মুক্তচিন্তায় অগ্রাধিকার : তাপস, ‘টেস্ট’ খেলতে চাই : আতিক

  যুগান্তর রিপোর্ট ৩০ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মেয়র নির্বাচিত হলে মুক্তচিন্তাকে সব সময় অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণের আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। অন্যদিকে ৯ মাস মেয়রের দায়িত্ব পালনকে কঠোর অনুশীলন হিসেবে উল্লেখ করে উত্তরের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম নির্বাচিত হয়ে আগামী পাঁচ বছর ‘টেস্ট’ খেলার সুযোগ চেয়েছেন।

বুধবার নগরীর বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের এ দুই মেয়র প্রার্থী এসব কথা বলেন।

দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ব্যারিস্টার তাপস। এ সময় তিনি বলেন, আমি যদি মেয়র নির্বাচিত হতে পারি, আপনাদের (সাংবাদিকদের) যে কোনো সমালোচনা, পরামর্শ, মতামত কোনোটাই অগ্রাহ্য করব না। প্রত্যেকটাতেই নজর দেব এবং কার্যক্রম গ্রহণ করব। কারণ আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের মতামত থেকে ঢাকাবাসীর আকাক্সক্ষা ও প্রত্যাশা অনুধাবন করতে পারব।

জাতীয় প্রেস ক্লাবকে আবেগের জায়গা হিসেবে উল্লেখ করে তাপস বলেন, আমার বাবা শেখ ফজলুল হক মনি বাংলার বাণী ও বাংলাদেশ টাইমসের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন। তিনি এই প্রেস ক্লাবেরও সদস্য ছিলেন। প্রেস ক্লাবের সঙ্গে আমার পরিবার ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই এখানে এসে আমি আবেগঘন পরিবেশ পেয়েছি। তিনি আরও বলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাব শুধু সাংবাদিকদের বসার স্থান নয়। এটা উত্তম চিন্তার জায়গা। জাতীয় প্রেস ক্লাব মুক্তচিন্তার ধারক ও বাহক।

সবার মতপ্রকাশের স্থান। নির্বাচিত হলে তিন বছরের মধ্যে ঢাকাকে পরিবর্তন সম্ভব বলে উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগের এই মেয়র প্রার্থী। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, সততা-নিষ্ঠা-একাগ্রতা নিয়ে যদি ২৪ ঘণ্টা কাজ করি, তাহলে অবশ্যই পরিবর্তন আনতে পারব। আর দায়িত্ব নেয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ঢাকার মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধান করব।

এজন্য নেয়া হবে একটি মহাপরিকল্পনা। তিনি বলেন, ঢাকাবাসীর চাহিদা বেশি নয়। চার-পাঁচটা মৌলিক সমস্যা সমাধান করলেই তারা সন্তুষ্ট থাকে। কিন্তু আমরা অবহেলায় অনেক সময় অতিবাহিত করে ফেলেছি। অনিশ্চয়তার কারণে সেগুলো করা হয়নি।

ব্যারিস্টার তাপস বলেন, এমন মহাপরিকল্পনা কিন্তু সিটি কর্পোরেশন আগে কখনও করেনি। স্থানীয় সরকার হিসেবে ঢাকাবাসীর সমস্যাগুলো সমাধান করার কথা সিটি কর্পোরেশনের। ঢাকাকে উন্নত করার ব্যাপারে ইতিমধ্যে আমরা নগর পরিকল্পনাবিদদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাপস আরও বলেন, ঢাকা শহরে আমরা যারা বসবাস করি, আমরা দেশের যে প্রান্ত থেকেই আসি না কেন, সবাই ঢাকাকে ভালোবাসি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকা অবস্থাতেই ঢাকাকে উন্নত করার এটা একটা সুযোগ, এরপর আর সুযোগ আসবে কি না, জানি না। তাই এখনই সুযোগ। আর এই সুযোগকে কাজে লাগাতেই আমি ঢাকা দক্ষিণে মেয়র প্রার্থী হয়েছি। বৈরী আবহাওয়া থাকলেও ১ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, এমন কোনো আন্দোলন-সংগ্রাম নেই, যেখানে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভূমিকা ছিল না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জাতীয় প্রেস ক্লাব তার ঐতিহ্য ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পূর্বসূরিরা আমাদের হাতে যে পতাকা তুলে দিয়ে গেছেন, সেই পতাকাকে সমুন্নত রাখার চেষ্টা আমরা সবাই করে যাচ্ছি।

এখানে সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবীরা আসেন। এমনকি সাধারণ নাগরিকরাও তাদের কথা বলার জন্য এখানে আসেন। দৈনিক যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, ফজলে নূর তাপস শুধু একজন প্রার্থীই নন, তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়া দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

তিনি সাংবাদিক পরিবারের একজন সদস্য। তার বাবা শুধু একজন সংগঠকই নন, তিনি একজন বড় মাপের রাজনীতিক ছিলেন। তাপসের চাচা শেখ সেলিম ও শেখ মারুফও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য ছিলেন। সাইফুল আলম আরও বলেন, তাপস তার নিজস্ব মেধা, বিদ্যা-বুদ্ধি যোগ্যতা ও পরিশ্রম দিয়ে আকাশের সমান উঁচুতে উঠেছেন।

ধানমণ্ডির মতো এলাকায় তিনি তিনবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই এলাকার অনেক উন্নতি সাধন করেছেন। তিনি সাংগঠনিকভাবে তারুণ্যের প্রতীক। এমন একজন মানুষকে আওয়ামী লীগ যখন মনোনয়ন দেয়, তখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আরও শানিত হয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ফজলে নূর তাপস সাংবাদিক পরিবারেরই সন্তান। তিনি আজ আমাদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে এসেছেন। পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে আমাদের নিরপেক্ষতা আছে। কিন্তু চেতনাগত দিক থেকে আমাদের একটা পক্ষপাতিত্ব আছে। সেই পক্ষপাতিত্বটা হচ্ছে- ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের পক্ষে। কারণ এরই মধ্যে মুজিববর্ষ পালন শুরু হয়ে গেছে। আগামী বছর আমাদের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।

এই দুইটি বিশেষ সময় ঢাকার মতো মহানগরী বঙ্গবন্ধুর চেতনার নেতৃত্বের বাইরের কারও হাতে যাবে- এটা আমরা বিশ্বাস করি না। জাতীয় প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বিশিষ্ট সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান, সাংবাদিক নেতা ওমর ফারুক, আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, শাহেদ চৌধুরী, সোহেল হায়দার চৌধুরী, শেখ মামুনূর রশীদ, রফিকুল ইসলাম রতন, ফরাজী আজমল হোসেন প্রমুখ। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকার দুই সিটির বিএনপি ও আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করছে জাতীয় প্রেস ক্লাব। এরই অংশ হিসেবে সোমবার দক্ষিণের বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন এবং মঙ্গলবার ঢাকা উত্তরের আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়েছেন। আজ (বৃহস্পতিবার) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন উত্তরের বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল।

এদিকে জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে বেরিয়ে রাজধানীর শাহবাগ মোড়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কাঁটাবনসহ আশপাশের এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন তাপস। এ সময় তিনি সবার কাছে লিফলেট তুলে দিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট চান।

আতিকের প্রচার : ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেছেন, ৯ মাস মেয়রের দায়িত্বে থেকে কঠোর অনুশীলন করেছি। অনুশীলন যদি সুন্দর হয়, ফাইনাল খেলাও ভালো হয়। আশা করি, ১ ফেব্রুয়ারি নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আগামী পাঁচ বছর টেস্ট খেলার সুযোগ করে দেবেন।

বিকালে রাজধানীর পল্লবী সিটি ক্লাব মাঠে নির্বাচনী সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ভোটারদের উদ্দেশে আতিক বলেন, ভোট দেয়ার আগে চিন্তা করবেন কাকে ভোট দিলে এই নগরীর উন্নয়ন হবে। কে আপনাদের আধুনিক ঢাকা উপহার দিতে পারবে। আপনারা তাকেই ভোট দেবেন। ঢাকাবাসীকে নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নৌকায় দিলে ভোট, শান্তি পাবে ঢাকার লোক; নৌকায় দিলে ভোট, শান্তি পাবে দেশের লোক।

এর আগে রাজধানীর মহাখালীর শেখ ফজলে রাব্বী পার্কের সামনে গণসংযোগ শুরু করেন আতিকুল ইসলাম। প্রচারের শেষদিকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নির্বাচনী গণসংযোগ চালান তিনি। এদিন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মাঝেই চালানো নির্বাচনী প্রচারে আতিকুল ইসলামের সঙ্গে ছিলেন তার বড় ভাই সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলাম, সহধর্মিণী ডা. শায়লা সাগুফতা ইসলাম, একমাত্র কন্যা বুশরা আফরিন, বোন ও বোনের ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

বৃষ্টি হওয়ায় কর্মী-সমর্থকরা ছাতা মাথায় নিয়ে ফজলে রাব্বী পার্কে অবস্থান নেন। আতিকুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা একে একে সভামঞ্চের দিকে আসেন। তারা কেউ ছাতা, কেউ পোস্টার মাথার উপর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। ভোটার ও নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আতিকুল ইসলাম বলেন, আজ এখানে আমার বড় ভাই, বোন, ভাগনে, ভাগনি, নাতি-নাতনিসহ আমার স্ত্রী-মেয়ে সবাই এসেছে। আপনাদের কাছে ভোট চাইতে এসেছে। আমরা ১১ ভাই-বোন।

এই ভাই-বোনদের ভালোবাসায় আমি এগিয়ে যাই। এরা আমার রক্তের ভাই-বোন, আর আপনারা হচ্ছেন আমার আত্মার ভাই-বোন। আমাদের পরিবারেই ৩-৪ হাজার ভোট আছে। এই পরিবার আমাকে দিয়েছে গার্মেন্টের দায়িত্ব। এ রক্তের ভাই-বোন আর আত্মার ভাই-বোন সবাই আজ এক হয়ে এগিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, আমার রক্তের ভাই-বোন আর আত্মার ভাই-বোন যেভাবে এক হয়ে এগিয়ে এসেছে- জয় সুনিশ্চিত। এ পরিবার এখন আমার পাশে আছে।

আপনারা আত্মার ভাই-বোনও আছেন। আপনাদের ভালোবাসায় বিজয় সুনিশ্চিত। আতিকুল আরও বলেন, আপনারা দেখে-শুনে ভোট দেবেন। ৯ মাস মেয়রের দায়িত্বে থেকে অনুশীলন করেছি। সেই অনুশীলনকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে ইনশাআল্লাহ একটি সুস্থ, সচল, আধুনিক ঢাকা আমরা গড়ব। আর বিজয়ী হলে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখব। নৌকায় ভোট দিলে আমরা একটি সুন্দর ঢাকা গড়তে পারব। নৌকা দিয়েছে স্বাধীনতা, নৌকা দেবে আধুনিক ঢাকা।

পরে আতিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা সাধারণ মানুষের কাছে লিফলেট তুলে দেন এবং তাদের কাছে আতিকুল ইসলামের জন্য নৌকা মার্কায় ভোট চান। এদিন সন্ধ্যায় বনানীর নির্বাচনী অফিসে আমরা নোয়াখালীবাসী সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন আওয়ামী লীগের এই মেয়র প্রার্থী। এদিকে সারা দিনের প্রচারে আতিকুলে সঙ্গে আরও ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এসএ মান্নান কচি প্রমুখ।

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন-২০২০

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত