ইডেন টেস্ট: ধূসর ব্যাটিংয়ে উধাও গোলাপি সুরভি

প্রথমদিন শেষে বাংলাদেশ ১০৬ * ভারত ১৭৪/৩

  স্পোর্টস ডেস্ক ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইডেন টেস্ট। ছবি: সংগৃহীত

স্লিপে রোহিতের নেয়া মুমিনুলের কঠিন ক্যাচ নিশ্চয় দেখেছেন আল-আমিন হোসেন। চা-বিরতির আগে শেষ ওভারের প্রথম বলে সেই আল-আমিন যা করলেন, সেজন্য নিজেকে ক্ষমা করতে পারবেন না তিনি।

ফাইন লেগে রোহিত শর্মার একেবারে লোপ্পা ক্যাচ ফেলে দিলেন। যে ক্যাচ ফেলে দেয়াটাই কঠিন, সেই ক্যাচ রোহিতকে দিল অভাবনীয় ‘নতুন জীবন’। হতভাগা বোলার আবু জায়েদ তখন রাগে গরগর করছেন। ১৩ রানে জীবন পাওয়া রোহিত অবশ্য বেশিদূর যেতে পারেননি। তাকে ২৬ রানে থামিয়ে দেন ইবাদত হোসেন। তার আগে মায়াঙ্ক আগরওয়ালকে ফিরিয়ে গোলাপি বলে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম উইকেট আদায় করে নিয়েছিলেন আল-আমিন।

তবে ৪৩ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর ধাক্কা সামলে গোলাপি টেস্টের প্রথমদিনেই বাংলাদেশের ১০৬ টপকে ৬৮ রানের লিড নিয়েছে ভারত। হাতে আছে প্রথম ইনিংসের সাত উইকেট। তিন উইকেটে ১৭৪ রানে প্রথমদিন শেষ করেছে স্বাগতিকরা। অধিনায়ক বিরাট কোহলি ৫৯ ও আজিঙ্কা রাহানে ২৩ রানে ব্যাট করছেন। এছাড়া ইবাদতের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হওয়ার আগে চেতেশ্বর পূজারা করেন ৫৫ রান। শুক্রবার কলকাতার ইডেন গার্ডেনে গোলাপি বলের দিনরাতের টেস্টের প্রথমদিনে আল-আমিনের সহজ ক্যাচ ফেলার অবিশ্বাস্য ভুলেরও আগে বাংলাদেশের ধূসর ব্যাটিং ইন্দোরের দুঃস্বপ্ন ফিরিয়ে আনে। ইন্দোরে প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ১৫০ রান করেছিল বাংলাদেশ।

কলকাতা টেস্টের প্রথমদিন ৩০.৩ ওভারে মাত্র ১০৬ রানে গুটিয়ে গেল বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। টস জিতে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হকের ব্যাট করার সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে। চারটি ডাক বিবর্ণ করে দেয় অতিথিদের প্রথম ইনিংস। ফ্লাডলাইট জ্বলে ওঠার আগেই নিভে যায় বাংলাদেশ। অথচ উপমহাদেশের প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখতে নানা রঙিন আয়োজনে ইডেনে কাল তৈরি হয়েছিল উৎসবের আবহ।

ইডেনের ঐতিহ্যবাহী ঘণ্টা বাজিয়ে গোলাপি টেস্টের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ২০০০ সালে ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট খেলা সব ক্রিকেটারকে দেয়া হয় বিশেষ সম্মাননা।

টস হয় বিশেষভাবে তৈরি রুপার মুদ্রায়। চা-বিরতির সময় গলফ কার্টে চড়িয়ে ল্যাপ অব অনার দেয়া হয় ভারতের সাবেক অধিনায়কদের। প্রথমদিনের খেলা শেষে সুরের মূর্ছনায় ইডেন মাতান বাংলাদেশের কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী রুনা লায়লা। কিন্তু দুঃস্বপ্নের ব্যাটিংয়ের পর রুনা লায়লার গানও বিষাদময় হয়ে ওঠার কথা মুমিনুলদের কাছে!

ব্যাটিং ব্যর্থতার সঙ্গে যোগ হয়েছে চোটদুর্ভাগ্যও। দ্বিতীয় টেস্টের বাংলাদেশ একাদশে জায়গা হারিয়েছিলেন দুই স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম। কিন্তু দু’জনকেই কাল কনকাশন বদলি হিসেবে মাঠে নামতে হয়েছে।

মোহাম্মদ সামির বাউন্সার আঘাত হেনেছিল লিটন দাস ও নাঈম হাসানের হেলমেটে। চোট এতটাই গুরুতর যে, দু’জনই ছিটকে গেছেন কলকাতা টেস্ট থেকে। দু’জনকেই যেতে হয়েছে হাসপাতালে। মাথায় আঘাত পাওয়ার পর কিছুক্ষণ ব্যাটিং চালিয়ে যাওয়া লিটন ২৪ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফেরেন। তার জায়গায় কনকাশন বদলি হিসেবে মিরাজকে নেয় বাংলাদেশ।

লিটন ব্যাটসম্যান হওয়ায় ম্যাচে বোলিং করতে পারবেন না মিরাজ। স্কোয়াডে অতিরিক্ত কোনো ব্যাটসম্যান না থাকায় মাশুল দিতে হচ্ছে দলকে। ১৯ রানে আউট হওয়া নাঈমের জায়গায় দ্বিতীয় বদলি হিসেবে নেয়া হয় স্পিনার তাইজুলকে।

এত ঘটনার মধ্যে ১২ জনকে ব্যাটিংয়ে নামিয়েও আসল কাজটা করতে পারেনি বাংলাদেশ। গোলাপি বলে ভারতের পেসারের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি কেউ। ধূসর ব্যাটিংয়ে শুরুতেই উধাও গোলাপি সুরভি ও রোমাঞ্চ।

দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন শুধু সাদমান ইসলাম (২৯), লিটন ও নাঈম। রানের খাতা খুলতে পারেননি মুমিনুল, মিঠুন, মুশফিকুর ও আবু জায়েদ। ১০ উইকেট ভাগ করে নেন ভারতের তিন পেসার। সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন ২২ রানে পাঁচ উইকেট নেয়া ইশান্ত শর্মা। এছাড়া উমেশ যাদব তিনটি ও সামি নেন দুই উইকেট।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ছয় ওভার নিরাপদে কাটিয়ে দেয়ার পর বিপর্যয়ের শুরু। ইমরুল কায়েসকে ফিরিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করেন ইশান্ত। এরপর তিন বলের মধ্যে মুমিনুল ও মিঠুনকে বিদায় করে বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দেন উমেশ।

দলকে অনেকবার বিপর্যয় থেকে টেনে তোলা মুশফিকও এবার শূন্য রানে বোল্ড। ২৬ রানেই নেই চার উইকেট। সাদমান, মাহমুদউল্লাহরাও আত্মহত্যার মিছিলে যোগ দিলে প্রথম সেশনেই সন্ধ্যা নেমে আসে বাংলাদেশের ইনিংসে। কনকাশন বদলি হিসেবে নামা মিরাজও কিছু করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৩০.৩ ওভারে ১০৬ রানে থমকে যায় অতিথিরা। বলের হিসাবে টেস্টে এটি বাংলাদেশের ষষ্ঠ সংক্ষিপ্ততম ইনিংস।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×