নীতিমালা কমিশন সভায় উঠছে আজ

প্রশিক্ষণ থেকে ১১ ধরনের ‘অপ্রয়োজনীয় পদ’ বাদ

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ভাতা ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা * সিইসি ও নির্বাচন কমিশনারদের প্রতি বক্তব্যে সম্মানী ৭৫০০ টাকা

  কাজী জেবেল ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রশিক্ষণ থেকে ১১ ধরনের ‘অপ্রয়োজনীয় পদ’ বাদ

জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা থেকে বাদ দেয়া হচ্ছে ১১ ধরনের ‘অপ্রয়োজনীয় পদ’। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভাসহ ছোটখাটো নির্বাচনের প্রশিক্ষণে ‘কোর্স উপদেষ্টা’ রাখা হবে না।

একজন কর্মকর্তা একই সময়ে একাধিক প্রশিক্ষণ কোর্সের পরিচালকও হতে পারবেন না। প্রশিক্ষণের নামে টাকা নয়ছয় বন্ধে এসব করা হচ্ছে। বিধানগুলো যুক্ত করে ‘নির্বাচনী প্রশিক্ষণ বাজেটের প্রমিতকরণ সংক্রান্ত নীতিমালা’র খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এটা অনুমোদনের জন্য আজ কমিশন সভায় তোলা হচ্ছে। এ সভায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২, সংসদীয় সীমানা নির্ধারণ আইন, ২০১৯-এর খসড়া চূড়ান্ত করাসহ পাঁচটি এজেন্ডা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রসঙ্গত, প্রত্যেকটি নির্বাচনে বিভিন্ন পর্যায়ে এসব প্রশিক্ষণের আয়োজন করে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট (ইটিআই)।

জানা গেছে, খসড়া প্রশিক্ষণ নীতিমালায় প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের ভাতা ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের প্রতি বক্তব্যে সম্মানী ৭ হাজার ৫০০ টাকা বহাল রাখার কথা উল্লেখ রয়েছে। অন্যান্য কয়েকটি পদেও সম্মানী বাড়ানো হয়েছে।

ইসির ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, বিগত জাতীয় সংসদ, উপজেলা পরিষদসহ কয়েকটি নির্বাচনে প্রশিক্ষণের নামে কোটি কোটি টাকা নয়ছয় হয়েছে। ঢাকায় অবস্থান করেও জেলা-উপজেলায় প্রশিক্ষণের ‘কোর্স সমন্বয়কারী’, ‘কোর্স পরিচালক’, ‘কোর্স উপদেষ্টা’ এমন সব পদ ব্যবহার করে এর বিপরীতে এসব টাকা তুলে নেয়ার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

তারা বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনে দেখা গেছে, ইটিআই’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের পছন্দ অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কোর্স ও প্রশিক্ষক অনুমোদন নিত। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে এসব বন্ধ হবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, প্রশিক্ষণ নীতিমালা কমিশন সভায় আলোচনা হবে। এটি গোপনীয় বিষয়। সিদ্ধান্তের আগে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না। কমিশনের সিদ্ধান্ত পেলে এ বিষয়ে ব্রিফ দেয়া হবে।

জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয় ইসি। কমিশন সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি কমিটি সম্প্রতি নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে। এতে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনার নামে ১১ ধরনের পদকে অপ্রয়োজনীয় বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত কাজ থেকে পদগুলো বাদ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসবের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- আঞ্চলিক কোর্স পরিচালক, অতিরিক্ত আঞ্চলিক কোর্স পরিচালক, জেলা কোর্স পরিচালক, অতিরিক্ত জেলা কোর্স পরিচালক, রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহায়ক কর্মকর্তা, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিনিয়র/জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। এতদিন আঞ্চলিক কোর্স পরিচালক ৫ হাজার টাকা, অতিরিক্ত আঞ্চলিক কোর্স পরিচালক ৪ হাজার টাকা, জেলা কোর্স পরিচালক ৪ হাজার টাকা, অতিরিক্ত জেলা কোর্স পরিচালক ৩ হাজার টাকা হারে সম্মানী নিয়েছেন। একইভাবে অন্যরাও ভিন্ন হারে সম্মানী পেতেন। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এসব পদের বিপরীতে আর বরাদ্দ দেয়া হবে না। এছাড়া অতিগুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন এবং দীর্ঘ বা মধ্যমেয়াদি ছাড়া অন্য কোর্সগুলোতে উপদেষ্টা, মনিটরিং ও মূল্যায়ন কর্মকর্তার পদও রাখা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব পদের বিপরীতে সিনিয়র কর্মকর্তারা সম্মানী নিয়ে আসছেন।

আরও জানা গেছে, খসড়া নীতিমালায় শর্তসাপেক্ষে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনায় কোর্স উপদেষ্টা, কোর্স পরিচালক, কোর্স সমন্বয়ক, সহকারী কোর্স সমন্বয়ক ও কোর্স সহায়ক স্টাফ পদ রাখা হয়েছে। শর্তগুলোর মধ্যে একক ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার মতো ছোট নির্বাচনগুলোতে প্রশিক্ষণ কোর্স উপদেষ্টা থাকবে না। তবে জাতীয় সংসদ, সিটি কর্পোরেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনগুলোতে কমিশনের সচিব বা অতিরিক্ত সচিবকে কোর্স উপদেষ্টা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। কোর্স উপদেষ্টার দৈনিক সম্মানী ৮ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমানে এ সম্মানী ৭ হাজার ৫০০ টাকা। প্রশিক্ষণের ধরন অনুযায়ী কোন পর্যায়ের কর্মকর্তারা কোর্স পরিচালক হতে পারবেন তা নির্ধারণ করা হয়েছে নীতিমালায়। এতে শর্ত যুক্ত করে বলা হয়েছে, একই সময়ে একজন একাধিক কোর্সের পরিচালক হতে পারবেন না। কোনো কোর্সের পরিচালক অন্য কোনো কোর্সের সমন্বয়ক, সহকারী সমন্বয়ক অথবা সুপারভাইজিং প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। কোর্স পরিচালকের সম্মানী ৭ হাজার থেকে কমিয়ে ৬ হাজার টাকা ধরা হয়েছে।

বক্তা ও প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা : জানা গেছে, নতুন নীতিমালায় প্রশিক্ষণ কোর্সে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনারদের জন্য একই হারে সম্মানী ধরা হয়েছে। তারা প্রশিক্ষণ কোর্সে বক্তব্য দিলে দিনে ৭ হাজার ৫০০ টাকা হারে সম্মানী পাবেন। প্রশিক্ষণে অতিথি বক্তা দিনে ৭ হাজার টাকা, সুপারভাইজিং প্রশিক্ষক দিনে ৬ হাজার টাকা, প্রশিক্ষণ সহকারী প্রতি কোর্সের জন্য ১ হাজার টাকা হারে দিনে সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা এবং প্রশিক্ষকদের ভাতা সেশনপ্রতি ২ হাজার টাকা হারে দিনে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও জানা গেছে, কমিশনের ৫৩তম সভায় কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনারদের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ ভাতা বা সম্মানী নির্ধারণ করার নির্দেশনা দেয়া হয়। প্রশিক্ষণের নামে যাতে অনিয়ম না হয় তা লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে।

প্রশিক্ষণে চলতি অর্থবছরে ব্যয় বাড়বে ১৫ কোটি টাকা : জানা গেছে, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, কোর্স পরিচালকসহ কয়েকটি পদে সম্মানীর হার বাড়ানোর কারণে চলতি অর্থবছরে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের ব্যয় বাড়বে ১৫ কোটি ২০ লাখ ৮২ হাজার ১০০ টাকা। সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হবে।

এছাড়া জাতীয় সংসদের কয়েকটি উপনির্বাচন, পৌরসভা নির্বাচন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, ই-ফাইলিংসহ ২২ ধরনের প্রশিক্ষণের প্রস্তাব ধরা রয়েছে। বিদ্যমান হার অনুযায়ী, এসব প্রশিক্ষণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭ কোটি ৬৫ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৫২ কোটি ৮৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×