বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থীর প্রতিশ্রুতি, চাঁদাবাজি-মাদক ব্যবসা বন্ধ করা হবে

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচন: নির্বাচনী মাঠে আর কোনো অঘটন ঘটুক চাই না : তাবিথ * বাবার পথ ধরেই এগোতে চাই : ইশরাক

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তাবিথ

নির্বাচনে জয়ী হলে চাঁদাবাজি-মাদক ব্যবসা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। এছাড়া বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করা হবে না জানিয়ে তাদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতিও দেন দুই প্রার্থী। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচন সামনে রেখে শনিবার ১৬তম দিনের প্রচারে অংশ নিয়ে তারা এসব প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের উদ্দেশে দুই মেয়র প্রার্থী বলেন, আপনারা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্বাচনী ফলাফল যা হবে আমরা তা মেনে নেব। কিন্তু কারচুপি হলে কোনোভাবেই সেটা মেনে নেব না।

বেলা ১১টায় মিরপুর ৬নং সেকশন কাঁচাবাজার এলাকা থেকে গণসংযোগ শুরু করেন ঢাকা উত্তরে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। এ সময় প্রতিপক্ষের শত বাধা সত্ত্বেও শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের মূল শক্তি জনগণ, তারা আমাদের সঙ্গে আছেন। আমরা নগরবাসীর ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। নির্বাচনী মাঠে আর কোনো অঘটন ঘটুক, তা চাই না। যত বাধা আসুক আমরা শৃঙ্খলা ভাঙব না।

ইভিএম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের জোর আপত্তি রয়েছে। ইসিকে অনুরোধ করছি, আমার যুক্তিগুলো আমলে নিয়ে ইভিএমে নির্বাচনের জন্য বন্ধ রাখুন। অন্তত এ নির্বাচনে ব্যালটে ভোট নিন। তাবিথ আউয়াল বলেন, মিরপুরে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা চলছে। আমরা বিজয়ী হলে এসব নির্মূলে কাজ করব। কাউকে অন্যায় করতে দেয়া হবে না। মিরপুর গার্মেন্ট শিল্প এলাকা। এখানে কর্মীদের নিরাপত্তা নেই। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করব। তিনি বলেন, বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করতে বারবার পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে বস্তিবাসীরা অনেক কষ্টে আছেন। আমরা নির্বাচিত হতে পারলে তাদের পুনর্বাসন করা হবে।

মিরপুর এলাকার ২, ৬ ও ১৫নং ওয়ার্ডে কয়েকটি নির্বাচনী পথসভায় অংশ নেন তাবিথ আউয়াল। প্রতিটি সভায় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। নেতাকর্মীরা ‘ধানের শীষ, ধানের শীষ’ স্লোগানে অলিগলি প্রকম্পিত করে তোলেন। মাইকিং করে স্থানীয়দের ভোট চাওয়া হয়। মেয়র প্রার্থী নিজে ধানের শীষের লিফলেট বিতরণ করেন। এলাকার মুরব্বিদের বুকে জড়িয়ে ধরেন। তাবিথ আউয়ালের জন্য দোয়া করতে দেখা যায় অনেককে।

পথসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক, ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মাহফুজ হোসাইন খান সুমন, ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন দুলু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির দফতর সম্পাদক এবিএম রাজ্জাক, যুবদল উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম মিল্টন প্রমুখ।

দুপুর ২টায় ইসিবি চত্বরে পথসভা ও গণসংযোগ করেন তাবিথ। এ সময় তিনি এলাকাবাসীকে নির্ভয়ে ভোট দেয়ার আহবান জানান। গণসংযোগে অংশ নিয়ে বিএনপি নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তার মুক্তির জন্য আমাদের ১ ফেব্রুয়ারি ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে। ভোট দিয়ে সরকারকে বার্তা দিতে হবে যে, ঢাকাবাসী খালেদা জিয়াকে মুক্ত দেখতে চায়।

এরপর তাবিথ আউয়াল ভাষানটেক পকেট গেট, ভাষানটেক কাঁচাবাজার, মানিকদি মাঠের মোড়, বালুরঘাট, আজিজ মার্কেট, হাজী মার্কেট ও আলাউদ্দিনটেকে পথসভা ও গণসংযোগ করেন। মিরপুর ১৪ নম্বর মোড়ে পথসভার মাধ্যমে দিনের গণসংযোগ শেষ হয়।

তাবিথ আউয়ালের মা নাসরিন ফাতেমা আউয়াল এদিন কাওলা ও দক্ষিণখান এলাকায় গণসংযোগ করেন। তিনি লিফলেট বিতরণ করে ভোট চান। তাবিথের পক্ষে আরও গণসংযোগ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিকাল ৩টার দিকে মালিবাগ আবুল হোটেলের সামনে থেকে তিনি গণসংযোগ শুরু করেন। এরপর মালিবাগ চৌধুরীপাড়া, মীরবাগ, মধুবাগ, হাতিরঝিলের পাশ হয়ে বড়মগবাজার রেলগেটের সামনে গিয়ে প্রচার শেষ করেন।

এদিকে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার না করার জন্য আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ কোন পরিবারের তা আমি বড় করে দেখতে চাই না। কে কোন পরিবারের, সেটা দেখার বিষয় নয়। আশা করি, নির্বাচনে কোনো প্রার্থী বা পরিবারের প্রভাব পড়বে না। কারণ দেশটা কারও পারিবারিক সম্পত্তি নয়। এটা কারও নিজের দেশ নয়। এটা আমাদেরও দেশ। এখানে কারও জমিদারি চলবে না। শনিবার দুপুরে গোপীবাগের নিজ বাসায় নির্বাচনী কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, আমি যতটুকু জানি উনি (তাপস) একজন সজ্জন ব্যক্তি। আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক এবং আমার প্রতিপক্ষ প্রার্থীর প্রতি আহ্বান থাকবে, নির্বাচনে কোনো প্রকার ইনফ্লুয়েন্স করবেন না। বিএনপির এই মেয়র প্রার্থী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যারা নিযুক্ত থাকবেন তারা সততার সঙ্গে এবং জনগণের সঙ্গে কাজ করবেন বলে আমি আশা করি। কারণ তাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে জনগণের প্রতি। তারা কোনো দলীয় ক্যাডার বাহিনী নয়। আমরা তাদের সহযোগিতা করব। আশা করছি সবার সার্বিক সহযোগিতায় একটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। প্রথম দিকে প্রচারে জনগণ আমাদের বলেছিল, আমরা কি ভোট দিতে পারব? তারা গত নির্বাচনের আলোকে তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলেছিল। কিন্তু এবার যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তারা নিজেরাই সংকল্পবদ্ধ হয়েছেন- এবার ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং ধানের শীষে ভোট দেবেন।

পরে বিকাল সাড়ে তিনটায় রায়সাহেব মোড় থেকে প্রচার শুরু করেন ইশরাক হোসেন। এ সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা গত ক’দিন ধরে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। নির্বাচনের আর হাতে রয়েছে সাত দিন। এই সাত দিন আমাদের জন্য চূড়ান্ত পরীক্ষা। গত ১৩ বছর ধরে আমরা যে ত্যাগ স্বীকার করে আসছি তার ফসল ঘরে তোলার সময় চলে এসেছে। আমরা মাঠে থাকব, ভোটকেন্দ্র পাহারা দেব। যাতে ভোটাররা সুষ্ঠুভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন এবং নির্বিঘ্নে ভোটদান সম্পন্ন করতে পারেন। ভোটারদের বাধাগ্রস্ত করে এমন কোনো আওয়ামী সন্ত্রাসীকে আমরা ছাড় দেব না।

ঢাকার উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, এ সরকার কথায়-কথায় উন্নয়নের বুলি আওড়াচ্ছে। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত সরকারের কাছ থেকে কোনো নির্দিষ্ট উন্নয়ন, নির্দিষ্ট কোনো সমস্যার সমাধান খুঁজে পাইনি। অন্যদিকে আমার বাবা সাদেক হোসেন খোকা মেয়র থাকা অবস্থায় বলতেন, ঢাকা শহরের জন্য ১০০ বছরের একটা পরিকল্পনা দরকার। আমি তার পথ ধরেই এগোতে চাই। ভবিষ্যৎ দেশকে একটা উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আর এটা বিএনপির নেতৃত্বেই সম্ভব। এ সময় ইশরাকের সঙ্গে ছিলেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জিলানীসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। পরে ৩২, ৩৫ ও ৩৬নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন ইশরাক। সন্ধ্যায় ২৭নং ওয়ার্ডের ঢাকেশ্বরী মন্দিরের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।

এছাড়া ইশরাকের পক্ষে দিনভর আরামবাগ, ফকিরাপুলসহ ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এ সময় তিনি লিফলেট বিতরণ করেন এবং ধানের শীষে ভোট চান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×