রাজধানী সুপার মার্কেটে আগুন

১৫ দোকান ভস্মীভূত, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় অর্ধশত * ফায়ার সার্ভিসের ২৫ ইউনিটের দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে * দোতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত দাবি ব্যবসায়ীদের * ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি গঠন * বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বন্ধ

  যুগান্তর রিপোর্ট ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আগুন

টিকাটুলিতে রাজধানী সুপার মার্কেটে আগুন লেগে ১৫টি দোকান ভস্মীভূত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও প্রায় অর্ধশত দোকান। বুধবার সন্ধ্যায় মার্কেটের দোতলার একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। সেখান থেকে পূর্বপাশের বেশ কয়েকটি দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিসের ২৫ ইউনিট দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনের ধোঁয়ায় মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মী মো. মোমিন আহত হয়েছেন। তবে কেউ মারা যাননি। ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিস একটি কমিটি গঠন করেছে। তদন্তের পরেই আগুনের প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আগুন লাগার পর অভিসার সিনেমা হলসংলগ্ন রাস্তা এবং মতিঝিল শাপলা চত্বর, গুলিস্তান, সায়েদাবাদ এবং দয়াগঞ্জমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। পুলিশ সদস্যরা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে ভিড় সামলানোর চেষ্টা করেন।

এ অগ্নিকাণ্ডে টিকাটুলি ও এর আশপাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। এতে মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার পরপরই ওই এলাকার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়।

ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া নিরাপত্তাকর্মী মোমিনকে রাত সোয়া ৮টায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। তিনি বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন। মার্কেটে আগুন নেভানোর জন্য নিজস্ব তেমন কোনো ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের ডিজি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন ঘটনাস্থলে রাত পৌনে ৮টার দিকে সাংবাদিকদের জানান, তাদের কর্মীদের চেষ্টায় সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে। এখন ক্ষয়ক্ষতির অবস্থা দেখা হচ্ছে।

আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে তিনি বলেন, আগুন কীভাবে লেগেছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। এ ঘটনায় আমরা তদন্ত কমটি গঠন করেছি। তদন্ত শেষে আগুনের প্রকৃত কারণ বলতে পারব। তিনি বলেন, এ ঘটনায় কেউ নিহত হয়নি। তবে ১৪/১৫টি দোকান পুড়ে গেছে। এসব দোকানের সবকিছু পুড়ে গেছে। বাকিগুলো ভালো আছে।

মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, নিউ রাজধানী সুপার মার্কেটের (রাজধানী সুপার মার্কেটের বর্ধিতাংশ) দোতলায় ৭৭ এবং নিচতলায় ৭৭টি দোকান আছে। এর মধ্যে দোতলায় বিক্রমপুর রং বিতান নামে একটি দোকানে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ হচ্ছিল।

এ সময় যে কোনোভাবে পাশের দোকানের কাপড়ে আগুন লাগে এবং তা পর্যায়ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে। এ আগুনে রাজধানী মার্কেটের ১৫টি দোকান পুড়ে গেছে। অর্ধশত দোকানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্য দোকানগুলোর পণ্য পানি দিয়ে ভিজিয়ে ফেলায় সেগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা শঙ্কিত।

ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, ঘন বসতিপূর্ণ এ মার্কেটে ছাদগুলো টিনের তৈরি। এখানে অধিকাংশ দোকানই দাহ্য পদার্থের। মার্কেটের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, এখানে আমার কাপড়ের দোকান ছিল। শেষ সম্বল বলতে এটাই ছিল। পুড়ে যাওয়ায় শেষ সম্বলটুকুও শেষ হয়ে গেল।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আমাদের কর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। শুরুতেই পানি দেয়া সম্ভব হয়নি, একটু দেরি হয়েছে। মার্কেটের ওপরে টিনশেড থাকায় এই সমস্যায় পড়তে হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় লোকজন সাহস করে গরম টিনের ওপর ওঠে তা ভেঙে ভেতরে পানি দিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক দেবাশীষ বর্ধন বলেন, রাজধানী সুপার মার্কেটে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। পানির ব্যবস্থাও ছিল না। আমরা বিশেষভাবে গাড়িতে করে পানির ব্যবস্থা করেছি। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে দোতলার একটি ইউনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা ছোটাছুটি শুরু করি। মার্কেটের দোতলার যে পাশে আগুন লেগেছে, সেখানে বেডশিট, কাপড়, টেইলার্সের ৩০-৩৫টি দোকান ছিল। অল্প সময়ের মধ্যে অন্য ইউনিটগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

ওয়ারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ওই এলাকার মার্কেটগুলো বন্ধ থাকে রোববার। আগুন যখন লাগে, তখন সব দোকানই খোলা ছিল। বিকালে মার্কেটের পূর্বদিক থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। এরপর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ী ও অন্যরা বেরিয়ে আসেন। বহু দূর থেকেও এলাকায় আগুন ও ধোঁয়া দেখা যায়।

আল মাহের জুয়েলার্সের মালিক আবু তাহের বলেন, নিচতলায় তারসহ মোট ৪৩টি জুয়েলারি দোকান আছে। আগুন লাগার পর প্রাণ হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসার সময় শার্টার নামানো হলেও অনেকে তালা মারতে পারেননি। তাহেরের ধারণা, মার্কেটের দোতলায় মাঝ বরাবর আগুনের সূত্রপাত হয়। সেখানে পোশাক, টেইলার্স, ফোম, কসমেটিকস, খেলনা ও খাবারের দোকান আছে। তবে এসব দোকানের খাবার বাইরে থেকে রান্না করে আনা হয়।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর নিচতলার জুয়েলারি দোকানের মালিকরা যার যার দোকানের সামনে অবস্থান নেন। তবে কেউ দোকান খোলেননি। সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরাও সেখানে আছেন বলে ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমান জানান।

ওয়ারী থানা পুলিশ জানায়, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে মানুষের চলাচল কম থাকলেও মার্কেটে তুলনামূলক ভিড় ছিল। ঢাকার অনেক এলাকা থেকে এ মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসেন মানুষ। এলাকাটি খুবই স্পর্শকাতর। মার্কেটের চারপাশে হাইরাইজ বিল্ডিং।

আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। মার্কেটের অলিগলি দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ভেতরে ঢুকে পড়েন। আশপাশের লোকজনও আগুন নেভাতে অংশ নেয়। মার্কেটের ছোট ছোট সিঁড়ি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মীরা দোতলায় উঠে পড়েন। চেষ্টা চালান আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার।

টিকাটুলির স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, যেখানে আগুন লেগেছে সেখান থেকে আমার বাসা খুবই কাছে। ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আমি নিজেও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যাই।

পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার খবর পেয়ে ৮টার দিকে বাসায় যাই। মার্কেটটির ব্যবসায়ীরা জানান, ১৯৯৫ সালে চালু হওয়া রাজধানী সুপার মার্কেটের বর্ধিতাংশ নিউ রাজধানী সুপার মার্কেট হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×