কাঠমান্ডুর বিমান ট্র্যাজেডি

টাওয়ার-পাইলটের ভুল সংকেতেই দুর্ঘটনা

  মুজিব মাসুদ ১৪ মার্চ ২০১৮, ১৭:২৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

টাওয়ার-পাইলটের ভুল সংকেতেই দুর্ঘটনা

কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভয়াবহ বিমান ট্র্যাজেডির নেপথ্যে ছিল ফ্লাইট অবতরণের সংকেত নিয়ে টাওয়ার ও পাইলটের ভুল বোঝাবুঝি। ঘটনার আগ মুহূর্তে পাইলট বিমানটি অবতরণের অনুমতি চাইলে টাওয়ার থেকে বলা হয়েছিল জিরো টু (০২) অর্থাৎ রানওয়ের দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে অবতরণ করতে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী টাওয়ারের যে কোনো নির্দেশনা পাইলটকে তাৎক্ষণিকভাবে ‘রিড ব্যাক’ অর্থাৎ একই কথা পুনর্ব্যক্ত করতে হয় টাওয়ারকে। কিন্তু পাইলট ‘রিড ব্যাক’ করতে গিয়ে জিরো টু না বলে বলেছিলেন টু জিরো (২০)। অর্থাৎ রানওয়ের উত্তর প্রান্ত দিয়ে অবতরণ করছে তাৎক্ষণিকভাবে রিপ্লাই দেন পাইলট।

বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার ও পাইলটের তিন মিনিটের একটি অডিও ক্লিপসের কথোপকথন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পেয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এখন উড়োজাহাজের ‘ব্ল্যাক বক্স’ পরীক্ষা করে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হবে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ও নেপালের প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত দুটি তদন্ত কমিটি পৃথকভাবে কাজ শুরু করেছে।

এদিকে কাঠমান্ডুতে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০-এ। আহত হয়েছেন ২১ জন। এর মধ্যে ২৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহতদের মধ্যে রয়েছেন ১০ জন বাংলাদেশি। মঙ্গলবার উড়োজাহাজের পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান মারা গেছেন। দুর্ঘটনার পরপরই তিনি কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সোমবার নেপালের কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়। এদিন স্থানীয় সময় (নেপাল) দুপুর ২টা ২০ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এদিকে নেপালে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সে সময় দায়িত্বে থাকা ছয় কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে পাইলটের ‘রিড ব্যাক’-এর তথ্যটি ছিল পুরোপুরি ভুল। যা টাওয়ার ধরতে পারেনি। অপরদিকে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার সংশ্লিষ্টরা পাইলটের এই ভুল উত্তর সংশোধন না করে উল্টো বলেছিল ‘ওকে’ অর্থাৎ ঠিক আছে। ‘রানওয়ে জিরো টু ক্লিয়ার’।

একই সঙ্গে টাওয়ার থেকে ওই সময় আরও বলা হয়েছিল ‘টু জিরোয়’ না নামতে কারণ ওই সময় সেখানে অন্য একটি ফ্লাইট ছিল। এ অবস্থায় অবতরণের জন্য ফ্লাইটটিকে রানওয়ের উত্তর পাশের প্রায় কাছাকাছি নিয়ে আসেন পাইলট। ততক্ষণে টু জিরোয় অর্থাৎ রানওয়ের উত্তর প্রান্তেও একটি ফ্লাইট নামছিল। হঠাৎ ওই ফ্লাইটটি দেখে টাওয়ারে থাকা কর্মকর্তারা আঁতকে ওঠেন।

তখন তারা নিজদের ভুলও বুঝতে পারেন। ওই অবস্থায় তাৎক্ষণিক টাওয়ার থেকে ইংরেজি ভাষার পরিবর্তে নেপালি ভাষায় পাইলটকে টু জিরোয় (উত্তর প্রান্ত) অবতরণ না করার জন্য চিৎকার করে বলতে থাকেন। কিন্তু পাইলট ওই ভাষা বুঝতে না পারায় দ্বিতীয় দফা ইংরেজিতে টাওয়ার থেকে বলা হয় ‘নো নো, টু জিরোয়’ ফ্লাইট আছে। তোমরা জিরো টু (দক্ষিণ প্রান্তে)-তে চলে যাও।’

ততক্ষণে পাইলটের আর কিছুই করার ছিল না। ওই অবস্থায় পাইলট ফ্লাইট নিয়ে বাঁক খেয়ে উপরে উঠতে গেলেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। আর তখনই উড়োজাহাজটি ছিটকে পড়ে রানওয়ে সংলগ্ন একটি ফুটবল খেলার মাঠে। এরপরই উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, ত্রিভুবন বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের সঙ্গে বেতার যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইউএস-বাংলার সংকেত ছিল বাংলা স্টার (বিএস)-২১১। টাওয়ার থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সকে ডাকা হচ্ছিল বাংলা স্টার টু ওয়ান ওয়ান নামে।

কথোপকথনের প্রথমে টাওয়ার থেকে বলা হয়, ‘রানওয়ে জিরো টু ইজ ক্লিয়ার’। অর্থাৎ দক্ষিণ রানওয়েতে বিমানটি নামতে পারে। এর মধ্যেই জিরো টুতে আরেকটি উড়োজাহাজকে নামতে সংকেত দেয় টাওয়ার। এরপরের কথোপকথনগুলো ছিল আপনারা কি রানওয়ে টু জিরোর (উত্তর) দিকে যাচ্ছেন? উত্তরে পাইলট জানান, হ্যাঁ। এর মধ্যেই উত্তরের রানওয়েতে অন্য উড়োজাহাজটি নামার চূড়ান্ত সংকেত দেয় টাওয়ার। তখন ইউএস-বাংলার বিমানটিকে উত্তরের দিকে যেতে নিষেধ করে।

টাওয়ার থেকে বলা হয়, বাংলাস্টার টু ওয়ান ওয়ান আমি আবারও বলছি। রানওয়ে টু জিরোর (উত্তর) দিকে না যেতে। বর্তমান অবস্থা বজায় রাখুন। পাইলট তখন টাওয়ারকে জানান, আমরা ডান দিকে বৃত্তাকার পথে ঘুরে আসছি। ডানদিকে ঘুরে ডান পথে রানওয়ের জিরো টুর (দক্ষিণে) দিকে যাচ্ছি।

টাওয়ার থেকে তখন বলা হয় ঠিক আছে, খুব ভালো। কিন্তু ল্যান্ড করবেন না। রানওয়ে জিরো টুতে ট্রাফিক (ফ্লাইট) উড্ডয়নের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুত অবস্থায় আছে। বর্তমান অবস্থা বজায় রাখুন। কিছুক্ষণের মধ্যে ওই ফ্লাইটটি আকাশে উঠবে। তখন অবতরণের অনুমতি দেবে। এসব কথোপকথন ছিল ইংরেজিতে।

কিন্তু ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে, তখন তাদের ফ্লাইটটি অবতরণের জন্য প্রায় চূড়ান্ত অবস্থায় ছিল। পাইলট কেবিন ক্রুদের ল্যান্ডিং সংকেত দিয়ে সিটে বসার নির্দেশনাও দিয়ে দেন। এ সময় রানওয়ের দুই প্রান্তের কোনটিতে পাইলট নামতে চান সে বিষয়ে জানতে চায় টাওয়ার।

টাওয়ার থেকে বলা হয়, ‘বাংলাস্টার টু ওয়ান ওয়ান। রানওয়ের কোন প্রান্তে নামতে চান। জিরো টু অথবা টু জিরো।’ উত্তরে পাইলট বলেন, ‘আমরা টু জিরোয় (উত্তর রানওয়ে) নামতে চাই।’ কথোপকথনের ১ মিনিট ২২ সেকেন্ড পর টাওয়ার থেকে বলা হয় ‘ঠিক আছে’। রানওয়ে টু জিরো ক্লিয়ার। বাতাসের গতি তখন ঘণ্টায় ২৭০ ডিগ্রি ৬ নটিক্যাল মাইল। টাওয়ারের উত্তরে পাইলট বলেন, ‘জানলাম (কপিড)। ল্যান্ডিংয়ের জন্য ক্লিয়ার।’

ঠিক সে মুহূর্তে টাওয়ার থেকে বলা হয়, বাংলাস্টার আপনারা কি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন, নিশ্চিত করুন। পাইলট তখন জানান নেগেটিভ স্যার। টাওয়ার থেকে তখন বলা হয়, বাংলাস্টার টু ওয়ান ওয়ান ডানে ঘুরুন... এখনও রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন না?

পাইলট তখন বলেন, হ্যাঁ, পাচ্ছি... ল্যান্ডিংয়ের জন্য অনুমতি চাচ্ছি। (রিকোয়েস্টিং ক্লিয়ার টু ল্যান্ড স্যার। টাওয়ার থেকে তখন বলা হয়, হ্যাঁ, অনুমতি দেয়া হল।

কিন্তু উত্তর অংশে নামার অনুমতি পাওয়ার ঠিক এক মিনিটের মাথায়ই পাইলট আবার দক্ষিণ (জিরো টু) রানওয়েতে অবতরণ করতে যাচ্ছেন বলে জানান। টাওয়ারও অনুমোদন দেয়। এ সময়ই আবার পাইলট টাওয়ারকে জিজ্ঞেস করলেন, তাদের অবতরণের অনুমোদন দেয়া হয়েছে কিনা? জিরো টুতে অনুমোদন দেয়ার ঠিক ৫০ সেকেন্ড পরে টাওয়ার চিৎকার করে ডানদিকে ঘুরতে বলে। এর কিছুক্ষণ পরেই রানওয়ে বন্ধের ঘোষণা আসে।

অবতরণের আগে পাইলটের শেষ কথোপকথন ছিল বাংলাস্টার টু ওয়ান ওয়ান রানওয়ে জিরো টুতে (দক্ষিণ) ল্যান্ডিং করতে যাচ্ছি। (ল্যান্ডিং অন জিরো টু। বাংলাস্টার টু ওয়ান ওয়ান। স্যার আমরা কি নামতে পারি (...স্যার আর উই ক্লিয়ার টু ল্যান্ড?)

টাওয়ার থেকে তখন বলা হয় বাংলাস্টার টু ওয়ান ওয়ান আমি আবারও বলছি ঘুরুন। (বাংলাস্টার টু ওয়ান ওয়ান আই সে অ্যাগেইন, টার্ন...) এর মধ্যে কিছু গোলযোগের মতো শোনা যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যে টাওয়ার আবার সক্রিয় হয়ে রানওয়ে বন্ধের ঘোষণা দেয়। কিন্তু ততক্ষণে ফ্লাইটটি রানওয়ে ছুঁয়ে ফেলে। আর টাওয়ারের নির্দেশে ঘুরতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয় উড়োজাহাজটি।

সিভিল এভিয়েশনের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি প্রথমে জিরো টুর দিকে নামছিল। তখন টাওয়ার থেকে টু জিরোর দিকে যেতে বলা হয়। এত নিচে নেমে আসার পর উড়োজাহাজকে দিক পরিবর্তন করতে বলা ঠিক হয়নি।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, অবতরণের বিষয়ে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের ভুল সংকেতের কারণে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হতে পারে বলে সন্দেহ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষের। তবে ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী উড়োজাহাজটি অবতরণ করেনি। পাইলটের রিড ব্যাক ভুল ছিল।

এরই মধ্যে নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের সঙ্গে পাইলটদের কথোপকথনের একটি অডিও গত সোমবার ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়ে। সেই কথোপকথনে সংকেত নিয়ে ভুল- বোঝাবুঝির বিষয়টি স্পষ্ট বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ পাইলটরা।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ সাংবাদিকদের বলেন, নেপালের এটিসির (এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল) সঙ্গে পাইলটদের কথোপকথনের একটি রেকর্ড ইউটিউবে এসেছে। তাতে এটিসির পক্ষ থেকে পাইলটদের ভুল বার্তা দেয়ার বিষয়টি স্পষ্ট শোনা গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সন্দেহ করছি, আমাদের পাইলটদের ভুল বার্তা দেয়ার কারণে এই দুর্ঘটনাটি সম্ভবত ঘটেছে।’

ইমরান আসিফ বলেন, ওই ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন ছিলেন একজন অভিজ্ঞ পাইলট। তিনি পাইলটদের প্রশিক্ষকও ছিলেন।

তদন্ত শুরু করেছে নেপাল : ইউএস-বাংলার বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের সংগৃহীত ডেটা রেকর্ডার নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মহাব্যবস্থাপক এ তথ্য জানিয়েছেন। রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কানাডার বোমবারডিয়ার বলেছে, তারা তদন্তের কাজে নেপালে একটি দল পাঠাচ্ছে।

বিমানবন্দরের জেনারেল ম্যানেজার রাজকুমার ছেত্রি বলেন, ‘ধ্বংসাবশেষ থেকে ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (এফডিএম) উদ্ধার করা হয়েছে। তারা সেটি নিরাপদে রেখেছেন। ডেটা রেকর্ডার নিয়ে তদন্ত হলে এ নিয়ে পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে। এদিকে ইউএস-বাংলার এই উড়োজাহাজ ছিল বোমবারডিয়ার কিউ ৪০০ সিরিজের।

দ্রুত দেশে আসবে বিমানযাত্রীদের লাশ : ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সিইও আসিফ ইমরান যুগান্তরকে বলেন, নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানের নিহত যাত্রীদের লাশ দ্রুতই দেশে আনা হবে। এজন্য যে খরচ হবে তা তারা বহন করবে। আহতদের চিকিৎসা খরচও জোগাবে বিমান সংস্থাটি।

মঙ্গলবার ইউএস-বাংলার জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। এ সময় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

কামরুল বলেন, এ পর্যন্ত পাইলট আবিদসহ ৫০ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিহতদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনাসহ আহতদের সুস্থ করতে যে খরচ হবে তা ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ বহন করবে।

বিমান দুর্ঘটনায় কতজন নিহত হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সারা বিশ্বের বিভিন্ন মিডিয়াতে বিভিন্ন তথ্য দেয়া হচ্ছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি ৪৯ জনের মতো নিহত হয়েছে। তালিকা দেয়া হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কিছু জানাতে পারব না।

তবে আমাদের প্রতিনিধি দল সেখানে পৌঁছেছে। খুব দ্রুতই আপনাদেরকে জানাতে পারব। ছাড়া সবার আইডেন্টিটি কার্ড নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নেপালি ও বাংলাদেশিদের তালিকা বের করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। যার কারণে সময় লাগছে।

ঘটনার জন্য কাঠমান্ডুর এটিসি কন্ট্রোলকে দায়ী - এ দাবি করে কামরুল বলেন, পাইলটের সঙ্গে কাঠমান্ডুর এটিসি কন্ট্রোলের লাস্ট কথোপকথনে তাকে রানওয়ে সম্পর্কে ভুল তথ্য দেয়া হয়েছিল। যেটা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এসেছে। কারণ আমাদের উড়োজাহাজের কোনো সমস্যা ছিল না এবং আমাদের প্রধান বৈমানিক ৫ হাজার ঘণ্টার উপরে এভিয়েশনে ফ্লাই করেছেন এবং কাঠমান্ডু এয়ারপোর্টে শতাধিকবার তিনি ল্যান্ড করেছেন।

যার কারণে আমার কাছে মনে হয় না, ক্যাপ্টেনের কোনো ভুল-ভ্রান্তি ছিল। তিনি আরও বলেন, কাঠমান্ডু এয়ারপোর্টে ইউ-এস বাংলার ফ্লাইটসহ মোট ৭০টি এয়ারক্রাফট এক্সিডেন্টের ঘটনা ঘটেছে। এটা কাঠমান্ডুর নতুন ঘটনা না। সুতরাং তদন্তের পরেই আসলে বোঝা যাবে সমস্য কোথায়।

ইউএস-বাংলার জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, আমরা ইতিমধ্যে খবর পেয়েছি প্রধান পাইলট মৃত্যুবরণ করেছেন। নিহত সবার কলের জন্য শোক প্রকাশ করছি ও দেশবাসীর কাছে নিহতদের জন্য দোয়া চাচ্ছি।

ইউএস-বাংলার বিশেষ বিমানে স্বজনরা নেপালে : সোমবার বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের হতাহত বাংলাদেশি যাত্রীদের স্বজনদের নিয়ে ইউএস-বাংলার একটি বিশেষ উড়োজাহাজ নেপালে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে বাংলাদেশ থেকে এটি কাঠমান্ডু পৌঁছায়। বিশেষ এই উড়োজাহাজে যাত্রীদের ৪৬ জন আত্মীয় ছিলেন।

কামরুল ইসলাম বলেন, ‘নেপালে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে স্বজনেরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন। এরপর কারও পরিবারের একজন, কারও পরিবারের দুজনসহ মোট ৪৬ জনের একটি দলকে উড়োজাহাজে নেপালে পাঠানো হয়েছে।’

ত্রিভুবন নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ৬ কর্মকর্তা বদলি : নেপালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সে সময় দায়িত্বে থাকা ছয় কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

দেশটির ইংরেজি নিউজ পোর্টাল মাই রিপাবলিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনা প্রত্যক্ষ করার ধাক্কা ‘সামলে ওঠার সুযোগ দিতে’ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ ব্যবস্থা নিয়েছে। ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ মডেলের ওই উড়োজাহাজটি কেন দুর্ঘটনায় পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে পাইলটের শেষ মুহূর্তের কথোপকথনের একটি রেকর্ড প্রকাশ পেয়েছে, যাতে মনে হয় রানওয়েতে নামা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

ত্রিভুবন কর্তৃপক্ষ বলেছে, যে দিক দিয়ে বিমানটির রানওয়েতে নামার কথা ছিল, পাইলট নেমেছেন তার উল্টো দিক দিয়ে। অন্যদিকে ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ এ দুর্ঘটনার জন্য ত্রিভুবনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ এনেছে।

তবে নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের উপমহাপরিচালক রাজন পোখারেল বলেছেন, ওই অডিও রেকর্ডের সঙ্গে ছয় কর্মকর্তাকে বদলির কোনো সম্পর্ক নেই। তার ভাষায়, দুর্ভাগ্যজনক এমন দুর্ঘটনার পর মানসিক চাপ লাঘবের এটাই প্রচলিত নিয়ম। ‘তাদের সামনে বড় ধরনের একটি বিপর্যয় ঘটেছে। তাদের মনের ওপর এতে বড় ধরনের চাপ পড়েছে।

এ কারণে আমরা তাদের অন্য বিভাগে বদলি করেছি।’ ত্রিভুবন বিমানবন্দরের জেনারেল ম্যানেজার রাজ কুমার ছেত্রীর বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তদন্তকারীরা সোমবারই ধ্বংসস্তূপ থেকে ফ্লাইটের ডেটা রেকর্ডার উদ্ধার করেছেন। এ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে নেপাল সরকার।

দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাবেক মহাপরিচালক যজ্ঞ প্রসাদ গৌতমের নেতৃত্বে ওই কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ কমিটিতে বাংলাদেশের দুইজন বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করতে নেপালে অবস্থানরত সিভিল এভিয়েশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছে নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ মুহূর্তে নেপালে অবস্থান করছেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী এসএম শাহজাহান কামাল। তিনি সোমবার বিমানের একটি ফ্লাইটে নেপাল পৌঁছেছেন। এছাড়া সেখানে আছেন সিভিল এভিয়েশনের মেম্বার (অপারেশন) এয়ার কমডোর মোস্তাফিজুর রহমান, পরিচালক (ফ্লাইট সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশন) উইং কমান্ডার জিয়াউল কবির, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন ইকবাল করিমসহ সিভিল এভিয়েশনের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

ঘটনাপ্রবাহ : নেপালে ইউএস বাংলা বিধ্বস্ত

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.