ভোটারদের প্রতি বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থীর আহ্বান

ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে আসুন

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচন

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে আসুন
গণসংযোগে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটির বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী। ছবি: যুগান্তর

হামলা-মামলা বা ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটারদের কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দুই সিটির বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা। তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিতে নানা অপচেষ্টা চলছে। কিন্তু এবার আমরা মাঠ ছাড়ব না। সত্য ও ন্যায়ের কথা বলতে গিয়ে গুলি খেতে হলে বুক পেতে দেব। তারপরও কোনো হুমকি-ধমকিতে আমরা পিছু হটব না। অধিকার আদায়ে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

রোববার গণসংযোগের ১৭তম দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রচারকালে উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও দক্ষিণের ইশরাক হোসেন এসব কথা বলেন।

বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনিতে গণসংযোগকালে এক পথসভায় তাবিথ আউয়াল বলেন, অতীতে অনেক নির্বাচনে কারচুপি, কেন্দ্র দখল ও কেন্দ্রে হামলার কারণে ভোটারদের উপস্থিতি কমেছে। সে জন্য আমরা ভোটারদের অভয় দেয়ার চেষ্টা করছি। আমরা বলেছি- আপনারা সবাই মিলে ভোট কেন্দ্রে যাবেন, নির্ভয়ে ভোট দেবেন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব পরিস্থিতি মোকাবেলা করে ১ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমেই আমরা জয় লাভ করব। ইশরাকের প্রচারণায় হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ধানের শীষকে ভয় পেয়েই এ হামলা। মতিঝিলে এক পথসভায় দক্ষিণের ইশরাক হোসেন বলেন, শুধু ঢাকা নয়, পুরো দেশে আজ ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। পহেলা ফেব্রুয়ারি সবাই নির্ভয়ে দলবেঁধে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। আমরা গণতন্ত্র ও নিজেদের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে রয়েছি। এ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে অবশ্যই মুক্ত করব। প্রয়োজনে রক্ত দেব, জীবন দেব, তবুও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব।

তাবিথ আউয়ালের প্রচার : রোববার সকালে কড়াইল বস্তির পাশে বেলতলা থেকে দিনের প্রচার শুরু করেন উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। এরপর বনানী টিঅ্যান্ডটি কলোনি ৫ নম্বর গেটে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় তাবিথ আউয়াল বলেন, ইতিমধ্যে আমরা যেসব ওয়ার্ডে গিয়েছি, সেখানে সমস্যাগুলোর কথা আমরা শুনেছি, তা সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছি। তিনি বলেন, আগে দায়িত্বপ্রাপ্তরা দায়িত্ব অবহেলার কারণে এক লাখের বেশি নগরবাসী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা পরিষ্কারভাবে বলছি, নির্বাচিত হলে ঢাকার যেসব সমস্যা আছে তা নিরসনে আমরা প্রথম দিন থেকেই শুরু করব। আমি মেয়র না হয়েও অতীতে বিভিন্ন সময় ঢাকার উন্নয়নে অবদান রেখেছি। নির্বাচিত হলে উন্নয়নে আরও বেশি অবদান রাখার সুযোগ হবে। কড়াইল বস্তিবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পুনর্বাসন ছাড়া কোনো বস্তিবাসীকে উচ্ছেদ করা হবে না।

গণসংযোগে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবীব, আতাউর রহমান ঢালী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার আবু আশফাক, আমিনুল হক, নিপুণ রায় চৌধুরী, সাইফুল আলম নিরব, এবিএম রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, শফিকুল ইসলাম মিল্টনসহ স্থানীয় কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

বনানী থেকে তাবিথ আউয়াল ২৮নং ওয়ার্ডের আগারগাঁও বিএনপি বাজার এলাকায়ও প্রচার চালান। এখানে এক পথসভায় তিনি গোপীবাগে ইশরাক হোসেনের মিছিলে হামলার নিন্দা ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানান। ইসির উদ্দেশে তিনি বলেন, ইশরাকের প্রচারণায় হামলা হয়েছে। এর আগে তার বাড়িতে হামলা করা হয়েছে। আমার গণসংযোগে হামলা হয়েছে। এসব হামলাকারীকে শাস্তির আওতায় আনুন। নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করুন।

তিনি আরও বলেন, প্রচারণার বাকি পাঁচ দিন এবং ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এদিনগুলোয় আমাদের সজাগ থাকতে হবে। সব ভয়ভীতি-বাধা উপেক্ষা করে সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে। আর ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। এ সময় রুহুল কবির রিজভী বলেন, ব্যালটের মাধ্যমে এ দানব সরকারকে জবাব দিতে হবে।

এরপর ৬০ ফুট হয়ে পশ্চিম আগারগাঁও, তালতলা স্টাফ কোয়ার্টার, তালতলা বাসস্ট্যান্ড, জনতা হাউজিং, বেগম রোকেয়া সরণি হয়ে মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের সামনে পথসভার মধ্য দিয়ে গণসংযোগ শেষ করেন। আজ সোমবার সকালে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার পর ৫২নং ওয়ার্ডের ধলীপাড়া বাউনিয়ায় পথসভার মাধ্যমে গণসংযোগ শুরু করবেন তাবিথ আউয়াল।

ইশরাকের প্রচার : গণসংযোগের সতেরোতম দিনে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকা থেকে প্রচার শুরু করেন দক্ষিণের বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন। এ সময় সেখানে এক পথসভায় তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলার কারণে গুলি খেতে হলে শাপলা চত্বরে বুক চিতিয়ে দেব। তবুও মানুষের অধিকার আদায়ের পথ থেকে সরে দাঁড়াব না। তিনি বলেন, গত ১৩ বছরে ক্ষমতাসীনরা দেশের অর্থনৈতিক খাতকে ধ্বংস করেছে। শেয়ার মার্কেট থেকে সাধারণ মানুষের হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেছে। মানুষ সর্বহারা হয়ে দিনের পর দিন আন্দোলন করছে এবং আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট থেকে সোনা চুরি করা হয়েছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। একটা দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সোনা চুরি হয়ে যায়, কত বড় দুর্নীতিবাজ, কত বড় ডাকাত হলে এটা সম্ভব! যারা সরকারি উচ্চপর্যায়ে রয়েছে তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় সরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, জনগণের আমানত লুট করা হয়েছে। এভাবে জনগণের কষ্টার্জিত টাকা লুট হয়ে যাচ্ছে আর তারপরও আমরা নিশ্চুপ। এই সরকারের সময় ঘনিয়ে এসেছে উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধার জাতি। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এই দেশের স্বাধীনতা অর্জন করা হয়েছিল। আমরা কোনো তাঁবেদারি মানব না, কারও জমিদারি মানব না। এই দেশটা কারও পারিবারিক সম্পত্তি না। রক্ত দিয়ে যে দেশ স্বাধীন করেছি, প্রয়োজনে আবার রক্ত দিয়ে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করব।

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, এসএম জিলানী, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসাইন, সালাহউদ্দিন সরকার, শেখ নুরুল্লাহ বাহার, মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী তার সঙ্গে ছিলেন।

এরপর ইশরাক আলিকো গেট, সোনালী ব্যাংকের গলি, সাধারণ বীমা, রূপালী ব্যাংক, বিসিআইসি, বিওডিসি, অগ্রণী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, শিল্প ভবন, কৃষি ব্যাংক, খাদ্য ভবন, পূর্বাণী হোটেল, বিজিএমসি, বিমান অফিস, জনতা ব্যাংকসহ মতিঝিলের বিভিন্ন অলিগলিতে গণসংযোগ করেন। এ সময় পথচারী, ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ধানের শীষে ভোট চান। দুপুর পর্যন্ত মতিঝিল এলাকায় গণসংযোগ করে গোপীবাগের বাসায় যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর তার বাসায় যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন ইশরাক। বৈঠক শেষে কাকরাইল চার্চে আর্য বিশপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইশরাক। সন্ধ্যায় গোপীবাগের বাসায় ঢাকাস্থ বরিশালবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×