অস্ত্র মামলায় সম্রাটের বিরুদ্ধে চার্জশিট

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্রাট

অস্ত্র আইনের মামলায় ক্যাসিনো গডফাদার যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সম্রাট অবৈধ অস্ত্র নিজ হেফাজতে ও নিয়ন্ত্রণে রাখতেন।

বুধবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব-১-এর এসআই শেখর চন্দ্র মল্লিক আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারাফুজ্জামান আনছারী চার্জশিট দেখেন। এরপর আদালত মামলাটি বদলির আদেশ দেন। শিগগির এ চার্জশিট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হবে।

চার্জশিটে সম্রাটকে গ্রেফতার অভিযান ও অভিযান-পরবর্তী তদন্তের বিশদ বর্ণনা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ৫ অক্টোবর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে যে, সম্রাট গ্রেফতারের ভয়ে কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে যাওয়ার জন্য চৌদ্দগ্রাম থানা এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

৬ অক্টোবর ভোর ৫টায় চৌদ্দগ্রাম থানার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামের জনৈক মনির চৌধুরীর বাড়ি থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী মো. এনামুল হক আরমানকে গ্রেফতার করা হয়। ওই সময় আরমান মাদক সেবনরত অবস্থায় ছিলেন। এ কারণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

চার্জশিটে আরও বলা হয়, গ্রেফতারের সময় জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট জানান, ঢাকার কাকরাইলের অফিসে আরও মাদকদ্রব্য ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ তার সহযোগীরা অবস্থান করছেন। এরপর সম্রাটকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়া হয়। বেলা ১টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার আলমের নেতৃত্বে সম্রাটের কাকরাইল অফিসে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সম্রাটের উপস্থিতিতে তার দেখানো মতে ফ্ল্যাটের উত্তর দিকের পশ্চিম পাশের বেডরুমের বিছানায় তোশকের নিচ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল (পিস্তলের গায়ে কোনো নম্বর নেই), সাড়ে চার ইঞ্চি লম্বা একটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। ওই রুমের দক্ষিণের কর্নার থেকে দুটি ইলেকট্রিক মেশিন, দুটি লাঠি উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি সম্রাট। তার দেখানো মতে ফ্ল্যাটের দক্ষিণ দিকের পূর্ব পাশের অন্য একটি বেডরুম থেকে ১৯ বোতল বিদেশি মদ (১৯ লিটার, আনুমানিক মূল্য ৯৫ হাজার টাকা), ৪ প্যাকেট তাস ও ১ হাজার ১৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, সম্রাট দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দলের ছত্রছায়ায় ও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাবে জুয়া পরিচালনা করেন।

অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ৭ অক্টোবর র‌্যাব-১-এর ডিএডি আবদুল খালেক বাদী হয়ে রমনা থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলা করেন। অস্ত্র মামলায় শুধু সম্রাট আর মাদক মামলায় সহযোগী আরমানসহ সম্রাটকে আসামি করা হয়।

বৈধ কাগজপত্র ও লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র নিজ হেফাজতে এবং নিয়ন্ত্রণে রাখায় আসামি সম্রাটের বিরুদ্ধে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়।

চার্জশিটে ১৪ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তারা হলেন : র‌্যাব-১-এর ডিএডি মো. আবদুস খালেক (বাদী), র‌্যাব-১-এর কনস্টেবল মো. আবদুল হামিদ, এএসআই মো. মিজানুর রহমান, সৈনিক শেখ রাসেল, ল্যান্স নায়েক মো. বাদশা জামান, নায়েক মাসুদ রানা, রমনা থানার ইন্সপেক্টর কাজী মাইনুল ইসলাম, র‌্যাব-১-এর এসআই জালাল উদ্দিন, পিরোজপুরের আমীর হোসেন (জব্দ তালিকার সাক্ষী), নোয়াখালীর মো. শাহাদাত হোসেন, এসআই মুসা মিয়া, মোহাম্মদ জহিরুল, জাহাঙ্গীর হোসেন পাটোয়ারী ও শেখর চন্দ্র মল্লিক (চার্জশিট দাখিলকারী)।

আদালত সূত্র জানায়, অভিযানে অস্ত্র ও মাদকের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ান ক্যাঙ্গারুর দুটি চামড়া উদ্ধার হয়। চামড়া উদ্ধারের ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত সম্রাটকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলায় ১৫ অক্টোবর সম্রাটের মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

রিমান্ড শেষে ২৪ অক্টোবর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ৩০ অক্টোবর অসুস্থ থাকায় আদালত সম্রাটকে কারাবিধি অনুযায়ী চিকিৎসার আদেশ দেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

সম্রাট যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ছিলেন। ঢাকায় ক্যাসিনোয় যাতায়াতকারীদের কাছে তিনি ক্যাসিনো সম্রাট হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। ক্যাসিনো-কাণ্ডে গ্রেফতার আরেক যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও ইতিমধ্যে অস্ত্র মামলায় চার্জশিট দিয়েছে র‌্যাব।

এ ছাড়া টেন্ডার কিংখ্যাত যুবলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সম্রাটের বিরুদ্ধে মাদক আইনের মামলায় এখন পর্যন্ত চার্জশিট দাখিল করা হয়নি। তবে এ সংক্রান্ত চার্জশিট প্রস্তুত হয়ে গেছে। যে কোনো সময় মাদক আইনের মামলায়ও আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : ক্যাসিনোয় অভিযান

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×