সরকারের আশ্বাসে সড়কে ফিরছে বাস

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাস
ফাইল ছবি

নতুন সড়ক আইন সংশোধনের দাবিতে কয়েকদিন অঘোষিত ধর্মঘটে ছিল পরিবহন শ্রমিকরা। এতে অন্তত ৩১টি জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকে।

পরিবহন শ্রমিকরা রাজধানীতেও গণপরিবহন চলাচল কমিয়ে দেয়। এ কারণে দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ। এরই মধ্যে আসে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধের ঘোষণা। এতে পণ্য পরিবহনে ব্যাঘাত ঘটে। অনেক জায়গায় বেড়ে যায় পণ্যের দাম। সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে গণপরিবহন চলাচল।

তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় এদিন সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা স্বাভাবিক কর্মদিবসের তুলনায় ছিল কম। এদিকে দুটি জেলায় শুক্রবারও শ্রমিকরা কর্মবিরতিতে ছিল বলে জানা গেছে। জেলা দুটি হল নওগাঁ ও টাঙ্গাইল।

এদিকে শুক্রবার সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খান জানিয়েছেন, শনিবার (আজ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের বৈঠক রয়েছে। বৈঠকে তারা নতুন সড়ক পরিবহন আইনের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সমস্যার সমাধান কিভাবে করবেন সেটা বুঝে তারা পরবর্তী কর্মসূচি দেবেন।

বুধবার গভীর রাতে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিকরা সারা দেশে পণ্য পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। কিন্তু গণপরিবহন শ্রমিকরা ছিল অনেকটা নীরব। এ কারণে বৃহস্পতিবার দেশের অনেকগুলো জেলায় বাস চলাচল বন্ধ ছিল। এদিন রাজধানীর সড়কগুলোতে গণপরিবহন ছিল কম। দূরপাল্লার বাসও চলাচল করে খুবই কম। এতে বিপাকে পড়ে যাত্রীরা। কিন্তু শুক্রবার যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায়নি।

রাজধানীর মহাখালী, সায়েদাবাদ এবং গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, এসব টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে টার্মিনালগুলোতে বাস ঢুকছে। এছাড়া রাজধানীর সব রুটেই চলছে গণপরিবহন।

বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম বলেন, দাবি মেনে নেয়ায় আমরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছি। শ্রমিকরা কর্মে ফিরেছে। বাস শ্রমিকরাও কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছে। বৃহস্পতিবার থেকেই বিভিন্ন জেলায় বাস চলাচল শুরু হয়।

সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস-মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম জানান, সায়েদাবাদ থেকে সব রুটে পরিবহন ছেড়ে যাচ্ছে। কোথাও কোনো সমস্যা নেই।

মহাখালী বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির সভাপতি হাজী আবুল কালাম বলেন, নওগাঁ ও চুয়াডাঙ্গায় আন্তঃজেলা ও অভ্যন্তরীণ রুটে যান চলাচল বন্ধ রেখেছে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। তাছাড়া আর কোথাও কোনো সমস্যা নেই।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ট্রাফিক উত্তর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) প্রবীর কুমার দাস বলেন, সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক। সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে যানবাহন সংখ্যা কম থাকে, কিন্তু আজ (শুক্রবার) বেশি মনে হচ্ছে।

এদিকে শুক্রবার গাবতলীতে অবস্থিত জাতীয় সড়ক পরিবহন মোটর শ্রমিক ফেডারেশন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবহন শ্রমিকদের অঘোষিত কর্মবিরতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান সংগঠনের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সড়ক পরিবহন আইনের ১৪টি অধ্যায়ের ১২৫টি ধারার মধ্যে ৫২টি ধারাই শাস্তির বিধান সম্পর্কিত। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধু চালক নয়; পথচারী, সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরসহ বিভিন্ন পক্ষও দায়ী।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নামে পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হচ্ছে। চাঁদাবাজির সুযোগ রাখতেই এটা করা হচ্ছে। মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নামে ২০০৩ সাল থেকে ব্যাপক চাঁদাবাজি হচ্ছে। সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন করতে হলে দুর্নীতিবাজ চাঁদাবাজ নেতাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

বিভিন্ন জেলা থেকে যুগান্তরের ব্যুরো ও প্রতিনিধিরা বাসসহ অন্যান্য যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানিয়েছেন। যশোর ব্যুরো জানায়, পাঁচ দিন পর যশোরাঞ্চলে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার হয়েছে। শুক্রবার দুপুরের পর থেকে টার্মিনাল থেকে বাস ছাড়তে শুরু করে। কুষ্টিয়া ও চুয়াডঙ্গা প্রতিনিধি দুই জেলার সব রুটে বাস চলাচল শুরুর কথা জানিয়েছন। তবে নওগাঁ ও টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এই দুই জেলায় শুক্রবারও বাস চলাচল করেনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর পরবর্তী কর্মসূচি- শাজাহান খান : সন্ধ্যার পর রাজধানীর তোপখানা রোডের স্বাধীনতা ভবনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের দুই দিনব্যাপী বর্ধিত সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শাজাহান খান। তিনি বলেন, নতুন আইনের সমস্যার বিষয়ে আলোচনা করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমরা তার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছি। তার কাছে বিভিন্ন সমস্যা এবং দাবির কথা তুলে ধরব। তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) এই সমস্যাগুলো কিভাবে সমাধান করবেন সেটা বুঝে পরে সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচি দেয়া হবে।

বর্ধিত সভায় আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা দুই দিন ধরে সভা করছি। এখানে ৫৫ জনের ওপরে নেতা বক্তব্য দিয়েছেন। সবার কথা আমরা ধৈর্য ধরে শুনেছি। ২৩৩টি সংগঠন আমাদের ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত। তার মধ্যে দেড় শতাধিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি এখানে এসেছেন। বর্ধিত সভায় ফেডারেশনভুক্ত সংগঠনগুলো নতুন সড়ক পরিবহন আইন নিয়ে তাদের মতামত দিয়েছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×