ঢাকা দুই সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীর প্রচার

ইভিএমে ভোটারের আস্থা: তাপস, তরুণরাও পারে: ইশরাক

  যুগান্তর রিপোর্ট ২১ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গণসংযোগ। ছবি: যুগান্তর

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা রাজধানীর অলিগলি চষে বেড়ান। সোমবার গণসংযোগে নগরবাসীর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি প্রার্থীরা অভিযোগ-পাল্টাঅভিযোগও করেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, এখন নতুন করে ইভিএমের ব্যাপারে তারা (বিএনপি) কথা বলছে।

আমি তো ঢাকার জনগণের মধ্যে এ ব্যাপারে কোনো শঙ্কা লক্ষ করিনি। বরং আমি মনে করি, আধুনিক প্রযুক্তি সবাই সাদরে গ্রহণ করেছে। ইভিএমের ওপরই তাদের আস্থা। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে ঢাকাবাসী তাদের সেবক নির্বাচিত করবে।

অপরদিকে ঢাকা দক্ষিণে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন তরুণ সমাজকে উদ্দেশে বলেছেন, আমার সঙ্গে থাকুন; ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিন। আমরা দেখিয়ে দেব, তরুণরাও পারে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে ছাত্রসমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। তরুণ ভাই তাদের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল স্বাধীনতা অর্জনের জন্য।

তাই যারা তরুণদের বয়স নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে আমরা তাদের দেখিয়ে দিতে চাই, আমরা তরুণরাও নেতৃত্ব দিতে পারি। তাপসের প্রচার : আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে খিলগাঁও রেলগেট এলাকা থেকে দিনের প্রচার শুরু করেন।

এ সময় তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচন ঢাকাবাসীর উন্নয়ন, সেবা ও কষ্ট লাঘব কিংবা ঢাকাবাসীকে উন্নত ঢাকা উপহার দেয়ার জন্য নয়। বরং তারা বারবার বলছেন- এটা তাদের আন্দোলনের একটি অংশ এবং তাদের নেত্রীকে (খালেদা জিয়া) মুক্ত করার আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা নির্বাচনকে দেখছেন। আমি মনে করি না, এটা ঢাকাবাসী গ্রহণ করবে।

দু-একদিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হবে জানিয়ে তাপস বলেন, আমরা একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নিয়ে নির্বাচন করছি। এখন পর্যন্ত আমাদের আংশিক ইশতেহার ঢাকাবাসী সাদরে গ্রহণ করেছে এবং আমাদের প্রচারণায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছে।

ঢাকাবাসী সব সুযোগ-সুবিধা ও সুখ-দুঃখ মাথায় রেখে আমরা ইশতেহার করেছি যা একটি সচল ও পরিবেশবান্ধব ঢাকা বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ইশতেহার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, নির্দিষ্ট রূপরেখার আওতায় উন্নত ঢাকা গড়ার বিস্তারিত পরিকল্পনা আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রকাশ করব।

ঢাকায় বায়ুদূষণ রোধে কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না- এমন প্রশ্নে সাংবাদিকদের নৌকার প্রার্থী বলেন, অবশ্যই পরিকল্পনা রয়েছে। সুন্দর ঢাকার যে রূপরেখা আমরা দিয়েছি সেখানে আবারও সবুজ-শ্যামল ঢাকা হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমরা এখন বায়ুদূষণে আক্রান্ত, সুন্দর ঢাকা করার মাধ্যমে আমরা সব দূষণ রোধ করব।

পর্যায়ক্রমে আমরা তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেব। এর আগে পুনর্বাসনের কথা বলা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তা নির্ধারণ করে একটি তথ্যভাণ্ডার সৃষ্টি করব। সেই তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে যারা রাস্তায় ব্যবসা করেন তাদের একদিকে পুনর্বাসিত করব এবং পর্যায়ক্রমে ফুটপাত দখলমুক্ত করব।

বিএনপির পক্ষে বারবার আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ নির্বাচনী প্রচারণা যতদিন চলবে ততদিন থাকবে। এটা একটি তাদের (বিএনপি) রাজনৈতিক কৌশল। আমি আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো নিদর্শন দেখছি না।

এটা নিছক অভিযোগ করতে হয় বলে তারা করছে। হকারমুক্ত ঢাকার বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ তাপস বলেন, পর্যায়ক্রমে একটি মহাপরিকল্পনার আওতায় আমাদের ঢাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সচল হিসেবে গড়ে তুলব। সেটা রাস্তা বা ফুটপাত হোক, অবমুক্ত করার ব্যবস্থা নেব। তবে এটা হবে পর্যায়ক্রমে। কারণ, আমাদের যারা ফুটপাতে হকারের ব্যবসা করে, তারা আসলে শোষিত।

তাদের শোষণ করা হয় বিভিন্ন মিটিংম্যানের আওতায়। আমরা তাদের জন্য কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করব। এর আগে হকারদের জন্য পুনর্বাসনের কথা বললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তা নির্ধারণ করে তথ্যভাণ্ডার তৈরি করে পর্যায়ক্রমে হকারদের পুনর্বাসন করব।

দুপুর ২টা থেকে খিলগাঁও এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর তিনি খিলগাঁও শাহজাহানপুরের আশপাশের এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী গণসংযোগ করেন।

ইশরাক হোসেনের প্রচার : ঢাকা দক্ষিণে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন সোমবার সকালে সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘বয়স’ নিয়ে সরকারদলীয় প্রার্থীসহ দলটির নেতারা নানা কথা বলছে। কিন্তু অতীতে বাংলাদেশের সব অর্জনে সামনের কাতারে ছিল তরুণরা। তাই আমি প্রমাণ করতে চাই- তরুণরা নেতৃত্ব দিতে পারে।

এরপর দিনভর ইশরাক শাহবাগ, রমনা, শাহজাহানপুর, পল্টন, মতিঝিল থানাধীন সেগুনবাগিচা, বেইলি রোড, সিদ্ধেশ্বরী, মৌচাক, পশ্চিম মালিবাগ, গুলবাগ, শান্তিনগর, পল্টন, টিএনটি কলোনি, এজিবি কলোনিসহ বিভিন্ন জায়গায় গণসংযোগ করেন।

তার সঙ্গে থাকা বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, মাগো তোমার একটি ভোটে, খালেদা জিয়া মুক্তি পাবে’- স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন পুরো এলাকা। এ সময় ইশরাক জনসাধারণের মধ্যে লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি ধানের শীষে ভোট চান।

ইশরাক বলেন, ঢাকা শহরকে একটি অবাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করা হয়েছে।

এই সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেও এর পরিবর্তন করতে পারেনি। তাই মানুষ পরিবর্তন চায়। আগামী পহেলা ফেব্রুয়ারি ভোট প্রদানের মাধ্যমে আপনারাই পারেন সেই পরিবর্তন আনতে।

তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে আমি এই ঢাকা শহরকে সুন্দর একটি বাসযোগ্য শহরে পরিণত করব। পাশাপাশি জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে প্রাণপণ কাজ করে যাব। দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচন কেমন হয় তা সবাই দেখেছে। তাই ভোটারদের ভোট দেয়া নিশ্চিত করাই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।

গণসংযোগে ইশরাকের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, মীর শরাফত আলী সপু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কাজী আবুল বাশার, যুবদলের সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, রফিকুল আলম মজনু, গোলাম মাওলা শাহিন, শ্রমিক দলের মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন সফল মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সুযোগ্য সন্তান। আমি নিজে ঢাকার মেয়র ছিলাম, সাদেক হোসেন খোকাও ঢাকার মেয়র ছিলেন। তখন ঢাকার এই পরিণতি ছিল না।

ঢাকা একটি গোছালো শহর ছিল। তিনি নগরবাসীকে উদ্দেশ করে বলেন, ইশরাক একজন যোগ্য প্রার্থী। আপনারা তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করুন। সিটি কর্পোরেশন পরিচালনায় আমার ও সাদেক হোসেন খোকার যে অভিজ্ঞতা, তা সমন্বয় করে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন একটি সুন্দর বাসযোগ্য ঢাকা শহর গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।

ইভিএম ব্যবস্থা মানি না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ?তারপরও যদি সুষ্ঠু ও সঠিক ফলাফল আসে তাহলে আমরা নির্বাচন মেনে নেব। যদি কারচুপির আশ্রয় নেন তাহলে এই মেয়র নির্বাচন থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে।

মির্জা আব্বাস বলেন, পত্রিকায় দেখলাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন- বিএনপির টার্গেট এ নির্বাচনকে বিতর্কিত করার। আমি বলতে চাই, বিএনপির টার্গেট নির্বাচনে জয়ী হওয়া, নির্বাচনকে বিতর্কিত করা নয়।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ৭০নং ওয়ার্ডের ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারের হোসেন মার্কেটের সামনে থেকে প্রচার শুরু করবেন ইশরাক। দুপুর ২টায় ডেমরার বিভিন্ন জায়গায় ধানের শীষের প্রচারে অংশ নেবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন-২০২০

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত