‘ভূমি সচিবের গাড়ি অপব্যবহার’

টক অব দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তদন্ত ও শাস্তি দাবি

সর্বত্র নিন্দার ঝড়, প্রশাসনেও শুদ্ধি অভিযান জরুরি -সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদের অভিমত

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভূমি সচিব মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী
ভূমি সচিব মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী

প্রাধিকারের বাইরে অতিরিক্ত গাড়ি ব্যবহার ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন করে যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ ভাতার পুরোটা তুলে নেয়ায় প্রশাসনজুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকে মঙ্গলবার সরাসরি ও মুঠোফোনে যুগান্তরকে জানিয়েছেন, ভূমি সচিব মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারীর এ ঘটনা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। তারা বলেন, যেহেতু তথ্যপ্রমাণসহ দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টিভি জনসম্মুখে প্রকাশ করেছে সেহেতু বিষয়টি অবশ্যই তদন্তের দাবি রাখে। নিশ্চয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়াসহ শিগগির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

এছাড়া ভূমি সচিবের মতো প্রশাসনজুড়ে গাড়ি ব্যবহার ও যানবাহনের ভাতা গ্রহণের ক্ষেত্রে এভাবে আরও যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন তাদের প্রত্যেকের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া এখন সময়ের দাবি। কেননা দেশে বর্তমানে অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শুদ্ধি অভিযান চলছে। ফলে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নে প্রশাসনও এই অভিযানের বাইরে থাকার কথা নয়।

তারা মনে করেন, দুর্নীতিবিরোধী এই বিশেষ অভিযানের মধ্যে এখনও যারা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহারের সাহস দেখাচ্ছেন প্রকারান্তরে তারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে চ্যালেঞ্জ করছেন।

তাই তথ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে এই শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেয়া খুবই জরুরি।

প্রসঙ্গত, ‘সততার আড়ালে ভিন্ন চেহারা- ভূমি সচিবের গাড়ি অপব্যবহার চরমে’ শিরোনামে মঙ্গলবার যুগান্তরে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। রিপোর্টটি নিয়ে সাধারণ মানুষ ছাড়াও সকাল থেকে প্রশাসনজুড়ে ‘টক অব দ্য রিপোর্টে’ পরিণত হয়।

যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ থাকায় এবং খোদ ভূমি সচিব মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী অকপটে অভিযোগ স্বীকার করে নেয়ায় রিপোর্টটি সময়োপযোগী বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন হিসেবে সর্বসাধারণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

সকাল থেকে যুগান্তরের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেকে ফোন করে এ ধরনের রিপোর্টের জন্য ধন্যবাদ জানান। খোদ ভূমি মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীও পরিচয় গোপন রাখার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা এতদিন সচিবের দ্বারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছি। কিন্তু ভয়ে মুখ খুলতে পারেনি। বহু অফিসার মুখ বুজে সচিবের ধমক সহ্য করে আসছেন। অনেকে স্বেচ্ছায় বদলি হয়ে গেছেন। কিন্তু ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। বিলম্বে হলেও সচিবের গাড়ি অপব্যবহারের রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ায় জনসম্মুখে তার প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে।’

তারা বলেন, ‘শুধু গাড়ি অপব্যবহার নয়, অনুসন্ধান অব্যাহত রাখলে আরও অনেক কালো বিড়াল পাওয়া যাবে। তবে এই ঘটনার তারা প্রতিকার দেখতে চান।’ তারা মনে করেন, ‘একজন সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারী এ ধরনের অনিয়ম করলে বিভাগীয়ভাবে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হতো, নিশ্চয় সচিবের ক্ষেত্রেও সেটি হবে।’

সচিবালয়ে কর্মরত অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা-১৯৭৯ অনুযায়ী ভূমি সচিবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রমাণিত অভিযোগটি সরাসরি মিস কন্ডাক্ট বা অসদাচরণ। যার শাস্তি তিরস্কার থেকে শুরু করে একেবারে ডিসমিস বা চাকরিচ্যুতি পর্যন্ত বিধান রয়েছে।

তদন্তের পর অভিযোগ গঠন বা চার্জশিট দেয়া হলে বিভাগীয় মামলায় অপরাধের ধরন অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা লিখিত জবাব পর্যালোচনা করে ও মৌখিক শুনানি নিয়ে শাস্তির পরিমাণ নির্ধারণ করবেন।

কিন্তু সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা হওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি কোনো ব্যবস্থা না নেয়, তবে বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য খারাপ নজির হয়ে থাকবে। এছাড়া যেহেতু বিষয়টি গণমাধ্যমে তথ্যপ্রমাণসহ প্রকাশিত হয়েছে সেক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি বা ক্ষমতার প্রভাববলয়ের কারণে এখন কেউ ব্যবস্থা না নিলেও ভবিষ্যতে যে কোনো সময় উভয়পক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ থেকে যাবে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক ফজলুল হক যুগান্তরকে বলেন, ‘ভূমি সচিবের গাড়ি অপব্যবহারের বিষয়টি বিভাগীয়ভাবে দেখতে হবে। কারা কিভাবে এসব গাড়ির জ্বালানিসহ অন্যান্য খরচের জোগান দিয়েছে সেটিও প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় তদন্তের বিষয়।’

উল্লেখ্য, ভূমি সচিব মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী দীর্ঘদিন থেকে প্রাধিকারের বাইরে তার পরিবারের জন্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নামে বরাদ্দকৃত পাজেরো গাড়ি ও টাঙ্গাইল জোনাল সেলেটমেন্ট অফিসারের জন্য কেনা প্রাইভেট কার ব্যবহার করে আসছেন।

এছাড়া সরকারের ঋণ সুবিধায় ৩০ লাখ টাকা নিয়ে প্রাইভেট কার কিনলেও তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন করে প্রতি মাসে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা বাবদ তুলে নিচ্ছেন পুরো ৫০ হাজার টাকা, যা তিনি পারেন না। তার নেয়ার কথা ২৫ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×