দুর্বল বুলবুলে অনেক ক্ষতি

নিহত ২৮, আহত কয়েকশ’ * লণ্ডভণ্ড অর্ধলাখ বাড়িঘর * সুন্দরবনই রক্ষাকবচ * বিধ্বস্ত সুন্দরবনের বৃক্ষসম্পদ, ভেসে গেছে মাছের ঘের-পুকুর, নষ্ট হয়েছে মাঠের ফসলসহ বোরো ধান * রোববার ভোর ৪টায় ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়’ আকারে সাতক্ষীরা দিয়ে প্রবেশ, ৫ ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপে পরিণত * সুন্দরবন পাড়ি দেয় সাড়ে ৭ ঘণ্টা ধরে, বাংলাদেশ অংশে তাণ্ডব চালায় ২-৩ ঘণ্টা

  যুগান্তর রিপোর্ট ১২ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বুলবুলের আঘাত
বুলবুলের আঘাত। ছবি: যুগান্তর

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সাতক্ষীরার উপর দিয়ে রোববার শেষ রাত ৪টার দিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনে আঘাতের সাড়ে ৭ ঘণ্টা পর স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবেশ করে এটি।

গোটা সময়ে উভয় দেশের এ ‘রক্ষাকবচ’ সুন্দরবনের সঙ্গে উল্টো লড়াই করতে হয়েছে বুলবুলকে। ফলে এটির শক্তি অনেকটা ক্ষয় হয়ে যায়। তীব্রতা হারানো বুলবুলের ছোবলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাংলাদেশ বেঁচে গেলেও বুলবুলের দুর্বল ছোবলে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সুন্দরবন উপকূল।

বজ ঝড়, ঝড়ো হাওয়া, প্রবল বর্ষণ ও জলোচ্ছ্বাসে জানমালের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাছ ও ঘরচাপা এবং ট্রলারডুবিতে ১০ জেলায় ২৮ জন নিহত ও কয়েকশ’ আহত হয়েছেন।

ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে সুন্দরবনের বৃক্ষসম্পদ। অনেক স্থানে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরা, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালীর অনেক এলাকায় সোমবারও এর ফলে অনেক স্থানে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিদ্যুৎ সংযোগ।

সাতক্ষীরা, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশালসহ উপকূলীয় বিভিন্ন জেলায় লণ্ডভণ্ড হয় অর্ধলাখ বাড়িঘর। এতে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ঘরবাড়ি ভাঙার কারণে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর (বিএমডি) সূত্রে জানা গেছে, ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জ ও সাগরদ্বীপ হয়ে ঢোকার মুহূর্তে এটির বাতাসের গতি যেখানে ১৩৫ কিলোমিটার ছিল, সেখানে সাতক্ষীরায় সর্বোচ্চ ৯৩ কিলোমিটার রেকর্ড করা হয়।

অপরদিকে বাংলাদেশে প্রবেশের ৫ ঘণ্টার মধ্যে এটি গভীর নিম্নচাপে এবং পরে লঘুচাপে পরিণত হয়। সব মিলে সুন্দরবনের কারণে অপেক্ষাকৃত দুর্বল হয়ে পড়ে বুলবুল।

এদিকে সোমবার রাতে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ ৯ জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়। এখনও ৪ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। এদিকে ২৮ জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় রোববার বলেছে ২ জন আর সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতর বলেছে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েকশ’ মানুষ।

জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে পটুয়াখালীতে ৩, ভোলায় ১০, মাদারীপুরে ১, বরিশালে ২, পিরোজপুরে ২, বাগেরহাটে ২, শরীয়তপুরে ২, গোপালগঞ্জে ২, খুলনায় ২ ও বরগুনায় ২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ঝড়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীও শোক জানিয়েছেন।

এছাড়া বাংলাদেশে অবস্থিত ফ্রান্স দূতাবাস শোক জানিয়ে গণমাধ্যমে বার্তা পাঠিয়েছে। শোক প্রকাশ করে টুইট করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্স রাষ্ট্রদূত জ্যা-ম্যারিন স্কুহ।

যুগান্তর প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, অন্তত অর্ধলাখ বাড়িঘর নানাভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছে। অনেকের কাছে সরকারি বরাদ্দের খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ এসেছে।

এ ঘূর্ণিঝড়ের প্রাক্কালে পূর্ণিমার জো চলছিল। তবে ঝড়টি আঘাতের সময়ে ছিল ভাটির টান। যে কারণে জলোচ্ছ্বাস অপেক্ষাকৃত কম হয়েছে। এরপরও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ৪-৫ ফুট উচ্চতায় এসেছিল সাগরের পানির ঢেউ।

কোথাও এর চেয়ে বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস ছিল। সব মিলে অতিরিক্ত পানি এবং বিক্ষুব্ধ সাগরের উত্তাল উঁচু ঢেউ কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙে ফেলে। আবার কোথাও পোল্ডার ও বাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।

এর সঙ্গে ছিল বজ বৃষ্টি, দমকা ও ঝড়ো হাওয়া। সবকিছু মিলে বিভিন্ন স্থানে ফসলের মাঠ, মাছের ঘের এবং পুকুর ভাসিয়ে নেয়। এর মধ্যে আছে বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের কাঁকড়ার খামার ও চিংড়ির ঘের। নষ্ট হয়েছে মাঠের পাকা আমন ধান।

শীতের সবজিও নষ্ট হয়েছে। ভেসে গেছে চাষের মাছ। ফলে নিঃস্বদের অনেকে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। বুলবুলের প্রভাব কমে যাওয়ার পর বিকালে অনেকেই আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেন।

ঝড়ে সুন্দরবনের বড় সুরক্ষা হিসেবে কাজ করার কথা স্বীকার করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সুন্দরবনটা সবুজ বেষ্টনী হিসেবে কাজ করে। আমরা অনেক অভিযোগ শুনি, এটার প্রতি অনেক অত্যাচার হয়। সরকার হিসেবে আমরা দায়িত্ব নিয়ে বলছি- আমরা এর সব ধরনের অব্যবস্থাপনা দূর করে গাছ লাগিয়ে প্রতিরক্ষা দেয়ার মতো সক্ষমতা বাড়ে, সুন্দরবনের যাতে আরও যত্ন নিতে পারি সেদিকে আমরা সচেষ্ট হব।’

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শুক্র ও শনিবার নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। তিনটি সমুদ্রবন্দরে বন্ধ ছিল পণ্য ওঠানামা। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে শনিবার বিমানের কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল হয়।

তবে রোববার বিকালে ঝুঁকি নিয়েও অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট চালানো হয়েছিল। এ নিয়ে উড়োজাহাজ যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে আহতদের চিকিৎসাসেবা দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত টিমগুলো সারা দেশে তৎপর আছে।

ঝড়ের কারণে জেএসসির দু’দিনের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে আজ পরীক্ষা গ্রহণ কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, অতি প্রবল হয়ে ওঠা বুলবুল ঘূর্ণিঝড় আকারে অপেক্ষাকৃত কম শক্তি নিয়ে সুন্দরবন পাড়ি দিয়ে রোববার শেষরাতে বাংলাদেশে ঢোকায় ক্ষতির পরিমাণ অনেকটা কমে যায়।

যদি এটি স্থলভাগের পরিবর্তে উপকূল দিয়ে বাগেরহাটের শরণখোলা বা পটুয়াখালীর খেপুপাড়া দিয়ে প্রবেশ করত তাহলে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ত বাংলাদেশ। এরপরও ক্ষতি একেবারে কম হয়নি।

বেশি ক্ষতি হয়েছে আমন ধান, শীতের সবজি, বাঁধ ও পোল্ডারের। বাঁধ-পোল্ডার ভেঙে লোকালয়ে নোনা পানি ঢুকে যাওয়ায় জমির উর্বরতার ওপর প্রভাব পড়বে। অনেক স্থানে চাষের মাছ ভেসে গেছে। এর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড আগাম ব্যবস্থা নিতে পারত।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের (বিএমডি) আবহাওয়া বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক যুগান্তরকে বলেন, রোববার ভোররাত ৪টায় সুন্দরবন পাড়ি দিয়ে ভারতের অংশ থেকে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা-খুলনায় প্রবেশ করে বুলবুল।

ওই অঞ্চলে প্রথমে অবস্থান নেয়। এ সময় বাতাসের গতিবেগ রেকর্ড করা হয় ৯৩ কিলোমিটার। তবে ঝড়ের অগ্রবর্তী অংশ রাত ৯টায়ই পৌঁছেছিল বাংলাদেশ সীমান্তে। ঝড়টির ব্যাসার্ধ ছিল ৫০-৬০ কিলোমিটার।

ওই এলাকায় ২-৩ ঘণ্টা চলে ঝড়ের তাণ্ডব। পরে সকাল নয়টায় এটি স্থল গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। এরপর তা উত্তর-পূর্ব দিকে সরে বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, বরিশাল, পিরোজপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে লঘুচাপ আকারে ভারতের ত্রিপুরায় চলে যায়।

ঝড়ের ঝাপটা লেগেছে ঢাকা, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রামে। এভাবে ক্রমেই দুর্বল হয়ে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টি ঝরিয়ে দুর্বল হয়ে বিলীন গেছে।

বিএমডির এই বিজ্ঞানী আরও জানান, সুন্দরবন এলাকা পেরোনোর পরই ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এখন আর কোনো সংকেত নেই।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সর্বশেষ অবস্থা জানাতে রোববার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র আঘাতে উপকূলীয় এলাকায় ৪ থেকে ৫ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গাছচাপা পড়ে নিহত হয়েছেন ২ জন। আর ৩০ জনের মতো আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ইতিহাসের সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষকে আমরা সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিলাম। ৫ হাজার ৫৮৭টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২১ লাখ ৬ হাজার ৯১৮ জনকে আমরা সফলভাবে সরিয়ে নিতে পেরেছি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনী প্রতিটি উপদ্রুত অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। প্রচুর খাবার, ওষুধপত্র ও মানবিক সহায়তা নিয়ে তারাও কাজ করছেন। ফসল ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৪ জেলার কোথাও আমন নেই, শুধু পটুয়াখালীতে কিছু আমন আছে।

আমন ধান পানির মধ্যে বাড়ে, তাই সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। শীতের সবজি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের বিনামূল্যে বীজ সরবরাহ, চারা সরবরাহ করে তাদের পুনর্বাসিত করার জন্য কাজ করা হবে।

এ সময় সচিব শাহ কামাল বলেন, ঝড়ের রাতে বাগেরহাটের মিঠাখালীতে একটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে। তার নাম রাখা হয়েছে ‘বুলবুলি’।

তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে বলেছে, বুলবুলের প্রভাবে উপকূলীয় মোট ১৩টি জেলার আমনসহ মোট ৫ লাখ ৪৯ হাজার ২৩২ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এসব জেলার মধ্যে সাতক্ষীরা ও খুলনা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রকারের সবজি, ডাল, মসলাজাতীয় ফসল ঝড়ে আক্রান্ত হয়েছে।

পটুয়াখালী, দক্ষিণ, কলাপাড়া, দশমিনা, রাঙ্গাবালী ও মির্জাগঞ্জ : জেলায় তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের রামপুরা গ্রামে বসতঘরে চাপা পড়ে হামেদ ফকির (৬৫) এবং কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ট্রলার থেকে ছিটকে পড়ে বেল্লাল নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন।

এছাড়া কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী আশ্রয় কেন্দ্রে সুফিয়া বেগম (৬৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, বুলবুলের আঘাতে জেলায় প্রায় ২ হাজার ৮১০টি ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নষ্ট হয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ও শীতকালীন সবজি। এছাড়া দুই লাখ গাছপালা, এক হাজার ৪৫৮টি গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া উপজেলায় বেড়ি বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এদিকে ৩০ ঘণ্টা পর বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে।

খুলনা : ঝড়ে গাছ পড়ে নারীসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন- দাকোপ উপজেলার দক্ষিণ দাকোপ গ্রামের সুভাষ মণ্ডলের স্ত্রী প্রমীলা মণ্ডল (৫২) ও দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি গ্রামের আলমগীর হোসেন (৩৫)। এদিকে ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়েছে বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদ। বিশেষ করে কয়রা, দাকোপ, পাইগাছা ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত এবং ৭৪০টি মাছের ঘের ও পুকুরে পানি ঢুকে মাছ ভেসে গেছে। এদিকে ঝড়ের পর জেলা সদরের সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বড় বড় গাছ পড়ে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সবগুলো উপজেলায়।

রোববার শহরে গভীর রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার দুপুর পর্যন্তও কয়রার সব জায়গায় বিদ্যুৎ যায়নি। এছাড়া শীতকালীন সবজির ক্ষেত, ধানের ক্ষেত, মৎস্য ঘেরসহ ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে সুন্দরবনের গাছপালা উপড়ে পড়েছে।

এছাড়াও বনে অবস্থিত স্টেশনগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুন্দরবনের এ ক্ষয়ক্ষতির জরিপ করবে বন বিভাগ। কর্মকর্তারা বনের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাবেন। এক সপ্তাহের মধ্যেই এ তথ্য প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছে পশ্চিম বন বিভাগ।

বরগুনা, দক্ষিণ, বেতাগী ও বামনা (বরগুনা) : ঝড়ে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বরগুনা সদরে হালিমা খাতুন (৬৬) ও মহিবুল্লাহ (৪৫) এবং বামনায় শিশির বিশ্বাসের (২৫) মৃত্যু হয়। ঝড়ের সময় আতঙ্কে শিশির বিশ্বাস মারা যান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এদিকে শনিবার রাত থেকে বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুতের অভাবে পানি সংকটও দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রান পৌঁছে দিয়েছে।

সড়ক ও মহাসড়কে গাছ পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া একটি মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে ১৫ জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। ৯-৮৬৩ হেক্টর জমি, ৪২টি ইউনিয়নে ৫ হাজার ২৩৫টি ঘরবাড়ি, ৮৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) : কোটালীপাড়া উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে শিশুসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। রোববার উপজেলার বান্ধাবাড়ি গ্রামে সেকেল হাওলাদার (৭০) গাছ চাপা পড়ে নিহত হন।

সেকেল হাওলাদার বান্ধাবাড়ি গ্রামের মৃত হাসান উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। এছাড়া সোমবার উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের কান্দি গ্রামে সাথী বৈদ্য (৬) নামে এক শিশু গাছের ভাঙা ডাল মাথায় পড়ে মারা যায়। সাথী বৈদ্য কান্দি গ্রামের সুখরঞ্জন বৈদ্যর মেয়ে।

শরীয়তপুর ও ডামুঢ্যা : ঘরে গাছ চাপা পড়ে ২ জন নিহত হয়েছেন। এরা হলেন- নড়িয়া উপজেলার ইউনিয়নের দেওজুড়ি গ্রামের আলী বক্স ছৈয়াল (৭০) ও ডামুড্যা উপজেলার বড় সিধলকুড়া গ্রামের আজগর ঘরামির স্ত্রী আলেয়া বেগম (৩৮)।

এ সময় বিভিন্ন এলাকায় আরও কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্র্তা জানান, ২ হাজার ৭৬০টি (আংশিক) কাঁচা ঘরবাড়ি ও ৫৫০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। শত শত গাছপালা ভেঙে ও উপড়ে পড়েছে।

বিদ্যুতের প্রায় ১০টি খুঁটি উপড়ে গিয়ে বহু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ৩ দিনের প্রবল বৃষ্টিপাতে রোপা ও বোনা আমনসহ রবিশস্য এবং শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকারি হিসাব মতে ২ হাজার ৯৩১ হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে।

বাগেরহাট, শরণখোলা, চিতলমারী ও মোংলা : রামপাল ও ফকিরহাট উপজেলায় বুলবুলের তাণ্ডবে শিশু ও নারীসহ ২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এরা হলেন- রামপাল উপজেলার উজলকুড় গ্রামে শিশু সামিয়া খাতুন (১৫) ও ফকিরহাট উপজেলার চাকুলী গ্রামের গৃহবধূ হীরা বেগম (২৫)। ঘূর্ণিঝড়ে সুন্দরবনের দুবলারচরের অস্থায়ী শুঁটকি পল্লীর ঘরগুলো লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।

নষ্ট হয়ে গেছে কয়েক লাখ টাকার শুঁটকি। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৮ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ও ৩৫ হাজার ৫২৯ হেক্টর জমির ফসল।পানিতে ভেসে গেছে চিংড়িসহ ৭ হাজার ২৩৪টি মৎস্য খামার।

ভেঙে পড়েছে ৭০টি বিদ্যুতের খুঁটি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ লাইন। এদিকে মোংলায় ঝড়ে বিপর্যস্ত হওয়া বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন সোমবারও মেরামত করা সম্ভব হয়নি। ফলে অধিকাংশ এলাকা ৩ দিন ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। চিতলমারীতে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চিংড়ি ও সবজি চাষীরা।

চরম দুঃখ-কষ্টে দিন কাটছে খেটে খাওয়া মানুষের। এসব মানুষ কোনো প্রকার সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। শরণখোলায় কাঁচা ঘরবাড়ি, গাছপালা ও আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে শুক্রবার রাত থেকে গোটা উপজেলা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। এছাড়া মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ রয়েছে। উপজেলার ভাঙনকবলিত সাউথখালী ইউয়িনের বগী থেকে দক্ষিণ সাউথখালী আশার আলো মসজিদ পর্যন্ত পাউবোর প্রায় দুই কিলোমিটার রিং বাঁধ বলেশ্বরের প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ধসে গেছে।

পিরোজপুর, স্বরূপকাঠি, ইন্দুরকানী, নাজিরপুর, ভাণ্ডারিয়া : নাজিরপুরে বসতঘরে গাছ চাপা পড়ে ননী গোপাল মণ্ডল (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। অন্যদিকে ভাণ্ডারিয়ায় জাওয়াদ আবদুল্লাহ (৫) নামে এক শিশু বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে।

সে গৌরীপুর ইউনিয়নের পৈকখালী গ্রামের শিক্ষক মশিউর রহমানের ছেলে। এদিকে স্বরূপকাঠিসহ বিভিন্ন স্থানে ঝড়ে আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশত মানুষ। এদিকে জেলার বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘর ও গাছপালা উপড়ে পড়েছে। প্রায় আড়াই হাজার কাঁচাঘর ভেঙে গেছে। এছাড়া কৃষি জমি, মাছের ঘের, নার্সারির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও ৩৬ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ ছিল। ইন্দুরকানীতে ৫ শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত ও শিশুসহ ১২ জন আহত হয়েছেন।

বরিশাল, বাবুগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ, আগৈলঝাড়া, মুলাদী, গৌরনদী : উজিরপুর উপজেলার ১নং পৌরসভায় আশলতা মজুমদার (৬৫) নামে এক নারী বাড়িতে গাছ চাপা পড়ে মারা গেছেন।

এছাড়া বাবুগঞ্জের কেদারপুর ইউনিয়নের ভূতেরদিয়া গ্রামে গাছ পড়ে মারা গেছেন আয়নাল ফকির নামে আরেক ব্যক্তি। জানা গেছে, ভারি বর্ষণ ও প্রবল বাতাসে জেলার সর্বত্র বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বাকেরগঞ্জ, উজিরপুর, গৌরনদী, আগৈলঝাড়া ও বাবুগঞ্জের সড়কে গাছ পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এদিকে টানা ২ দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে তীব্র পানি সংকটও দেখা দেয়। এ সুযোগে কোথাও কোথাও ১০ টাকার মোমবাতি বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকায়। তবে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে সড়কের গাছপালা দ্রুত সরানোর উদ্যোগ নেয়া হয়।

জেলায় রোপা উফশী আমন ধান, ১ লাখ হেক্টর খেসারি ডাল, ২ হাজার হেক্টর সবজি, ৪ হাজার হেক্টর ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও ৩ হাজার ঘরবাড়ি আংশিক এবং সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে ৫০টি ঘরের। মুলাদীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

মাদারীপুর, শিবচর ও টেকেরহাট : ঝড়ের সময় সদর উপ?জেলার ঘটমাঝিতে ঘরে আলমারির নিচে চাপা পড়ে সালেহা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া রাজৈর উপজেলায় গাছচাপায় ৬ জন আহত হয়েছেন। মৃত্যুর ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হয়। এছাড়া কালকিনি ও রাজৈরের নিম্নাঞ্চলে আমন ধানসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ভোলা, লালমোহন ও চরফ্যাশন : চরফ্যাশনে মাছ ধরার ট্রলার ডুবির ঘটনায় ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর কোস্টগার্ড সদস্যরা খোরশেদ নামে এক জেলের লাশসহ ট্রলারটি উদ্ধার করেন। পরে সোমবার রাতে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মাছকাটা নদীর বাহাদুরপুর এলাকা থেকে আরও ৯ জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়।

তারা হল- ভোলার দুলারহাটের কামাল দালাল (৩৫), একই এলাকার হাসান মোল্লা (৩৮), নূরনবী বেপারী (৩০), মফিজ মাতব্বর (৩৫), নজরুল ইসলাম (৩৫), কবির হোসেন (৪০), বিল্লাল (৩২), চরফ্যাশনের আব্বাস মুন্সী (৪৪) ও একই এলাকার রফিক বিশ্বাস (৪৪)।

এছাড়া রোববার রাতে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম খোরশেদ। ট্রলারডুবির ঘটনায় এখনও ৪ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, নিহত প্রতি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দেয়া হবে।

এদিকে অতি জোয়ার ও টানা বৃষ্টিতে জেলা শহরের কালীবাড়ি সড়ক এলাকাসহ বহুস্থানে ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। ডুবে গেছে চরাঞ্চল। জেলার প্রায় একশ’ ব্রিকফিল্ড ডুবে গেছে। জেলায় প্রায় সাড়ে ৫৭ হাজার হেক্টর জমির আমন ধানসহ ৫৯ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে ভোলা-৪ আসনের এমপি উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব জানান, তিনি রোববার দুপুর পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য ও অর্থ সহায়তা করেছেন। তিনি ঝড়ের ২ দিন এলাকায় থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে আনায়ও তৎপর ছিলেন।

সাতক্ষীরা : শনিবার রাত ৩টার দিকে বুলবুলের ছোবলে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সুন্দরবন উপকূল। বিধ্বস্ত হয়েছে সুন্দরবনের বৃক্ষসম্পদ। জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, গাবুরা, পদ্মপুকুর, কৈখালি, রমজাননগর ও মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের গ্রামগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এসব ইউনিয়নের ২৬ হাজার কাঁচা ও আধাপাকা বাড়িঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া আরও ৩২ হাজার বাড়িঘর কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে।

ঝালকাঠি : ঝড়ে ৮১৭টি কাঁচা ঘরবাড়ি ও ৪১৫ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। টানা বৃষ্টি এবং সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৪-৫ ফুট বেড়ে তলিয়ে গেছে ৬১৫টি মাছের ঘের ও পুকুর।

এছাড়াও ৪১ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমির উঠতি আমন, ৫ হাজার ২২০ হেক্টর অন্যান্য ফসল, ১ হাজার ৪৫০ হেক্টরের শাক-সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।

মীরসরাই (চট্টগ্রাম) : বুলবুল’র প্রভাবে মীরসরাই উপজেলায় ঘরবাড়ি ও গাছপালার তেমন ক্ষতি না হলেও রোববার দমকা ঝড়ো হাওয়ায় পাকা আমনসহ মৌসুমি শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কক্সবাজার ও মহেশখালী : বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপে আটকাপড়া প্রায় এক হাজার ২শ’ পর্যটককে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনটি জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা হয়।

পরে দুপুর ১টার দিকে সেন্টমার্টিন থেকে পর্যটকদের নিয়ে টেকনাফের উদ্দেশে রওনা করে জাহাজগুলো। এদিকে দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় বিভিন্ন সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

কচুয়া ও ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) : বেশকিছু বাড়িঘর, গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এছাড়া ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ায় প্রায় ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিছিন্ন ছিল কচুয়া। ফরিদগঞ্জে শীতকালীন শাক-সবজি ১৬০ হেক্টর, রোপা আমন ধান ১৩৫ হেক্টর ও সরিষা ১৬ হেক্টর জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) : উপজেলায় অর্ধশতাধিক কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বিচ্ছিন্ন চর আবদুল্লায় মেঘনার জোয়ারের পানিতে ডুবে ৩৭৫টি ভেড়া মারা গেছে। রোববার দুপুরে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল’র প্রভাবে চর আবদুল্লাহ ইউনিয়নের নতুন চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

টঙ্গীবাড়ী (মুন্সীগঞ্জ) : উপজেলার পদ্মা চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার দুপুরের দিকে ঝড়ের প্রভাবে টঙ্গীবাড়ী-হাসাইল সড়কের খলাগাঁও নামক স্থানে কয়েকটি গাছ ভেঙে রাস্তার ওপর পড়লে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

কেশবপুর (যশোর) : কেশবপুরে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল’র আঘাতে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে। প্রায় ৭০ হাজার গ্রাহক ২ দিন ধরে বিদ্যুৎ বঞ্চিত রয়েছেন। অপরদিকে উঠতি আমন ধান, শাক-সবজিসহ কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×