চাটমোহর ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ মিজানের এত ক্ষমতা

স্বপদে বহাল রেখে তদন্ত অসম্ভব তাকে বরখাস্ত করা প্রয়োজন-তদন্ত কমিটি

  নেসারুল হক খোকন ২০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাবনা চাটমোহর ডিগ্রি কলেজ: অধ্যক্ষ মিজানের এত ক্ষমতা

পাবনার চাটমোহর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানকে স্বপদে বহাল রেখে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির তদন্ত করা অসম্ভব। এ কারণে তাকে অনতিবিলম্বে বরখাস্ত করা প্রয়োজন।

তদন্ত কমিটির এমন মতামত উল্লেখ করে মাউশির ডিজি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসাইনকে চিঠি দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসাইন বৃহস্পতিবার রাতে টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, মাউশির মহাপরিচালকের পাঠানো চিঠি এখন আমার হাতে পৌঁছায়নি। চিঠি পেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

১৮ ডিসেম্বর দেয়া এই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে গত ২৫ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে মাউশি। তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, বৈধ নিয়োগকৃত শিক্ষকদের বাদ দিয়ে বিপুল অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে নিয়োগকৃত শিক্ষকদের আত্তীকরণের অপচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় নিয়ম (তথ্যছক) অনুসরণও করা হয়নি। শিক্ষক-কর্মচারীদের মানবিক স্বার্থ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় তথ্যছক ও ফাইলপত্র মাউশিতে পাঠানোর নির্দিষ্ট সময় ছিল। কিন্তু অধ্যক্ষ হীনস্বার্থে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাসময়ে মাউশিতে পাঠাননি। অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগ তদন্তে ৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করা হয়। কমিটিকে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- মাউশি রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. কামাল হোসেন, মাউশি (কলেজ-১) উপ-পরিচালক ড. শাহ মো. আমীর আলী, মাউশি (কলেজ-৪) সহকারী পরিচালক মীর রাহাত মাসুম, মাউশি (এইসআরএম) সহকারী পরিচালক মো. আশেকুল হক ও মাউশি রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী পরিচালক ড. আবু রেজা আজাদ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত কমিটি মতামতসহ প্রতিবেদন মাউশিতে পাঠিয়েছে।

রিপোর্টে তদন্ত কমিটির মতামতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানকে স্বপদে বহাল রেখে তদন্ত কাজ করা অসম্ভব। এমনকি কলেজটির সরকারিকরণের অবশিষ্ট কাজ করাও সম্ভব নয়। এ বিষয়ে তিনি (অধ্যক্ষ) তথ্য বিকৃত করতে পারেন এমন শঙ্কা রয়েছে। অধ্যক্ষ তদন্ত কাজে অসহযোগিতা করেন। তিনি তথ্য-প্রমাণ দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং সার্বিকভাবে তদন্ত কাজ স্থগিত করার উদ্যোগ নেন। এসব শুধু অসদাচরণ নয় সরকারি কাজে সরাসরি বাধা তথ্য অধিকার আইনেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এজন্য অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানকে অনতিবিলম্বে বরখাস্ত করা প্রয়োজন।

এদিকে চাটমোহর কলেজের শতবর্ষী গাছ কাটার অভিযোগে পাবনা বিচারিক আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। একই কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আবদুল মান্নান মামলাটি করেন। মোট ২০টি গাছ কেটে অধ্যক্ষ ঈশ্বরদীর নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। ওই মামলার শুনানি শেষে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। কিন্তু স্থানীয় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি। পরোয়ানা মাথায় নিয়েই তিনি রীতিমতো কলেজ করেন। কয়েক দিন আগে উচ্চ আদালত থেকে জামিনও নিয়েছেন। তার অধ্যক্ষ পদের যোগ্যতা নিয়েও আদালতে মামলা হয়েছে। একই কলেজের প্রভাষক সরোয়ার হক এই মামলাটি করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর ‘টাকার মেশিন’ অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপরই মূলত তার বিরুদ্ধে তদন্তে নামে মাউশির কর্মকর্তারা। দুর্নীতি দমন কমিশনও আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×