জট কমাতে চট্টগ্রাম বন্দরের বাইরে হবে শুল্ক পরীক্ষা
jugantor
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত
জট কমাতে চট্টগ্রাম বন্দরের বাইরে হবে শুল্ক পরীক্ষা
স্থলবন্দরগুলোতে আমদানি পণ্যের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে * ভোমরা ও বুড়িমারী স্থলবন্দর অটোমেশনের উদ্যোগ

  কাজী জেবেল ও সাদ্দাম হোসেন ইমরান  

১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বন্দর। ফাইল ছবি

জট কমাতে চট্টগ্রাম বন্দরের বাইরে করা হবে আমদানি-রফতানি পণ্যের শুল্ক পরীক্ষা। বন্দরের ভেতরে জটিলতা কমাতে পণ্যবাহী কনটেইনারের কায়িক পরীক্ষা (ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন) ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।

এছাড়া চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে পড়ে থাকা গাড়ি দ্রুত অকশনে বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হবে। নৌমন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। 

সভায় দেশের স্থলবন্দরগুলোতে আমদানি পণ্যের তালিকায় নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া ভোমরা ও বুড়িমারী স্থলবন্দরকে অটোমেশনের উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

নভেম্বরের শেষে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এসব সিদ্ধান্তের কথা অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকেও জানিয়েছে। 

জানতে চাইলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুস সামাদ যুগান্তরকে বলেন, বন্দরসমূহকে ব্যবসাবান্ধব করতে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ থেকে পণ্যবাহী কনটেইনার নামানোর সময়ই কাস্টমস ইন্সপেকশন করে।

এতে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে সমস্যা হয়। আমরা রাজস্ব বোর্ড কর্তৃপক্ষকে বলেছি, অপারেটিং এরিয়ার বাইরে যেন ইন্সপেকশন করা হয়। সারা পৃথিবীতে এভাবেই শুল্ক পরীক্ষা হয়। এজন্য কিছু এলাকায় গোডাউন তৈরিসহ অবকাঠামো তৈরি করে দিচ্ছি।

এছাড়া আমাদের দেশে ১৫-২০ শতাংশ ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন করা হয়। আমরা তা কমিয়ে ৫ শতাংশে আনার বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি।  

প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কাস্টমস আধুনিকায়ন) খন্দকার আমিনুর রহমান বলেন, আমদানি-রফতানিকারকদের সুবিধার্থে আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি।

কাস্টমসের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে দেশের সব বন্দরে স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন করা হবে। তখন কনটেইনার কায়িক পরীক্ষা কমে ২ থেকে ৩ শতাংশ হবে। আমদানি পণ্য দ্রুত স্ক্যানিং হয়ে বের হয়ে যাবে।  

জানা গেছে, চট্টগ্রাম, মোংলা ও স্থলবন্দরগুলোর সমস্যা নিয়ে গত ৩১ অক্টোবর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে আন্তঃসভা হয়। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিভাগ এবং বন্দরগুলোর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভার কার্যবিবরণী নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সভায় কনটেইনার স্ক্যানিংয়ে অতিরিক্ত সময় লাগার প্রসঙ্গও ওঠে। সভায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে কনটেইনার প্রতি স্ক্যান করতে গড়ে ২-৩ মিনিট সময় নেয় কাস্টমস।

স্ক্যানিংয়ের পর গেট অতিক্রম করতে সর্বোচ্চ ৫-১০ মিনিট সময় লাগার কথা। কাস্টমসের বিভিন্ন শাখায় একই কনটেইনার বারবার ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন করায় সময়ের অপচয়, কর্মঘণ্টা নষ্ট ও প্রক্রিয়াকরণের ব্যয় বেড়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধি জানান, ১৪টি স্ক্যানারের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এগুলো চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বন্দরে স্থাপন করলে আমদানি-রফতানি পণ্য খালাসে গতি পাবে।

এমন সব আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমদানি-রফতানি পণ্য বন্দরের বাইরে নিয়ে শুল্ক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে (চবক) এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয়। 

সভায় এফসিএল (ফুল কনটেইনার লোড) কনটেইনার বন্দরের বাইরে ডেলিভারি দেয়ার পদক্ষেপ নিতে রাজস্ব বোর্ড ও চবককে দায়িত্ব দেয়া হয়। সভায় জানানো হয়, এফসিএল কনটেইনার বন্দরের ভেতরে খুলে ডেলিভারি দেয়া বন্ধ হলে একই জনবল ও যন্ত্রপাতি দিয়ে ৩০-৪০ শতাংশ বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে।

সভায় নৌসচিব বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের মতো পৃথিবীর কোনো দেশে এত বেশি মানুষ বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করে না। উন্নত বন্দরগুলোতে ৫ মিনিটের মধ্যে কনটেইনার বন্দর থেকে স্থানান্তর করা হয় এবং বন্দরের বাইরে ভেরিফিকেশন হয়। চট্টগ্রাম বন্দরেও এ প্রক্রিয়া চালুর অনুরোধ জানান তিনি। 

আরও জানা গেছে, বন্দরের ভেতরের জট ও চাপ কমাতে অফডকে আরও বেশি ধরনের পণ্য ডেলিভারির অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বর্তমানে ৩৭ ধরনের পণ্য অফডকে ডেলিভারি দেয়া হয়। তবে কত ধরনের পণ্য এ তালিকায় ঢুকবে তা নির্ধারণ করা হয়নি।

বিষয়টি রাজস্ব বোর্ডকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, বন্দরের ভেতরে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ কনটেইনার কায়িক পরীক্ষা করা হয়। এটি ৫ শতাংশে কমিয়ে আনার নির্দেশনা দেয়া হয়।

ঝুঁকিমুক্ত পণ্য আমদানিকারকের নিজস্ব প্রাঙ্গণে সরাসরি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম ও মোংলায় পড়ে থাকা গাড়ি ও অন্যান্য পণ্য দ্রুত নিলামের তাগিদও দেয়া হয়েছে। 

আমদানি পণ্যের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন আইটেম : বৈঠকে বলা হয়েছে, ভোমরা, নকুগাঁও, আখাউড়া, হিলি, সোনা মসজিদ স্থলবন্দরে যে অবকাঠামো গড়ে উঠেছে, সে অনুযায়ী পণ্যের আমদানির অনুমতি নেই।

এ কারণে বেনাপোল স্থলবন্দরের ওপর চাপ বাড়ছে। সভায় এসব বন্দরের আমদানি পণ্যের তালিকায় নতুন আইটেম অন্তর্ভুক্তিতে রাজস্ব বোর্ড ও স্থলবন্দরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

ওই সভায় জানানো হয়, বেনাপোল স্থলবন্দরে অটোমেশন শেষ হয়েছে। ভোমরা ও বুড়িমারী স্থলবন্দরের অটোমেশন কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

অটোমেশনের সুবিধা পেতে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমস কমিশনারের অফিসে অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রমের সমন্বয়ের নির্দেশনা দেয়া হয়। সভায় স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বেশ কয়েকটি সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, বেনাপোল বন্দর ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকলেও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ইমিগ্রেশন, ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট দফতর ২৪ ঘণ্টা খোলা না থাকায় বন্দর ব্যবহারকারীরা এর সুফল পান না।

সভায় সংশ্লিষ্ট অফিস ও প্রতিষ্ঠানকে খোলা রাখার ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তায় বিজিবির সহায়তা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।

 

আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত

জট কমাতে চট্টগ্রাম বন্দরের বাইরে হবে শুল্ক পরীক্ষা

স্থলবন্দরগুলোতে আমদানি পণ্যের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে * ভোমরা ও বুড়িমারী স্থলবন্দর অটোমেশনের উদ্যোগ
 কাজী জেবেল ও সাদ্দাম হোসেন ইমরান 
১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বন্দর। ফাইল ছবি

জট কমাতে চট্টগ্রাম বন্দরের বাইরে করা হবে আমদানি-রফতানি পণ্যের শুল্ক পরীক্ষা। বন্দরের ভেতরে জটিলতা কমাতে পণ্যবাহী কনটেইনারের কায়িক পরীক্ষা (ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন) ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।

এছাড়া চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে পড়ে থাকা গাড়ি দ্রুত অকশনে বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হবে। নৌমন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সভায় দেশের স্থলবন্দরগুলোতে আমদানি পণ্যের তালিকায় নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া ভোমরা ও বুড়িমারী স্থলবন্দরকে অটোমেশনের উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

নভেম্বরের শেষে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এসব সিদ্ধান্তের কথা অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকেও জানিয়েছে।

জানতে চাইলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুস সামাদ যুগান্তরকে বলেন, বন্দরসমূহকে ব্যবসাবান্ধব করতে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ থেকে পণ্যবাহী কনটেইনার নামানোর সময়ই কাস্টমস ইন্সপেকশন করে।

এতে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে সমস্যা হয়। আমরা রাজস্ব বোর্ড কর্তৃপক্ষকে বলেছি, অপারেটিং এরিয়ার বাইরে যেন ইন্সপেকশন করা হয়। সারা পৃথিবীতে এভাবেই শুল্ক পরীক্ষা হয়। এজন্য কিছু এলাকায় গোডাউন তৈরিসহ অবকাঠামো তৈরি করে দিচ্ছি।

এছাড়া আমাদের দেশে ১৫-২০ শতাংশ ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন করা হয়। আমরা তা কমিয়ে ৫ শতাংশে আনার বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি।

প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কাস্টমস আধুনিকায়ন) খন্দকার আমিনুর রহমান বলেন, আমদানি-রফতানিকারকদের সুবিধার্থে আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি।

কাস্টমসের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে দেশের সব বন্দরে স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন করা হবে। তখন কনটেইনার কায়িক পরীক্ষা কমে ২ থেকে ৩ শতাংশ হবে। আমদানি পণ্য দ্রুত স্ক্যানিং হয়ে বের হয়ে যাবে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম, মোংলা ও স্থলবন্দরগুলোর সমস্যা নিয়ে গত ৩১ অক্টোবর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে আন্তঃসভা হয়। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিভাগ এবং বন্দরগুলোর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভার কার্যবিবরণী নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সভায় কনটেইনার স্ক্যানিংয়ে অতিরিক্ত সময় লাগার প্রসঙ্গও ওঠে। সভায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে কনটেইনার প্রতি স্ক্যান করতে গড়ে ২-৩ মিনিট সময় নেয় কাস্টমস।

স্ক্যানিংয়ের পর গেট অতিক্রম করতে সর্বোচ্চ ৫-১০ মিনিট সময় লাগার কথা। কাস্টমসের বিভিন্ন শাখায় একই কনটেইনার বারবার ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন করায় সময়ের অপচয়, কর্মঘণ্টা নষ্ট ও প্রক্রিয়াকরণের ব্যয় বেড়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধি জানান, ১৪টি স্ক্যানারের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এগুলো চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বন্দরে স্থাপন করলে আমদানি-রফতানি পণ্য খালাসে গতি পাবে।

এমন সব আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমদানি-রফতানি পণ্য বন্দরের বাইরে নিয়ে শুল্ক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে (চবক) এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয়।

সভায় এফসিএল (ফুল কনটেইনার লোড) কনটেইনার বন্দরের বাইরে ডেলিভারি দেয়ার পদক্ষেপ নিতে রাজস্ব বোর্ড ও চবককে দায়িত্ব দেয়া হয়। সভায় জানানো হয়, এফসিএল কনটেইনার বন্দরের ভেতরে খুলে ডেলিভারি দেয়া বন্ধ হলে একই জনবল ও যন্ত্রপাতি দিয়ে ৩০-৪০ শতাংশ বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে।

সভায় নৌসচিব বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের মতো পৃথিবীর কোনো দেশে এত বেশি মানুষ বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করে না। উন্নত বন্দরগুলোতে ৫ মিনিটের মধ্যে কনটেইনার বন্দর থেকে স্থানান্তর করা হয় এবং বন্দরের বাইরে ভেরিফিকেশন হয়। চট্টগ্রাম বন্দরেও এ প্রক্রিয়া চালুর অনুরোধ জানান তিনি।

আরও জানা গেছে, বন্দরের ভেতরের জট ও চাপ কমাতে অফডকে আরও বেশি ধরনের পণ্য ডেলিভারির অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বর্তমানে ৩৭ ধরনের পণ্য অফডকে ডেলিভারি দেয়া হয়। তবে কত ধরনের পণ্য এ তালিকায় ঢুকবে তা নির্ধারণ করা হয়নি।

বিষয়টি রাজস্ব বোর্ডকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, বন্দরের ভেতরে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ কনটেইনার কায়িক পরীক্ষা করা হয়। এটি ৫ শতাংশে কমিয়ে আনার নির্দেশনা দেয়া হয়।

ঝুঁকিমুক্ত পণ্য আমদানিকারকের নিজস্ব প্রাঙ্গণে সরাসরি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম ও মোংলায় পড়ে থাকা গাড়ি ও অন্যান্য পণ্য দ্রুত নিলামের তাগিদও দেয়া হয়েছে।

আমদানি পণ্যের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন আইটেম : বৈঠকে বলা হয়েছে, ভোমরা, নকুগাঁও, আখাউড়া, হিলি, সোনা মসজিদ স্থলবন্দরে যে অবকাঠামো গড়ে উঠেছে, সে অনুযায়ী পণ্যের আমদানির অনুমতি নেই।

এ কারণে বেনাপোল স্থলবন্দরের ওপর চাপ বাড়ছে। সভায় এসব বন্দরের আমদানি পণ্যের তালিকায় নতুন আইটেম অন্তর্ভুক্তিতে রাজস্ব বোর্ড ও স্থলবন্দরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

ওই সভায় জানানো হয়, বেনাপোল স্থলবন্দরে অটোমেশন শেষ হয়েছে। ভোমরা ও বুড়িমারী স্থলবন্দরের অটোমেশন কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

অটোমেশনের সুবিধা পেতে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমস কমিশনারের অফিসে অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রমের সমন্বয়ের নির্দেশনা দেয়া হয়। সভায় স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বেশ কয়েকটি সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, বেনাপোল বন্দর ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকলেও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ইমিগ্রেশন, ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট দফতর ২৪ ঘণ্টা খোলা না থাকায় বন্দর ব্যবহারকারীরা এর সুফল পান না।

সভায় সংশ্লিষ্ট অফিস ও প্রতিষ্ঠানকে খোলা রাখার ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তায় বিজিবির সহায়তা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।