রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন

গুজবে অস্থির লবণের বাজার

চলতি বছর চাহিদা ১৬ লাখ টন উৎপাদন ১৮ লাখ ২৪ হাজার টন * গুজব ছড়ালে বা অতিরিক্ত দাম নিলে কঠোর ব্যবস্থার হুশিয়ারি : ১৭ জনকে সাজা, আটক ২৫ ও ১১৬ জনকে জরিমানা

  মনির হোসেন ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

লবণ কিনতে দোকানে হিড়িক
লবণ কিনতে দোকানে হিড়িক। ছবি- যুগান্তর

চলতি বছর দেশে লবণ উৎপাদনে রেকর্ড। ১৬ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ১৮ লাখ ২৪ হাজার টন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাছে তথ্য ছিল, চাষীরা লবণ বিক্রি করতে পারছেন না।

চলতি মাসের শেষে লবণের মৌসুম শুরু। আর এখনও ৫ মাসের বেশি লবণ মজুদ আছে। কিন্তু এসব কিছু ছাড়িয়ে সংকটের গুজবে মঙ্গলবার অস্থির হয়ে উঠে লবণের বাজার।

এদিন রাজধানীসহ দেশের কোথাও কোথাও ৩৫ টাকার প্রতি কেজি লবণ ৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। মুদি দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

এক গুজবে পেঁয়াজের পর এ পণ্যটির বাজারও কিছু সময়ের জন্য অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছিল। গুজব ছড়ানোর পরপরই সরকার, চাষী ও ব্যবসায়ী- সব পক্ষই বলছে, দেশে লবণের কোনো সংকট নেই।

আগের যে কোনো বছরের তুলনায় এবার লবণের উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণ।

এদিকে লবণের দাম নিয়ে গুজব ছড়ানোর ঘটনায় সারা দেশে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইতিমধ্যে ১১৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

এছাড়াও ২৭ জনকে জরিমানা ও ১৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ক্রেতাদের কাছে এক কেজির বেশি লবণ বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়েছে।

কেউ গুজব ছড়ালে অথবা অতিরিক্ত দাম নিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে- এমন হুশিয়ারি দিয়ে প্রেস নোট জারি করেছে সরকার।

পাশাপাশি বলা হয়েছে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল লবণের সংকট রয়েছে- এ মর্মে গুজব রটনা করে অধিক মুনাফা লাভের আশায় লবণের দাম অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

জানতে চাইলে শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে দেশে ৬ লাখ টনের বেশি লবণ মজুদ আছে। আর প্রতি মাসে দেশে ভোজ্য লবণের চাহিদা ১ লাখ ১০ হাজার টন।

সে হিসাবে ৫ মাসেরও বেশি লবণ মজুদ আছে। এছাড়া নভেম্বরের শেষে নতুন মৌসুম শুরু হবে। ফলে লবণে সংকটের প্রশ্ন আসে না।

তিনি বলেন, উল্টো আমাদের কাছে তথ্য ছিল অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে এ বছর ব্যবসায়ীরা লবণ বিক্রি করতে পারছিলেন না।

চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি। তিনি বলেন, এ বছর ১৮ লাখ টনের বেশি লবণ উৎপাদন হয়েছে। যা দেশের ইতিহাসে রেকর্ড। চাহিদার তুলনায় যা অনেক বেশি।

যে কারণে কক্সবাজারে লবণের দাম কমে গিয়েছিল। শিল্প সচিব আরও বলেন, কিছু লোক অসৎ উদ্দেশ্যে গুজব ছড়িয়ে লবণ আমদানির চেষ্টা করতে পারে।

আমরা শুনেছি, সিলেট থেকে শুরুতে এ গুজব ছড়ানো হয়েছে। আর এদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে সেখানকার প্রশাসন।

এরপরও বৃহস্পতিবার লবণ মনিটরিং কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে এসব বিষয়ে আমরা কথা বলব।

বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি ও চট্টগ্রামের এমএন কবির অ্যান্ড ব্রাদারের মালিক নূরুল কবির বলেন, লবণ নিয়ে যা হচ্ছে সবই গুজব।

দেশে লবণের কোনো সংকট নেই। কমপক্ষে ৩ মাসের লবণ মজুদ আছে। মঙ্গলবার কক্সবাজারে লবণ মিল মালিক সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা ছিল।

সভায় গুজবের বিষয়টি উঠে আসে। ভোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দয়া করে কেউ প্যাকেটের গায়ের চেয়ে বেশি দামে লবণ কিনবেন না।

প্রায় একই ধরনের মন্তব্য করেছেন কক্সবাজারের ইসলাম অ্যান্ড ব্রাদার্স সল্ট ক্র্যাশিং ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক নূরুল আবসার হিলালী এবং খুলনার রাজপুর সল্ট রিফাইনারির মালিক মিসেস সৈয়দ মনিরুল ইসলাম।

এদিকে হঠাৎ করেই সারা দেশে লবণ কেনার হিড়িক পড়ে ছিল। ক্রেতারা বলছেন, তারা শুনেছেন লবণের কেজিপ্রতি দর ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

এমন আশঙ্কায় তারা বাড়তি লবণ কিনে রাখছেন। মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে দোকানগুলোতে লবণ কিনতে প্রচুর মানুষের ভিড়।

ক্রেতারা দুই থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত কিনছেন। হাতিরপুলের দোকানদার ইব্রাহিম আলী জানান, প্রতিদিন তিনি সর্বোচ্চ ২০ কেজি লবণ বিক্রি করেন।

কিন্তু তা মঙ্গলবার হয়েছে প্রায় ৩শ’ কেজি। তবে দিনের শেষদিকে পুলিশ এক কেজির বেশি বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। না হলে আরও বিক্রি হতো।

এছাড়া রাজধানীর কারওয়ানবাজার, মতিঝিল, আগারগাঁও, তেজগাঁও ও মিরপুর এলাকার বাজার ও মুদি দোকানেও লবণ কিনতে ক্রেতাদের বাড়তি ভিড় দেখা যায়।

বাজারে এখন সবচেয়ে ভালোমানের লবণের এক কেজি প্যাকেটের গায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য লেখা ৩৫ টাকা। আর সাধারণ লবণের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২৫ টাকা।

খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিপণনকারী কোম্পানি এক কেজি লবণ বিক্রি করেন ২৫ থেকে ২৬ টাকা দরে। কিন্তু মঙ্গলবার কোনো কোনো বাজারে ৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি প্যাকেট লবণ।

ক্রেতাদের বাড়তি চাপ দেখায় খুচরা বিক্রেতারা এখন আর ছাড় দিয়ে বিক্রি করছেন না। আবার দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে চড়া দামে লবণ বিক্রির খবর এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে লবণের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ব্যবসায়ীদের একটি মহল। একই উদ্দেশ্যে গত বছরও তারা আমদানির জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় দেন-দরবার করে।

সে ক্ষেত্রে একজন মানুষের প্রতিদিনের লবণের চাহিদা বাড়িয়ে মন্ত্রণালয়কে সংকট বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি টিম কক্সবাজারে পাঠিয়ে মজুদের প্রকৃত তথ্য নেয়া হয়েছিল।

পরে দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও উন্নত দেশগুলোর যে চাহিদা, তার চেয়ে বাংলাদেশে বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। এসব তথ্য তাদের সামনে তুলে ধরলে চক্রটি পিছিয়ে যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে পেঁয়াজ সংকটের পর লবণের সংকটের গুজব ছড়িয়ে ওই চক্রটি আমদানির চেষ্টা করতে পারে বলে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা।

মঙ্গলবার শিল্প মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে সাড়ে ৬ লাখ টনের বেশি ভোজ্য লবণ মজুদ রয়েছে।

এর মধ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের লবণ চাষীদের কাছে ৪ লাখ ৫ হাজার টন এবং বিভিন্ন লবণ মিলের গুদামে ২ লাখ ৪৫ হাজার টন লবণ মজুদ রয়েছে।

এছাড়া সারা দেশে বিভিন্ন লবণ কোম্পানির ডিলার, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে লবণ মজুদ রয়েছে।

পাশাপাশি নভেম্বরের শেষে লবণের উৎপাদন মৌসুম শুরু হবে। ইতিমধ্যে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া ও মহেশখালী উপজেলায় উৎপাদিত নতুন লবণও বাজারে আসতে শুরু করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশে প্রতি মাসে ভোজ্য লবণের চাহিদা কম-বেশি ১ লাখ টন। অন্যদিকে লবণের মজুদ আছে সাড়ে ৬ লাখ টন।

সে হিসাবে লবণের কোনো ধরনের ঘাটতি বা সংকট হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। একটি স্বার্থান্বেষী মহল লবণের সংকট রয়েছে- এ মর্মে গুজব রটনা করে অধিক মুনাফা লাভের আশায় লবণের দাম অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। লবণসংক্রান্ত বিষয়ে তদারকির জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) প্রধান কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

এর নম্বর হচ্ছে- ০২-৯৫৭৩৫০৫ (ল্যান্ড ফোন), ০১৭১৫-২২৩৯৪৯ (সেলফোন)। লবণ সংক্রান্ত যে কোনো তথ্যের প্রয়োজনে কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার বিকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে লবণের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। অপপ্রচার চালিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে।

কোনো ব্যবসায়ী লবণের দাম বাড়ালে বাজার মনিটর করে তাদের জেল-জরিমানা করতে ভোক্তা অধিকারের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, লবণের বিষয়ে ব্যবসায়ীরা অবাস্তব সুযোগ নিচ্ছে শুধু একটা গুজব ছড়িয়ে। এ বিষয়ে আমি খবর নিয়েছি। লবণচাষীদের সুবিধার্থে সরকার আমদানি বন্ধ রেখেছে।

তারপরেও লবণের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে সাড়ে ৬ লাখ টনেরও বেশি ভোজ্য লবণ মজুদ রয়েছে। প্রতি মাসে আমাদের ভোজ্য লবণের চাহিদা থাকে কম-বেশি ১ লাখ টন।

সে হিসাবে লবণের কোনো সংকট হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এ সময় তিনি পাশে উপস্থিত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহাকে বাজার মনিটরিং করার নির্দেশনা দেন।

তাকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, লবণের বিষয়ে আমার নির্দেশ আপনারা বাজার মনিটর করেন। যাকে জেল দেয়ার দরকার দেন, যাকে জরিমানা করা দরকার করেন। বাজারে দামটা যেন ঠিক থাকে।

এদিকে তথ্য অধিদফতর থেকে মঙ্গলবার দেয়া প্রেস নোটে বলা হয়, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে দেশে গুজব ছড়ানোতে লিপ্ত। সম্প্রতি দেশে লবণের প্রাপ্যতা নিয়েও গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টা চলছে।

দেশে পর্যাপ্ত লবণ মজুদ রয়েছে। ডিসেম্বরে নতুন লবণ আসবে। ফলে সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। লবণ নিয়ে কোনো ব্যক্তি বা মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য যে কোনোভাবে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিসিকের তথ্য অনুসারে, চলতি বছর দেশে লবণের চাহিদা ছিল ১৬ লাখ ২১ হাজার টন। কিন্তু উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ লাখ টন। তবে উৎপাদন হয়েছে আরও বেশি।

আলোচ্য সময়ে ৫৯ হাজার ৫৬৩ হেক্টর জমিতে ১৮ লাখ ২৪ হাজার টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। আগের বছরের চেয়ে যা ৩ লাখ টন বেশি। এছাড়াও এ বছরের এ উৎপাদন এ যাবতকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

গত ১০ বছরে দেশে মাত্র ৩ বছর লবণ আমদানি হয়েছে। তবে গত ২ বছর পর্যন্ত দেশে লবণ আমদানি বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪-১৫ সালে ২ লাখ, ২০১৫-১৬ সালে ২ লাখ ৫০ হাজার এবং ২০১৬-১৭ সালে ৫ লাখ টন লবণ আমদানি হয়েছে।

এদিকে লবণের অতিরিক্ত দাম চাইলে ক্রেতাদের সরাসরি ফোন দিতে বলেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা মঞ্জুর শাহরিয়ার গণমাধ্যমে দুটি মোবাইল নম্বর দিয়েছেন।

এগুলো হল- ০১৭৭৭-৭৫৩৬৬৮ এবং ০১৬২৪২৭৬০১২। এছাড়া ৯৯৯-এ ফোন দিতে পুলিশের পক্ষ থেকেও অনুরোধ করা হয়েছে।

যুগান্তর রিপোর্ট, ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

ঠাকুরগাঁও ও পীরগঞ্জ : দুই ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড ও তিন ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে শহরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালানা করা হয়। পীরগঞ্জে বিভিন্ন দোকানে লবণ কেনার হিড়িক পড়ে।

মাদারীপুর, টেকেরহাট ও কালকিনি : কালকিনি উপজেলার ফাসিয়াতলা বাজারের দাস স্টোরের মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মুকসুদপুর উপজেলার সদর বাজারে চারজনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) : মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ৮ ব্যবসায়ীকে ৫১ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে মূল্যতালিকা টানানোরও নির্দেশ দেয়া হয়।

ভোলা : ভোলা শহরের মহাজন পট্টিতে এক ট্রাক লবণসহ মো. হাসান নামে এক ব্যবসায়ীকে আটক করার পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়।

নাটোর ও সিংড়া : গ্রাম অঞ্চলের বাজারে পথসভা ও অভিযান পরিচালনা করেছে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো। দুই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) : পুলিশের পক্ষ থেকে বড়লেখা উপজেলাজুড়ে মাইকিং করা হয়েছে।

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) : কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর নতুন ব্রিজের ওপর অটোরিকশায় ৩৭৫ কেজি লবণ পাওয়া গেলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। লবণসহ গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল, ঘাটাইল, সখীপুর ও মধুপুর : মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হয়। এক ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। সখীপুরের শালগ্রামপুরে সাবাস খান নামের এক ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বগুড়া ও শেরপর : শেরপুর পৌরশহরের হাটখোলা এলাকার আকাশ দত্তের মালিকানাধীন পাইকারি দোকান ভাই ভাই স্টোরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) : লৌহজং উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে মালি অঙ্কবাজারে দোকানিকে জরিমানা করা হয়।

নেত্রকোনা, মদন. মোহনগঞ্জ, কেন্দুয়া, দুর্গাপুর ও খালিয়াজুরী : নেত্রকোনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দুয়া উপজেলায় ৪ ব্যবসায়ীকে দেড় লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ডোমার, জলঢাকা ও কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) : ডোমার উপজেলায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। জলঢাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) গোলাম ফেরদৌস বলেন, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের হাট ইজারাদারসহ সবাইকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।

সিলেট : সিলেট নগরী ছাড়াও বিভাগের অন্য জেলা-উপজেলাগুলোয় বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়। নগরীতে ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জ : জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে।

ফরিদপুর ও বোয়ালমারী : সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের খামার মালিক মো. আসলাম বলেন, আগে গবাদিপশুর জন্য লবণ ৭০ কেজির বস্তা কেনা হতো ৮৫০ টাকায়, এখন দোকানে ফোন দিয়ে জানতে পারলাম ৭০ কেজির বস্তা ১ হাজার টাকার উপরে।

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) : নবাবগঞ্জ উপজেলায় মঙ্গলবার সারা দিন লবণ নিয়ে নানা রকম গুজবের খবর পাওয়া গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন বলেন, গুজব ছড়িয়ে বাজারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে একটি চক্র।

সরিষাবাড়ী ও মাদারগঞ্জ (জামালপুর) : লবণ সংকটের খবর ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্রাইভেট চ্যানেলে প্রচারের প্রস্তুতিকালে ৫ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) : কালিয়াকৈর উপজেলার বাজারে প্রশাসন মনিটরিংয়ে নামে।

বরগুনা (দক্ষিণ), আমতলী ও বেতাগী : জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, আমরা ব্যবসায়ীদের জনপ্রতি ২ কেজি করে লবণ বিক্রির জন্য বলেছি। আমতলী ইউএনও মনিরা পারভীন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কমলেশ মজুমদার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। বেতাগীতে ভ্রাম্যমাণ কোর্ট লবণ গুদমে সরানোর সময় জব্দ করেছে।

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) : কোটালীপাড়া উপজেলার ঘাঘর বাজারে লবণ ক্রয়ের হিড়িক পড়েছে। কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাব্বির আহমেদ বিভিন্ন হাটবাজারে গিয়ে বিষয়টি গুজব বলে সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।

বরিশাল, আগৈলঝাড়া, বানারীপাড়া ও বাবুগঞ্জ : বরিশাল নগরীতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর পলাশপুর ও হাসপাতাল রোডের দুইটি দোকানে অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রি করার অপরাধে তিন হাজার টাকা করে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আগৈলঝাড়া উপজেলায় মনিটরিংয়ে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া মুলাদী উপজেলায় সততা স্টোরের মালিক সোহাগ হোসেনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঠবাড়িয়া ও স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) : মঠবাড়িয়ার উপজেলার পৌর শহরে মেসার্স অভি স্টোরের মালিক সুধন সাহাকে ১০ হাজার ও মেসার্স মা মনসা ভাণ্ডারের মালিক দিলিপ সাহাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) : ফরিদগঞ্জ বাজারে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত মূল্যে লবণ বিক্রির জন্য ৩ জনকে আটক করে। এরা হল- রূপসা বাজারের ব্যবসায়ী গৌতম সাহা, মহসিন ও গাজীপুর বাজারের ইব্রাহিম।

ঘটনাপ্রবাহ : লবণের মূল্য বৃদ্ধি

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×