ইন্দোর টেস্ট : বাংলাদেশ ১৫০ আগরওয়াল ২৪৩

দ্বিতীয়দিন শেষে ভারত ৪৯৩/৬

  স্পোর্টস ডেস্ক ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি করেন মায়াঙ্ক আগারওয়াল। ছবি: সংগৃহীত
ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি করেন মায়াঙ্ক আগারওয়াল। ছবি: সংগৃহীত

আগের বলে মেহেদী হাসান মিরাজকে ছয় মেরেছিলেন লং-অফ দিয়ে। পরের বল সুইপ করতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন আবু জায়েদের হাতে। বোলার মেহেদী হাসান মিরাজ।

সবেধণ নীলমণি ওই একটি উইকেটই তার। অবশেষে আউট আগরওয়াল। গোটা ইন্দোর দাঁড়িয়ে দিনের সেরা পারফরমারকে কুর্নিশ জানায়। অভিনন্দনযোগ্য এক ইনিংসই খেলেছেন মায়াঙ্ক আগরওয়াল।

আজিংকা রাহানের সেঞ্চুরি মিস এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে এই প্রথম বিরাট কোহলির শূন্য রানে আউট হওয়ার দিনে তর্কাতীতভাবে নায়ক-মহানায়ক আগরওয়াল। ভারতের ৪৯৩/৬-এ তার একারই অবদান ২৪৩।

শুক্রবার ইন্দোর টেস্টের দ্বিতীয়দিন রাহানের ২১তম ফিফটিকে (শেষ নয় টেস্টে ষষ্ঠ হাফ সেঞ্চুরি) পেছনে ফেলে নিজের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরির (আট টেস্টে তৃতীয় শতক) সহায়তায় ভারতকে রানের পাহাড়ে তুলে দিয়েছেন আগরওয়াল।

রবীন্দ্র জাদেজার বিনোদনসর্বস্ব ইনিংস (৭৬ বলে ৬০*) এবং ইবাদতকে মারা পরপর দুই ছয়ে উমেশ যাদবদের ১০ বলে হার না-মানা ২৫ যতই বিকেলটা রাঙিয়ে তুলুক না কেন, আগরওয়াল দিনটা পুরোপুরি নিজের করে নেন মাধুর্যপূর্ণ ম্যারাথন ব্যাটিংয়ে। ৩৩০ বলে ২৪৩। ২৮টি চার ও আটটি ছয়।

রাহানের সঙ্গে ১৯০ রানের জুটি। আগরওয়ালের এমন ধৈর্যের পাহাড় হয়ে ওঠার একটা গল্প আছে। বাঙ্গালোরের রাস্তায় যানজটে আটকে পড়ার সময় গাড়িতে কিশোর আগরওয়ালকে তার বাবা বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে ধৈর্যশীল হওয়ার শিক্ষা দিতেন। সেই শিক্ষাটা টেস্ট ক্রিকেটে কাজে লাগাচ্ছেন সুপুত্র।

প্রথম টেস্টের প্রথম দু’দিনে বাংলাদেশের পক্ষে টস জেতা ছাড়া আর কোনো কিছুই যায়নি। আগেরদিন এক উইকেটে ৮৬ রান তোলা ভারত কাল ৮৮ ওভারে ৪০৭ রান তুলেছে।

নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এ নিয়ে মাত্র তৃতীয়বার একদিনে চারশ’র বেশি রান তুলল ভারত। আগের দুটি ছিল শ্রীলংকার বিপক্ষে। প্রথমদিন ১৫০ রানে গুটিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয়দিনও কাটিয়েছে হতাশায়।

ভারতে স্পিনবান্ধব উইকেটের কথা মাথায় রেখে তাইজুল ও মিরাজকে দিয়ে টানা বোলিং করিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত মার খেয়েছে প্রবলভাবে। বাংলাদেশের দুই স্পিনারকেই বেরিয়ে এসে স্বচ্ছন্দে মেরেছেন আগরওয়ালরা।

তার প্রমাণ দ্বিতীয়দিন স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের মারা ১৩ ছয়। হলকার স্টেডিয়ামের লাল মাটির পিচ যে পেসারদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে আগ্রহী, তা বোঝা গেছে প্রথমদিনই। কাল আবু জায়েদ ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ভারতের প্রথম চার উইকেট নিয়ে ধারণাটা বদ্ধমূল করেছেন।

এরমধ্যে কোহলির উইকেট সবচেয়ে মূল্যবান। বাংলাদেশের বিপক্ষে এই প্রথম শূন্য রানে আউট হলেন কোহলি। সফলতা অবশ্য এসেছে রিভিউ নিয়ে। ইবাদত ও মিরাজের ঝুলিতে গেছে একটি করে উইকেট।

হলকার স্টেডিয়ামে দ্বিতীয়দিন একবারই শুধু দর্শকদের হল্লা থেমেছিল। যখন কোহলি ‘ডাক’ মারেন। পূজারা (৫৪) ফিফটি করে বিদায় নেয়ার পর সমর্থকরা দীর্ঘশ্বাস ফেলেনি।

পরের তিন সেশনে রাহানে, জাদেজা ও উমেশের ‘যেমন ইচ্ছা তেমন মারো’ ব্যাটিংয়ে দর্শকরা পেয়েছে ভরপুর বিনোদন। আর বাংলাদেশ হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে, ব্যাটিং-গভীরতার ঘাটতির মতো তাদের বোলিং-সামর্থ্যও কী ভয়ানক সংকুচিত।

দ্বিতীয়দিন শেষে ভারত ৪৯৩/৬। ৩৪৩ রানের লিড। ইন্দোর মুমিনুলদের আর কত হেনস্থা করবে, কে জানে। (স্কোর কার্ড খেলার পাতায়)

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×