জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মকর্তা

মিয়ানমারে থামেনি রোহিঙ্গা নিধন

গ্রাম থেকে রোহিঙ্গা নারীরা গুম হচ্ছে * রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের আগে রাখাইনে ঢুকতে চায় জাতিসংঘ

  যুগান্তর ডেস্ক ০৭ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

myanmer

রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জাতিগত নির্মূল অভিযান এখনও থামেনি বলে অভিযোগ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু গিলমার।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর সহিংস অভিযানের ছয় মাস পরেও তা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোর চারদিনের পরিদর্শন শেষে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে গিলমার এ কথা বলেন। কক্সবাজারে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।

রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন গিলমার। কিন্তু তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্ষার মৌসুমে তাদের ওপর মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসবে। গিলমারের ভাষায়, পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে ব্যাপক বিস্তৃত ও পরিকল্পিত সহিংসতা থেমে নেই। তিনি বলেন, কক্সবাজারে আমি এ পর্যন্ত যা দেখেছি, তা দিয়ে কোনো উপসংহারে পৌঁছাতে পারব না। কারণ সহিংসতার ধরন এখন পরিবর্তন করা হয়েছে। রয়টার্স এ খবর দিয়েছে। গিলমার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, এখন রক্তপাত, ধর্ষণ, হত্যা, নির্যাতন ও অপহরণের মাত্রা কমে গেলেও রোহিঙ্গাদের অনাহারে রেখে ধুঁকে ধুঁকে মারা হচ্ছে। তিনি বলেন, এটা বোধগম্য নয় যে নিকট ভবিষ্যতে কোনো রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরতে পারবেন কিনা। যদিও দেশটি কিছু রোহিঙ্গা ফেরত নেবে বলে বারবার প্রতিশ্র“তি আওড়ে যাচ্ছে। বিবৃতিতে তিনি বলেন, মিয়ানমার বিশ্বকে বোঝাতে ব্যস্ত যে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে রাজি রোহিঙ্গাদের গ্রহণে তারা প্রস্তুত রয়েছে। অথচ সেই একই সময়ে নিপীড়ন চালিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য করছে তারা।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে অতি সম্প্রতি যারা বাংলাদেশে এসে শিবিরে উঠেছেন তাদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, তাদের গ্রাম থেকে রোহিঙ্গা লোকজন গুম হয়ে যাচ্ছে। তারা বলেছেন, বিশেষ করে গ্রামের নারী ও শিশুরা নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে এবং তাদেরকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গিলমার বলেন, বর্তমানে রাখাইনের যে পরিস্থিতি তাতে সেখানে ফিরে গিয়ে নিরাপদে বসবাস করা অসম্ভব। কাজেই বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনও অসম্ভব।

এদিকে রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য এখনও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি বলে মনে করছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মতে, রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে রোহিঙ্গাদের নিরপেক্ষ তথ্য না দিয়ে তাদের প্রত্যাবাসনে বাধ্য করা হলে তা অগ্রহণযোগ্য হবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের আগে তাই রাখাইনের মানবাধিকার পরিস্থিতি জানতে মিয়ানমারে প্রবেশাধিকার দাবি করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। বহুদিন থেকেই জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংগঠন ও সম্প্রদায় এই দাবি জানিয়ে আসছে। সীমান্তরেখায় আটকেপড়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা ব্যক্ত করেছে ইউএনএইচসিআর। মিয়ানমারে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতেরও দাবি জানিয়েছে তারা।

৫ মার্চে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, দুই দেশের নিয়ন্ত্রণরেখায় অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষদের নিশানা করে চলতি সপ্তাহে মিয়ানমার সেনাসমাবেশ বাড়িয়েছে। বাংলাদেশ যত দ্রুত সম্ভব মিয়ানমারকে সেনা প্রত্যাহার করতে বলেছে। সেনা মোতায়েনের ঘটনায় দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনা মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টিকে বিলম্বিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter