সারা দেশে পণ্য পরিবহন বন্ধ, জিম্মি করে দাবি আদায়ের চেষ্টা

অনির্দিষ্টকালের ট্রাক ধর্মঘটে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা * ২২ জেলায় বাস বন্ধ দুর্ভোগে মানুষ * লার্নার লাইন্সেস দিয়ে গাড়ি চালাতে চান শ্রমিকেরা * কৌশলী সরকার, আইন প্রয়োগ শিথিল

  যুগান্তর রিপোর্ট ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভ
নতুন সড়ক আইন সংস্কারের দাবিতে মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডে পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভ। ছবি -যুগান্তর

এবার পণ্য পরিবহন ধর্মঘটের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি দিয়েছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ বুধবার থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য পণ্যবাহী ট্রাক,কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ থাকবে।

নতুন সড়ক আইন সংশোধনসহ ৯ দফা দাবিতে মঙ্গলবার এ কর্মসূচি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। মঙ্গলবার তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধের এ কর্মসূচির কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আমদানি-রফতানি কাজে স্থবিরতার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে নিত্যপণ্যের দামও বাড়বে বলে জানান তারা।

এছাড়া দেশের ২১ জেলায় অভ্যন্তরীণ এবং দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। পূর্বঘোষণা ছাড়া আচমকা এই ধর্মঘটের ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এই সুযোগে অন্য যানবাহনগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে কয়েকগুণ ভাড়া আদায় করছে।

এদিন সকালে শ্রীপুরের মাওনায় অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। একই দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়েছে রংপুরে। শ্রমিকরা তেজগাঁওয়ের সড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক রুস্তম আলীসহ পরিষদের তিন নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন।

তবে সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়েছে। ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কাল (আজ) সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঐক্য পরিষদের নেতাদের নিয়ে আবার বসবেন। তবে আমরা যে কর্মসূচির ডাক দিয়েছি সেটি চলবে।

এর আগে বিকালে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কর্মকর্তারা। ওই বৈঠকেও আইন কার্যকর না করার দাবি জানিয়েছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা।

তারা লার্নার (শিক্ষানবিস) লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালালে মামলা না দেয়ার দাবি তোলেন। এদিকে তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ধীরে চলার কৌশল নিচ্ছে। অপরদিকে মঙ্গলবারও পুলিশ নতুন আইনে গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করেনি।

তারা আপাতত মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন আইন নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে কাল বৃহস্পতিবার থেকে ট্রাফিক সপ্তাহ পালনের উদ্যোগ নিয়েছে।

গত ১ নভেম্বর নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর করে সরকার। তবে নতুন আইনে মামলা ও শাস্তি দেয়ার কার্যক্রম মৌখিকভাবে দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

গত বৃহস্পতিবার সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে। রোববার সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, ওইদিন থেকেই আইন কার্যকর শুরু হয়েছে। এরপর থেকেই ঘোষিত-অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট ডাকতে শুরু করেছে পরিবহন সংগঠনগুলো।

মঙ্গলবার তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড কার্যালয়ে ঐক্য পরিষদের নেতারা এক সংবাদ সম্মেলনে পণ্য পরিবহনে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেন। এত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক রুস্তম আলী খান।

তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন আইন স্থগিত করে মালিক শ্রমিকদের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জরিমানা ও দণ্ডের বিধান করতে হবে। একটি যুগোপযোগী বাস্তবসম্মত ও বিজ্ঞানভিত্তিক সঠিক আইন প্রণয়ন করতে হবে।

নতুন আইন প্রত্যাখ্যান করছেন কিনা- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, পুরো আইন প্রত্যাখ্যান করছেন না। কিছু ধারার সংশোধন চান। আইনের সব ধারা নিয়ে আমাদের আপত্তি নেই। কিছু বিষয় নিয়ে আমরা বিভিন্ন সময় দাবি জানিয়েছি।

কিন্তু সরকার আশ্বস্ত করলেও পরে সেগুলো বাস্তবায়ন করেনি। এ কারণেই কর্মসূচি ঘোষণা করা হল।

সংগঠনের সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম বলেন, হালকা লাইসেন্স দিয়ে ভারি গাড়ি চালানো যায় না। কিন্তু ভারি গাড়ি চালানোর জন্য বিআরটিএ লাইসেন্সও দিচ্ছে না। হালকা লাইসেন্স দিয়ে ভারি গাড়ি চালাতে গেলেই জরিমানা করা হচ্ছে ২৫ হাজার টাকা।

এই টাকা একজন শ্রমিক কীভাবে দেবে? তাই চালকরা গাড়ি চালাবেন না। তিনি বলেন, নতুন আইনে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চালকরা গাড়ি চালাবেন না। কিছু হলেই আছে জরিমানা ও মামলা।

এর ওপর আবার চালকের লাইসেন্সের ওপর পয়েন্ট কাটা হবে। এসব কারণে চালকরা আর গাড়ি চালাবেন না।

সংবাদ সম্মেলনে ৯ দফা দাবি : সংবাদ সম্মেলনে ৯ দফা দাবি তোলা হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- সড়কের যে কোনো কমিটিতে এ সংগঠনের প্রতিনিধি রাখতে হবে। দুর্ঘটনায় চালককে এককভাবে দায়ী করা যাবে না।

সড়ক দুর্ঘটনাজনিত কোনো মামলায় চালক আসামি হলে তা অবশ্যই জামিনযোগ্য ধারায় হতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীকে চিহ্নিত করতে মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের সংযুক্ত করে তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।

সড়ক দুর্ঘটনার মামলায় কোনো গাড়ির মালিককে গ্রেফতার বা হয়রানি করা যাবে না। বিআরটিএ’র মাধ্যমে নভেম্বর-২০১৯ এর আগ পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন পাওয়া রফতানিযোগ্য পণ্য পরিবহন গাড়ির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা অপরিবর্তিত রেখে (ওই গাড়ির মডেল বাজারে থাকা পর্যন্ত) চলাচলের অনুমতি দিতে হবে।

সড়ক-মহাসড়ক ও হাইওয়েতে গাড়ির কাগজপত্র চেকিংয়ের নামে পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে। সব জেলা টার্মিনাল ও ট্রাকস্ট্যান্ড অথবা লোডিং পয়েন্টে গাড়ির কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করতে হবে।

সহজ শর্তে ও স্বল্প সময়ের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে। যেসব চালক যে ধরনের গাড়ি চালনায় পারদর্শী তাদের সে ধরনের লাইসেন্স দিতে হবে। বর্তমানে হালকা পেশাদার লাইসেন্স দিয়ে ভারি যানবাহন চালানোর অনুমতি দিতে হবে।

জরিমানা মওকুফ করে গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদ করার জন্য ন্যূনতম ৬ মাস সময় দিতে হবে। বিগত পণ্য পরিবহন আন্দোলনে ও ধর্মঘটে যেসব মালিক-শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

সব জেলা শহর ও হাইওয়ে মহাসড়কের পাশে, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক স্থানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাসহ টার্মিনাল বা স্ট্যান্ড নির্মাণ করতে হবে। টার্মিনাল নির্মাণের আগে রং পার্কিংয়ের মামলা দেয়া বা গাড়ি রেকারিং করা যাবে না।

পুরো দেশে এক নিয়মে একই ওজনে ওভারলোডিং ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মোটরযানের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী একটি বাস্তবসম্মত বোঝাইকৃত ওজনের হার নির্দিষ্ট করে ওভারলোডিং সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে।

সড়ক-মহাসড়কে প্রতি ১০০ কিলোমিটার পরপর পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাসহ বিশ্রামাগার ও গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত ফুটপাত, ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস, জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

ধীরগতির যানবাহন চলাচলের জন্য ভিন্ন লেন বা রাস্তা তৈরি করতে হবে। নসিমন, করিমন ও ভটভটিসহ রেজিস্ট্রেশনবিহীন সব ধরনের যান মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ করতে হবে।

বিআরটিএর বৈঠকেও মালিক-শ্রমিক নেতাদের চাপ : জানা গেছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে সদর দফতরে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ওই বৈঠকেও নতুন সড়ক আইন প্রয়োগ না করতে বিআরটিএকে চাপ দেন নেতারা। বৈঠকে একজন পরিবহন নেতা বলেন, দুর্ঘটনায় ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকার জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

আমরা কী ক্রিমিনাল? সাংবাদিক ও নিরাপদ সড়ক চাই’র চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের কথায় আইন করলেন, তাদের গাড়ি চালাতে বলেন।

আরেক পরিবহন নেতা বলেন, শিক্ষানবিস লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালানোর সুযোগ দিতে হবে। আপনারা (বিআরটিএ কর্মকর্তারা) ডিক্লার দেন, লার্নার লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালালে মামলা করা যাবে না।

পরে বৈঠক থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রমেশ ঘোষ বলেন, আমরা বলেছি সচেতনতা সৃষ্টির জন্য দুই মাস সড়ক আইন কার্যকর করা যাবে না।

এ সময়ে গাড়ির ফিটনেস ফি ও ট্যাক্সের ওপর জরিমানা মওকুফ করতে হবে। রাস্তাঘাট পরিষ্কার, মহাসড়ক থেকে নসিমন-করিমন উঠিয়ে দেয়াসহ দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়ার পর আইন বাস্তবায়ন করা হোক।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, আমরা আবারও ৮ দফা দাবি জানিয়েছি। আমরা বলেছি, এসব দাবি মানার আগেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা আগুনে ঘি ঢালার মতো।

আইনে কন্ডাক্টরের লাইসেন্স নেয়ার কথা বলা আছে। অথচ বিআরটিএর এ ধরনের লাইসেন্স দেয়ার সফটওয়্যারই নেই। তাহলে কেন এ আইন প্রয়োগ করা হবে।

তিনি বলেন, বৃহস্পতি ও শুক্রবার শ্রমিক ফেডারেশনের বর্ধিত সভা রয়েছে। ওই সভায় সড়ক আইন নিয়ে করণীয় ঠিক করা হবে।

এদিকে শ্রমিক ফেডারেশনের ৮ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- দুর্ঘটনার মামলা জামিনযোগ্য ও আর্থিক দণ্ড ৫ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ হাজার নির্ধারণ করা, চালকের শিক্ষাগত যোগ্যতা ৮ম শ্রেণি থেকে কমিয়ে ৫ম শ্রেণি করা অন্যতম।

রাজধানীতে বাস চলাচল কম : এদিকে রাজধানী ঢাকাতে মঙ্গলবার বাস চলাচলের সংখ্যা ছিল অনেক কম। এতে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের। বিভিন্ন রাস্তায় সকালে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ অফিসগামী মানুষের ভিড় বেশি লক্ষ করা গেছে।

বাস না পেয়ে অনেককে অন্য পরিবহনে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। এদিকে নতুন সড়ক আইন বাস্তবায়নে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

তারা অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ১৯ হাজার ২শ’ টাকা জরিমানা করেছে। তবে নতুন এ আইনে জরিমানা শুরু করেনি ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।

বিআরটিএ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তারা রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ, নিউমার্কেট, ইকুরিয়া বিআরটিএ, তেজগাঁও, বিমানবন্দর, দারুসসালাম ও রামপুরা এলাকায় অভিযান চালায়।

এ সময় ৭৯টি মামলায় ১ লাখ ১৯ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। তিনটি মোটরযানের কাগজপত্র জব্দ করা হয়।

এদিকে ঢাকা মহানগরীতে পরিবহন কম থাকায় বেকায়দায় পড়তে হয়েছে যাত্রীদের। নগরীর বাড্ডা, গুলশান ও মগবাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সোমবারের তুলনায় বাসের সংখ্যা কম।

ট্রাফিক বিভাগের (উত্তর) এডিসি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কয়েকদিন ধরেই বাস কম। মঙ্গলবার অন্যান্য দিনের তুলনায় আরও কম ছিল।

সকালবেলা যমুনা ফিউচার পার্ক, নর্দায় বাসস্টপে যাত্রীদের চাপ বেশি ছিল। দুপুর থেকে ভিড় একটু কমে আসে।

কল্যাণপুরের বাসা থেকে প্রতিদিন মতিঝিলে অফিস করেন সিরজুল ইসলাম। অফিসে যেতে সকাল সাড়ে আটটায় বাসা থেকে বের হন তিনি। অন্যান্য দিনের চেয়ে বাস পেতে অনেক সময় লেগেছে তার।

বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশি ছিল, বাস ছিল কম। বেশ ভিড় ঠেলে বাসে উঠতে হয় তাকে। তবে রাস্তায় যানজট কম পেয়েছেন তিনি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের (পশ্চিম) অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মঞ্জুর মোরশেদ বলেন, আমরা আগের আইন অনুযায়ী কাজ করেছি।

একটি বাসের চালকের ভারি যান চালানোর লাইসেন্স ছিল না, আরেকটি বাসে ভাড়ার তালিকা টানানো ছিল না ও আরেকটি বাসে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হয়েছিল। তাই জরিমানা করা হয়।

ডিএমপির উদ্যোগে ট্রাফিক পক্ষ শুরু ২১ নভেম্বর : ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের এডিসি (এডমিন অ্যান্ড অপারেশন) যুগান্তরকে বলেন, যেহেতু আইনটি অনেক কঠোর এজন্য আমরা সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছি।

আগামী ২১ নভেম্বর থেকে ট্রাফিক পক্ষ শুরু হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মামলা করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়, আমরা চাই সচেতনতার মাধ্যমে মানুষকে আইন মানাতে বাধ্য করা।

পরিবহন ধর্মঘট নিয়ে যুগান্তরের ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

নওগাঁ : ধর্মঘটের কারণে নওগাঁর অভ্যন্তরীণ সব রুটসহ নওগাঁ-রাজশাহী ও নওগাঁ-বগুড়া রুটে দুইদিন ধরে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে অফিস, অদালত, ব্যাংক, স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন স্থানে আসা-যাওয়া মানুষের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। আর এ সুযোগে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকরা বাড়েিত ভাড়া আদায় করছেন।

মাদারীপুর : মাদারীপুরে মঙ্গলবার সকাল থেকে সব ধরনের পরিবহন বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ও কর্মবিরতি পালন করছেন পরিবহন শ্রমিক ও চালকরা। কোনো রকম পূর্বঘোষণা ছাড়াই কর্মবিরতি শুরু হওয়ায় ভোগন্তিতে পড়েছেন জেলার বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা।

টেকেরহাটগামী সবুজ নামে এক যাত্রী বলেন, ‘আমি জানতাম না গাড়ি চলে না। এখন দেখি, কোনো ধরনের পরিবহন চলছে না। আমার জরুরি একটা কাজ থাকায় এখন যেতে পারছি না। খুব ভোগান্তিতে পড়ছি।’

শরীয়তপুর : এদিন সকাল থেকে শরীয়তপুরের অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ কারণে জেলার ৬টি উপজেলার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। সাধারণ যাত্রীদের অটোরিকশা ও ইজিবাইকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) : কোটালীপাড়া-রাজৈর সড়কে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১টা থেকে শ্রমিকরা এই সড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাসচালকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাহিন্দ্র ও ইজিবাইকচালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন।

বাগেরহাট : মোংলা-বাগেরহাট, মোংলা-খুলনা, মোংলা-রূপসাসহ সব রুটে বাস-মিনিবাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। দ্বিতীয় দিনের মতো চলা পরিবহন ধর্মঘটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। এই সুযোগে ইজিবাইক, মাহিন্দ্র, পিকআপ, মাইক্রোবাসসহ ছোট গাড়িগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে।

কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ায় পরিবহন শ্রমিকরা আপাতত ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় দীর্ঘ আলোচনায় পরিবহন মালিক শ্রমিকদের পক্ষ থেকে নতুন সড়ক পরিবহন আইনে কিছুটা শিথিলতার দাবি জানানো হয়।

আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনের দাবিতে রোববার সকাল থেকে কুষ্টিয়ায় বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা। প্রথমদিন শুধু অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখে শ্রমিকরা। পরে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস চলাচলও বন্ধ করে দেয়।

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : সোমবার থেকে কালীগঞ্জে বাস ধর্মঘট চলছে। এ সুযোগে ইজিবাইক, মাহেন্দ্র ও লেগুনাচালকরা কয়েকগুণ ভাড়া আদায় করছেন। কালীগঞ্জের সঙ্গে যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও চুয়াডাঙ্গা জেলার সংযোগ বিচ্ছন্ন রয়েছে।

শ্রীপুর (গাজীপুর) : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা চৌরাস্তায় মহাসড়ক অবরোধ করেন পরিবহন শ্রমিকরা। মঙ্গলবার সকাল ৮টায় তারা অবরোধ শুরু করেন।

এতে বিপাকে পড়েন জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অফিসগামী কর্মকর্তারা। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

পরে পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে একটি বাসে করে শিক্ষার্থীদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সকাল ১০টার দিকে মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেয় শ্রমিকরা। এদিন কালিয়াকৈরের অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকে।

মাওনা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমএ হাশেম জানান, সকাল থেকে পরিবহন শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখলেও তাদের বুঝিয়ে সোয়া দুই ঘণ্টা পর সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) : সোমবার সকাল থেকে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ভূঞাপুর থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে বাস-ট্রাক বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা। সেই ধর্মঘট অব্যাহত আছে। মঙ্গলবার ভূঞাপুরের অভ্যন্তরীণ রুটে কোনো বাস চলাচল করেনি।

এতে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ডে গাড়ির জন্য অপেক্ষমাণ মনজিলা নামের এক যাত্রী বলেন, সকাল ১০টার দিকে বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখি গাড়ি বন্ধ। পরিবার নিয়ে ঢাকা যাব; কিন্তু কোনো গাড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে যাচ্ছে না।

ঝালকাঠি : মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ঝালকাঠির অভ্যন্তরীণ ৬ রুটসহ অন্যান্য রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন। হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল কিংবা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে অধিক ভাড়ায় তাদের গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।

বরিশাল : পূর্বঘোষণা ছাড়াই বরিশালের ৮ রুটে হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল নথুল্লাবাদ থেকে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা।

তাদেরকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে অটোরিকশা, সিএনজি অথবা মোটরসাইকেলে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বানারীপাড়া, বাবুগঞ্জ ও আগৈলঝাড়ার অভ্যন্তরীণ রুটগুলোয় বাস চলাচলা বন্ধ রয়েছে।

জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাশরেক বাবলু জানান, আমাদের বাস চালানোর ইচ্ছে আছে; কিন্তু শ্রমিকরা না চালালে আমাদের কী করার আছে। আমরা শ্রমিক নেতাদের বলেছি, তারা পদক্ষেপ নেবেন আশা করি।

শেরপুর : সোমবার থেকে মঙ্গলবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত বন্ধ থাকার পর জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর পুনরায় বাস চলাচল শুরু হয়েছে। অঘোষিতভাবে শেরপুরের বিভিন্ন রুটে ৩২ ঘণ্টা বাস বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়।

রংপুর : নতুন আইন সংশোধনের দাবিতে রংপুর নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ট্রাক শ্রমিকরা। মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর কলেজ রোডস্থ ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় থেকে মিছিল শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

রংপুর জেলা ট্রাক, ট্যাঙ্কলরি, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফিজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মানিক, কার্যকরী সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সহসভাপতি আশরাফ আলী, নুরুল ইসলাম নুরু, সহ-সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম সাজু, আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মকবুলার রহমান আজাদ, অর্থ সম্পাদক কামরুজ্জামান ফারুক, সড়ক সম্পাদক বাদশা মিয়া প্রমুখ।

পাবনা : পাবনায় মঙ্গলবার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, লোকাল বাস চলাচল বন্ধ। এতে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।

বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী, দায়িত্বপালনকারী শিক্ষক এবং অভিভাবকরা সমস্যায় পড়েন। ব্যাটারিচালিত অটোবাইকে করে তারা গন্তব্যে যান।

টার্মিনাল থেকে চিনাখড়ার যাত্রী ও পিইসি পরীক্ষায় দায়িত্বপালনকারী স্কুলশিক্ষক জহুরুল ইসলাম বলেন, তিনগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে করিমনে করে পাবনা শহর থেকে গন্তব্যে পৌঁছান।

একই সমস্যার কথা জানান, সাঁথিয়ার শিক্ষক আ. কুদ্দুস। তিনি জানান, হঠাৎ ধর্মঘটে তারা শিক্ষার্থী নিয়ে কেন্দ্রে যেতে দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।

সিলেট : সিলেট-গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ সড়কে বিআরটিসি বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে বাস ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। সোমবার সকাল ৬টা থেকে কোম্পানীগঞ্জ-গোয়াইনঘাট-হাদারপাড় বাস মিনিবাস সমিতির ডাকে অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘট শুরু হয়।

বাস ধর্মঘটের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন অটোরিকশা শ্রমিকরা। মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে তারাও ধর্মঘট শুরু করে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×