রুম্পার মৃত্যুরহস্য এখনও অজানা
jugantor
রুম্পার মৃত্যুরহস্য এখনও অজানা
বন্ধু সৈকত আটক * সিসিটিভির ফুটেজে ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার দৃশ্য * বিচার দাবিতে মানববন্ধন বিক্ষোভ

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যুরহস্য এখনও অজানা। হত্যা না আত্মহত্যা- তা উদঘাটনে পিবিআই, ডিবি এবং সিআইডি আলাদাভাবে তদন্ত কাজ চালাচ্ছে। 

এ ঘটনায় শনিবার রুম্পার বন্ধু আবদুর রহমান সৈকতকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি অপর একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইডি নিয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, সৈকতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। 

এছাড়া ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে (সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডে একটি বাড়ির) সিসিটিভির ফুটেজ উদ্ধার করেছে রমনা থানা পুলিশ। ফুটেজে (বুধবার) সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে ভবনে প্রবেশ এবং রাত পৌনে ১১টায় ভবন থেকে পড়ে যেতে দেখা গেছে।

এদিকে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, দেখে মনে হয়েছে রুম্পা উপর থেকে পড়ে মারা গেছে।

উপর থেকে পড়ে মারা যাওয়ার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কিনা- সেটি নিশ্চিত হতে তার শরীর থেকে আলামত সংগ্রহ করেছি।

রুম্পাকে হত্যা করা হয়েছে- এমন অভিযোগ করে দ্রুত বিচারের দাবিতে শনিবারও মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে তার সহপাঠীরা।

রমনা বিভাগের পুলিশের সহকারী কমিশনার এসএম শামীম যুগান্তরকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলের আশপাশের ভবন থেকে একটি সিসিটিভির ফুটেজ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে রুম্মাকে একটি ভবনে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। তিনি আরও জানান, ফুটেজে রাত পৌনে ১১টায় ভবনের উপর থেকে তাকে পড়ে যেতে দেখা যায়। পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, যে ভবন থেকে রুম্পা পড়েছিল ওই ভবনের তৃতীয়তলায় ছাত্রদের একটি মেস রয়েছে। ঘটনার পরপরই সেখানে গিয়ে মেসটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, রুম্মার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তার মোবাইল ফোন থেকে একটি নম্বরে অনেক সময় ধরে কথা বলার প্রমাণ মিলেছে। ওই নম্বরের মালিককে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। 

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মিডিয়া শাখা সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় মেয়েটির বন্ধু স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র সাবেক ছাত্র আবদুর রহমান সৈকতকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শনিবার মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে ওই ছাত্রকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো কিছু বলতে রাজি হয়নি ডিবি পুলিশ। 

এদিকে শনিবার সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডে ৬৪/২ নম্বর বাড়ির সামনে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি টিম। শনিবার সকালে তারা সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং মামলার আলামত জব্দ করেন। তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে আছে বলেও জানান পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা। 

পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানান, কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সে কি সুইসাইড (আত্মহত্যা) করেছে না হোমিসাইডাল (হত্যার শিকার) হয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে কাজ করছি। দ্রুত এ রহস্য উন্মোচিত হবে বলেও জানান তিনি।

বিচারের দাবিতে উত্তাল স্টামফোর্ড : স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শনিবার স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধানমণ্ডি ও সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, রুম্পা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। কিন্তু ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যারহস্যের কূলকিনারা করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।

এ হত্যার সঙ্গে জড়িত যারা তাদের যেন দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়, পাশাপাশি এ আন্দোলন প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যাতে শিক্ষার্থী ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

মানববন্ধনে রুম্পার সহপাঠীরা বলেন, আর যেন কোনো রুম্পাকে এভাবে মরতে দেখতে না হয়। এ হত্যাকাণ্ডের একমাত্র বিচার মৃত্যুদণ্ড। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলেই আমরা রক্ষা পাব, না হলে এ রকম নির্মম হত্যাকাণ্ড চলতেই থাকবে।

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম মাছুম বলেন, শুরু থেকেই এ হত্যাকাণ্ড অন্যদিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফেনীর নুসরাত হত্যার ঘটনাও ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হয়েছিল।

অন্য কোনো ইস্যুতে যেন রুম্পা হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা না পড়ে সেদিকে নজর দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, চারদিকে এত হত্যা, খুন-ধর্ষণের ভিড়ে আমরা শুধু স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই, আর কিছু নয়।

মানববন্ধন শেষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ধানমণ্ডি ১৯ থেকে ১৫ নম্বর পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

জাবিতে মানববন্ধন : শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শনিবার বেলা ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে মানববন্ধন করা হয়।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, রুম্পাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। এ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ায় শাস্তির আওতায় আনারও দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের জাবি শাখার আহ্বায়ক শাকিল উজ্জামান বলেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও আমাদের দেশে এভাবে হত্যা হয়। বিচারহীনতার অপসংস্কৃতির কারণে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড হচ্ছে।

তাই আমাদের দাবি রুম্পাকে হত্যায় যারা জড়িত তাদের দ্রুততম সময়ে রাষ্ট্রীয় আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

রসায়ন বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইকবাল হোসাইন বলেন, আর কোনো রুম্পাকে যেন এভাবে মৃত্যুবরণ করতে না হয় এজন্য এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম সোহাগ।

 

রুম্পার মৃত্যুরহস্য এখনও অজানা

বন্ধু সৈকত আটক * সিসিটিভির ফুটেজে ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার দৃশ্য * বিচার দাবিতে মানববন্ধন বিক্ষোভ
 যুগান্তর রিপোর্ট 
০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যুরহস্য এখনও অজানা। হত্যা না আত্মহত্যা- তা উদঘাটনে পিবিআই, ডিবি এবং সিআইডি আলাদাভাবে তদন্ত কাজ চালাচ্ছে।

এ ঘটনায় শনিবার রুম্পার বন্ধু আবদুর রহমান সৈকতকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি অপর একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইডি নিয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, সৈকতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

এছাড়া ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে (সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডে একটি বাড়ির) সিসিটিভির ফুটেজ উদ্ধার করেছে রমনা থানা পুলিশ। ফুটেজে (বুধবার) সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে ভবনে প্রবেশ এবং রাত পৌনে ১১টায় ভবন থেকে পড়ে যেতে দেখা গেছে।

এদিকে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, দেখে মনে হয়েছে রুম্পা উপর থেকে পড়ে মারা গেছে।

উপর থেকে পড়ে মারা যাওয়ার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কিনা- সেটি নিশ্চিত হতে তার শরীর থেকে আলামত সংগ্রহ করেছি।

রুম্পাকে হত্যা করা হয়েছে- এমন অভিযোগ করে দ্রুত বিচারের দাবিতে শনিবারও মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে তার সহপাঠীরা।

রমনা বিভাগের পুলিশের সহকারী কমিশনার এসএম শামীম যুগান্তরকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলের আশপাশের ভবন থেকে একটি সিসিটিভির ফুটেজ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে রুম্মাকে একটি ভবনে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। তিনি আরও জানান, ফুটেজে রাত পৌনে ১১টায় ভবনের উপর থেকে তাকে পড়ে যেতে দেখা যায়। পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, যে ভবন থেকে রুম্পা পড়েছিল ওই ভবনের তৃতীয়তলায় ছাত্রদের একটি মেস রয়েছে। ঘটনার পরপরই সেখানে গিয়ে মেসটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, রুম্মার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তার মোবাইল ফোন থেকে একটি নম্বরে অনেক সময় ধরে কথা বলার প্রমাণ মিলেছে। ওই নম্বরের মালিককে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মিডিয়া শাখা সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় মেয়েটির বন্ধু স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র সাবেক ছাত্র আবদুর রহমান সৈকতকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শনিবার মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে ওই ছাত্রকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো কিছু বলতে রাজি হয়নি ডিবি পুলিশ।

এদিকে শনিবার সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডে ৬৪/২ নম্বর বাড়ির সামনে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি টিম। শনিবার সকালে তারা সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং মামলার আলামত জব্দ করেন। তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে আছে বলেও জানান পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা।

পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানান, কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সে কি সুইসাইড (আত্মহত্যা) করেছে না হোমিসাইডাল (হত্যার শিকার) হয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে কাজ করছি। দ্রুত এ রহস্য উন্মোচিত হবে বলেও জানান তিনি।

বিচারের দাবিতে উত্তাল স্টামফোর্ড : স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শনিবার স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধানমণ্ডি ও সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, রুম্পা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। কিন্তু ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যারহস্যের কূলকিনারা করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।

এ হত্যার সঙ্গে জড়িত যারা তাদের যেন দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়, পাশাপাশি এ আন্দোলন প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যাতে শিক্ষার্থী ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

মানববন্ধনে রুম্পার সহপাঠীরা বলেন, আর যেন কোনো রুম্পাকে এভাবে মরতে দেখতে না হয়। এ হত্যাকাণ্ডের একমাত্র বিচার মৃত্যুদণ্ড। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলেই আমরা রক্ষা পাব, না হলে এ রকম নির্মম হত্যাকাণ্ড চলতেই থাকবে।

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম মাছুম বলেন, শুরু থেকেই এ হত্যাকাণ্ড অন্যদিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফেনীর নুসরাত হত্যার ঘটনাও ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হয়েছিল।

অন্য কোনো ইস্যুতে যেন রুম্পা হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা না পড়ে সেদিকে নজর দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, চারদিকে এত হত্যা, খুন-ধর্ষণের ভিড়ে আমরা শুধু স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই, আর কিছু নয়।

মানববন্ধন শেষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ধানমণ্ডি ১৯ থেকে ১৫ নম্বর পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

জাবিতে মানববন্ধন : শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শনিবার বেলা ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে মানববন্ধন করা হয়।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, রুম্পাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। এ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ায় শাস্তির আওতায় আনারও দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের জাবি শাখার আহ্বায়ক শাকিল উজ্জামান বলেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও আমাদের দেশে এভাবে হত্যা হয়। বিচারহীনতার অপসংস্কৃতির কারণে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড হচ্ছে।

তাই আমাদের দাবি রুম্পাকে হত্যায় যারা জড়িত তাদের দ্রুততম সময়ে রাষ্ট্রীয় আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

রসায়ন বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইকবাল হোসাইন বলেন, আর কোনো রুম্পাকে যেন এভাবে মৃত্যুবরণ করতে না হয় এজন্য এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম সোহাগ।