অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

এমপি-এসপির সহযোগিতায় মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি দখল

ঘটনার সময় গুম করা হয় ছেলেসহ মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রীকে * নির্মম নির্যাতন করে মাদকের মামলা দিয়ে এক ছেলেকে ঢুকানো হয়েছে জেলে * এমপি প্রিন্স আমার হাত ধরে সহযোগিতা চান, গৌতমও বলল কোনো অসুবিধা হবে না, দখলের বিষয়টি আমি বুঝতে পারিনি -পুলিশ সুপার * যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান কঠোর -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  নেসারুল হক খোকন ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এমপি-এসপির সহযোগিতায় মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি দখল

ফিল্মি স্টাইলে মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রীর তিনতলা বাড়ি দখল করে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এতে পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছেন স্থানীয় এমপি এবং পুলিশের কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

অভিযোগের তীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত এসপি) গৌতম কুমার বিশ্বাসের দিকে। দখলে বাধা না দিতে এসপি রফিকুল ইসলামকে ব্যবহার করেন স্বয়ং সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স। দখলের সময় মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও সন্তানদের হাতুড়িপেটা করে অস্ত্রের মুখে অন্যত্র জিম্মি করা হয়। দখল করতে গিয়ে দুর্বৃত্তরা পুরো বাড়িতে ভয়াবহ তাণ্ডব চালায়।

লাইসেন্সকৃত বন্দুক ছাড়াও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। এমপির ক্যাডার শাকিল হোসেন পায়েলের নেতৃত্বে চার ঘণ্টাব্যাপী এই তাণ্ডব চলে। প্রতিকার তো দূরের কথা, কোনো মামলাও নেয়নি পুলিশ।

উল্টো এক ছেলেকে মাদকের মামলায় জেলে দেয়া হয়। এর আগে তার ওপর পুলিশ নির্মম নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী নূরুন্নাহার বেগম। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৯ এপ্রিল পাবনা শহরে। জেলা কারাগারের উল্টোদিকেই বাড়িটির অবস্থান।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। জনপ্রতিনিধি, পুলিশ যার বিরুদ্ধেই অন্যায় কর্মকাণ্ড করার প্রমাণ পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এটা হল আমাদের স্পষ্ট মেসেজ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দেয়া লিখিত অভিযোগে নুরুন্নাহার দাবি করেন, হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন থেকে লোন নিয়ে বাড়িটি নির্মাণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে বাড়িটি দায়বদ্ধ থাকাবস্থায় দুটি জাল দলিলের মাধ্যমে পাবনার কৃষ্ণপুর মক্তবপাড়ার ইদ্রিস আলীর ছেলে শাকিল হোসেন ওরফে পায়েল বাড়িটি দখল করেন।

কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বাড়ি দায়বদ্ধ থাকলে সেই বাড়ি রেজিস্ট্রি করা যায় না। অথচ ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট ৯২৫৭ নং দলিল ও ২০১৭ সালের ৮ অক্টোবর রেজিস্ট্রি দেখানো ১১২৫৪ দুটি দলিল করা হয়। এই জাল দলিল বাতিলের আদেশ চেয়ে গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর পাবনার যুগ্ম জেলা জজ (১ম) আদালতে শাকিলের বিরুদ্ধে মামলাও করেন অসহায় ওই নারী। এ

ই মামলা বিচারাধীন অবস্থায় সন্ত্রাসী কায়দায় বাড়িটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। অভিযুক্ত শাকিল হোসেন ছিলেন বাড়িটির নিচতলার ভাড়াটিয়া। যুগান্তরের ২ মাসের অনুসন্ধানে ঘটনার আদ্যোপান্ত উঠে এসেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার এক সপ্তাহ পর একজন প্রভাবশালী সিনিয়র সচিবের নির্দেশে তৎকালীন জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন র‌্যাব পাঠিয়ে পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে মা-ছেলেকে উদ্ধার করেন।

এই পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। শাকিল আহমেদ পায়েল নামে যিনি বাড়িটি দখল করে নিয়েছেন তার বাবা ইদ্রিস আলী এক সময় জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

জানা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও পাবনার পুলিশ বাড়িটি উদ্ধারে কোনো ভূমিকা রাখেনি। উল্টো দখলকারীদের পক্ষে প্রতিবেদন দিয়ে নুরুন্নাহারের ছোট ছেলে রাজু আহমেদ বাপ্পিকে ফেনসিডিল ও অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার দেখায়।

এরপর দখলকারী স্থানীয় সংসদ সদস্যের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত শাকিল আহমেদ পায়েলের সামনেই রাব্বিকে রাতভর নির্যাতন করা হয়। খবর পেয়ে পাবনা কারাগারে প্রতিবেদক রাব্বিকে দেখতে গেলে নির্যাতনের করুণ বর্ণনা দেন বাপ্পি। এ সময় তার হাত, কোমর ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন দেখা যায়।

মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রী ও তার ছেলেকে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধারকারী একজন সিনিয়র সচিব যুগান্তরকে বলেন, ‘যারা মানুষের নিরাপত্তায় কাজ করেন তাদের সহায়তায়ই যদি একটি পরিবারকে উচ্ছেদ করে পুরো বাড়িটিই দখলে নেয়া হয় তাহলে অসহায় মানুষের যাওয়ার জায়গা কোথায়? আমি ফোন করার পরও ওই পরিবারটির পাশে দাঁড়ায়নি স্থানীয় পুলিশ। ওরা থামেনি।’

এক প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র সচিব বলেন, ‘আমি এক সময় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলাম। নুরুন্নাহারের কানাডা প্রবাসী জামাতা আমাকে ফোন করে কান্নাকাটি করেন। তার কান্নায় আমি বিব্রতকর অবস্থায় পড়ি। তিনি এ বিষয়ে সাহায্য চান।

এরপর দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তৎকালীন জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিনকে ফোন করি। তিনি র‌্যাব পাঠিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের উদ্ধার করেন। ডিসি যদি র‌্যাব পাঠিয়ে তাদের উদ্ধার না করতেন তাহলে আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারত।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচিত কঠোর হস্তে দখলকারীদের আইনের আওতায় এনে বিধবা নুরুন্নাহারকে সসম্মানে বাড়িটি বুঝিয়ে দেয়া। এ ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।’

পাবনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের ডিসি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সিনিয়র সচিব স্যারের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি। স্যার যখন আমাকে ফোন করেন তখন জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক চলছিল। আমার পাশেই বসা ছিলেন এসপি রফিকুল ইসলাম। স্যারের ফোনটি আমি এসপি সাহেবকে দিই।

পরে জানতে পারলাম, নুরুন্নাহারসহ তার এক ছেলেকে গুম করা হয়েছে।’ তিনি জানান, ‘কিন্তু ওই সময় পুলিশি সহায়তা না পেয়ে বাধ্য হয়ে র‌্যাব পাঠিয়ে তাদের উদ্ধার করার ব্যবস্থা করি।’

নেপথ্যে যারা : প্রকাশ্য দিবালোকে নারকীয় এই তাণ্ডবের নেপথ্যে ছিলেন পাবনা সদর আসনের এমপি গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স। এছাড়া এসপি রফিকুল ইসলামের দাবি অনুযায়ী তাকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি পদোন্নতিপ্রাপ্ত) গৌতম বিশ্বাস।

পুরো বিষয়টি স্বীকার করে এসপি রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দেয়া তথ্য আমাকে তো বিশ্বাস করতেই হয়। ঘটনার আগে বুধ অথবা বৃহস্পতিবার (বাড়িটি দখল করা হয় শুক্রবার) গৌতম আমাকে বলেছিল, বাড়িটির একটি রুম তাদের দখলেই (নিচতলা ভাড়া নেয়া) আছে। স্যার কোনো সমস্যা হবে না। গৌতম দখলকারীর পক্ষ থেকে কোনো টাকা পেয়েছেন কিনা তা বলতে পারব না।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় তৎকালীন ওসি ওবায়দুল হকেরও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।’ এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্সের বিষয়ে জানতে চাইলে এসপি বলেন, ‘এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্স আমার হাত ধরে সহযোগিতা চান। তখন আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ি।’ একজন সংসদ সদস্য পুলিশ সুপারের হাত ধরে অনুরোধ করলেই কী বেআইনিভাবে কারও বাড়ি দখল করে দেয়া যায়- এমন প্রশ্নের জবাবে এসপি রফিক বলেন, ‘ভাই আমি দখল করার বিষয়টি আসলে বুঝতে পারিনি।’

একজন সিনিয়র সচিব অনুরোধ করার পরও ভিকটিম নুরুন্নাহারকে কেন সাক্ষাৎ দিতে চাননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিযোগটি সত্য নয়। আমি নুরুন্নাহারকে সাক্ষাৎ দিয়েছি।’ এভাবে বাড়ি দখল হওয়ার ঘটনাটি পুলিশ প্রধানকে জানিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, ‘স্যার সিঙ্গাপুরে আছেন, এলেই জানানো হবে।’

এসপির হাত ধরে বাড়িটি দখলে সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পাবনা ৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স যুগান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়টি পাবনা শহরের সবাই জানে। বহুবার দেনদরবার হয়েছে। আসলে ওই ভদ্রমহিলা তো বাড়ি বিক্রি করে দিয়েছেন। তার ছেলেমেয়ে আমার কাছে স্বীকার করেছে যে, মা কম দামে বাড়ি বিক্রি করে দিয়েছে।’

পায়েল যাতে বাড়িটি দখলে নিতে পারে সেজন্য এসপিকে সহযোগিতা করার কথা বলেছিলেন কিনা জানতে চাইলে এমপি প্রিন্স বলেন, ‘যদি বাড়ি কেনার পর সেখানে ক্রেতা উঠতে না পারে তাহলে কী করবে? এসপিকে বলেছি- বসে মীমাংসা করে দিতে।’

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি পদোন্নতিপ্রাপ্ত) গৌতম কুমার বিশ্বাস নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগটি সত্য নয়। এসপি স্যারকে এমন কথা আমি বলিনি। তদন্ত করা হলে প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসবে।’

এদিকে প্রতিবেদককে নুরুন্নাহার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, এসপি সাহেব তার সঙ্গে দেখা করতে চাননি। ভুক্তভোগী জানান, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দেয়া অভিযোগ তদন্ত করার সময়ই তার ছোট ছেলে শাহ রাজু আহমেদ বাপ্পিকে ধরে নিয়ে তার বিরুদ্ধে ফেনসিডিল ও অস্ত্র আইনে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান নিজেই সদর পুলিশ ফাঁড়িতে বাপ্পিকে অমানুষিক নির্যাতন করে গুরুতর জখম করেন। অথচ তিনিই ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দেয়া অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা।’

নুরুন্নাহার বলেন, ‘আমরা তো কেউ থানায় যাইনি। তাহলে কিভাবে আমার লাইসেন্সকৃত বন্দুক থানায় জমা করা হল? এর উত্তর আমি কার কাছে চাইব? বাড়ির মালামাল লুট করার পর চেক বইও ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা। তারা চেকের পাতায় স্বাক্ষর জাল করে ইচ্ছামতো অঙ্ক বসিয়ে বিভিন্ন মানুষের হাতে দিয়েছে। আমার কাছে টাকা পাওয়ার মিথ্যা অজুহাতে লোকজন সেই চেক নিয়ে বাড়িতে হাজির হচ্ছে। অথচ সবই ভুয়া।’ ক্ষুব্ধ নুরুন্নাহার বলেন, ‘এই অন্যায় আল্লাহ সহ্য করবেন না। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই নারকীয় অত্যাচারের বিচার চাই।’

নুরুন্নাহারের ছেলের বিরুদ্ধে মাদকের মামলা সম্পর্কে জানতে চাইলে এসপি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আদালতের মালখানার তালা ভেঙে এরা ফেনসিডিল চুরি করেছে।’ তবে মামলার নথিতে দেখা গেছে, মামলাটি দায়ের করেছেন পাবনা সদর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই এফএম ইমতিয়াজুল আলম তালুকদার।

এজাহারে বাপ্পি ছাড়া আরও দু’জনকে এই মামলায় গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- পাবনা পৌর এলাকার বাংলাবাজার পলিথিন রোডের রমেশ বাঁশফোরের ছেলে সুমন বাঁশফোর (২৫) ও সনি বাঁশফোর (২১)। তারা পারিবারিকভাবেই সুইপার। এজাহারে বলা হয়, পাবনা সদর থানাধীন সাধুপাড়া বটতলার জনৈক সুমনের অটো গ্যারেজের মধ্যে কতিপয় ব্যক্তি মাদকদ্রব্য কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল।

খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে বাপ্পির প্যান্টের পকেট থেকে একটি টিপ চাকু ও হাতে একটি ব্যাগ থেকে ১৩ বোতল ফেনসিডিল এবং সুইপার পরিবারের দুই ভাইয়ের কাছ থেকে পরিত্যক্ত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারসহ ১৬ বোতল ফেনসিডিল জব্দ দেখানো হয়।

জানা যায়, নুরুন্নাহার বেগমের স্বামী মৃত মুক্তিযোদ্ধা শাহ্ মোতাহার হোসেন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে পাবনায় কর্মরত ছিলেন। তিনি বেঁচে নেই। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তিনি নুরুন্নাহারকে বিয়ে করে পাবনা সদরেই স্থায়ী হন। বাড়িটি দখল হওয়ার পর ১৯ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে নুরুন্নাহার লিখিত অভিযোগ করেন।

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের আইজির কাছে পঠিয়ে দেন। পুলিশ সদর দফতর থেকে অভিযোগটি পাঠানো হয় পাবনার এসপির কাছে। এরপর এসপি রফিকুল ইসলাম জেলার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইবনে মিজানকে অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব দেন। কিন্তু সব সত্য আড়াল করে প্রতিবেদন দেয়া হয় দখলকারীদের পক্ষে। এতে হতাশ হয়ে পড়েন নুরুন্নাহার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজানের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হয়। তিনি সরকারি মুঠোফোন রিসিভ করেননি। পরিচয় দিয়ে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

অভিযোগে বলা হয়, বাড়িটি দখল করেই ক্ষান্ত হননি পায়েলসহ সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। নুরুন্নাহার ও তার বড় ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে চড়সাধুপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার লোকজন বিষয়টা বুঝতে পেরে এগিয়ে এলে মা-ছেলেকে মারতে মারতে সিএনজিতে করে শহরের মধ্যে শান্তিনগর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখে।

তখন ছোট ছেলের খোঁজ নেই। খবর পেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তৎকালীন একান্ত সচিব ড. হারুন-অর রশিদ নিজেও পাবনা সদর থানার ওসি ওবায়দুল হককে টেলিফোন করেন। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি। এরপর ২৩ এপ্রিল নুরুন্নাহারের কানাডা প্রবাসী মেয়ের জামাই শফিকুল ইসলাম বিষয়টি সিনিয়র সচিবকে জানান। যেদিন দখল করে নেয়া হয় তার বর্ণনা দিয়ে নুরুন্নাহার বলেন, ১৯ এপ্রিল শুক্রবার বেলা আনুমানিক তিনটার দিকে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কিছু নেতাকর্মী পরিচয়ে ২ থেকে ৩শ’ ক্যাডার প্রকাশ্য দিবালোকে ওই বাড়ির তালা ভেঙে নারকীয় তাণ্ডব চালায়।

এদিকে পাবনা-৫ (সদর) আসনের এমপি গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্সের বিরুদ্ধে ক্যাডার পলিটিক্সের অভিযোগ রয়েছে। ২০১০ সাল থেকে দেয়া বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এসব অভিযোগের বিস্তারিত উঠে আসে।

কয়েকটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, এমপির বিভিন্ন তদবিরে সাড়া না দিলেই ডিসি, এসপিসহ জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নামে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে স্থানীয় যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ব্যবহার করে থাকেন। এসব কারণে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা মামলার আসামিও হয়েছেন।

শাকিল যা বললেন : আমার কাছে বাড়িটি বিক্রি করা হয়েছে। সে অনুযায়ী নুরুন্নাহার বেগম বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। দখল করার অভিযোগটি উদ্ভট।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×