনের নাম এজাহারে থাকলেও শেষের ইশতিয়াকের নাম এজাহারে নেই। আর আসামিদের মধ্যে ইফতি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও বাকি নয় আসামি রিমান্ডে রয়েছেন।

ঘটনাপ্রবাহ : বুয়েট ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×