বিদ্যুৎ সরবরাহের নামে প্রতারণা আরইবির

সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে ২-৩ ঘণ্টা লোডশেডিং, লাইন ট্রিপ তো লেগেই আছে, বিপর্যয়ের মুখে পুরো শিল্প খাত * শতভাগ বিদ্যুতায়ন ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রীকেও ভুল তথ্য দিচ্ছে সংস্থাটি

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেয়ার নামে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। সাধারণ গ্রাহক তো দূরের কথা, প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রধান চালিকাশক্তি শিল্প-কলকারখানাতেও ঠিকমতো বিদ্যুৎ দিতে পারছে না। হবিগঞ্জসহ দেশের প্রায় সব এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেয়ার নামে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। সাধারণ গ্রাহক তো দূরের কথা, প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রধান চালিকাশক্তি শিল্প-কলকারখানাতেও ঠিকমতো বিদ্যুৎ দিতে পারছে না। হবিগঞ্জসহ দেশের প্রায় সব এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

প্রতিদিন গড়ে ২ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকছে না। উপরন্তু বিদ্যুতের ট্রিপ তো লেগেই আছে। এতে করে বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যাংক ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারছে না।

বছরের পর বছর সঞ্চালন-বিতরণ লাইন নষ্ট থাকলেও আরইবি সেগুলো মেরামত করছে না। আপডেট করছে না লাইন ও ট্রান্সফরমার। তাদের চোখ শুধু নতুন সংযোগের দিকে। কারণ, সংযোগ দিলেই টাকা। এসব কারণে অবিশ্বাস্য হলেও ৩৩ কেভি লাইনও আরইবি ঠিকমতো সচল রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।

নিরবচ্ছিন্ন ও কোয়ালিটি বিদ্যুৎ পাওয়ার আশায় যেসব শিল্প মালিক এ বিগ ক্যাপাসিটির লাইন থেকে বিদ্যুৎ নিয়েছেন তারাও এখন বিপাকে পড়েছেন।

অথচ আরইবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিদ্যুতের সেবা প্রদান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ভুল তথ্য দিয়েই যাচ্ছে। সাফল্যের নানা ফুলঝুরি তাদের মুখে। সংস্থাটি দেশের ২১১টি উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনার দাবি করলেও বাস্তবে পুরোটাই শুভংকরের ফাঁকি।

উপজেলাগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও শুধু বিদ্যুতের খুঁটি গেড়ে শতভাগ সংযোগের বাহাবা নেয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগী শিল্প মালিকরা বলছেন, একটি কারখানায় একবার লাইন ট্রিপ করলে সেটি পুনরায় সচল করতে ৫২ লাখ টাকা ক্ষতি গুনতে হয়। গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ দেয়ার নামে আরইবি তাদের সঙ্গে ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে। মুখে বলছে একটা, বাস্তবে ঘটছে আরেকটা।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, শুধু গ্রাহকদেরই নয়, আরইবি তো বিদ্যুতে সাফল্য নিয়ে খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রীকেও ভুল তথ্য দিচ্ছে। এভাবে ভুল তথ্য দিয়ে প্রকারান্তরে তারা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। কেননা আরইবির কাছ থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে শিল্পকারখানার মালিকরাও প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে পড়ে তাদের ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। একদিকে ব্যাংকের উচ্চ সুদ, অপরদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং এবং লাইন ট্রিপের যন্ত্রণায় তাদের নাভিশ্বাস অবস্থা। বিদেশি ক্রেতাদের কাছে যথাসময়ে মালামাল ডেলিভারি দিতে পারছেন না। পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পেয়ে অনেক শিল্পকারখানার উৎপাদিত মালামালের গুণগত মানও ঠিক থাকছে না। এ অবস্থায় রীতিমতো হুমকির মুখে দেশের পুরো শিল্প খাত।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, আরইবির বিদ্যুতের কোয়ালিটি খুবই খারাপ। ভোল্টেজ ওঠা-নামার কারণে কারখানায় কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করা যায় না। বিদ্যুৎ ব্যবহার উপযোগী করতে ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করতে হয়।

কিন্তু এ স্ট্যাবিলাইজারের দাম মিলিয়ন ডলারের উপরে এবং স্থায়িত্ব ৩-৪ বছর। এভাবে স্ট্যাবিলাইজারের কিনতে গিয়ে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। ফলে বাজার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাই দায় হয়ে গেছে।

নিট রফতানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শিল্প চালাতে কোয়ালিটি ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ লাগে। যার কোনোটিই আরইবির কাছ থেকে আশা করা যায় না। বিদ্যুতের ভোল্টেজ ওঠা-নামা করার কারণে শিল্পের ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতির আয়ুষ্কাল যেমন কমে যাচ্ছে, তেমনি মেইনটেন্যান্স খরচও বাড়ছে। তাই বাধ্য হয়ে উদ্যোক্তাদের ক্যাপটিভ পাওয়ারের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে।

গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি আবদুল কাদের খান বলেন, আরইবির বিদ্যুতের কারণে শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হয়। দীর্ঘ সময় লোডশেডিং থাকে। সার্ভিসও ভালো না।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিয়ে এ সংকট দেশের শিল্পকারখানার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। যেনতেন ছুতোয় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটিয়ে দেশের অগ্রসরমান শিল্পের লাগাম টেনে ধরা এ ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্য। ভুক্তভোগী ও বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে একটি চক্র দীর্ঘদিন থেকে দেশের স্বার্থবিরোধী এ ধরনের কাজে যুক্ত। যারা আগে বিদ্যুৎ ঘাটতির অজুহাতে নানা টালবাহানা করত, এখন প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিদু্যুৎ উৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হলেও তারা নতুন করে এ সেক্টর নিয়ে ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পেতেছে।

ফলে বেসরকারি খাতে সরকারের বিনিয়োগ নীতি সহায়তা চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া শিল্পোদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের ক্ষতি তো সীমাহীন। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ না পেয়ে অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিদ্যুৎ থাকলেও আরইবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের অদক্ষতা, অবহেলা, অসহযোগিতা ও দুর্নীতি- লুটপাটের কারণে সে বিদ্যুৎ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারছে না সমিতিগুলো।

যথাযথভাবে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার চেয়ে সমিতির লোকজন নতুন সংযোগ দেয়ার দিকে বেশি আগ্রহী। কারণ যথাযথভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে তাদের ব্যক্তিগত কোনো লাভ নেই। লাভ হয় সরকারের। অপরদিকে প্রতিটি সংযোগ থেকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ পাচ্ছেন সমিতির লোকজন।

এ ঘুষ সংস্থার টপ টু বটম ভাগ-বাটোয়ারা হয়। এ কারণে সরকারকে ভুল তথ্য দিয়ে তারা এখন বেপরোয়া হয়ে গেছেন নতুন সংযোগ দেয়ার জন্য।

আরইবি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মঈন উদ্দিন দাবি করেছেন, ২১১টি উপজেলার শতভাগ মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে। শতভাগ বিদ্যুতায়নের জন্য অপেক্ষায় আছে আরও ১২৭টি উপজেলা। মুজিববর্ষে শতভাগ হবে বাকি ১০০টি উপজেলা। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আরইবি চেয়ারম্যানের এ তথ্য পুরোটাই আইওয়াশ।

খোদ সংস্থাটির অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরের কাছে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, শতভাগ বিদ্যুতের ঘোষণা দেয়ার পর অনেক উপজেলার পবিসে (পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হুমকির মুখে অফিস করছেন। প্রতিনিয়ত তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে গালিগালাজ শুনছেন। অনেক উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় শুধু বিদ্যুতের খুঁটি গেড়ে সেখানে লাইন টেনে সেই উপজেলাকে শতভাগ ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এখন সেসব উপজেলায় বিদ্যুৎ দিতে না পেরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেকায়দায় আছেন।

বিদ্যুৎ না পেলে এসব উপজেলার গ্রাহক ও সাধারণ মানুষজন যে কোনো সময় ফুঁসে উঠতে পারেন বলেও সমিতির কর্মকর্তারা প্রধান কার্যালয়কে জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, সরকারের কাছে নিজের ক্রেডিট নিতে গিয়ে আরইবি চেয়ারম্যান সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকির মুখে ফেলে ফায়দা নিচ্ছেন।

যে কোনো সময় এসব সমিতিতে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু তাই নয়, গায়ের জোরে কাজ করতে গিয়ে অর্থাৎ লক্কড়-ঝক্কড় সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে গিয়ে গত কয়েক বছরে আরইবির বিভিন্ন সমিতিতে দুই শতাধিক কর্মচারী ও আউটসোর্সিং জনবল বিদ্যুৎ স্পর্শ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

ভুক্তভোগী এসব পরিবারের অভিযোগ- এগুলো কোনোটাই দুর্ঘটনা নয়, এগুলোর প্রতিটিই হত্যাকাণ্ড। এ জন্য তারা আরইবি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মঈন উদ্দিন ও সংশ্লিষ্ট সমিতির জেনারেল ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলা করবেন।

সিলেট ব্যুরো অফিস সূত্রে জানা গেছে, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড সিলেটের ১৩টি উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দিলেও এর পুরোটাই আইওয়াশ। বাস্তবে কোনো উপজেলায়ই মানুষজন যথাযথভাবে বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করতে পারছেন না। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের তো প্রশ্নই আসে না। এখনও হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

বিভাগের শিল্প জোন হিসেবে পরিচিত হবিগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের ভেল্কিবাজি সবচেয়ে বেশি। আর এই ভেল্কিবাজিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে শিল্পকারখানাগুলো। স্বাভাবিক আবহাওয়ায়ও দিনে দু-তিনবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে। আর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া হলে তো কথাই নেই।

হবিগঞ্জের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন বিভিন্ন শিল্পকারখানা ঘুরে জানা যায়, শুধু মে মাসেই প্রায় ৬০ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল শিল্পকারখানাগুলো।

জুন মাসে এ সংখ্যা বেড়ে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়েছিল। জুলাই মাসেও ছিল একই অবস্থা। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসেও প্রতিদিন গড়ে দু’বার করে লাইন ট্রিপের ঘটনা ঘটেছে। লোডশেডিংও ছিল গড়ে ২ ঘণ্টার মতো। গত ১৫-১৭ নভেম্বর ৪ বার করে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে হবিগঞ্জে। এ ছাড়া ছিল ভোল্টেজ ওঠানামার যন্ত্রণা।

এ এলাকার ৩৩ কেভি লাইনেও প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। যদিও এমন লাইনে স্বাভাবিক আবহাওয়ায় সাধারণত বিদ্যুৎ বিভ্রাট হওয়ার কথা নয়। তারপরও কেন ঘটছে তা খতিয়ে দেখছেন না আরইবির শীর্ষ কর্মকর্তারা। চাহিদামতো বিদ্যুৎ থাকা সত্ত্বেও বিভ্রাট দেখা দেয়াকে সরকারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

অন্যদিকে শিল্পকারখানার কর্তাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ছাড়া নাকি বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে না! রোববার সরেজমিন হবিগঞ্জের মাধবপুরের বাংলাদেশ হার্ডলাইন (বিএইচএল) সিরামিকে গিয়ে জানা যায়, তাদের প্রতি ঘণ্টায় উৎপাদন হয় ১০২৫০ বর্গফুট টাইলস।

যার দাম ৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। কিন্তু বর্তমানে বড় সমস্যা বিদ্যুৎ বিভ্রাট। প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, দেশে তো এখন বিদ্যুৎ ঘাটতি নেই।

হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চাহিদামতো বিদ্যুৎ পাচ্ছে জাতীয় গ্রিড লাইন থেকে। কিন্তু আমরা যারা এখানে শিল্পকারখানা তৈরি করেছি তারা গুণগত বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের আশায় আলাদাভাবে ৩৩ কেভি লাইন দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছি। কিন্তু তাতে লাভ নেই। সাধারণ আবহাওয়ায়ই দিনে দু-তিনবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে।

তার মতে, একবার ১ মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেই মেশিনে থাকা উৎপাদনে অপেক্ষমাণ পণ্যের মান এ-গ্রেড থেকে বি-গ্রেডে নেমে যাচ্ছে। যাতে প্রতি বর্গফুটে ক্ষতি হচ্ছে ৮ টাকা।

এমন বিভ্রাটে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে যন্ত্রপাতিও। তিনি বলেন, এ তো গেল বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ক্ষতির পরিমাণ আর বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদনের ক্ষতি আরও ব্যাপক। গত মে মাস থেকে তারা প্রতি মাসে গড়ে ৬০ ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ পাননি। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের ব্যাপক সাফল্য রয়েছে কিন্তু গুণগত মানের বিদ্যুৎ কেন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। একই অবস্থা পাশের ফারইস্ট স্পিনিং ইন্ডাস্ট্রিজের। গত মাসে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য উৎপাদন ঘাটতি আর যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়েছে। এতে অর্থনৈতিক ক্ষতি বিপুল অঙ্কের।

প্রতিষ্ঠানটির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ইউটিলিটি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গত মাসে ৬০ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এক কোটি ১১ লাখ টাকা। এ ছাড়া বিভ্রাটের কারণে ১০ লাখ টাকার যন্ত্রপাতির ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তারা। বিদ্যুতের এমন ভেল্কিবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফ আহমেদ যুগান্তরকে জানান, স্বাভাবিক আবহাওয়ায় ৩৩ কেভি লাইনে কেন বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে তা ভালো করে খতিয়ে দেখা দরকার।

এর মধ্যে কোনো না কোনো রহস্য আছে। লোডশেডিং না থাকলেও শিল্পকারখানাগুলো কেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা বোধগম্য নয়। হবিগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মোতাচ্ছিরুল ইসলাম বলেন, সরকারে অর্থনৈতিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে কেউ ষড়যন্ত্র করে এসব ঘটাচ্ছে। এদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

শিল্প মালিক ও তাদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ- শুধু হবিগঞ্জ বা সিলেট বিভাগের ১৩ উপজেলার এ অবস্থা নয়, দেশজুড়ে একই অবস্থা। পুরো দেশে আরইবির শিল্পের জন্য কোয়ালিটি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা তো দূরের কথা সর্বত্র লোডশেডিং এখন চরমে। প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে বহু শিল্প মালিক ধরাশায়ী।

যাদের কেউ কেউ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ে দেখা করে বলেছেন, আমাকে বাঁচান। আরইবির বিদ্যুৎ নিয়ে শিল্প চালানো তো দূরের কথা অব্যাহত লাইন ট্রিপের কবলে পড়ে যন্ত্রপাতি সব অকেজো হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দিতে হবে। এভাবে বহু শিল্পোদ্যোক্তা চরম ক্ষতির সম্মুখীন।

ওই ব্যবসায়ী আরইবিকে আরও বলেন, তার কারখানায় দু’মাসে ২৩ বার লাইন ট্রিপ করেছে। এখন আরও বেড়ে গেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: jugantor.ma[email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×