ঘোষিত রূপরেখা বাস্তবায়নই হবে মূল টার্গেট: তাপস
jugantor
মেয়র প্রার্থীর সাক্ষাৎকার
ঘোষিত রূপরেখা বাস্তবায়নই হবে মূল টার্গেট: তাপস

  রেজাউল করিম প্লাবন  

৩১ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শেখ ফজলে নূর তাপস।

পাঁচটি রূপরেখায় ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার ‘জনাকাঙ্ক্ষার গাইডলাইন’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নই হবে আমার মূল টার্গেট। এ ছাড়া ঢাকাকে ঘিরে ৩০ বছর মেয়াদি দীর্ঘ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও শুরু করা হবে।

বুধবার রাতে ধানমণ্ডির নিজস্ব কার্যালয়ে যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় ফজলে নূর তাপস এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি একটি বাসযোগ্য নিরাপদ ঢাকা গড় তুলতে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানান। বলেন নগরবাসীর জন্য দেয়া তার নির্বাচনী ইশতেহারের নানা দিক। তাপস বলেন, ঢাকা নিয়ে অনেক অবহেলা, গাফিলতি হয়েছে। এতে দুর্র্র্র্র্ভোগ পোহাতে হয়েছে নগরবাসীর। মেয়র নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণের ৯০ দিনের মধ্যেই মৌলিক সব নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনির ছোট ছেলে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি ১৯৭১ সালের ১৯ নভেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারসহ আরও যাদের হত্যা করা হয়েছিল তাদের মধ্যে তার বাবা শেখ ফজলুল হক মনি ও অন্তঃসত্ত্বা মা আরজু মনিও ছিলেন।

তাপস পেশায় আইনজীবী। তাপস ১৯৯৬ সালে যুক্তরাজ্যের ওলভারহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনবিদ্যায় স্নাতক (এলএলবি) সম্পন্ন করেন। ১৯৯৭ সালে ‘বার অব ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস’-এর জেনারেল কাউন্সিলের অধীন বার ফাইনাল কোর্স সম্পন্ন করেন। তিনি লিংকনস? ইন ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের একজন সদস্য। ঢাকা-১০ আসনে পরপর তিনবার এমপি নির্বাচিত হন তাপস। ব্যক্তিগত জীবনে আফরিনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তাদের ঘরে দুই ছেলে রয়েছে।

নির্বাচনী ইশতেহারের আদ্যোপান্ত উল্লেখ করে নৌকার প্রার্থী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস যুগান্তরকে বলেন, সেখানে আমি ৫টি ভাগে উন্নয়ন রূপরেখা দিয়েছি। সেগুলো হল : ঐতিহ্যের ঢাকা, সুন্দর ঢাকা, সচল ঢাকা, সুশাসিত ঢাকা ও উন্নত ঢাকা। নগরীর ৭৫টি ওয়ার্ড ধরে ধরে আমি এ ধারাগুলো বাস্তবায়ন করব। এর মাধ্যমে আমি অপরিকল্পিত ঢাকাকে সচল ও পুনরুজ্জীবিত করব।

চারশ’ বছরের পুরনো ঢাকাকে কেন্দ্র করে বৃহৎ পরিসরে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটির নৌকার প্রার্থী তাপস বলেন, এ নগরীর ইতিহাস-ঐতিহ্য, প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আছে। আমি নির্বাচিত হলে এসব ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনব। এ সময় তিনি পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকাকে ‘ঐতিহ্য প্রাঙ্গণ’ হিসেবে গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করেন।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের রাজধানীর অবস্থান থেকে ঢাকার অবস্থান অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে দাবি করে তাপস বলেন, প্রাচীনকাল থেকে ঢাকা রাজধানী এমনি এমনি গড়ে ওঠেনি। নানা সুযোগ-সুবিধার কারণেই আজও ঢাকা সগৌরবে টিকে আছে।

বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা দুই নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা ঢাকার সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকাটিকে সবুজায়ন, শিশুপার্ক, থিয়েটার হলসহ পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার পাড় ঘিরে বনায়ন, বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনসহ ব্যাপক সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে সুন্দর ঢাকা গড়ে তুলব।

একই সঙ্গে নগরীতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক উদ্যান নির্মাণ, সবুজায়ন, ছাদবাগানে উৎসাহ ও পরিবেশবান্ধব স্থাপনা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়ার কথা তুলে ধরেন তাপস। এ ছাড়া দুস্থ-অসহায়দের কল্যাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও বস্তিবাসীর সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন নৌকার এ প্রার্থী।

যানজট নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়ে শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, এ জন্য গণপরিবহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও সুব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কিছু রাস্তায় দ্রুতগতির যানবাহন, কিছু রাস্তায় ধীরগতির যানবাহন, আবার কিছু রাস্তায় শুধু মানুষ হাঁটার ব্যবস্থা করব। তিনি বলেন, দ্রুতগামী যানবাহনের জন্য থাকবে আলাদা পথ, থাকবে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা। এ ছাড়া হকারদের পুনর্বাসন ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার কথাও বলেন তিনি।

তাপস আরও বলেন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও খনন করে জলাধার সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় সংখ্যক নর্দমা নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও সড়কের উন্মুক্ত আবর্জনার স্তূপ প্রতিদিন অপসারণসহজ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ জন্য আমাকে অনেক কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবুও জনগণের জন্য সব বাধা উপেক্ষা করে একটি সুস্থ নগরী উপহার দেব।

সুশাসিত ঢাকা গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরে তাপস বলেন, মাদক নির্মূল, জুয়া, কিশোর অপরাধসহ নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়জনিত বিভিন্ন অপরাধ রোধ করে এলাকাভিত্তিক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সংশোধন কেন্দ্র নির্মাণ করব।

তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন হবে বাংলাদেশে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রথম দুর্নীতিমুক্ত সংস্থা। বছরের ৩৬৫ দিন, সপ্তাহের ৭ দিন, ২৪ ঘণ্টা নাগরিক সেবা প্রদানের জন্য খোলা থাকবে।

ব্যারিস্টার তাপস বলেন, বছরের একটি সময় নির্দিষ্ট করে ঢাকার উন্নয়ন ও সেবার সঙ্গে জড়িত সংস্থাগুলোর কাছে ‘বার্ষিক কাজের চাহিদাপত্র’ চাওয়া হবে। কর্পোরেশন কোনো রাস্তা নির্মাণের পরে অন্তত তিন বছরের মধ্যে অন্য কোনো সংস্থা ওই রাস্তা খনন করতে পারবে না।

সহজে ও দ্রুত নাগরিক সেবা দিতে ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস ডেস্ক’ স্থাপনের কথা জানিয়ে তাপস বলেন, সপ্তাহে একদিন নগরবাসীর সঙ্গে আলোচনা করব। আওয়ামী লীগ সরকার ঘোষিত ‘রূপকল্প ২০৪১’-এর আলোকে উন্নত ঢাকা গড়ে তুলব। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ৩০ বছরমেয়াদি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করে তার আওতায় পাঁচ বছরমেয়াদি নানা প্রকল্প হাতে নিয়ে ইমারত নির্মাণ, ভূমি ব্যবস্থাপনা, ভূমি অধিগ্রহণ ও নগরীর উন্নতিসাধন করা হবে।

নগরের সব নাগরিক সেবা ডিজিটালাইজেশন করার পরিকল্পনা তুলে ধরে নৌকার প্রার্থী তাপস বলেন, বাণিজ্য লাইসেন্স, জন্ম নিবন্ধনপত্র, প্রত্যয়নপত্র, গৃহকর, পৌরকর, অন্যান্য করসমূহ তথ্য-প্রযুক্তিগত সেবার আওতায় আনা হবে। ঘরে বসেই কর এবং নির্ধারিত ক্ষেত্রে ফি পরিশোধ করা যাবে। নাগরিক সেবায় ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন, তথ্যসমৃদ্ধ নগর অ্যাপ, ই-লাইব্রেরি, নগরভবনে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ রেখে বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও ফ্রি ওয়াইফাই সেবা দেয়া হবে।

সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতার প্রত্যাশা করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তাপস বলেন, আমার এ প্রাণের ঢাকা নিয়ে যে স্বপ্নের কথা নগরবাসীর কাছে তুলে ধরেছি তা তাদেরই স্বপ্ন। আমার এসব প্রতিশ্রুতি ও রূপরেখা তারা সাদরে গ্রহণ করেছেন। শেষ পর্যন্ত তারা আমাকে উৎসাহিত করে যাচ্ছেন। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) ভোটের মাধ্যমে তারা আমাকে নির্বাচিত করবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

মেয়র প্রার্থীর সাক্ষাৎকার

ঘোষিত রূপরেখা বাস্তবায়নই হবে মূল টার্গেট: তাপস

 রেজাউল করিম প্লাবন 
৩১ জানুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
শেখ ফজলে নূর তাপস।
শেখ ফজলে নূর তাপস। ফাইল ছবি

পাঁচটি রূপরেখায় ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার ‘জনাকাঙ্ক্ষার গাইডলাইন’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নই হবে আমার মূল টার্গেট। এ ছাড়া ঢাকাকে ঘিরে ৩০ বছর মেয়াদি দীর্ঘ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও শুরু করা হবে।

বুধবার রাতে ধানমণ্ডির নিজস্ব কার্যালয়ে যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় ফজলে নূর তাপস এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি একটি বাসযোগ্য নিরাপদ ঢাকা গড় তুলতে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানান। বলেন নগরবাসীর জন্য দেয়া তার নির্বাচনী ইশতেহারের নানা দিক। তাপস বলেন, ঢাকা নিয়ে অনেক অবহেলা, গাফিলতি হয়েছে। এতে দুর্র্র্র্র্ভোগ পোহাতে হয়েছে নগরবাসীর। মেয়র নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণের ৯০ দিনের মধ্যেই মৌলিক সব নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনির ছোট ছেলে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি ১৯৭১ সালের ১৯ নভেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারসহ আরও যাদের হত্যা করা হয়েছিল তাদের মধ্যে তার বাবা শেখ ফজলুল হক মনি ও অন্তঃসত্ত্বা মা আরজু মনিও ছিলেন।

তাপস পেশায় আইনজীবী। তাপস ১৯৯৬ সালে যুক্তরাজ্যের ওলভারহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনবিদ্যায় স্নাতক (এলএলবি) সম্পন্ন করেন। ১৯৯৭ সালে ‘বার অব ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস’-এর জেনারেল কাউন্সিলের অধীন বার ফাইনাল কোর্স সম্পন্ন করেন। তিনি লিংকনস? ইন ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের একজন সদস্য। ঢাকা-১০ আসনে পরপর তিনবার এমপি নির্বাচিত হন তাপস। ব্যক্তিগত জীবনে আফরিনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তাদের ঘরে দুই ছেলে রয়েছে।

নির্বাচনী ইশতেহারের আদ্যোপান্ত উল্লেখ করে নৌকার প্রার্থী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস যুগান্তরকে বলেন, সেখানে আমি ৫টি ভাগে উন্নয়ন রূপরেখা দিয়েছি। সেগুলো হল : ঐতিহ্যের ঢাকা, সুন্দর ঢাকা, সচল ঢাকা, সুশাসিত ঢাকা ও উন্নত ঢাকা। নগরীর ৭৫টি ওয়ার্ড ধরে ধরে আমি এ ধারাগুলো বাস্তবায়ন করব। এর মাধ্যমে আমি অপরিকল্পিত ঢাকাকে সচল ও পুনরুজ্জীবিত করব।

চারশ’ বছরের পুরনো ঢাকাকে কেন্দ্র করে বৃহৎ পরিসরে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটির নৌকার প্রার্থী তাপস বলেন, এ নগরীর ইতিহাস-ঐতিহ্য, প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আছে। আমি নির্বাচিত হলে এসব ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনব। এ সময় তিনি পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকাকে ‘ঐতিহ্য প্রাঙ্গণ’ হিসেবে গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করেন।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের রাজধানীর অবস্থান থেকে ঢাকার অবস্থান অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে দাবি করে তাপস বলেন, প্রাচীনকাল থেকে ঢাকা রাজধানী এমনি এমনি গড়ে ওঠেনি। নানা সুযোগ-সুবিধার কারণেই আজও ঢাকা সগৌরবে টিকে আছে।

বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা দুই নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা ঢাকার সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকাটিকে সবুজায়ন, শিশুপার্ক, থিয়েটার হলসহ পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার পাড় ঘিরে বনায়ন, বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনসহ ব্যাপক সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে সুন্দর ঢাকা গড়ে তুলব।

একই সঙ্গে নগরীতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক উদ্যান নির্মাণ, সবুজায়ন, ছাদবাগানে উৎসাহ ও পরিবেশবান্ধব স্থাপনা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়ার কথা তুলে ধরেন তাপস। এ ছাড়া দুস্থ-অসহায়দের কল্যাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও বস্তিবাসীর সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন নৌকার এ প্রার্থী।

যানজট নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়ে শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, এ জন্য গণপরিবহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও সুব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কিছু রাস্তায় দ্রুতগতির যানবাহন, কিছু রাস্তায় ধীরগতির যানবাহন, আবার কিছু রাস্তায় শুধু মানুষ হাঁটার ব্যবস্থা করব। তিনি বলেন, দ্রুতগামী যানবাহনের জন্য থাকবে আলাদা পথ, থাকবে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা। এ ছাড়া হকারদের পুনর্বাসন ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার কথাও বলেন তিনি।

তাপস আরও বলেন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও খনন করে জলাধার সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় সংখ্যক নর্দমা নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও সড়কের উন্মুক্ত আবর্জনার স্তূপ প্রতিদিন অপসারণসহজ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ জন্য আমাকে অনেক কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবুও জনগণের জন্য সব বাধা উপেক্ষা করে একটি সুস্থ নগরী উপহার দেব।

সুশাসিত ঢাকা গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরে তাপস বলেন, মাদক নির্মূল, জুয়া, কিশোর অপরাধসহ নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়জনিত বিভিন্ন অপরাধ রোধ করে এলাকাভিত্তিক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সংশোধন কেন্দ্র নির্মাণ করব।

তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন হবে বাংলাদেশে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রথম দুর্নীতিমুক্ত সংস্থা। বছরের ৩৬৫ দিন, সপ্তাহের ৭ দিন, ২৪ ঘণ্টা নাগরিক সেবা প্রদানের জন্য খোলা থাকবে।

ব্যারিস্টার তাপস বলেন, বছরের একটি সময় নির্দিষ্ট করে ঢাকার উন্নয়ন ও সেবার সঙ্গে জড়িত সংস্থাগুলোর কাছে ‘বার্ষিক কাজের চাহিদাপত্র’ চাওয়া হবে। কর্পোরেশন কোনো রাস্তা নির্মাণের পরে অন্তত তিন বছরের মধ্যে অন্য কোনো সংস্থা ওই রাস্তা খনন করতে পারবে না।

সহজে ও দ্রুত নাগরিক সেবা দিতে ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস ডেস্ক’ স্থাপনের কথা জানিয়ে তাপস বলেন, সপ্তাহে একদিন নগরবাসীর সঙ্গে আলোচনা করব। আওয়ামী লীগ সরকার ঘোষিত ‘রূপকল্প ২০৪১’-এর আলোকে উন্নত ঢাকা গড়ে তুলব। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ৩০ বছরমেয়াদি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করে তার আওতায় পাঁচ বছরমেয়াদি নানা প্রকল্প হাতে নিয়ে ইমারত নির্মাণ, ভূমি ব্যবস্থাপনা, ভূমি অধিগ্রহণ ও নগরীর উন্নতিসাধন করা হবে।

নগরের সব নাগরিক সেবা ডিজিটালাইজেশন করার পরিকল্পনা তুলে ধরে নৌকার প্রার্থী তাপস বলেন, বাণিজ্য লাইসেন্স, জন্ম নিবন্ধনপত্র, প্রত্যয়নপত্র, গৃহকর, পৌরকর, অন্যান্য করসমূহ তথ্য-প্রযুক্তিগত সেবার আওতায় আনা হবে। ঘরে বসেই কর এবং নির্ধারিত ক্ষেত্রে ফি পরিশোধ করা যাবে। নাগরিক সেবায় ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন, তথ্যসমৃদ্ধ নগর অ্যাপ, ই-লাইব্রেরি, নগরভবনে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ রেখে বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও ফ্রি ওয়াইফাই সেবা দেয়া হবে।

সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতার প্রত্যাশা করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তাপস বলেন, আমার এ প্রাণের ঢাকা নিয়ে যে স্বপ্নের কথা নগরবাসীর কাছে তুলে ধরেছি তা তাদেরই স্বপ্ন। আমার এসব প্রতিশ্রুতি ও রূপরেখা তারা সাদরে গ্রহণ করেছেন। শেষ পর্যন্ত তারা আমাকে উৎসাহিত করে যাচ্ছেন। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) ভোটের মাধ্যমে তারা আমাকে নির্বাচিত করবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন-২০২০

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০