সোনাঝরা রোদেলা দিনে সাত স্বর্ণজয় বাংলাদেশের

  ওমর ফারুক রুবেল, নেপাল থেকে ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: যুগান্তর

একদিনে সাত সোনা জয়। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন ইতিহাস। শুরুটা করেছেন তীরন্দাজরা। শেষটাও তারাই। একদিনে ছয় সোনা জিতে রোমান সানারা ইতিহাস গড়েছেন। ঋদ্ধ করেছেন নারী ক্রিকেটাররা।

রোববার পোখারায় সোনার ফসল ফলালেন লাল-সবুজের ক্রীড়াবিদরা। আটদিন শেষে গেমসে বাংলাদেশের মোট স্বর্ণপদক এখন ১৪টি।

কাঠামান্ডুতে পাঁচদিনে সাত স্বর্ণ জিতলেও মন ভরছিল না বাংলাদেশের। কিছু ইভেন্টে ভারত না থাকায় সোনার প্রত্যাশা ছিল আরও বেশি।

কিন্তু ভাগ্যদেবী অল্পসময়ে সেই আক্ষেপ দূর করে দেবেন, তা ভাবতে পারেননি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) কর্তারা। তারা ছুটে যান পোখারায়। হতাশ হননি। একদিনেই ভাগ্যদেবী দু’হাত ভরে দিলেন।

একদিনে কোনো আন্তর্জাতিক গেমসে বাংলাদেশের সাত স্বর্ণজয়ের রেকর্ড অতীতে নেই। ২০১০ ঢাকা এসএ গেমসে একদিনে পাঁচটি স্বর্ণপদক জিতেছিলেন লাল-সবুজের ক্রীড়াবিদরা।

এসএ গেমসের ইতিহাসে এবারই প্রথম সোনালি হাসি রোমান সানা ও মোহাম্মদ তামিমুলদের। অতীতে এই ডিসিপ্লিনে স্বর্ণ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। কাল সকালটা শুরু হয় সোনালি রোদ্দুরে। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের নতুন ইতিহাস গড়া দিয়ে। সকালে পোখারার রঙ্গশালায় পুরুষ দলগত রিকার্ভ ইভেন্টে রোমান সানা, তামিমুল ইসলাম ও হাকিম আহমেদ রুবেল স্বর্ণ জয়ের মধ্যদিয়ে ইতিহাসে নতুন যাত্রা শুরু করেন। এই সোনা জয়ের মধ্যদিয়ে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। ১৯৯৫ মাদ্রাজ সাফ গেমসে দেশের বাইরে সর্বোচ্চ সাতটি স্বর্ণপদক জিতেছিল বাংলাদেশ।

সকালে ছিল রিকার্ভ পুরুষ, নারী দলগত ও মিশ্র দলগত এবং বিকেলে কম্পাউন্ড পুরুষ, নারী দলগত ও মিশ্র দলগত- এই ছয় ইভেন্টের খেলা। সব ক’টিতেই লক্ষ্যভেদ করেছেন বাংলাদেশের তীরন্দাজরা।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় অ্যাথলেট হিসেবে সরাসরি অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা রোমান সানার হাত ধরে আসে দিনের প্রথম স্বর্ণপদক। সকালে রিকার্ভ দলগত ইভেন্টে তীর-ধনুক হাতে নিয়ে মাঠে নামেন রোমান, মোহাম্মদ তামিমুল ও হাকিম আহমেদ রুবেল। তারা ৫-৩ সেট পয়েন্টে হারান শ্রীলংকার রবিন কাভিশ, সজীব ডি সিলভা ও সান্দান কুমার হেরাথকে।

এরপরই রিকার্ভ নারী দলগত ইভেন্টের ফাইনালে বিউটি রায়, ইতি খাতুন ও মেহনাজ আক্তার মনিরা ৬-০ সেট পয়েন্টে ভুটানকে হারিয়ে দিনের দ্বিতীয় স্বর্ণ জেতেন। ইতি খাতুনকে নিয়ে রিকার্ভ মিশ্র দলগত ইভেন্টে ৬-২ সেট পয়েন্টে ভুটানকে হারিয়ে দেশকে আরেকটি স্বর্ণ এনে দেন রোমান সানা।

দুপুরের পর আসে কম্পাউন্ড ইভেন্ট থেকে আরও তিনটি সোনা। কম্পাউন্ড পুরুষ দলগত ইভেন্টের ফাইনালে সোহেল রানা, অসীম কুমার দাস ও মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান ২২৫-২১৪ স্কোরের ব্যবধানে ভুটানকে হারিয়ে স্বর্ণ জেতেন।

নারী দলগত ইভেন্টে সুস্মিতা বণিক, সুমা বিশ্বাস ও শ্যামলী রায় জুটি ২২৬-২১৫ স্কোরে শ্রীলংকাকে হারান। আর দিনের শেষ স্বর্ণটি আসে কম্পাউন্ড মিশ্র দলগত ইভেন্ট থেকে। সোহেল রানা ও সুস্মিতা বণিক জুটি ১৪৮-১৪০ স্কোরের ব্যবধানে নেপালের তীরন্দাজদেরকে হারিয়ে সোনালি হাসি হাসে।

একদিনে ছয় স্বর্ণ। যার মধ্যে রোমান সানা একাই জিতেছেন দুটি। ইনজুরির কারণে ২০১৬ এসএ গেমস খেলতে পারেননি। এবার হিমালয়ের দেশে ওড়াচ্ছেন লাল-সবুজ পতাকা। স্বপ্নপূরণের আনন্দে ভাসছেন বাংলাদেশ আনসারের তীরন্দাজ রোমান সানা। তার কথায়, ‘আসলে আমার স্বপ্ন ছিল ২০১৬ সালের এসএ গেমসে খেলার।

কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে চোটের কারণে আমি ওই আসরে খেলতে পারিনি। সেই কষ্ট লাঘব হল এবার। আমার প্রথমদিনটাই শুরু হয়েছে দলগত স্বর্ণ দিয়ে। এরপর রিকার্ভ মিশ্রতেও স্বর্ণ জিতেছি। দুটো স্বর্ণ জেতা হয়েছে।

আরেকটি বাকি ব্যক্তিগত ইভেন্টে, যা আগামীকাল (আজ) হবে। এটা আমার ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন।’ রোমান সানার মতো আনন্দে আত্মহারা তামিমুল ইসলাম ও হাকিম আহমেদ রুবেলও।

এদিকে আরচারির পাশাপাশি সোনালি দিন কাটিয়েছেন নারী ক্রিকেটাররাও। শ্রীলংকার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালে নাটকীয়ভাবে দুই রানে জিতে আরেক ইতিহাস তৈরি করেন সালমা খাতুন ও জাহানারা আলমরা।

দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিকখ্যাত এসএ গেমসে এবারই প্রথম মহিলা ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অভিষেক আসরেই বাংলাদেশের নাম প্রথম চ্যাম্পিয়ন হিসেবে থাকবে ইতিহাসে।

গেমস শেষ হতে বাকি আর দু’দিন। হাতছানি দিচ্ছে আরেকটি রেকর্ডের। দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্বর্ণপদক ১৮টি। ২০১০ ঢাকা এসএ গেমসে বাংলাদেশ এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিল। সেই রেকর্ড স্পর্শ করতে বাকি আর মাত্র চারটি স্বর্ণজয়ের।

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা ১৪ স্বর্ণ জয়ের পর খানিকটা নির্ভার, ‘আমরা এ রকম কিছুই প্রত্যাশা করেছিলাম। প্রত্যাশানুযায়ীই সব ঘটছে। আগে মন্তব্য করিনি যদি শেষ পর্যন্ত না হয়। এখনও আরচারি, বক্সিং, কুস্তি, পুরুষ ক্রিকেটের স্বর্ণের লড়াইয়ে রয়েছি আমরা। আশা করি, আরও কয়েকটি স্বর্ণ আসবে।’

আজ পোখারায় আরচারির ব্যক্তিগত চারটি ইভেন্টের স্বর্ণের লড়াই রয়েছে। কাঠমান্ডুতে পুরুষ ক্রিকেটের ফাইনাল। আজ দুই ইভেন্টের দিকেই নজর থাকছে বাংলাদেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত