স্ত্রী ও সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় আতাউর

  এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম ব্যুরো ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিদিনের মতো রোববার সকালে দুই ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে পাথরঘাটা নজুমিয়া লেনের বাসা থেকে বের হন গৃহবধূ জুলেখা ফারজানা।
ছবি: যুগান্তর

প্রতিদিনের মতো রোববার সকালে দুই ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে পাথরঘাটা নজুমিয়া লেনের বাসা থেকে বের হন গৃহবধূ জুলেখা ফারজানা।

ছোট ছেলে নার্সারিপড়ুয়া আতিফুরকে স্কুলে দিয়ে বড় ছেলে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান শুভকে নিয়ে যাচ্ছিলেন প্রাইভেট শিক্ষকের বাসায়।

পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোড অতিক্রম করার সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রচণ্ড বিস্ফোরণে দেয়াল ধসে পড়ে তাদের ওপর। ঘটনাস্থলেই মারা যান মা-ছেলে। সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্ত্রী-সন্তাকে হারিয়ে পাগলপ্রায় চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী আতাউর রহমান। তার আহাজারি ও বুকফাটা আর্তনাদে ভারি হয়ে ওঠে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ আশপাশের পরিবেশ। আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীদের কোনো সান্ত্বনাই থামাতে পারছিল না তাকে।

‘কেমন করে মেনে নেব! সকালেও স্ত্রী এবং দুই ছেলেসহ চার সদস্যের পরিবার ছিল আমার। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কী হল! দুর্ঘটনার খবর যখন টেলিভিশনে দেখাচ্ছিল তখনও জানি না এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন আমার স্ত্রী-সন্তান।’

বুক চাপড়াতে চাপড়াতে বলছিলেন স্ত্রী ও সন্তান হারানো আইনজীবী।

তিনি বলেন, ‘ছোট ছেলেকে স্কুল থেকে নিয়ে যেতে আমার স্ত্রীর মোবাইলে বারবার ফোন করে বন্ধ পাচ্ছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরে তারা আমাকে ফোন করে। এরপর আমিও বারবার চেষ্টা করে তার মোবাইলে সংযোগ পাচ্ছিলাম না।

পরে চট্টগ্রাম আদালত ভবন থেকে ছোট ছেলের স্কুলের উদ্দেশে রওনা দিই। যাওয়ার পথে দেয়ালচাপা অবস্থায় স্ত্রীর বোরকার একটি অংশ দেখতে পাই। ওই বোরকাটি আমি তাকে শখ করে গত সপ্তাহে কিনে দিয়েছিলাম।’

পাথরঘাটা এলাকার নজু মিয়া লেনের ৪ নম্বর গলির ফারুক বিল্ডিংয়ে ভাড়া থাকেন আইনজীবী আতাউর। দুর্ঘটনায় মায়ের সঙ্গে নিহত শুভ একই এলাকার সেন্ট প্লাসিডস স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।

ছোট আতিফুর রহমান শুভ্র (৫) ব্রাদার প্লেভিয়ান স্কুলের নার্সারির ছাত্র।

খবর পেয়ে আদালত থেকে চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ছুটে আসেন আতাউর রহমানের সহকর্মীরা। সবাই তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। নিকট-আত্মীয়স্বজনরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। মা ও বড় ভাইকে হারিয়ে কাঁদছিল ছোট্ট শিশু আতিফও।

রংমিস্ত্রি স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা সাদিয়া : এ দুর্ঘটনায় নিহত হন রংমিস্ত্রি নুর ইসলাম (৩১)। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তার স্বজনদের মাতম করতে দেখা যায়। স্ত্রী সাদিয়া সুলতানার আর্তনাদ ও আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে আশপাশের পরিবেশ। নুর ইসলাম নগরীর শাহ আমানত সেতু সংলগ্ন বাস্তুহারা কলোনিতে থাকতেন। তার এক বছর বয়সী একটি সন্তান আছে। আড়াই বছর আগে বিয়ে করেন নুর ইসলাম। শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে সাদিয়া বলেন, ‘আমি এখন কোথায় যাব। এই অবুঝ শিশু কাকে বাবা ডাকবে। কিভাবে চলবে আমার সংসার।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×