গাজীপুরে ফ্যান কারখানায় আগুনে ১০ জনের মৃত্যু

  গাজীপুর প্রতিনিধি ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুরে লাক্সারি ফ্যান কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে লাশের সারি। ছবি: যুগান্তর

গাজীপুরে লাক্সারি ফ্যান কারখানায় ভয়াবহ আগুনে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়নের কেশরিতা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ২ ঘণ্টার চেষ্টায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ভেতর থেকে ১০ জনের লাশ উদ্ধার করে। তাৎক্ষণিকভাবে মৃত চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মারতা এলাকার রাশেদ (২৫), মো. শামীম (২৬), কারখানা এলাকার উত্তম (২৫) ও রংপুরের ফরিদুল ইসলাম (১৮)।

জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ জানান, সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে আগুনের সূত্রপাত। স্টেশনের চারটি ইউনিটের কর্মীরা সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভাতে সক্ষম হন।

পরে ভবনের তৃতীয় তলা থেকে ১০ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, প্রথমে তৃতীয় তলায় একটি দরজার কাছে আগুনের সূত্রপাত হলে শ্রমিকরা আত্মরক্ষায় ভেতরের দিকে চলে যান।

মুহূর্তেই আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তারা আটকা পড়েন। ওখানে তখন ১৯ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। প্রাথমিক আলামত দেখে মনে হচ্ছে ১০ জনই ধোঁয়ায় দমবন্ধ ও অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

জেলা পুলিশ সুপার শামসুন নাহার বলেন, ওই কারখানার দরজা-জানালাগুলো ছিল অত্যন্ত সরু। ফলে আগুন লাগার পর অনেকেই ভেতরে আটকা পড়েন। কারখানাটিতে অব্যবস্থাপনা ও কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছিল; যার কারণে এত শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয় ভূষণ দাস জানান, কেশরিতা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (২০) ও জামুনা এলাকার আবদুল মোতালেবের ছেলে মো. হাসান (১৯) দগ্ধ অবস্থায় ভর্তি আছেন।

স্থানীয়রা জানান, ২০১৬ সালে বাসার একটি ফ্ল্যাটে কারখানাটি গড়ে ওঠে। দোতলা ভবনের ছাদে একটি টিনের ঘর রয়েছে। ওই ঘরে কারখানার আর্মেচার সেকশন। সন্ধ্যার পর ওই সেকশন থেকে আগুনের সূত্রপাত।

সেকশনটির শ্রমিক ফয়সাল জানান, কারখানায় ৮০ জনের মতো শ্রমিক ছিলেন। এদের মধ্যে আগুন লাগার সেকশনে ছিলেন ১৯ জন।

লাক্সারি ফ্যান কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাহিদ হাসান ঢালী বলেন, সরকারি বিধি মোতাবেক নিহত সব শ্রমিকের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। তারা কারখানা থেকে যে বেতন, ভাতা ও ঈদ বোনাস পেতেন তাদের পোষ্যদের আজীবন সেসব সুবিধাদি দেয়া হবে।

তদন্ত কমিটি : ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শাহিনুর ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেকের লাশ দাফন ও পরিবহনের জন্য প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে দেয়া হবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত