রোহিত ঝড়ে উড়ে গেল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ১৫৩/৬, ২০ ওভারে * ভারত ১৫৪/২, ১৫.৪ ওভারে * ফল : ভারত আট উইকেটে জয়ী

  স্পোর্টস ডেস্ক ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পথ হারিয়ে ১৫৩ রানে থামল বাংলাদেশ

খর্বশক্তির দল আর ভাঙা মনোবল নিয়ে দিল্লিতে প্রায় অসাধ্য সাধন করেছিল বাংলাদেশ। টি ২০তে ভারতের বিপক্ষে প্রথম জয়। ঐতিহাসিক সেই জয়ের স্মৃতি টাটকা থাকতেই মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখতে হল মাহমুদউল্লাহদের।

বৃহস্পতিবার রাজকোটে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি ২০তে বাংলাদেশ পেল ভীষণ বিব্রতকর এক হারের তেতো স্বাদ। গত কয়েকদিন চোখ রাঙালেও ঘূর্ণিঝড় মাহা শেষ পর্যন্ত আঘাত হানেনি রাজকোটে।

কিন্তু বাংলাদেশ ঠিকই পড়ল ঝড়ের কবলে। ঝড়ের নাম রোহিত শর্মা! প্রথম ম্যাচে সাত উইকেটের হারে তেতে থাকা ভারত অধিনায়ক কাল খেদ মেটালেন সুদে-আসলে। নিজের শততম টি ২০ ম্যাচে সমান ছয়টি করে চার-ছক্কায় ৪৩ বলে করলেন ৮৫ রান।

ম্যাচসেরা রোহিতের খুনে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে আট উইকেটে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল ভারত। এতে রোববার নাগপুরে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি ২০ রূপ নিল অলিখিত ফাইনালে।

রাজকোটের ব্যাটিংস্বর্গ উইকেটে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত হলেও মাঝপথে খেই হারিয়ে ছয় উইকেটে ১৫৩ রানে থমকে যায় বাংলাদেশ। শেষ তিন ওভারে আসে মাত্র ১৭ রান।

যে উইকেটে দু’শ রানও নিরাপদ নয়, সেখানে ১৫৩ রানের মামুলি পুঁজি নিয়ে ন্যূনতম লড়াইও করতে পারেনি বাংলাদেশ। ৬৫ বলে ১১৮ রানের উদ্বোধনী জুটিতেই ম্যাচের ফল নিয়ে সব সংশয় মুছে দেন রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান।

২৭ বলে ৩১ রান করা ধাওয়ান শুধু সঙ্গ দিয়েছেন রোহিতকে। দু’জনকেই ফিরিয়েছেন তরুণ লেগ-স্পিনার আমিনুল ইসলাম। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ।

২৩ বলে ফিফটি তুলে নেয়া রোহিতের বিদায়ের পর জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন লোকেশ রাহুল (৮*) ও শ্রেয়াস আইয়ার (২৪*)। ২৬ বল হাতে রেখেই আট উইকেটের অনায়াস জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।

ঘূর্ণিঝড় মাহার প্রভাবে বুধবার রাজকোটে প্রবল বৃষ্টি হওয়ায় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ নিয়ে ছিল শঙ্কা। তবে শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি আর বাগড়া দেয়নি ম্যাচে। কাল সকাল থেকেই রাজকোটের আকাশ ছিল ঝকঝকে।

সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া ম্যাচে বাংলাদেশের শুরুটাও ছিল ঝলমলে। কিন্তু মাঝপথে পথ হারানোয় ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে প্রত্যাশিত বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয় টাইগাররা। প্রথম ছয় ওভারে বিনা উইকেটে ৫৪ রান তুলে ফেললেও রানের সেই গতি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের চারজনই রান পেয়েছেন, কিন্তু পুরো ইনিংসেই কোনো ফিফটি নেই। লিটন দাস ২৯, মোহাম্মদ নাইম শেখ ৩৬, সৌম্য সরকার ৩০ ও মাহমুদউল্লাহ করেন ৩০ রান। ২৮ রানে দুই উইকেট নিয়ে ভারতের সফলতম বোলার যুজবেন্দ্র চাহাল।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশকে দুর্দান্ত শুরু এনে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার লিটন দাস ও মোহাম্মদ নাইম শেখ। তাদের দারুণ ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লের প্রথম ছয় ওভারে বিনা উইকেটে ৫৪ রান তুলে ফেলে বাংলাদেশ।

অষ্টম ওভারে লিটনের রানআউটে ভাঙে ৬০ রানে উদ্বোধনী জুটি। ২১ বলে ২৯ রান করে ফেরেন লিটন। অবশ্য তিনি আরও আগেই ফিরতে পারতেন। প্রথমে ভারতের উইকেটকিপার ঋষভ পন্তের ভুলে আউট হয়েও অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে যান লিটন।

স্টাম্পিংয়ের আগে বল ধরার সময় পন্তের গ্লাভসের সামান্য অংশ ছিল স্টাম্পের সামনে। পরে সপ্তম ওভারে তার ক্যাচ ফেলেন রোহিত শর্মা। কিন্তু দু’বার জীবন পেয়েও ইনিংসটা বড় করতে পারেননি লিটন।

পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পর রানের গতি কমে আসায় একটু অধৈর্য হয়ে উঠেছিলেন নাইম। সেটিরই খেসারত দিলেন ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে শ্রেয়াস আয়ারকে ক্যাচ দিয়ে। ৩১ বলে ৩৬ রান করা নাইমের বিদায়ের পর দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন সৌম্য সরকার।

কিন্তু ১৩তম ওভারে জোড়া আঘাতে বাংলাদেশকে কাঁপিয়ে দেন যুজবেন্দ্র চাহাল। আগের ম্যাচে অনবদ্য ফিফটিতে ভারত-বধের নায়ক মুশফিকুর রহিম এবার থমকে গেলেন চার রানে।

চাহালের বলে প্রিয় স্লগ সুইপ শট খেলতে গিয়ে ক্রুনাল পান্ডিয়ার হাতে ক্যাচ তুলে দেন মুশফিক। ওভারের প্রথম বলে মুশফিককে ফেরানোর পর শেষ বলে সৌম্যকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন চাহাল।

দারুণ খেলতে থাকা সৌম্য বিদায় নেন ২০ বলে ৩০ রান করে। দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশ দেড়শ’ পার হয় অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে। ১৯তম ওভারে ফেরার আগে ২১ বলে ৩০ রান করেন তিনি।

শেষদিকে সময়ের দাবি মেটাতে পারেননি আফিফ হোসেন (৬), মোসাদ্দেক হোসেন (৭*) ও আমিনুল ইসলাম (৫*)। তাদের ব্যাটে প্রত্যাশিত ঝড় না ওঠায় ছয় উইকেটে ১৫৩ রানে থামে বাংলাদেশ।

ঘটনাপ্রবাহ : বাংলাদেশের ভারত সফর-২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×