ভোলা রণক্ষেত্র নিহত ৪: দিনভর দফায় দফায় পুলিশ-জনতা সংঘর্ষ

শুভর ফেসবুক আইডি হ্যাক করে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল -পুলিশ সুপার * আইডি হ্যাক করে আপত্তিকর কথা লেখার হুমকি দিয়ে টাকা দাবিকারী গ্রেফতার-ডিআইজি * যার ফেসবুক আইডি হ্যাক করে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল তিনিসহ মোট ৩ জন আটক

  অমিতাভ অপু, ভোলা ও নিল রতন, বোরহানউদ্দিন ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভোলা রণক্ষেত্র নিহত ৪: দিনভর দফায় দফায় পুলিশ-জনতা সংঘর্ষ
ফেসবুক পোস্ট নিয়ে ভোলার বোরহানউদ্দিনে রোববার পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত শিশু মো. রাকিবকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। ছবি: যুগান্তর

পুলিশের সঙ্গে রোববার ‘তৌহিদী জনতা’র সংঘর্ষে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা সদর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবকের হ্যাক করা ফেসবুক আইডি থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ‘ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট’ দেয়াকে কেন্দ্র করে দিনভর এ সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত দু’জন ছাত্রসহ ৪ জন নিহত এবং ১০ পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক লোক আহত হয়েছে।

রোববার সকাল ১০টায় বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ শেষে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে গুলি, টিয়ার গ্যাসের শেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। সংঘর্ষে আহত ৪৫ জনকে ভোলা সদর ও ৩০ জনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বাকিদের বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের বেশিরভাগই গুলিবিদ্ধ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাবের টহল জোরদার করার পর বিকালেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিহতরা হচ্ছেন- বোরহানউদ্দিন উপজেলার মহিউদ্দিন পাটওয়ারীর মাদ্রাসা ছাত্র মাহবুব (১৪), উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দেলোয়ার হোসেনের কলেজপড়–য়া ছেলে শাহিন (২৩), বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহফুজ (৪৫), মনপুরা হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা মিজান (৪০)।

যার ফেসবুক আইডি থেকে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে তার নাম বিপ্লব চন্দ্র শুভ। তিনি বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের চন্দ্রমোহন বৈদ্দের ছেলে। তার ফেসবুক আইডি হ্যাক করার পর গত শুক্রবার তিনি থানায় জিডি করতে গেলে ওইদিনই পুলিশ তাকে আটক করে। পরে পুলিশ তদন্ত করে ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে আরও দু’জনকে আটক করেছে। শুভর ফেসবুক আইডি হ্যাক করে আপত্তিকর মন্তব্য লেখার হুমকি দিয়ে হ্যাকাররা টাকা দাবি করেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

রোববার বেলা ১১টার দিকে বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ মাঠে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ সম্পন্ন করা হয়। তবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির ফেসবুক আইডি হ্যাক করে একজন অপরাধীর আপত্তিকর পোস্ট দেয়া নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল না করার অনুরোধ জানানো হচ্ছিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে। পুলিশ শনিবার বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ মসজিদের ইমাম মাওলানা জালাল উদ্দিন ও বাজার মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানকে সমাবেশ না করার অনুরোধ জানায়। কিন্তু একটি গ্রুপ রোববার ঈদগাহ মাঠে সমাবেশের আয়োজন করলেও সকাল ১০টার দিকেই মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এরপর আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজার হাজার লোক ঈদগাহ মাঠে জড়ো হয়ে ইমামদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় তারা পুলিশের ওপরও চড়াও হয়। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ওই মসজিদের ইমামের কক্ষে আশ্রয় নেয়। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা পুলিশকে টার্গেট করে নির্বিচারে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ফাঁকা গুলি ছুড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এতে স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর আরও আক্রমণ চালায়। দুপুর ১টা পর্যন্ত দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে জনতার সংঘর্ষ হয়।

রোববার সন্ধ্যায় বরিশাল বিভাগীয় ডিআইজি শফিকুল ইসলাম ও বিভাগীয় কমিশনার ইয়ামিন চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ঘটনার জন্য যারাই জড়িত থাকুক না কেন, সবাইকেই খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার পেছনে যারা আছেন তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরে রাতে প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, যে ছেলেটি ফেসবুক আইডি হ্যাক করে আপত্তিকর কথা লেখার হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করেছিল, মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ সময় ভোলা-২ আসনের এমপি আলী আজম মুকুল, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, পুলিশ সুপার সরকার মো. কায়সার উপস্থিত ছিলেন।

বোরহানউদ্দিন থানার ওসি এনামুল বলেছেন, সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে তার থানারই ১০ জন সদস্য রয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরিফ নামের এক পুলিশ কনস্টেবলকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

ভোলার সিভিল সার্জন ডা. রথীন্দ্রনাথ মজুমদার বলেছেন, আহতদের চিকিৎসায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতালের ডাক্তারদের ডেকে আনা হয়েছে, তারা কাজ করছেন। ১০০ শয্যার ভোলা সদর হাসপাতালে বেড খালি না থাকায় ফ্লোরে রেখেই রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে। ভোলা সদর হাসপাতালে দু’জনের লাশ থাকার কথা স্বীকার করেছেন সিভিল সার্জন। বাকি দু’জনের লাশ বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে বলে জানা গেছে।

ভোলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ৪ জন বলে জানিয়েছেন। ভোলা ও বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে লাশগুলো রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খুলনা থেকে ৪ প্লাটুন বিজিবি আনা হয়। পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি বিজিবি টহল দেয়ার কারণে বিকালের দিকে গোটা পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।

পুলিশ সুপার সরকার মো. কায়সার জানান, শুভ নামের এক ছেলের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার ঘটনা নিয়ে পুলিশ তদন্ত করে কয়েকজনকে আটকও করেছে। এ নিয়ে শনিবার স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে পুলিশের বৈঠক হয়। সেখানে পুলিশ দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও দেয়। তবে স্থানীয় নেতারা এ নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ না করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপরও রোববার একটি গ্রুপ সমাবেশ করে। তবে শান্তিপূর্ণভাবেই সমাবেশ শেষ হয়। কিন্তু সমাবেশ শেষে কিছু লোক পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এমন পরিস্থিতির মুখে পুলিশ কর্মকর্তারা ঈদগাহ মসজিদের একটি কক্ষে আশ্রয় নেন। বিক্ষুব্ধরা ওই কক্ষেও হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তারা ওই কক্ষের দরজা-জানালা ভেঙে ফেলতে থাকে। এ পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শটগানের ফাঁকা গুলি ছোড়ে। একজন পুলিশ সদস্যের বুকে গুলি লাগে, তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পরপরই ছুটে আসেন ভোলা-২ আসনের এমপি আলী আজম মুকুল। আপত্তিকর এই মন্তব্যের জন্য দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে তিনি বলেছেন, দোষীদের কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। তিনি ভোলাবাসীকে শান্ত থাকার আহবান জানিয়ে বলেছেন, যেহেতু অপরাধী পুলিশের হাতে আটক আছে, অবশ্যই এর কঠিন বিচার হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের প্রিয় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বিরুদ্ধে কটূক্তিকারীদের বিচারে কঠোর আইন পাস করেছেন। নবীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে কেউ পার পাবে না। তিনি বলেন, আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সাহায্য করার বিষয়ে।

নিহত শাহীনের ভাগ্নে বাংলাবাজার ফাতেমা খানম কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র নাহিদ জানায়, আমার মামার বাড়ি বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া এলাকায়। শাহীন কৌতূহলী হয়েই সামাবেশস্থলে এসে গুলিবিদ্ধ হন। কলেজছাত্র নজরুল জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে সমাবেশ শেষ হয়ে যায়। পরে বিভিন্ন স্থান থেকে যারা সমাবেশে এসেছিলেন, তারা পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পুলিশও পাল্টা জবাব দেয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন তার এক আত্মীয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলা শাখার নেতা মাওলানা মিজানুর রহমান রোববার ভোলা হাসপাতালে আহতদের দেখতে আসেন। তিনি জানান, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশ গুলি করেছে। পরে ওই ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ভোলা প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিচার দাবি করা হয়।

ভোলা হাসপাতালে আহতরা হচ্ছেন- মো. নুরে আলম, নবম শ্রেণির ছাত্র মো. আসিব, মাফুজুর রহমান, মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড মসজিদের ইমাম মো. হাবিবুর রহমান, মো. রিয়াজ উদ্দিন, আবু তাহের, মাদ্রাসাছাত্র মো. মনজুর, রাজমিস্ত্রি ইমন, মো. কামাল, মো. ইসমাইল, মো. তাজল ইসলাম, মো. সুজন, কলেজছাত্র মো. রনি, মাদ্রাসাছাত্র মো. রাকিব (১০), পুলিশ সদস্য আরিফ, মো. সাকিল, মো. সোহেল, আবু তাহের, আবদুল গনি, মো. নান্নু, মো. আসাদুজ্জামান, মো. আজাদ, মো. সবুজ, মো. রিয়াজ, মো. সেকান্দর, মো. আলাউদ্দিন, মো. আরিফ হোসেন, মো. মাফুজ, মো. জামাল, মো. রাকিব, মো. ফয়সাল, মো. রফি উদ্দিন, মো. আরিফ হোসেন, সোহরাব হোসেন, মো. সবুজ উদ্দিন, মো. মুন্না, মো. সুজন, মো. তাজল ইসলাম, মো. আলমগীর, মো. রাকিব হোসেন, মো. মিজান উদ্দিন, মো. আবদুল্লাহ, মো. ফয়সাল হোসেন, মো. মারুফ, মো. সবুজ, মো. ইমাম হোসেন, মো. নজরুল ইসলাম, মো. শামীম, কেতাবউদ্দিন, মো. মোসলেউদ্দিন (৪৫), ইমন (১৮), রিয়াজউদ্দিন ( ২৯), আবু তাহের ( ৫৫), আবুল কালাম ( ৩৮)।

সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের ৬ দফা : এদিকে সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আজ বেলা ১১টায় ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনটি রোববার বিকালে ভোলা প্রেস ক্লাবে প্রতিবাদ সমাবেশে ৬ দফা দাবি জানান। এগুলো হচ্ছে অভিযুক্তের ফাঁসি কার্যকর, নিহত শহীদের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়া হস্তান্তর, আহতদের সরকারিভাবে চিকিৎসা দেয়া, বোরহানউদ্দিনের ওসিসহ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার, নিহতদের ক্ষতিপূরণ দেয়া, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মুক্তি দেয়া।

শেবাচিম হাসপাতালে ৩০ জন : বরিশাল ব্যুরো জানায়, বোরহানউদ্দিনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর গুলিবিদ্ধ ৩০ জনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হচ্ছেন বোরহানউদ্দিনের মিজানুর রহমান (৩০), ইউনুস (৬০), নান্টু (৪০), মাকসুদুর রহমান (১৮), তানভীর (৩০), ওয়ালিউল্লাহ (২৪), সিদ্দিক (২৮), আবু তাহের (৩০), শামীম (১৮), সোহরাব (৩০), আল আমিন (১৮), জামাল (২৫), আবুল কালাম (৩৮), কবির (৩৫), আলাউদ্দিন (৪২), সোহেল (২৬), হান্নান (৪৫), মো. রিয়াজ (২৯), ইমাম হাসান (২৬), নুরুল ইসলাম (৩৫), রকিব (১২), মনির (১৭), রাকিব (১৫), হাসিব (১৪), তাজুল ইসলাম (৫৫), মুন্না (১৩) ও সুজন (৩৫)। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বরিশাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি শফিকুল ইসলাম। এদিকে বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন।

বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ : সিলেট ব্যুরো জানায়, বোরহানউদ্দিনের ঘটনায় বাদ আসর রোববার সিলেটে ছাত্র জমিয়তের উদ্যোগে নগরীর বন্দর বাজারে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে মিছিল বের করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, ইসলামী ছাত্র খেলাফত বাংলাদেশ শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

হাটহাজারীতে বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ : হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, ভোলার ঘটনায় হাটহাজারীতে বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগ করেছে আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম প্রকাশ হাটহাজারী বড় মাদ্রাসার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। রোববার আসরের নামাজের পর চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের হাটহাজারী পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মডেল থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাংচুর করেছে। এ ঘটনায় ৩ মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের বিভিন্ন স্পটে অবস্থান নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবরোধ করে রাখার ঘটনা ঘটে। তবে হাটহাজারীতে সংঘটিত ঘটনা তথা বিক্ষোভের সঙ্গে মাদ্রাসার কোনো ছাত্র-শিক্ষক এবং হেফাজতে ইসলামের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নয় বলে দাবি করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×