সম্রাট-খালেদের টাকার উৎসের সন্ধানে পুলিশ

ক্যাসিনো ক্যাশিয়ার মাকসুদ কোথায়

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ক্যাসিনো ক্যাশিয়ার মাকসুদ কোথায়
ফাইল ছবি

ক্যাসিনো ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত ঢাকা মহানগর যুবলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদুর রহমানকে খুঁজছে পুলিশ। জানা গেছে, ক্যাসিনো কারবার, জুয়ার আসর নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করে তিনি এখন কোটিপতি।

মূলত ক্যাসিনো কারবারের মূল হোতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার টাকা জমা থাকত মাকসুদের কাছে। র‌্যাবের একটি সূত্রে জানা গেছে, মাকসুদকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলে এ দু’জনের টাকার উৎস সম্পর্কে জানা যেত।

ইতিমধ্যে মাকসুদের অপকর্মের সব তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। বিশেষ করে গ্রেফতার হওয়ার পর ঢাকা

মহানগর (দক্ষিণ) যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া রিমান্ডে মাকসুদ সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন।

মাকসুদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ হল, তিনি যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর ছবি কৃত্রিমভাবে নিজের পোস্টারে ‘সুপার ইম্পোজের’ মাধ্যমে যুক্ত করে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। সেই পোস্টার ঢাকা ও তার গ্রামের বাড়ি ভোলার সব অলিগলিতে স্থান পেয়েছিল। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকেও জানানো হয়েছিল।

আর এ কারণে শাস্তিস্বরূপ সংগঠন থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে এরপরও তিনি দমে থাকেননি। নিজেকে সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে সমানে অপকর্ম করে বেড়াতেন।

খালেদের তথ্যের ভিত্তিতে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, যুবলীগের অন্যান্য নেতার মতো মাকসুদও ক্যাসিনো কারবারের অন্যতম সদস্য। এর বাইরে তার বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি ও অপরাধ কর্মের তথ্য দিয়েছেন খালেদ।

ক্যাসিনো কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া খালেদ ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে মাকসুদসহ ২৫ জনের নাম বলেছেন, যাদের সবাই ক্যাসিনোকাণ্ডের পাশাপাশি চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, টেন্ডারবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িত।

খালেদের রিমান্ডে দেয়া তথ্য ধরে মতিঝিল এলাকায় যুবলীগের মাঠপর্যায়ের অনেক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্যের সত্যতা পেয়েছে গোয়েন্দারা।

মতিঝিল এলাকায় কর্মরত একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক সদস্য যুগান্তরকে বলেন, মাকসুদ সম্রাটের চাঁদাবাজির প্রধান সৈনিক ছিলেন। তিনি মূলত সম্রাটের হয়ে চাঁদাবাজি করতেন। এ ছাড়া মতিঝিলকেন্দ্রিক মানবপাচারকারী সিন্ডিকেট নেতার প্রতিনিধি ছিলেন তিনি।

বিদেশে মানবপাচারকারী চক্রের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা সংগ্রহ করে নেতাকে দিতেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ওয়ার্ড কমিটিতেও তিনি কমিশন বাণিজ্য করতেন। ঈদের সময় যাত্রাবাড়ীসহ মতিঝিল এলাকার সব পশুর হাটে নেতার প্রতিনিধি হিসেবে চাঁদাবাজিসহ সব কর্মকাণ্ড তার নিয়ন্ত্রণে ছিল। বিভিন্ন ইন্সটিটিউটে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণেও তার হাত ছিল। দক্ষিণের সাবেক উপ-অর্থ সম্পাদক রাজিব হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে রমনা এলাকার টেনিস ক্লাবের সামনে এবং ইস্কাটন এলাকায় দু’জন ঠিকাদারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়। সেই ঘটনায়ও তার নাম এসেছিল। এছাড়া দুর্নীতির টাকায় মতিঝিল ও পুরান ঢাকা এলাকায় তার তিনটি ফ্ল্যাট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, মাকসুদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় প্রথমে ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগের বড় কোনো পদে ছিলেন না। লেখাপড়া শেষ করে তিনি যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মাকসুদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘তিনি কোনো ক্যাসিনো কারবারে জড়িত নন, ক্যাসিনোর টাকা কখনও তার হাতে আসেনি, জুয়া-মাদক কারবারে তিনি কখনও জড়িত ছিলেন না।’

তবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ছবি ‘সুপার ইম্পোজ’ করে নিজের পোস্টারে যুক্ত করে প্রচারণা চালানোর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘সেটা আমার ভুল ছিল। সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আর কখনও এ ধরনের কাজ করিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×