প্রশ্নফাঁস ও ভর্তি জালিয়াতি

ঢাবির ৬৭ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত

১৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার * ৩১ শিক্ষার্থীকে একাডেমিক সাজা

  ঢাবি প্রতিনিধি ১৫ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাবির ৬৭ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৭ শিক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অস্ত্র, মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় তাদের বিষয়ে এ সিদ্ধান্ত হয়।

এদের মধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতির জন্য ৬৩ এবং অস্ত্র, মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দায়ে ৪ জনকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। ছিনতাইয়ের অভিযোগে ১৩ জনকে সাময়িক এবং ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় দু’জনকে ছয় মাস করে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।

মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের (ডিবি) এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। সাধারণত শৃঙ্খলা বোর্ডের সিদ্ধান্তই সিন্ডিকেট অনুমোদন দিয়ে থাকে।

এ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাময়িক বহিষ্কৃত ১৩ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হবে। এরপর তাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সিন্ডিকেট।

এর বাইরে ডিবি (ডিসিপ্লিনারি বোর্ড) উপকমিটির সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় বিভিন্ন সময়ে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ৩১ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে একাডেমিক সাজা দেয়া হয়েছে।

বহিষ্কারের তথ্য নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘জালিয়াতদের আমরা ছাড় দেব না। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদার প্রশ্ন।

কিছুদিন আগে অস্ত্র ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের চার শিক্ষার্থীকে হল প্রশাসন আজীবন বহিষ্কার করে এবং অধিকতর শাস্তির সুপারিশ করে ডিবিতে পাঠায়। তাদের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হওয়ায় আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বছরের ২৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৭ শিক্ষার্থীসহ ১২৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন এবং পাবলিক পরীক্ষা আইনে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

ওই ৮৭ জনের মধ্যে ১৫ জনকে আগেই আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। জালিয়াতির ঘটনায় এ নিয়ে ৭৮ জন শিক্ষার্থী আজীবন বহিষ্কৃত হল।

প্রক্টর গোলাম রব্বানী বলেন, গত বছরের অক্টোবরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দু’জন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক মারধরের শিকার হয়েছিলেন বলে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছিলাম। ওই ঘটনায় দু’জনকে ছয় মাস করে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গত বছরের ৮ অক্টোবর রাতে মহসীন হলের ১২১ নম্বর কক্ষ থেকে পিস্তল, বঁটি, সিসি ক্যামেরা, হাতুড়ি, লাঠিসহ আটক করা হয় দুই ছাত্রলীগ নেতাকে। অন্য দুই নেতা ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতারা হলেন- শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী কমিটির ক্রীড়াবিষয়ক উপসম্পাদক হাসিবুর রহমান তুষার, দর্শন বিভাগের ১ম বর্ষের (২০১৫-১৬) ছাত্র ও ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী অর্থবিষয়ক উপসম্পাদক আবু বকর আলিফ, পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও হল শাখা ছাত্রলীগের ধর্মবিষয়ক উপসম্পাদক মো. ইফতেখার ইসলাম তুষার এবং বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র ও হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক ইমরান হোসেন (ইমরান ফরহাদ ইমু)।

প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, এটা একটা যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। যা এর আগে কেউ করতে পারেনি। এখানে যাদের বহিষ্কার করা হচ্ছে তারা বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ মেধাবী শিক্ষার্থী। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অপরাধীর স্থান হতে পারে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×