ভয়কে জয় করে ভোট কেন্দ্রে আসুন, শেষ দিনের প্রচারে বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী
jugantor
ভয়কে জয় করে ভোট কেন্দ্রে আসুন, শেষ দিনের প্রচারে বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী

  যুগান্তর রিপোর্ট  

৩১ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তাবিথ আউয়াল ও ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। ফাইল ছবি

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে দেশবাসী নির্বাচন কমিশনের দিকে তাকিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকার দুই সিটিতে বিএনপি মনোনীত দুই মেয়র প্রার্থী।

তারা বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে এখনও আমাদের শঙ্কা রয়েছে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, আশঙ্কাও তত বাড়ছে। আমাদের এজেন্টরা কেন্দ্রে যেতে পারবেন কি না, এ বিষয়টি নিয়ে ‘কিন্তু’ রয়ে গেছে। ইভিএম মেশিন কীভাবে কাজ করে, সেটা আমরা ইলেকশনের দিন বুঝব। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশন কতটা প্রস্তুত, সেদিকে জনগণ তাকিয়ে আছে। নির্বাচনের দিন ইসিকেই বড় ভূমিকা রাখতে হবে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে, এ উদ্যোগ নিতে হবে।

গণসংযোগের শেষদিন বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারা এ কথা বলেন।

উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও দক্ষিণের ইশরাক হোসেন ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধানের শীষের গণজোয়ার দেখে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আপনারা এতে বিভ্রান্ত হবেন না। বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে। আপনাদের প্রতি আহ্বান- আপনারা কেন্দ্রে এসে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। ভয়কে জয় করে আমরা মাথা উঁচু করে ভোটাধিকার রক্ষা ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে, নতুন ঢাকা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে ১ ফেব্রুয়ারি ভোট দেব। আপনারাও ভোট দেবেন।

তাবিথের প্রচার : এদিন সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন উত্তরে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। এ সময় তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে দেশবাসী আগামী ৪৮ ঘণ্টা নির্বাচন কমিশনের দিকে তাকিয়ে আছে। নির্বাচনের দিন ঘিরে শঙ্কা থাকলেও আমরা যথেষ্ট মনোবল নিয়ে মাঠে থাকব। নানা শঙ্কার পরও আমরা ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগোচ্ছি।

তিনি বলেন, দেশ সংকটে আছে। আমরা সবাই বিভক্ত হয়ে গেছি। জনগণের সমস্যা সমাধানে ঐক্য প্রয়োজন। মেয়রের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে গণমাধ্যম কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি। এ সময় বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিন্দা এবং সমবেদনা প্রকাশ করেন তাবিথ। গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়ে সঠিক দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান তিনি।

প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় মতবিনিময়ে আরও উপস্থিত ছিলেন অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, সাংবাদিক নেতা ওমর ফারুক, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কাদের গনি চৌধুরী, ইলিয়াস খান, আবদুস শহীদ, মো. শহিদুল ইসলাম, নুরুদ্দিন আহমেদ নুরু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।

যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, আমরা বিশ্বাস করি জাতীয় প্রেস ক্লাব ঐক্যের, গণতন্ত্রের, মুক্তিযুদ্ধের, বাংলাদেশের এবং দেশের লাল-সবুজ পতাকার প্রতীক। সব মানুষের ভরসাস্থল জাতীয় প্রেস ক্লাব। সেটা সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সব ক্ষেত্রেই। আমরা মানুষের সেই বিশ্বাস এবং আস্থার জায়গাটা ধরে রাখতে চাই। আমরা সেই ধারাবাহিকতায় অগ্রসর হতে চাই।

তিনি বলেন, ১ ফেব্রুয়ারি সিটি নির্বাচন। একটা শঙ্কা ছিল নির্বাচন হবে কি হবে না। সেটা কেটে গেছে। একটা শঙ্কা ছিল সব দল অংশগ্রহণ করবে কি করবে না, সেটাও কেটে গেছে। আশা করি, নির্বাচনটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে। ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার সুযোগ পাবেন। ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’- এ নীতিতে ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারবেন। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে প্রার্থীরা তাদের ইশতেহারে যেসব প্রতিশ্রতি দিয়েছেন, এর যথাযথ সম্মান করবেন এবং তা বাস্তবায়নে আন্তরিক থাকবেন। গণমাধ্যমে অতীতে গণতন্ত্রের পক্ষে ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যে ভূমিকা রেখেছে, ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। দেশ এবং মানুষের কল্যাণই আমাদের লক্ষ্য।

এরপর তাবিথ আউয়াল প্রেস ক্লাবের নিচতলায় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের আওয়ামী ও বিএনপিপন্থী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় ডিইউজের একাংশের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, অপর অংশের সভাপতি আবু জাফর সূর্য ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

এরপর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তাবিথ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী প্রমুখ। এরপর তিনি যান ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর বিকাল ৩টা থেকে শেষদিনের গণসংযোগ শুরু করেন তাবিথ আউয়াল। মগবাজার এলাকায় এক পথসভায় তিনি বলেন, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিএনপির নেতাকর্মীদের আটক বা হয়রানি করতে পারে। কোনো ব্যক্তি যেন আইনশৃঙ্খলার অবনতি না করতে পারে, নির্বাচন বানচাল না করতে পারে, এ বিষয়ে ইসিকে সচেষ্ট ভূমিকা রাখতে হবে।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কামরুজ্জামান রতন, নিপুণ রায় চৌধুরী, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, ২০ দলীয় জোটের মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, সৈয়দ এহসানুল হুদা প্রমুখ। এরপর তাবিথ যান মোহাম্মদপুরে। মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন রোডে গণসংযোগ করেন তিনি। সেখান থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে উত্তরের মেয়র প্রার্থী যান মিরপুর এলাকায়। মিরপুর-৬, ১১, সাড়ে ১১তে প্রচার চালান। মিরপুর ১২তে মোল্লার মার্কেটে পথসভার মধ্য দিয়ে শেষ দিনের গণসংযোগ শেষ করেন তাবিথ।

ইশরাকের প্রচার : প্রচারের শেষ দিন দুপুরে নিজ এলাকা গোপীবাগ থেকে গণসংযোগ শুরু করেন দক্ষিণে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। এ সময় পথচারীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ এবং দোকানে দোকানে গিয়ে লিফলেট বিতরণ ও সালাম বিনিময় করেন ধানের শীষের এই প্রার্থী। তিনি বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় মুরুব্বিদের সঙ্গে কোলাকুলি করে দোয়া চান। মুরুব্বিরা ইশরাকের মাথায় হাত বুলিয়ে দুয়া করেন।

গণসংযোগ শুরুর আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তাই নির্বাচনের দুইদিন আগে সেটাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য, জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর জন্যই সুপরিকল্পিতভাবে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

বুধবার গ্রেফতারকৃত আরিফকে পুলিশ আপনার ব্যক্তিগত সহকারী বলে প্রচার করছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, আমার কোনো ব্যক্তিগত সহকারী নেই। আপনারা জানেন, আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নির্বাচন করছি। এখানে হাজার হাজার নেতাকর্মী আসছেন। তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে এবং প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। আর এসব বিষয় নিয়ে বাইরে কে কী বলল, এটা তো আমি বলতে পারব না।

প্রতিপক্ষ প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস অভিযোগ করেছেন, ১৭০টি কেন্দ্র দখল করার জন্য বাইরে থেকে সন্ত্রাসী ভাড়া করে নিয়ে এসেছে বিএনপি- এ বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা একেবারে অবাস্তব কথা। আমার কাছে তথ্য আছে, আওয়ামী লীগ সারা দেশ থেকে ঢাকায় লোক এনেছে। তারা পুরো ঢাকা শহরে এ কাজটি করছে। আমি খুব শঙ্কিত যে, তারা ভোটের দিন কী করতে চাচ্ছে। বুধবার রাতে দক্ষিণের যুবদলের সভাপতির বাসায় পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। কয়েকদিন আগে আমাদের প্রচারে হামলায় যারা আহত হয়েছেন, তাদের বাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন অভিযান চালাচ্ছে।

নির্বাচনী এজেন্ট দেয়ার বিষয়ে কোনো সমস্যা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই মেয়র প্রার্থী বলেন, গত কয়েকদিনের প্রচারে বাধা এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলা দিয়ে আমাদের ব্যতিব্যস্ত রাখা হয়েছে। তারপরও আমরা সবকিছু সম্পন্ন করেছি। পোলিং এজেন্ট নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা হবে না। সেন্টার পরিচালনা কমিটি নিয়েও কোনো সমস্যা নেই। আমাদের দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। নির্বাচনের দিন ভোটারদের সহযোগিতা করার জন্য যা যা করা দরকার, এর সবকিছুই করা হবে। পরে টিকাটুলিসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন ইশরাক। এ সময় ‘ঢাকাবাসী বাঁধছে জোট, ধানের শীষে দিব ভোট; ঢাকার ছেলে ইশরাক ভাই, ধানের শীষে ভোট চাই’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত ছিল পুরান ঢাকার অলিগলি।

গণসংযোগকালে ইশরাকের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মোহাম্মাদ রহমতুল্লাহ প্রমুখ। এদিকে দুপুরে ইশরাকের মা ইসমত আরা ধানের শীষে ভোট চেয়ে আহসান মঞ্জিল এলাকায় গণসংযোগ করেন। তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শিরিন সুলতানাসহ স্থানীয় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

ভয়কে জয় করে ভোট কেন্দ্রে আসুন, শেষ দিনের প্রচারে বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী

 যুগান্তর রিপোর্ট 
৩১ জানুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
তাবিথ আউয়াল ও ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। ফাইল ছবি
তাবিথ আউয়াল ও ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। ফাইল ছবি

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে দেশবাসী নির্বাচন কমিশনের দিকে তাকিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকার দুই সিটিতে বিএনপি মনোনীত দুই মেয়র প্রার্থী।

তারা বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে এখনও আমাদের শঙ্কা রয়েছে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, আশঙ্কাও তত বাড়ছে। আমাদের এজেন্টরা কেন্দ্রে যেতে পারবেন কি না, এ বিষয়টি নিয়ে ‘কিন্তু’ রয়ে গেছে। ইভিএম মেশিন কীভাবে কাজ করে, সেটা আমরা ইলেকশনের দিন বুঝব। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশন কতটা প্রস্তুত, সেদিকে জনগণ তাকিয়ে আছে। নির্বাচনের দিন ইসিকেই বড় ভূমিকা রাখতে হবে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে, এ উদ্যোগ নিতে হবে।

গণসংযোগের শেষদিন বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারা এ কথা বলেন।

উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও দক্ষিণের ইশরাক হোসেন ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধানের শীষের গণজোয়ার দেখে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আপনারা এতে বিভ্রান্ত হবেন না। বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে। আপনাদের প্রতি আহ্বান- আপনারা কেন্দ্রে এসে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। ভয়কে জয় করে আমরা মাথা উঁচু করে ভোটাধিকার রক্ষা ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে, নতুন ঢাকা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে ১ ফেব্রুয়ারি ভোট দেব। আপনারাও ভোট দেবেন।

তাবিথের প্রচার : এদিন সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন উত্তরে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। এ সময় তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে দেশবাসী আগামী ৪৮ ঘণ্টা নির্বাচন কমিশনের দিকে তাকিয়ে আছে। নির্বাচনের দিন ঘিরে শঙ্কা থাকলেও আমরা যথেষ্ট মনোবল নিয়ে মাঠে থাকব। নানা শঙ্কার পরও আমরা ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগোচ্ছি।

তিনি বলেন, দেশ সংকটে আছে। আমরা সবাই বিভক্ত হয়ে গেছি। জনগণের সমস্যা সমাধানে ঐক্য প্রয়োজন। মেয়রের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে গণমাধ্যম কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি। এ সময় বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিন্দা এবং সমবেদনা প্রকাশ করেন তাবিথ। গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়ে সঠিক দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান তিনি।

প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় মতবিনিময়ে আরও উপস্থিত ছিলেন অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, সাংবাদিক নেতা ওমর ফারুক, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কাদের গনি চৌধুরী, ইলিয়াস খান, আবদুস শহীদ, মো. শহিদুল ইসলাম, নুরুদ্দিন আহমেদ নুরু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।

যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, আমরা বিশ্বাস করি জাতীয় প্রেস ক্লাব ঐক্যের, গণতন্ত্রের, মুক্তিযুদ্ধের, বাংলাদেশের এবং দেশের লাল-সবুজ পতাকার প্রতীক। সব মানুষের ভরসাস্থল জাতীয় প্রেস ক্লাব। সেটা সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সব ক্ষেত্রেই। আমরা মানুষের সেই বিশ্বাস এবং আস্থার জায়গাটা ধরে রাখতে চাই। আমরা সেই ধারাবাহিকতায় অগ্রসর হতে চাই।

তিনি বলেন, ১ ফেব্রুয়ারি সিটি নির্বাচন। একটা শঙ্কা ছিল নির্বাচন হবে কি হবে না। সেটা কেটে গেছে। একটা শঙ্কা ছিল সব দল অংশগ্রহণ করবে কি করবে না, সেটাও কেটে গেছে। আশা করি, নির্বাচনটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে। ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার সুযোগ পাবেন। ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’- এ নীতিতে ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারবেন। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে প্রার্থীরা তাদের ইশতেহারে যেসব প্রতিশ্রতি দিয়েছেন, এর যথাযথ সম্মান করবেন এবং তা বাস্তবায়নে আন্তরিক থাকবেন। গণমাধ্যমে অতীতে গণতন্ত্রের পক্ষে ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যে ভূমিকা রেখেছে, ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। দেশ এবং মানুষের কল্যাণই আমাদের লক্ষ্য।

এরপর তাবিথ আউয়াল প্রেস ক্লাবের নিচতলায় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের আওয়ামী ও বিএনপিপন্থী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় ডিইউজের একাংশের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, অপর অংশের সভাপতি আবু জাফর সূর্য ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

এরপর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তাবিথ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী প্রমুখ। এরপর তিনি যান ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর বিকাল ৩টা থেকে শেষদিনের গণসংযোগ শুরু করেন তাবিথ আউয়াল। মগবাজার এলাকায় এক পথসভায় তিনি বলেন, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিএনপির নেতাকর্মীদের আটক বা হয়রানি করতে পারে। কোনো ব্যক্তি যেন আইনশৃঙ্খলার অবনতি না করতে পারে, নির্বাচন বানচাল না করতে পারে, এ বিষয়ে ইসিকে সচেষ্ট ভূমিকা রাখতে হবে।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কামরুজ্জামান রতন, নিপুণ রায় চৌধুরী, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, ২০ দলীয় জোটের মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, সৈয়দ এহসানুল হুদা প্রমুখ। এরপর তাবিথ যান মোহাম্মদপুরে। মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন রোডে গণসংযোগ করেন তিনি। সেখান থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে উত্তরের মেয়র প্রার্থী যান মিরপুর এলাকায়। মিরপুর-৬, ১১, সাড়ে ১১তে প্রচার চালান। মিরপুর ১২তে মোল্লার মার্কেটে পথসভার মধ্য দিয়ে শেষ দিনের গণসংযোগ শেষ করেন তাবিথ।

ইশরাকের প্রচার : প্রচারের শেষ দিন দুপুরে নিজ এলাকা গোপীবাগ থেকে গণসংযোগ শুরু করেন দক্ষিণে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। এ সময় পথচারীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ এবং দোকানে দোকানে গিয়ে লিফলেট বিতরণ ও সালাম বিনিময় করেন ধানের শীষের এই প্রার্থী। তিনি বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় মুরুব্বিদের সঙ্গে কোলাকুলি করে দোয়া চান। মুরুব্বিরা ইশরাকের মাথায় হাত বুলিয়ে দুয়া করেন।

গণসংযোগ শুরুর আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তাই নির্বাচনের দুইদিন আগে সেটাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য, জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর জন্যই সুপরিকল্পিতভাবে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

বুধবার গ্রেফতারকৃত আরিফকে পুলিশ আপনার ব্যক্তিগত সহকারী বলে প্রচার করছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, আমার কোনো ব্যক্তিগত সহকারী নেই। আপনারা জানেন, আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নির্বাচন করছি। এখানে হাজার হাজার নেতাকর্মী আসছেন। তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে এবং প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। আর এসব বিষয় নিয়ে বাইরে কে কী বলল, এটা তো আমি বলতে পারব না।

প্রতিপক্ষ প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস অভিযোগ করেছেন, ১৭০টি কেন্দ্র দখল করার জন্য বাইরে থেকে সন্ত্রাসী ভাড়া করে নিয়ে এসেছে বিএনপি- এ বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা একেবারে অবাস্তব কথা। আমার কাছে তথ্য আছে, আওয়ামী লীগ সারা দেশ থেকে ঢাকায় লোক এনেছে। তারা পুরো ঢাকা শহরে এ কাজটি করছে। আমি খুব শঙ্কিত যে, তারা ভোটের দিন কী করতে চাচ্ছে। বুধবার রাতে দক্ষিণের যুবদলের সভাপতির বাসায় পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। কয়েকদিন আগে আমাদের প্রচারে হামলায় যারা আহত হয়েছেন, তাদের বাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন অভিযান চালাচ্ছে।

নির্বাচনী এজেন্ট দেয়ার বিষয়ে কোনো সমস্যা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই মেয়র প্রার্থী বলেন, গত কয়েকদিনের প্রচারে বাধা এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলা দিয়ে আমাদের ব্যতিব্যস্ত রাখা হয়েছে। তারপরও আমরা সবকিছু সম্পন্ন করেছি। পোলিং এজেন্ট নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা হবে না। সেন্টার পরিচালনা কমিটি নিয়েও কোনো সমস্যা নেই। আমাদের দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। নির্বাচনের দিন ভোটারদের সহযোগিতা করার জন্য যা যা করা দরকার, এর সবকিছুই করা হবে। পরে টিকাটুলিসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন ইশরাক। এ সময় ‘ঢাকাবাসী বাঁধছে জোট, ধানের শীষে দিব ভোট; ঢাকার ছেলে ইশরাক ভাই, ধানের শীষে ভোট চাই’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত ছিল পুরান ঢাকার অলিগলি।

গণসংযোগকালে ইশরাকের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মোহাম্মাদ রহমতুল্লাহ প্রমুখ। এদিকে দুপুরে ইশরাকের মা ইসমত আরা ধানের শীষে ভোট চেয়ে আহসান মঞ্জিল এলাকায় গণসংযোগ করেন। তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শিরিন সুলতানাসহ স্থানীয় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন-২০২০

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০