অবৈধ সম্পদের মামলা

রিমান্ড শেষে জি কে শামীম ও খালেদ কারাগারে

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রিমান্ড শেষে জি কে শামীম ও খালেদ কারাগারে

দুর্নীতির পৃথক দুই মামলায় রিমান্ড শেষে যুবলীগ নেতা এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম (জি কে শামীম) ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েস এ আদেশ দেন।

এদিন দুই আসামিকে সাত দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। অপরদিকে আসামিপক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন নাকচ করেন।

আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, ‘রিমান্ডে নিয়ে আসামিদের কাছ থেকে মামলা সংশ্লিষ্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

ওইসব তথ্য পর্যালোচনাপূর্বক প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি সংগ্রহের কাজ চলছে। আসামিদের পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে। এজন্য তাদের জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর অনুরোধ করছি।’

এদিন বিকাল ৩টার পর এ দুই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আসামিদের আদালতের ডকে (আসামি রাখার নির্ধারিত স্থান) রাখা হয়। আদালতে জি কে শামীম শুনানির দিকে মনোযোগী ছিলেন। তবে ডকের কোনায় দাঁড়িয়ে খালেদকে এক ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলাপ করতে দেখা যায়। খালেদের শুনানির সময় আদালত আসামি কোথায় তা জানতে চান। এ সময় খালেদ তার নিকটস্থের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে ডকের পেছন থেকে সামনের দিকে (বিচারকের দিকে) এগিয়ে যান।

এর আগে ২৪ অক্টোবর দুই আসামির ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করে দুদক। ওইদিন আদালত জি কে শামীম ও খালেদের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য ২৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। ২৭ অক্টোবর উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের সাত দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

এরও আগে ২১ অক্টোবর জি কে শামীম ও তার মা আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলাটি করা হয়। দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (ঢাকা-১) মামলাটি করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, জি কে শামীম অবৈধ উপায়ে মোট ২৯৭ কোটি ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। এর মধ্যে ১৬৫ কোটি ২৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা তার মায়ের নামে অর্জন করেছেন এবং তার মা ওই অর্থ নিজ নামে দখলে রেখে অপরাধ সংঘটনে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেন।

অপরদিকে ২১ অক্টোবর খালেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলাটি করা হয়। দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (ঢাকা-১) মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া অবৈধভাবে মোট ৫ কোটি ৫৮ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন এবং তা নিজ দখলে রেখেছেন।

প্রসঙ্গত, ২০ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিজ কার্যালয়ে সাত বডিগার্ডসহ গ্রেফতার হন জি কে শামীম। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও অর্থ পাচার আইনে তিনটি মামলা করা হয়।

১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর খালেদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও অর্থ পাচার আইনে গুলশান থানায় তিনটি এবং মতিঝিল থানায় মাদক আইনে একটি মামলা করে র‌্যাব।

এসব মামলায় কয়েক দফায় তাদের রিমান্ডে নেয়া হয়। এর মধ্যে অস্ত্র আইনের মামলায় জি কে শামীম ও খালেদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : ক্যাসিনোয় অভিযান

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×