গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সামগ্রী নিয়ে আর্কাইভ হচ্ছে

  তরিক রহমান ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্ম সম্পর্কিত দুর্লভ ছবি, অডিও-ভিডিও, পাণ্ডুলিপি, দলিল, হাতে লেখা বা প্রিন্টেড ডকুমেন্টস কিংবা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিযুক্ত অন্য যে কোনো সামগ্রী আর্কাইভে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী বা মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে মুজিব শতবর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটি এ উদ্যোগ নিয়েছে।

এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মুজিব শতবর্ষ উদযাপনের প্রধান সমন্বয়ক, ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর সভাপতিত্বে একটি উপকমিটিও করা হয়েছে। উপকমিটির সদস্য সচিব নাসরীন জাহান লিপি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে জাতির পিতাকে নিয়ে খুব বেশি কাজ হয়নি। মুজিব শতবর্ষে যত কাজ হবে সেগুলোসহ আগের যাবতীয় সামগ্রী নিয়ে একটি সমৃদ্ধ আর্কাইভ করাই এই আয়োজনের লক্ষ্য। যেন শত বছর পরেও মানুষ জানতে পারে এই উদ্যোগের কথা।

কমিটির আহ্বায়ক এবং আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদফতরের মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ ভূইয়া গত বছরের ১৪ নভেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ টেলিভিশন, জাতীয় জাদুঘর, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউট, পিআইবি, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ, সব বেসরকারি টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ বরাবর একটি চিঠি দিয়েছেন, যাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, দফতর বা সংস্থায় সংরক্ষিত বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য, উপাত্ত বা রেকর্ডের কপি (হার্ড/সফট) প্রেরণের অনুরোধ করা হয়েছে।

এই ঐতিহাসিক আর্কাইভকে সমৃদ্ধ করতে কমিটির পক্ষে সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জাতীয় আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদফতরের মহাপরিচালক ও আর্কাইভ কমিটির আহ্বায়ক। এ প্রসঙ্গে যে কোনো তথ্য মোবাইল নং ০১৯১৩৩৮৪৮৯৫ বা [email protected] ইমেইল বরাবর পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

কমিটির প্রথম সভায় পিআইবির মহাপরিচালক মত দেন- আগামী ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন ও মুজিববর্ষের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে কিছু তথ্য এবং মুজিববর্ষের পর সব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর জনগণের কাছে অবমুক্ত করা যায়। দেশে-বিদেশে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রকাশিত বইগুলো মধ্যে মানসম্মত বই আর্কাইভে রাখা উচিত। ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা বঙ্গবন্ধুর নানা স্মৃতিচিহ্ন সংগ্রহে পত্রিকায় ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করার কথাও বলেন তিনি। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর শাসনকালের কাগজপত্র মোহাফেজখানা, তৎকালীন অবজারভার ভবন, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের গ্রন্থাগার নতুন ভবনে স্থানান্তরের সময় সেই সময়কার মূল্যবান প্রকাশনাগুলো যাতে হারিয়ে না যায় সেজন্য বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিযুক্ত যে কোনো তথ্য বা সামগ্রী দ্রুত সংগ্রহ করার অনুরোধও করেন তিনি। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গদ্য-পদ্য-গানসহ নাটক-যাত্রাপালা যা কিছু হয়েছে, তার সবই আর্কাইভের অংশ হিসেবে গণ্য করার ওপরও জোর দেন।

আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদফতরের সংরক্ষণে থাকা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রকাশিত ৪১০টি বইয়ের প্রচ্ছদের সফটকপি পেনড্রাইভের মাধ্যমে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটিকে প্রদান করবেন বলে জানান কমিটির আহবায়ক। এছাড়া আর্কাইভ আইন অনুযায়ী যে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান ২৫ বছর পর এবং ব্যক্তি পর্যায়ে ৩০ বছর পর আর্কাইভে রাখার উপযোগী জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বস্তু বা দলিলাদি আর্কাইভ ও গ্রন্থাগার অধিদফতরে প্রেরণের ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক জীনাত ইমতিয়াজ আলী বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম অনুযায়ী যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা, বঙ্গবন্ধুর নিজের লেখা ও তাকে নিয়ে লেখা সব প্রকাশনার ফটোকপি ও স্ক্যানকপি পিডিএফ ফরমেটে ইউনিকোডে ‘টেগোর ভেরিওরাম’-এর আদলে ‘বঙ্গবন্ধু ভেরিওরাম’ গড়ে তোলা যায় বলে মত দেন। জাতীয় জাদুঘরের প্রতিনিধি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কিত সংরক্ষিত আর্কাইভাল সামগ্রীর একটি তালিকা প্রেরণ করবেন বলে জানান।

সভার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে- বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্ম সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সরবরাহের বিষয়ে যাবতীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। পিআইবি নির্দিষ্ট সময়ের ভেতর জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির কার্যালয় এবং আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদফতরের সংগ্রহকে সমৃদ্ধ করতে কলকাতায় বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে কলকাতার আকাশবাণী রেডিও, দূরদর্শন টিভি, গ্রামোফোন কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করবে। একইভাবে বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকাসহ বিদেশি প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া থেকে মূল্যবান আর্কাইভস সামগ্রী সংগ্রহ করতে সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে পিআইবির তরফ থেকে যোগাযোগ করবে। কলকাতার গ্রামোফোন কোম্পানি, আকাশবাণী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি টিম পাঠানো হবে। একইসঙ্গে তথ্য মন্ত্রণালয়ও আকাশবাণী ও গ্রামোফোন কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করবে।

এছাড়া ব্যক্তির কাছ থেকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কিত মূল্যবান আর্কাইভস সামগ্রী সংগ্রহ করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সারসংক্ষেপ প্রেরণে ব্যবস্থা নেবেন আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদফতরের মহাপরিচালক ও কমিটির আহ্বায়ক ফরিদ আহমেদ ভূইয়া। আর্কাইভ স্থাপন সংক্রান্ত কমিটিতে বাংলাদেশ বেতারের প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলা হয় বৈঠকে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত